📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 কুদরতি কারিশমা

📄 কুদরতি কারিশমা


উল্লিখিত নিবন্ধকার তার একই গ্রন্থে উল্লেখ করেন, 'Jack in the pulpoint' নামে এক প্রকার ফুল আছে। এ ফুলের চারায় দু'রকম ফুলের গুচ্ছ থাকে। নর ও মাদি। এ ফুলটির চারাগাছে তৃণলতার বৃত্ত থাকে, যা ছোট ছোট পেয়ালার মতো গোলাকার। সে বৃত্ত হতেই ফুল পত্র-পল্লবিত হয়ে পূর্ণ মাত্রায় প্রস্ফুটিত হয়। এ ফুলের প্রজনন-পদ্ধতি অন্যান্য ফুলের মতোই নর-মাদির মিলনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। তবে এ ফুলের মিলন-পদ্ধতিটা অন্যান্য ফুলের চাইতে একটু ব্যতিক্রম ও অদ্ভুত। এ ফুলে নর-মাদির মিলন সরাসরি না হয়ে এদের মিলন হয় ছোট্ট কীটের মাধ্যমে। এ ফুলের লতাগুল্ম দ্বারা সৃষ্ট বৃত্তের বহিরাংশ থাকে প্রশস্ত আর ভেতরের অংশ থাকে সঙ্কীর্ণ。
ছোট্ট কীটগুলো উক্ত বৃত্তের মাঝে ঢুকতে মরিয়া হয়ে ওঠে; কিন্তু মাঝ পথে যেয়ে ফেঁসে যায়। কারণ, প্রথমত ভেতরের দিক অতি সঙ্কীর্ণ। তাছাড়া কোনো পোকা তাতে প্রবেশ করতে চাইলে ফুলটির ওপর দিক হতে মোমের মতো এক ধরনের বিশেষ পদার্থ বৃত্তের মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে পোকার প্রবেশ পথে সরে আসে। ফলে বৃত্তের মাঝ পথে যেয়ে পোকা আটকা পড়ে যায়। সামনে বা পেছনে কোনো দিকেই সরার পথ খুঁজে না পেয়ে দিশেহারা ও উন্মাদের মতো ঘুরতে থাকে। আর তখনই বৃত্তের ভেতরকার প্রজননের পদার্থ তার সর্বাঙ্গে লেগে যায়। যখন এ কাজ সম্পন্ন হয়, অমনি বৃত্তের উপরিভাগ দিয়ে মোমের মতো পদার্থ নির্গত হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এবং ধীরে ধীরে উপরিভাগ শুষ্ক হতে থাকে। তখন পোকা একটু জোরে ধাক্কা দিলেই আবরণটি সরে যায়। অতঃপর পোকা বেরিয়ে আসে। এরপর পোকাটি সে অবস্থায় কোনো একটি মাদি গাছের বৃত্তে প্রবেশ করে এবং একইভাবে মাঝ পথে গিয়ে আটকে যায়। তবে এ ক্ষেত্রটা নরের চাইতে একটু বিচিত্র。
কারণ, এ বৃত্তে ঢুকার পর পোকাটি আর বের হতে পারে না। আজীবনের জন্য আটকে যায় এবং সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর পূর্বে পোকাটি তার শরীরের শেষশক্তি দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা চালায়। তখন তার শরীরে থাকা নর-প্রজনন পদার্থ মাদি চারার জরায়ুতে স্থানান্তরিত হয়। আর এভাবেই প্রজনন-ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এটা সত্যিই কুদরতে ইলাহির অদ্ভুত কারিশমা!
প্রথমে পোকাটিকে নর গাছটি তার ভেতর ঢোকার সুযোগ দিয়ে পুনরায় বের হওয়ার পথ বন্ধ করে ক্ষণিকের জন্য আটকে ফেলে। তারপর বের হওয়ার সুযোগ করে দেয়। পক্ষান্তরে মাদি গাছটিও পোকাটিকে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেয়; কিন্তু আর বের হতে দেয় না。
فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ.
সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কতইনা মহান!
নিবন্ধকার উক্ত ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, এসব কুদরতি কারিশমা কি মহান আল্লাহর অস্তিত্বের সাক্ষ্য দেয় না? এসকল সুনিপুণ ও বিচিত্র সৃষ্টিকে যদি নিছক প্রাকৃতিক-রীতি বলে ধারণা কর হয়, তবে তা বোকামি বৈ কিছুই নয়। গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে আমাদেরকে এ কথা মেনে নিতেই হবে যে, এগুলো নিঃসন্দেহে এক নিখুঁত ও সুসংহত ব্যবস্থাপনারই ফল。

