📄 আবদুল্লাহ ইবনু মুবারকের বৈপ্লবিক জীবন
আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ. ছিলেন এমন ব্যক্তিত্ব, যার নাম আজও বিশ্বের মুসলিম অতি ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। ইলমে হাদিস, ফিকহ ও তাসাউফ-এই তিন শাস্ত্রের ইমাম ছিলেন তিনি; কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না যে, তিনি জীবনের শুরু থেকেই এসকল গুণের অধিকারী ছিলেন না। যৌবনের শুরুতে তিনি ছিলেন অতি স্বাধীনচেতা ও উগ্র যুবক। তখন তিনি নেশা, গান-বাজনা ও আমোদ-প্রমোদে সর্বদা বুঁদ হয়ে থাকতেন। আল্লাহ তাকে প্রচুর ধন-সম্পদ ও বিত্ত-বৈভব দান করেছিলেন। তার সম্পদের মধ্যে একটি ছিল আপেলের বাগান। ফল পাড়ার মৌসুমে একবার তিনি জমকালো ভোজন অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেন এবং সকল বন্ধু- বান্ধবদের দাওয়াত করলেন। খাওয়া-দাওয়া শেষে মদের আড্ডা জমল। একের পর এক মদের পাত্র খালি হচ্ছিল। আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক এত অধিক পরিমাণে মদ পান করলেন যে, একপর্যায়ে নেশার ঘোরে বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। সারা রাত এভাবেই কাটল। সকালে হুঁশ ফিরতেই দেখলেন বীণাটি পাশেই পড়ে আছে। সেটি উঠিয়ে বাজাতে চাইলেন; কিন্তু তা অকেজো মনে হলো। শত চেষ্টা করেও তাতে সুর উঠাতে পারলেন না। এতে আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক খুব বিচলিত হয়ে পড়লেন। অমনি বীণা হতে আওয়াজ এলোড়
أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ
মুমিনদের হৃদয় আল্লাহর স্মরণে কোমল ও বিগলিত হওয়ার সময় এখনো কি হয় নি?
কুরআনের এ নির্মলবাণী শুনে তার হৃদয়-আত্মা কেঁপে উঠল। তিনি তৎক্ষণাৎ বীণাটি ভেঙে ফেললেন। মদের মটকাগুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেললেন। পরনের রেশমি কাপর ছিঁড়ে টুকরা-টুকরা করে ফেললেন। এমনকি তখনি তওবা করে ইলম অন্বেষণ ও আল্লাহর ইবাদতে লেগে গেলেন। ঘটনাটি আবু আবদুল্লাহ হাম্মাদ তার 'মুখতাসারুল মাদারেক' নামক গ্রন্থে এভাবে বর্ণনা করেন; কিন্তু 'তবাকাতে কাফাবি'-তে ভিন্ন রকম রয়েছে। তাতে উল্লেখ আছে-
আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক মদের নেশায় ঘুমিয়ে পড়লেন। স্বপ্নে দেখেন যে, একটি প্রাণী নিকটবর্তী একটি গাছের পাশ থেকে উক্ত আয়াতটি তিলাওয়াত করছে। তা শুনেই তাঁর জীবনের পট পরিবর্তন হয়ে যায়。
উভয় ঘটনার সমন্বয় সাধনে শাহ আবদুল আজিজ রহ. বলেন, হতে পারে আল্লাহ তাআলা সর্ব প্রথম তাকে স্বপ্নযোগে প্রাণীর মাধ্যমে সতর্ক করেছেন। অতঃপর ঘুম থেকে সজাগ হবার পর বীণা দ্বারা তাগিদ দিয়েছেন。
টিকাঃ
১১০ সূরা হাদিদ: ১৬
১১১ বুস্তানুল মুহাদ্দিসিন: পৃ.৯৭
📄 খোদাভীতি
রিবয়ি ইবনু হিরাশ রহ. ছিলেন একজন উঁচুমাপের তাবিয়ি। তার একটি অনন্য গুণ ছিল-তিনি কখনো মিথ্যা বলেন নি। একবার তিনি কসম করে বললেন, পরকালে আমি আমার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত হাসবো না। বাস্তবেই তিনি সারা জীবনে একবারও হাসেন নি। মৃত্যুর সময় কেবল তাকে হাসতে দেখা গিয়েছিল। ঠিক একই ঘটনা তার ভাই রবি ইবনু হিরাশ রহ.-এর ক্ষেত্রে ঘটেছে। তিনিও প্রতিজ্ঞা করেছিলেন-তার অবস্থান জান্নাত না জাহান্নামে, এ ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়ে কখনো হাসবেন না। মৃত্যুর পর তার গোসলদাতাগণ বর্ণনা করেন, আমরা যতক্ষণ তাকে গোসল দিচ্ছিলাম ততক্ষণ তিনি একটানা হাসছিলেন। তাদের আরেক ভাইয়ের নাম ছিল মাসউদ। তিনি মৃত্যুর পর কথা বলেছিলেন। এককথায়-গোটা পরিবারটাই যেন ছিল রতনে রতনে ভরা!
