📄 দামি কথা
উমার ইবনু আবদুল আজিজ রহ. খলিফাতুল মুসলিমিন উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর প্রপৌত্র সালেম ইবনু আবদুল্লাহ রহ.-কে লেখেন—আমার নিকট উমার ইবনুল খাত্তাব রাজিয়াল্লাহু আনহুর লেখা কয়েকটি চিঠি পাঠিয়ে দেন! উত্তরে সালেম রহ. লেখেন—
হে উমার, সেসকল রাজা-বাদশাদের কথা স্মরণ করো, যাদের সৌখিনতা ও বিলাসিতা কখনো শেষ হতো না। আজ তাদের চক্ষু গলে গেছে। যারা কখনো তৃপ্ত ও তুষ্ট হতো না। আজ তাদের পেট পচে গেছে। আজ মাটির নিচে তাদের শবদেহ পড়ে আছে। কোনো নগণ্য ফকিরও যদি তাদের পাশে বসে, তবে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে যাবে。
টিকাঃ
৯৫ হিলইয়াতুল আউলিয়া: ২/১৯৪
📄 নিয়ামতের বহিঃপ্রকাশ করা চাই
একদিন ইমাম আবু হানিফা রহ. তার এক মজলিসে জনৈক ব্যক্তিকে ছেঁড়া-ফাঁড়া পুরনো কাপড় পরিহিতবস্থায় উপবিষ্ট দেখলেন। ইমাম সাহেব তাকে বললেন, এই জায়নামাজটি ওঠাও। এর নিচে কিছু দিরহাম রাখা আছে। লোকটি জায়নামাজ উঠিয়ে দেখল—তাতে এক হাজার দিরহাম রয়েছে। ইমাম সাহেব তাকে বললেন, এই দিরহামগুলো নিয়ে যাও। এগুলো দ্বারা নিজের দুঃখ-দুর্দশা দূর করো। লোকটি বলল, আমি তো বিত্তশালী ও স্বচ্ছল। আল্লাহ তাআলা আমাকে অনেক নিয়ামত দান করেছেন। আমার এসবের প্রয়োজন নেই। ইমাম আবু হানিফা রহ. বললেন, তুমি কি এ হাদিস শোনো নি যে, আল্লাহ তাআলা স্বীয় বান্দার প্রতি প্রদত্ত নিয়ামতসমূহের বহিঃপ্রকাশ অন্যের নিকট হওয়াকে পছন্দ করেন? তোমার উচিত ছিল তোমার দুরবস্থা দূর করা, যাতে তোমার কোনো হিতৈষী বন্ধু তোমাকে দেখে পেরেশান না হয়。
টিকাঃ
৯৬ তারিখে বাগদাদ: ১৩/৩৬১
📄 ঘা-ফোঁড়া নিরাময়ের এক অদ্ভুত চিকিৎসা!
আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ. ছিলেন অতি উঁচুমাপের একজন আলেম। একদা কেউ তাকে বলল, আমার হাঁটুতে দীর্ঘ সাত বছরের পুরনো একটি ফোঁড়া রয়েছে। সব ধরনের চিকিৎসা করিয়েছি; কিন্তু কোনো কাজ হলো না。
আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ. তাকে বললেন, এমন একটি জায়গা খোঁজে বের করো, যেখানে পানির সঙ্কট খুব বেশি। এবং লোকজনও পানির তীব্র প্রয়োজন অনুভব করছে। সেখানে গিয়ে একটি কূপ খনন করো। সেখানে একটি পানির প্রস্রবণ প্রবাহিত হলে তোমার ফোঁড়া উপশম হবে বলে আশা করা যায়। লোকটি তাই করল। দেখা গেল কয়েকদিনের মধ্যেই সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠল。
