📄 খলিফা মামুনুর রশিদের প্রজ্ঞাময় উক্তি
আবদুল্লাহ ইবনু তাহের বলেন, একদিন আমি খলিফা মামুনুর রশিদের নিকট বসা ছিলাম। তিনি তাঁর ছেলেকে 'এই চাকর' বলে ডাকলেন; কিন্তু কোনো সাড়া এলো না। দ্বিতীয়বার ডাক দিতেই এক তুর্কি যুবক বিড়বিড় করতে করতে বের হলো। এবং রুক্ষকণ্ঠে বলল, আমাদের দেখলেই আপনি 'এই ছেলে এই ছেলে' বলে ডাকতে থাকেন। আর কতকাল এ বিড়ম্বনা পোহাতে হবে আমাদের? খলিফা তার এমন কথা শুনে মাথা নুইয়ে ফেললেন। এহেন অবস্থা দেখে নিশ্চিত হয়ে গেলাম, তিনি হয়তো এক্ষণে তার মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেবেন; কিন্তু কিছুক্ষণ পর খলিফা স্বাভাবিক হয়ে আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, আবদুল্লাহ, যদি কোনো ভদ্রলোক তার আচার-ব্যবহার শালীন ও মার্জিত রাখতে চায়, তবে তার চাকর-বাকরদের স্বভাব-চরিত্র বিগড়ে যায়। কথা-বার্তা কর্কশ হয়ে যায়। আর যদি নিজের আচরণ রুক্ষ করে, তাহলে চাকর-বাকররা নম্র ও ভদ্র হয়ে যায়। অবশ্য আমি নিজের স্বভাব বিকৃত করে চাকরদের স্বভাব ভালো করতে চাই না。
টিকাঃ
১২৯ আল-ইয়াওকিতুল আসরিয়্যাহ: পৃ.১৪২
📄 যে স্বাদ কখনো ফুরায় না!
খলিফা মামুনুর রশিদ একদিন হাসান ইবনু সুহাইলকে বললেন, আমি পৃথিবীর সকল বস্তুর স্বাদ সম্পর্কে ভেবে দেখেছি, কোনো স্বাদই স্থায়ী নয়। সকল স্বাদ হতেই মানুষ কোনো এক সময়ে এসে নিঃস্পৃহ ও অভক্ত হয়ে যায়; কিন্তু সাতটি বস্তুর স্বাদ হতে মানুষ কখনো বিরক্ত ও নিরানন্দ হয় না। সেগুলো হলো:
১.আটার রুটি
২. ছাগলের গোশত
৩. ঠান্ডা পানি
৪. কোমল ও মসৃণ কাপড়
৫. সুগন্ধ
৬. নরম বিছানা
৭. যে কোনো সৌন্দর্য উপভোগ করা।
হাসান ইবনু সুহাইল বললেন, আমিরুল মুমিনিন, একটি কিন্তু থেকে গেল! তা হচ্ছে মানুষের সঙ্গে কথোপকথন করা। খলিফা মামুন তার কথাকে সমর্থন করলেন।
টিকাঃ
১৩০ প্রাগুক্ত: পৃ.১৪৪
📄 বাক-নিপুণতা
একবার কুফার অধিবাসীরা সেখানকার দায়িত্বশীল গভর্নরের বিরুদ্ধে খলিফা মামুনের নিকট অভিযোগ দায়ের করে তার পদচ্যুতের দাবি জানাল। খলিফা এতে বিস্মিত হয়ে বললেন, আমার জানা মতে গভর্নরদের মধ্যে সে-ই সবচে' সৎ ও ন্যায়পরায়ণ। এ কথা শুনে এক ব্যক্তি বলে উঠল, আমিরুল মুমিনিন, আমাদের গভর্নর যদি বাস্তবেই এত ভালো হয়ে থাকেন, তবে আপনার উচিত দেশের সকল জনগণের প্রতি ন্যায়-ইনসাফ করা। অর্থাৎ পালাক্রমে প্রত্যেক শহরের জনগণকে তার থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া জরুরি। এতে কুফার বাসিন্দাদের ভাগে তিন বছরের বেশি পড়ে না। খলিফা মামুন এ কথা শুনে হাসলেন এবং গভর্নরকে বরখাস্ত করে দিলেন।
আরেক দিনের ঘটনা:
খলিফা মামুনুর রশিদ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। পথে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা। লোকটি খলিফাকে বলল, আমি একজন গ্রাম্যলোক।
খলিফা : এটি কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয়।
: আমি হজে যেতে চাই।
: যাও। কে বারণ করেছে?