টিকাঃ
১১২ ইমাম নববি, শরহে মুসলিম: ১/৫৫
📄 বিদুষী নারী
শাইখ আলাউদ্দিন সমরকান্দি রহ. তুহফাতুল ফুকাহা নামক একটি কিতাব রচনা করেন। যার ব্যাখ্যাগ্রন্থ লেখেন তারই প্রিয় ছাত্র ইমাম আবু বকর ইবনু মাসউদ কাসানি রহ.। যা বাদায়েউস সানায়ে নামে প্রসিদ্ধ। সমগ্র মুসলিম বিশ্বে আজও তা আলোড়ন সৃষ্টিকারী যুগান্তকারী গ্রন্থ। আল্লামা শামি রহ.-এর বক্তব্য অনুযায়ী ফিকাহশাস্ত্রে এটি একটি অদ্বিতীয় কিতাব। যা-হোক, ইমাম কাসানি রহ. তার ব্যাখ্যাগ্রন্থটি রচনা করে শ্রদ্ধাভাজন উস্তাদকে দেখালেন। উস্তাদ তা দেখে ভীষণ খুশি হয়েছেন। এবং নিজের কলিজার টুকরা প্রিয় কন্যা ফাতেমাকে তার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেন। যাকে বিয়ে করার জন্য অনেক রাজা-বাদশা পর্যন্ত প্রস্তাব করেছিল; কিন্তু শাইখ আলাউদ্দিন তাদের কারও প্রস্তাব গ্রহণ করেন নি। ফেকাহ ও ফতোয়াশাস্ত্রে এ মহীয়সী নারীর এতই বুৎপত্তি ছিল যে, রীতিমতো তিনি ফতোয়া লিখতেন। পরবর্তী সময়ে দেখা যেত কেউ কোনো ফতোয়া বা লিখিত সমাধান চাইলে উত্তরপত্রে তিন হাতের লেখা থাকত। কিছু অংশ শাইখ আলাউদ্দিনের, কিছু অংশ আল্লামা কাসানি রহ.-এর আর কিছু অংশ তার স্ত্রী ফাতেমার。
টিকাঃ
১১৩ ফাতাওয়া শামি: ১/১০০
📄 উম্মে সুলাইম রা.-এর ঈমানদীপ্ত ঘটনা
রাসুলুল্লাহ সা. যে সকল ভাগ্যবান ব্যক্তিদেরকে জীবদ্দশায় জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন, উম্মে সুলাইম রাজিয়াল্লাহু আনহা তাদের অন্যতম। তার মূল নাম ছিল রুমাইসা। জাবির রাজিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, আমি [স্বপ্নযোগে] জান্নাতে প্রবেশ করেছিলাম। হঠাৎ আমার দৃষ্টি গিয়ে পড়ল সেখানে অবস্থানরত আবু তালহার স্ত্রী রুমাইসার প্রতি। নবীজির যুগে তার এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটেছিল-যা তাকে সাহাবিদের মধ্যে অনুপম করে রেখেছে。
নিম্নে তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা তুলে ধরা হলো:
ক. বিবাহ
উম্মে সুলাইম রাজিয়াল্লাহু আনহার বিবাহের ঘটনা ছিল অত্যন্ত আশ্চর্যজনক ও বিচিত্র। তিনি বিবাহের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন; কিন্তু তার স্বামী আবু তালহা রাজিয়াল্লাহু আনহু তখনো মুসলিম হন নি। আবু তালহা রাজিয়াল্লাহু আনহু তাকে কাফের অবস্থায়ই বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। উম্মে সুলাইম উত্তরে আবু তালহা রাজিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, আবু তালহা, তোমার জানা আছে কি, তুমি যেই কাঠ [মূর্তি]-এর পূজা করছ সেটি মূলত মাটি হতে উৎপন্ন এক তুচ্ছ জিনিস, যাকে অমুক গোত্রের হাবশি লোক মনগড়া উদ্ভাবন করেছে? আবু তালহা বললেন, হ্যাঁ! আমি জানি。