টিকাঃ
১০৯ সূরা মুমিনুন: ১৪

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 আবদুল্লাহ ইবনু মুবারকের বৈপ্লবিক জীবন

📄 আবদুল্লাহ ইবনু মুবারকের বৈপ্লবিক জীবন


আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ. ছিলেন এমন ব্যক্তিত্ব, যার নাম আজও বিশ্বের মুসলিম অতি ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। ইলমে হাদিস, ফিকহ ও তাসাউফ-এই তিন শাস্ত্রের ইমাম ছিলেন তিনি; কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না যে, তিনি জীবনের শুরু থেকেই এসকল গুণের অধিকারী ছিলেন না। যৌবনের শুরুতে তিনি ছিলেন অতি স্বাধীনচেতা ও উগ্র যুবক। তখন তিনি নেশা, গান-বাজনা ও আমোদ-প্রমোদে সর্বদা বুঁদ হয়ে থাকতেন। আল্লাহ তাকে প্রচুর ধন-সম্পদ ও বিত্ত-বৈভব দান করেছিলেন। তার সম্পদের মধ্যে একটি ছিল আপেলের বাগান। ফল পাড়ার মৌসুমে একবার তিনি জমকালো ভোজন অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেন এবং সকল বন্ধু- বান্ধবদের দাওয়াত করলেন। খাওয়া-দাওয়া শেষে মদের আড্ডা জমল। একের পর এক মদের পাত্র খালি হচ্ছিল। আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক এত অধিক পরিমাণে মদ পান করলেন যে, একপর্যায়ে নেশার ঘোরে বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। সারা রাত এভাবেই কাটল। সকালে হুঁশ ফিরতেই দেখলেন বীণাটি পাশেই পড়ে আছে। সেটি উঠিয়ে বাজাতে চাইলেন; কিন্তু তা অকেজো মনে হলো। শত চেষ্টা করেও তাতে সুর উঠাতে পারলেন না। এতে আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক খুব বিচলিত হয়ে পড়লেন। অমনি বীণা হতে আওয়াজ এলোড়
أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ
মুমিনদের হৃদয় আল্লাহর স্মরণে কোমল ও বিগলিত হওয়ার সময় এখনো কি হয় নি?
কুরআনের এ নির্মলবাণী শুনে তার হৃদয়-আত্মা কেঁপে উঠল। তিনি তৎক্ষণাৎ বীণাটি ভেঙে ফেললেন। মদের মটকাগুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেললেন। পরনের রেশমি কাপর ছিঁড়ে টুকরা-টুকরা করে ফেললেন। এমনকি তখনি তওবা করে ইলম অন্বেষণ ও আল্লাহর ইবাদতে লেগে গেলেন। ঘটনাটি আবু আবদুল্লাহ হাম্মাদ তার 'মুখতাসারুল মাদারেক' নামক গ্রন্থে এভাবে বর্ণনা করেন; কিন্তু 'তবাকাতে কাফাবি'-তে ভিন্ন রকম রয়েছে। তাতে উল্লেখ আছে-
আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক মদের নেশায় ঘুমিয়ে পড়লেন। স্বপ্নে দেখেন যে, একটি প্রাণী নিকটবর্তী একটি গাছের পাশ থেকে উক্ত আয়াতটি তিলাওয়াত করছে। তা শুনেই তাঁর জীবনের পট পরিবর্তন হয়ে যায়。
উভয় ঘটনার সমন্বয় সাধনে শাহ আবদুল আজিজ রহ. বলেন, হতে পারে আল্লাহ তাআলা সর্ব প্রথম তাকে স্বপ্নযোগে প্রাণীর মাধ্যমে সতর্ক করেছেন। অতঃপর ঘুম থেকে সজাগ হবার পর বীণা দ্বারা তাগিদ দিয়েছেন。

