📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 চোরের জন্য দুআ

📄 চোরের জন্য দুআ


রবি' ইবনু খুসাইম রহ. প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও আল্লাহর ওলি ছিলেন। ইবাদত-বন্দেগি ও দুনিয়া বিমুখতায় ছিলেন অতুলনীয়। একবার তার ঘোড়া চুরি হয়ে গেলে সকলে বলল, হুজুর, চোরকে বদদোয়া করে দেন! তিনি বললেন, না; বরং আমি তার জন্য এই দুআ করি-
যদি সে সম্পদশালী হয়, আল্লাহ যেন তার এ কুঅভ্যাস দূর করে দেন, তাকে সঠিক বুঝ দান করেন। আর যদি গরিব ও অসহায় হয়, তবে তাকে সচ্ছলতা দান করেন。

টিকাঃ
১২৩ প্রাগুক্ত: ২/১১১

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 এক জ্ঞানগর্ভ উক্তি

📄 এক জ্ঞানগর্ভ উক্তি


মুতাররিফ ইবনু আবদিল্লাহ ইবনি শিখখির রহ. বলেন-
لأن أبيت نائما وأصبح نادما أحب إلى من أن أبيت قائما وأصبح معجبا.
সারা রাত [কোনো নফল ইবাদত না করে] ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিয়ে সকালে লজ্জিত হওয়াটা আমার নিকট রাতভর ইবাদতে কাটিয়ে আত্মগুণাভিমানী হওয়া হতে উত্তম。
তিনি আরও বলেন—
‘তুমি এ কাজটি কেন করলে’—কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার এ প্রশ্নের চাইতে ‘তুমি এ কাজটি কেন করলে না’—এ প্রশ্নটি আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়。

টিকাঃ
১২৪ প্রাগুক্ত: ২/২০০

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 মাজহাবগত মহানুভবতা

📄 মাজহাবগত মহানুভবতা


ফুকাহায়ে কেরামের মাঝে শরিয়তের অনেক মাসআলায় তুমুল মতপার্থক্য চলে আসছে। কোনো কোনো সময় উত্তম-অনুত্তম নিয়েই বিরাট তর্ক-বিতর্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে এসব বিষয়ে একে অপরকে সূক্ষ্ম জ্ঞানের মারপ্যাঁচেও ফেলতেন। যেমন—রুকুতে যাবার সময় হাত উঠানো-না উঠানো, আমিন আস্তে বা জোরে বলা ইত্যাদি。
উল্লেখ্য, এসব বিষয়ে মতানৈক্য কেবল উত্তম-অনুত্তম নিয়ে। নতুবা এতে কারও দ্বিমত নেই যে, এসব কারণে নামাজ নষ্ট কিংবা অসম্পূর্ণ হবে না; বরং নামাজ হয়ে যাবে। এ কারণেই এসব বিষয়ে পারস্পরিক কঠিন মতপার্থক্য ও বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও ইমামদের মাঝে উদারতা ও মহানুভবতার অসংখ্য নজির পাওয়া যায়। যার একটি নজির এখানে তুলে ধরা হলো:
আল্লামা তাহতাবি রহ. বর্ণনা করেন, কাজি আবু আসেম রহ. একজন উঁচুমাপের হানাফি আলেম ছিলেন। তিনি একবার বিখ্যাত শাফেয়ি আলেম আল্লামা কাফফাল রহ.-এর মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। শাফেয়ি মাজহাবে ইকামতে—
أشهد أن لا إله إلا الله - أشهد أن محمدا رسول الله
حي على الصلاة - حي على الفلاح
কেবল একবার করে বলা হয়। আর হানাফি মাজহাবে দুই-দুইবার বলা হয়। আল্লামা কাফফাল রহ. কাজি আবু আসেম হানাফি রহ.-কে দেখে তার সম্মানার্থে মুআজ্জিনকে বলে দিয়েছিলেন—আজ ইকামতের সময় উক্ত বাক্যগুলো দুইবার করে পড়বে। অতঃপর আল্লামা কাফফাল রহ. কাজি আবু আসেম রহ.-কে নামাজ পড়াতে অনুরোধ করলেন। তিনি নামাজে শাফেয়ি মাজহাব অনুকরণে সর্বপ্রথম সূরা ফাতিহার পূর্বে বিসমিল্লাহ উচ্চস্বরে পড়লেন। এছাড়াও নামাজের অন্যান্য কার্যাবলী শাফেয়ি মাজহাব অনুযায়ী পালন করলেন。
স্মর্তব্য—এরূপ উদারতা কেবল উত্তম-অনুত্তমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। হালাল-হারাম তথা জায়েয়-নাজায়েয় সংক্রান্ত বিষয়ে অবশ্যই নিজ মাজহাবের অনুসরণ করবে。