উম্মে সুলাইম বললেন, এরকম একটি কাঠকে মাবুদরূপে গ্রহণ করতে তোমার লজ্জা করে না? যা-হোক, তোমার মতো ব্যক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা যায় না। তবে সমাস্যা হলো-আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। আর তুমি এখনো কাফের। যদি তুমি ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করো, তাহলে আমার মোহর দিতে হবে না। আবু তালহা বললেন, তাই বলে শুধু ইসলাম গ্রহণ তোমার মতো মহীয়সীর মোহর হতে পারে না। উম্মে সুলাইম বললেন, তাহলে আমার মোহর কী হতে পারে? আবু তালহা উত্তর করলেনড়কেন স্বর্ণ-রৌপ্য! উম্মে সুলাইম বললেন, আমার এসবের প্রয়োজন নেই। আমি কেবল তোমার ইসলামই কামনা করি。
এ কথা শুনে আবু তালহার হৃদয়াকাশে ইসলামের প্রতি অগাধ ভালোবাসা চমকে উঠল। তাই কালবিলম্ব না করে তিনি রাসুলুল্লাহর খেদমতে হাজির হলেন। নবীজি তখন সাহাবিদের মাঝে বসা ছিলেন। আবু তালহা রাজিয়াল্লাহু আনহুকে দেখে তিনি সাহাবিদের উদ্দেশ্য করে বললেন, আবু তালহা তোমাদের নিকট এমতাবস্থায় এসেছে যে, তার চোখে-মুখে ইসলামের নুর ঝলমল করছে। অতঃপর আবু তালহা রাজিয়াল্লাহু আনহু ইসলাম গ্রহণ করে উম্মে সুলাইম রাজিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে শুভ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন。
খ. বীরত্ব ও সাহসিকতা
এই উম্মে সুলাইম রাজিয়াল্লাহু আনহা সম্পর্কেই আনাস রাজিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন-উহুদযুদ্ধে আমি আয়েশা ও উম্মে সুলাইম রাজিয়াল্লাহু আনহুমাকে সার্বক্ষণিক তৎপর ও উদ্দম দেখেছি। তারা পানির ভরাপাত্র পিঠে বহন করে মুজাহিদদের পান করাতেন। পাত্র খালি হলে পুনরায় আবার বিশুদ্ধ পানি নিয়ে আসতেন। [তখনো পর্দার বিধান নাজিল হয় নি।]
হুনাইনের যুদ্ধে আবু তালহা রাজিয়াল্লাহু আনহু তার স্ত্রীকে দেখেন, তিনি একটি খঞ্জর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। আবু তালহা জিজ্ঞাসা করলেন-উম্মে সুলাইম, তোমার হাতে এটা কী? উম্মে সুলাইম বললেন, এটা খঞ্জর! কোনো মুশরিক আমার দিকে আসতে চাইলে এ খঞ্জরটি তার পেটে বসিয়ে দেবো। আবু তালহা রাজিয়াল্লাহু আনহু স্ত্রীর বীরত্ব ও সাহসিকতায় যারপরনাই খুশি হলেন। এবং রাসুলুল্লাহ সা.-এর নিকট তা জানালেন। নবীজি বললেন, উম্মে সুলাইম, এখন আর তোমাদের এত মেহনতের প্রয়োজন নেই। আল্লাহ তাআলাই যথেষ্ট。
গ. ধৈর্য ও বুদ্ধিমত্তা
একবার আবু তালহা রাজিয়াল্লাহু আনহুর ছেলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তিনি ছেলেকে সে অবস্থায় রেখেই আপন কাজে চলে যান। বাড়িতে ছিলেন তার মা উম্মে সুলাইম রাজিয়াল্লাহু আনহু। একদিন ছেলেটি হঠাৎ-ই মারা গেল। ইতোমধ্যে সেদিনই আবু তালহা বাড়ি ফিরলেন। উম্মে সুলাইম স্বামীকে কিছু না জানিয়ে যে কক্ষে ছেলেটি মারা গিয়েছিল সেখানে একটি কাপড় দ্বারা ছেলের মৃতদেহ আবৃত করে এসে আবু তালহা রাজিয়াল্লাহু আনহুর জন্য খাবার প্রস্তুতে নিয়োজিত হলেন। আবু তালহা রাজিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন সেদিন রোজাদার। উম্মে সুলাইম রাজিয়াল্লাহু আনহু ভাবলেন-ইফতারের পূর্বে তাকে ছেলের মৃত্যুর সংবাদ দেওয়াটা ঠিক হবে না। যে কথা সে কাজ। আবু তালহা রাজিয়াল্লাহু আনহু সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরলেন। বাড়িতে পা রেখেই ছেলের শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলেন এবং তাকে দেখার জন্য কক্ষের দিকে অগ্রসর হলেন; কিন্তু বুদ্ধিমতি স্ত্রী উম্মে সুলাইম রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন, সে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ আছে। তাকে দেখার প্রয়োজন নেই। এ কথা শুনে আবু তালহা রাজিয়াল্লাহু আনহু নিশ্চিন্ত মনে ইফতার করতে লাগলেন। উম্মে সুলাইম রাজিয়াল্লাহু আনহু স্বামীর মনোরঞ্জনের জন্য অন্যান্য দিনের মতো সাজগোজ করলেন। এমনকি বাড়ির পরিবেশে কোনো প্রকার শোকের ছায়াও ফেলতে দেন নি। সারা রাত যথারীতি হাসি-খুশি ও আনন্দ-ফুর্তিতেই স্বামীকে মাতিয়ে রাখলেন。
তাহাজ্জুদের সময় উম্মে সুলাইম রাজিয়াল্লাহু আনহু আবু তালহাকে বললেন, অমুক গোত্রের লোকদের একটি স্বভাব বড়ই অদ্ভুত! তারা প্রতিবেশীদের কাছ থেকে কোনো কিছু কর্জ আনার পর তা নিজের মনে করে বসে আছে। যখন প্রতিবেশীরা তা ফেরত চাইল, অমনি তারা তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে গেল! আবু তালহা রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এটা তো মহা অন্যায়। তারা খুবই নিন্দনীয় কাজ করেছে。
এবার উম্মে সুলাইম রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আপনার ছেলেটিকেও আল্লাহ তাআলা আপনাকে কর্জস্বরূপ দিয়েছিলেন। এখন তিনি তাকে ফেরত নিয়ে গেছেন। তিনিই তার প্রকৃত মালিক। অতএব, আমাদের ধৈর্যধারণ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই。
আবু তালহা রাজিয়াল্লাহু আনহু এ কথা শুনে একদম ভেঙে পড়লেন এবং রাসুলুল্লাহ সা.-এর খেদমতে গিয়ে উম্মে সুলাইম রাজিয়াল্লাহু আনহুর এরূপ আচরণের অভিযোগ করলেন। তখন রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেন- আবু তালহা, আল্লাহ তাআলা তোমাদের প্রতি গতরাতে বিরাট বরকত অবতীর্ণ করেছেন。
ঘ. নবিজির প্রতি মহব্বত
আনাস রাজিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ স্বীয় বিবিগণের ঘর ব্যতীত মদিনার অন্য কারও ঘরে যেতেন না। কেবল মাঝে মধ্যে উম্মে সুলাইমের ঘরে তাশরিফ নিতেন। এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তার প্রতি দয়া হয়। কারণ, তার ভাইকে আমার সামনেই শহিদ করা হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে আনাস রাজিয়াল্লাহু আনহু থেকেই অপর একটি বর্ণনা রয়েছে। তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ আমাদের ঘরে তাশরিফ নিলেন। দুপুরে সেখানেই ঘুমিয়ে পড়লেন। তীব্র গরমে তাঁর পবিত্র শরীর বেয়ে ঘাম ঝরছিল। উম্মে সুলাইম রাজিয়াল্লাহু আনহু এ অবস্থা দেখে একটি শিশিতে তা সংগ্রহ করতে লাগলেন। হঠাৎ নবীজির ঘুম ভেঙে গেল। জিজ্ঞাসা করলেন—উম্মে সুলাইম, এ কী করছ তুমি! উম্মে সুলাইম উত্তর করলেন-ইয়া রাসুলাল্লাহ, এতে আপনার ঘাম। আমি একে আতরের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করবো। কারণ, এ ঘাম পৃথিবীর সকল আতরের তুলনায় অধিক সুগন্ধিময়。
টিকাঃ
১১৪ বিস্তারিত দেখুন—আবু নুআইম ইস্পাহানি কৃত ‘হিলইয়াতুল আউলিয়া’
১১৫ বুখারি: ৫৪৭০; মুসলিম: ২১১৯,২১৪৪
১১৬ হিলইয়াতুল আউলিয়া: ২/৫৭-৬১