টিকাঃ
১১০ সূরা হাদিদ: ১৬
১১১ বুস্তানুল মুহাদ্দিসিন: পৃ.৯৭

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 খোদাভীতি

📄 খোদাভীতি


রিবয়ি ইবনু হিরাশ রহ. ছিলেন একজন উঁচুমাপের তাবিয়ি। তার একটি অনন্য গুণ ছিল-তিনি কখনো মিথ্যা বলেন নি। একবার তিনি কসম করে বললেন, পরকালে আমি আমার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত হাসবো না। বাস্তবেই তিনি সারা জীবনে একবারও হাসেন নি। মৃত্যুর সময় কেবল তাকে হাসতে দেখা গিয়েছিল। ঠিক একই ঘটনা তার ভাই রবি ইবনু হিরাশ রহ.-এর ক্ষেত্রে ঘটেছে। তিনিও প্রতিজ্ঞা করেছিলেন-তার অবস্থান জান্নাত না জাহান্নামে, এ ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়ে কখনো হাসবেন না। মৃত্যুর পর তার গোসলদাতাগণ বর্ণনা করেন, আমরা যতক্ষণ তাকে গোসল দিচ্ছিলাম ততক্ষণ তিনি একটানা হাসছিলেন। তাদের আরেক ভাইয়ের নাম ছিল মাসউদ। তিনি মৃত্যুর পর কথা বলেছিলেন। এককথায়-গোটা পরিবারটাই যেন ছিল রতনে রতনে ভরা!

টিকাঃ
১১২ ইমাম নববি, শরহে মুসলিম: ১/৫৫

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 বিদুষী নারী

📄 বিদুষী নারী


শাইখ আলাউদ্দিন সমরকান্দি রহ. তুহফাতুল ফুকাহা নামক একটি কিতাব রচনা করেন। যার ব্যাখ্যাগ্রন্থ লেখেন তারই প্রিয় ছাত্র ইমাম আবু বকর ইবনু মাসউদ কাসানি রহ.। যা বাদায়েউস সানায়ে নামে প্রসিদ্ধ। সমগ্র মুসলিম বিশ্বে আজও তা আলোড়ন সৃষ্টিকারী যুগান্তকারী গ্রন্থ। আল্লামা শামি রহ.-এর বক্তব্য অনুযায়ী ফিকাহশাস্ত্রে এটি একটি অদ্বিতীয় কিতাব। যা-হোক, ইমাম কাসানি রহ. তার ব্যাখ্যাগ্রন্থটি রচনা করে শ্রদ্ধাভাজন উস্তাদকে দেখালেন। উস্তাদ তা দেখে ভীষণ খুশি হয়েছেন। এবং নিজের কলিজার টুকরা প্রিয় কন্যা ফাতেমাকে তার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেন। যাকে বিয়ে করার জন্য অনেক রাজা-বাদশা পর্যন্ত প্রস্তাব করেছিল; কিন্তু শাইখ আলাউদ্দিন তাদের কারও প্রস্তাব গ্রহণ করেন নি। ফেকাহ ও ফতোয়াশাস্ত্রে এ মহীয়সী নারীর এতই বুৎপত্তি ছিল যে, রীতিমতো তিনি ফতোয়া লিখতেন। পরবর্তী সময়ে দেখা যেত কেউ কোনো ফতোয়া বা লিখিত সমাধান চাইলে উত্তরপত্রে তিন হাতের লেখা থাকত। কিছু অংশ শাইখ আলাউদ্দিনের, কিছু অংশ আল্লামা কাসানি রহ.-এর আর কিছু অংশ তার স্ত্রী ফাতেমার。

টিকাঃ
১১৩ ফাতাওয়া শামি: ১/১০০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00