📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 দূরদর্শিতা

📄 দূরদর্শিতা


কাজি ইয়াস রহ. সম্পর্কে ইবরাহিম ইবনু মারজুক বসরি রহ. বর্ণনা করেন, ইয়াস ইবনু মুআবিয়া রহ. কাজি হওয়ার পূর্বে একদিন আমরা তার পাশে বসা ছিলাম। ইতোমধ্যে একটি লোক এসে আমাদের পাশের একটি উঁচু দোকানে বসে পড়ল। এবং পথচারীদের গভীরভাবে দেখতে লাগল। হঠাৎ সে বসা থেকে উঠে একজনকে অনুসরণ করে চলতে লাগল। অতঃপর তার চেহারাটি পর্যবেক্ষণ করে পুনরায় নিজ আসনে বসে পড়ল। ইয়াস ইবনু মুআবিয়া এসব গতিবিধি লক্ষ্য করে আমাদের বললেন, বলো তো দেখি, এ লোকটি কী খুঁজছে? আমরা বললাম, জনাব, আপনিই বলেন! তিনি বললেন, লোকটি বাচ্চাদের শিক্ষক। তার এক অন্ধশিক্ষার্থী হারিয়ে গেছে। তাকেই খুঁজে বেড়াচ্ছে। অতঃপর আমরা উঠে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম—ভাই, আপনি কী খুঁজছেন? লোকটি বলল, আমার একটি শিশুশিক্ষার্থী হারিয়ে গেছে। আমি তাকেই খুঁজছি। আমরা জিজ্ঞাসা করলাম—বাচ্চাটি কেমন ছিল? সে বাচ্চাটির সব গুণাগুণ বর্ণনা করে পরিশেষে বলল, তার একটি চোখ ছিল না। অতঃপর জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কী করেন? সে উত্তর করল—বাচ্চাদের পড়াই। তখন আমরা হতবাক হয়ে ইয়াস ইবনু মুআবিয়াকে জিজ্ঞাসা করলাম, এসব বিষয় আপনি কীভাবে জানলেন? তিনি উত্তর করলেন, আমি লোকটিকে দেখলাম, সে এসেই কোনো উন্নত ও উঁচু জায়গা খুঁজছে। আমি তার আপাদ-মস্তক নিরীক্ষণ করে বুঝলাম, সে কোনো রাজ-বংশীয় নয়। তখন মনে মনে ভাবলাম—তাহলে আর এমন কে হবে, যে রাজা-বাদশাদের মতো উঁচুস্থানে বসতে পছন্দ করে? হঠাৎ মনে হলো এ অভিরুচি একজন শিক্ষকেরই হতে পারে। তখন ধরে নিলাম লোকটি শিশুশিক্ষক। সবশেষে আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, আচ্ছা, বাচ্চা হারানোর বিষয়টি আপনি কীভাবে আঁচ করলেন? ইয়াস রহ. বললেন, আমি লক্ষ্য করে দেখলাম, সে এমন একজন অতিসাধারণ পথিককে দেখার জন্য উৎকণ্ঠ হয়ে পড়ল, যার একটি চোখ ছিল অন্ধ। এতে আমি সহজেই বুঝতে পারলাম যে, লোকটি শিশুকে খুঁজছে। আর সে শিশুটিও অন্ধ !

টিকাঃ
১২৮ প্রাগুক্ত: পৃ.২৯

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 খলিফা মামুনুর রশিদের প্রজ্ঞাময় উক্তি