টিকাঃ
১২৫ তাহতাবি: ১/৫০

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 অভিযোগ যেমন বিচারকার্য তেমন

📄 অভিযোগ যেমন বিচারকার্য তেমন


ইমাম শাবি রহ. বর্ণনা করেন, একবার উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর দরবারে জনৈকা নারী এসে আবেদন জানাল—আমিরুল মুমিনিন, আমার স্বামীর মতো নেককার মানুষ সম্ভবত পৃথিবীতে আর কেউ নেই। তিনি দিনভর রোজা রাখেন আর সারারাত নামাজে কাটান। এ পর্যন্ত বলেই সে নীরব হয়ে গেল। উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু তার উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ না বুঝে তাকে বললেন, ‘আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করেন এবং ক্ষমা করে দেন! নেককার নারীরা এভাবেই স্বামীর প্রশংসা করে থাকে।’
এবার সেই নারী উমারের এ মন্তব্য শুনে কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে ফিরে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়াল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কাব ইবনু সাওয়ার রাজিয়াল্লাহু আনহু। তিনি মহিলাকে ফিরে যেতে দেখে উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, আমিরুল মুমিনিন, আপনি ভেবেছেন সে তার স্বামীর প্রশংসা করেছে, বাস্তবে তা নয়; সে মূলত স্বামীর বিরুদ্ধে আপনার নিকট অভিযোগ করতে এসেছে। তার স্বামী সারাক্ষণ ইবাদতে ডুবে থাকে। স্ত্রীর হক যথাযথ আদায় করে না। উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আচ্ছা, এই খবর! তাকে ডাকো。
অতঃপর তাকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বুঝতে পারেন যে, কাব ইবনু সাওয়ারের ধারণাই ঠিক ছিল। উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু কাব রাজিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, এখন তুমিই এর ফয়সালা করো। কাব রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমিরুল মুমিনিন, আপনার সম্মুখে আমি কীভাবে ফয়সালা দেবো!
উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হ্যাঁ, যেহেতু তুমিই তার অভিযোগটি ধরতে পেরেছ, তাই তুমিই এর সমাধান দাও। এরপর কাব রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমিরুল মুমিনিন, আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক পুরুষকে সর্বোচ্চ চারটি বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন। এ হিসেবে কেউ যদি চারটি বিয়ে করে, তবুও প্রত্যেক স্ত্রীর ভাগে চারদিনে একদিন করে পড়বে। এ থেকে সহজেই বোঝা যায়—প্রত্যেক স্ত্রীর জন্য স্বামীর ওপর হক হলো প্রতি চারদিনে একদিন। কাজেই আপনি এ ফয়সালা দেন যে, উক্ত মহিলার স্বামী তিনদিন ইবাদত করবে, চতুর্থদিন অবশ্যই স্ত্রীর হক আদায় করবে。
কাব ইবনু সারওয়ার রাজিয়াল্লাহু আনহুর ফয়সালা শুনে উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু আঁতকে উঠলেন এবং বললেন, এ ফয়সালাটি তোমার বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার চেয়েও অধিক সূক্ষ্ম ও চমৎকার। এরপর তিনি তাকে বসরার বিচারক পদে নিয়োজিত করলেন。

টিকাঃ
১২৬ ইবনু আবদিল বার, আল-ইস্তিআব: ৩/২৮৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00