: আমার কাছে টাকা নেই।
: তবে তো তোমার ওপর হজ ফরজই হয় নি।
: আমি আপনার কাছে ফতোয়া নয়, হাদিয়া চাচ্ছি।
খলিফা তার কথা শুনে হাসিমুখে তাকে কিছু হাদিয়া দিলেন。
টিকাঃ
১৩১ প্রাগুক্ত: পৃ. ১৬১-১৬২
📄 এক নির্ভীক বুজুুর্গের সাহসী হুঙ্কার
সুলতান মুহাম্মদ তুঘলক [মৃত্যু: ৭৫২হি.] ছিলেন ভারতের বিখ্যাত শাসক। শৌর্য-বীর্য ও নির্ভীকতায় তার খ্যাতি ছিল সর্বজনবিদিত। তিনি একবার তৎকালীন সুফি-সাধক শাইখ কুতুবুদ্দিন মুনাওয়ার রহ.-এর বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। কুতুব সাহেব রহ. নিজ স্থানেই বসে ছিলেন। তাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য বের হন নি। সুলতান এতে ভীষণ ক্ষুব্ধ হলেন। পরবর্তী সময়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুতুবুদ্দিন রহ.-কে রাজপ্রাসাদে তলব করা হলো। তিনি সেখানে গিয়ে দেখলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রীবর্গ ও সামরিক সৈন্যরা বাদশা তুঘলকের চতুর্পার্শ্বে সশস্ত্র দাঁড়িয়ে আছে। রাজদরবারের পরিবেশ এতই গাম্ভীর্যপূর্ণ ছিল যে, যে কারও গা ভয়ে ছমছম করবে। কুতুবুদ্দিন রহ.-এর সঙ্গে তার নয় বছরের ছেলে নুরুদ্দিন রহ.ও ছিলেন। সে ইতোপূর্বে কখনো রাজদরবার দেখে নি। সে এ ধরনের গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ দেখে ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। কুতুব সাহেব রহ. পুত্রের এ অবস্থা দেখে হুঙ্কার ছেড়ে বললেন-
العظمة الله
সকল শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ব কেবল আল্লাহর।
নুরুদ্দিন রহ. বলেন, আমার পিতার হুঙ্কারধ্বনি আমার কানে এসে পৌঁছামাত্রই আমি এক অসাধারণ মানসিক ও আত্মিক-শক্তি অনুভব করলাম। নিমেষেই আমার অন্তর থেকে সকল ভয়-ভীতি দূর হয়ে গেল। আর উপস্থিত সকল লোকজনকে ভেড়া-বকরির পালের মতো মনে হচ্ছিল।
টিকাঃ
১০০ আবুল হাসান আলি নদবি, আল-আরকানুল আরবাআহ: পৃ.৩৭
সুলতান মুহাম্মদ তুঘলক [মৃত্যু: ৭৫২হি.] ছিলেন ভারতের বিখ্যাত শাসক। শৌর্য-বীর্য ও নির্ভীকতায় তার খ্যাতি ছিল সর্বজনবিদিত। তিনি একবার তৎকালীন সুফি-সাধক শাইখ কুতুবুদ্দিন মুনাওয়ার রহ.-এর বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। কুতুব সাহেব রহ. নিজ স্থানেই বসে ছিলেন। তাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য বের হন নি। সুলতান এতে ভীষণ ক্ষুব্ধ হলেন। পরবর্তী সময়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুতুবুদ্দিন রহ.-কে রাজপ্রাসাদে তলব করা হলো। তিনি সেখানে গিয়ে দেখলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রীবর্গ ও সামরিক সৈন্যরা বাদশা তুঘলকের চতুর্পার্শ্বে সশস্ত্র দাঁড়িয়ে আছে। রাজদরবারের পরিবেশ এতই গাম্ভীর্যপূর্ণ ছিল যে, যে কারও গা ভয়ে ছমছম করবে। কুতুবুদ্দিন রহ.-এর সঙ্গে তার নয় বছরের ছেলে নুরুদ্দিন রহ.ও ছিলেন। সে ইতোপূর্বে কখনো রাজদরবার দেখে নি। সে এ ধরনের গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ দেখে ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। কুতুব সাহেব রহ. পুত্রের এ অবস্থা দেখে হুঙ্কার ছেড়ে বললেন-
العظمة الله
সকল শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ব কেবল আল্লাহর।
নুরুদ্দিন রহ. বলেন, আমার পিতার হুঙ্কারধ্বনি আমার কানে এসে পৌঁছামাত্রই আমি এক অসাধারণ মানসিক ও আত্মিক-শক্তি অনুভব করলাম। নিমেষেই আমার অন্তর থেকে সকল ভয়-ভীতি দূর হয়ে গেল। আর উপস্থিত সকল লোকজনকে ভেড়া-বকরির পালের মতো মনে হচ্ছিল।
টিকাঃ
১০০ আবুল হাসান আলি নদবি, আল-আরকানুল আরবাআহ: পৃ.৩৭