📄 খলিফা মামুনুর রশিদের প্রজ্ঞাময় উক্তি


আবদুল্লাহ ইবনু তাহের বলেন, একদিন আমি খলিফা মামুনুর রশিদের নিকট বসা ছিলাম। তিনি তাঁর ছেলেকে 'এই চাকর' বলে ডাকলেন; কিন্তু কোনো সাড়া এলো না। দ্বিতীয়বার ডাক দিতেই এক তুর্কি যুবক বিড়বিড় করতে করতে বের হলো। এবং রুক্ষকণ্ঠে বলল, আমাদের দেখলেই আপনি 'এই ছেলে এই ছেলে' বলে ডাকতে থাকেন। আর কতকাল এ বিড়ম্বনা পোহাতে হবে আমাদের? খলিফা তার এমন কথা শুনে মাথা নুইয়ে ফেললেন। এহেন অবস্থা দেখে নিশ্চিত হয়ে গেলাম, তিনি হয়তো এক্ষণে তার মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেবেন; কিন্তু কিছুক্ষণ পর খলিফা স্বাভাবিক হয়ে আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, আবদুল্লাহ, যদি কোনো ভদ্রলোক তার আচার-ব্যবহার শালীন ও মার্জিত রাখতে চায়, তবে তার চাকর-বাকরদের স্বভাব-চরিত্র বিগড়ে যায়। কথা-বার্তা কর্কশ হয়ে যায়। আর যদি নিজের আচরণ রুক্ষ করে, তাহলে চাকর-বাকররা নম্র ও ভদ্র হয়ে যায়। অবশ্য আমি নিজের স্বভাব বিকৃত করে চাকরদের স্বভাব ভালো করতে চাই না。

টিকাঃ
১২৯ আল-ইয়াওকিতুল আসরিয়‍্যাহ: পৃ.১৪২

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 যে স্বাদ কখনো ফুরায় না!

📄 যে স্বাদ কখনো ফুরায় না!


খলিফা মামুনুর রশিদ একদিন হাসান ইবনু সুহাইলকে বললেন, আমি পৃথিবীর সকল বস্তুর স্বাদ সম্পর্কে ভেবে দেখেছি, কোনো স্বাদই স্থায়ী নয়। সকল স্বাদ হতেই মানুষ কোনো এক সময়ে এসে নিঃস্পৃহ ও অভক্ত হয়ে যায়; কিন্তু সাতটি বস্তুর স্বাদ হতে মানুষ কখনো বিরক্ত ও নিরানন্দ হয় না। সেগুলো হলো:
১.আটার রুটি
২. ছাগলের গোশত
৩. ঠান্ডা পানি
৪. কোমল ও মসৃণ কাপড়
৫. সুগন্ধ
৬. নরম বিছানা
৭. যে কোনো সৌন্দর্য উপভোগ করা।
হাসান ইবনু সুহাইল বললেন, আমিরুল মুমিনিন, একটি কিন্তু থেকে গেল! তা হচ্ছে মানুষের সঙ্গে কথোপকথন করা। খলিফা মামুন তার কথাকে সমর্থন করলেন।

টিকাঃ
১৩০ প্রাগুক্ত: পৃ.১৪৪

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 বাক-নিপুণতা

📄 বাক-নিপুণতা


একবার কুফার অধিবাসীরা সেখানকার দায়িত্বশীল গভর্নরের বিরুদ্ধে খলিফা মামুনের নিকট অভিযোগ দায়ের করে তার পদচ্যুতের দাবি জানাল। খলিফা এতে বিস্মিত হয়ে বললেন, আমার জানা মতে গভর্নরদের মধ্যে সে-ই সবচে' সৎ ও ন্যায়পরায়ণ। এ কথা শুনে এক ব্যক্তি বলে উঠল, আমিরুল মুমিনিন, আমাদের গভর্নর যদি বাস্তবেই এত ভালো হয়ে থাকেন, তবে আপনার উচিত দেশের সকল জনগণের প্রতি ন্যায়-ইনসাফ করা। অর্থাৎ পালাক্রমে প্রত্যেক শহরের জনগণকে তার থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া জরুরি। এতে কুফার বাসিন্দাদের ভাগে তিন বছরের বেশি পড়ে না। খলিফা মামুন এ কথা শুনে হাসলেন এবং গভর্নরকে বরখাস্ত করে দিলেন।
আরেক দিনের ঘটনা:
খলিফা মামুনুর রশিদ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। পথে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা। লোকটি খলিফাকে বলল, আমি একজন গ্রাম্যলোক।
খলিফা : এটি কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয়।
: আমি হজে যেতে চাই।
: যাও। কে বারণ করেছে?
: আমার কাছে টাকা নেই।
: তবে তো তোমার ওপর হজ ফরজই হয় নি।
: আমি আপনার কাছে ফতোয়া নয়, হাদিয়া চাচ্ছি।
খলিফা তার কথা শুনে হাসিমুখে তাকে কিছু হাদিয়া দিলেন。

টিকাঃ
১৩১ প্রাগুক্ত: পৃ. ১৬১-১৬২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00