এ ঘটনা আল্লামা মুনজিরি রহ. ইমাম বায়হাকি রহ.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন। ঘটনাটি বর্ণনার পর আল্লামা মুনজিরি রহ. বলেন—এজাতীয় একটি ঘটনা আমাদের শাইখ আবু আবদুল্লাহ হাকেম রহ.-এরও ঘটেছে। তার চেহারা মোবারকে একবার ফোঁড়া উঠেছিল। বহু চিকিৎসা করার পরও তা উপশম হলো না। প্রায় সাত বছর যাবৎ তিনি এ রোগে ভুগেছিলেন। তারপর একদিন শুক্রবারে ইমাম আবু উসমান সাবুনি রহ.-এর দরবারে এসে দুআর আবেদন জানালেন। তিনি তাৎক্ষণিক দুআ করে দিলেন। উপস্থিত সকলেই তার দুআয় আমিন বললেন। পরবর্তী শুক্রবারে জনৈকা মহিলা একটি চিরকুট লিখে ইমাম সাবুনি রহ.-এর নিকট পাঠালেন। তাতে লেখা ছিল—
গত শুক্রবারে আপনার সঙ্গে শাইখ আবু আবদুল্লাহ হাকেমের সুস্থতার দুআ করে বাড়ি গিয়েছিলাম। বাড়িতে গিয়েও তার সুস্থতার জন্য অনেক দুআ করি। সে রাতে আমি স্বপ্নে নবীজির সাক্ষাৎ-লাভে ধন্য হই। তিনি আমাকে বললেন, আবু আবদুল্লাহকে বলো, সে যেন মুসলিমদের জন্য ব্যাপকভাবে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করে।
শাইখ হাকেম রহ. যখন এ ঘটনা শুনতে পেলেন, সঙ্গে সঙ্গে তার বাড়ির সামনে দরজা বরাবর একটি পানির নালা খুলে দিলেন। যার থেকে লোকজন তৃপ্তি সহকারে পানি পান করত। এ ঘটনার এক সপ্তাহ না-যেতেই শাইখ হাকেমের ফোঁড়া সেরে উঠার আলামত দেখা গেল। চেহারায় পূর্বের ন্যায় উজ্জ্বলতা ও সুস্থতার ভাব ফুটে উঠল। এরপর তিনি কয়েক বছর জীবিত ছিলেন。
टিকাঃ
৯৭ আততারগিব ওয়াততারহিব: ২/৫০-৫৪
📄 তুখোড় মেধা
আল্লামা ইবনুল জাওজি রহ. বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তির ঘরে রাত্রিবেলায় ডাকাতদল ঢুকে তাকে বেঁধে ফেলল। অতঃপর তারা ঘরের সকল মালামাল লুটপাট করতে লাগল। সবকিছু ছিনিয়ে নেয়ার পর তারা লোকটিকে হত্যা করার ইচ্ছা করল; কিন্তু তাদের দলপতি বলল, প্রয়োজনে তার সবকিছু নিয়ে যাও। তবুও তাকে ছেড়ে দাও। আর তাকে বলো, সে যেন এ মর্মে কুরআন ছুঁয়ে শপথ করে-
আমি জীবনে কাউকে বলবো না কারা আমার ঘরে ডাকাতি করেছে। আর যদি বলি তাহলে আমার স্ত্রী তিন তালাক。
গৃহকর্তা বেচারা জীবন রক্ষার তাগিদে শপথ করল; কিন্তু পরক্ষণে খুব চিন্তিত হয়ে পড়ল। সকালে বাজারে গিয়ে দেখল যে, তার অপহৃত মালামাল বেশ ধুমধাম করে বিক্রি করছে। লোকটি স্ত্রী তালাকের ভয়ে মুখ খুলতেও পারছে না। অগত্যা সে ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর খেদমতে হাজির হয়ে ঘটনা খুলে বলল এবং এহেন পরিস্থিতিতে তার করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ চাইল। ইমাম সাহেব রহ. পরামর্শ দিলেন—তুমি তোমার মহল্লায় গিয়ে সেখানকার গণ্যমান্য লোকদের একত্র করো। আমি তাদের কেবল একটি কথা বলবো। লোকটি ইমাম সাহেবের পরামর্শ অনুযায়ী সকলকে একত্র করল। ইমাম সাহেব রহ. সেখানে গিয়ে উপস্থিত লোকদের জিজ্ঞাসা করলেন—আপনারা কি চান, বেচারার মালগুলো সে ফেরত পেয়ে যাক? সকলেই একবাক্যে বলল, হ্যাঁ, আমরা অবশ্যই তা চাই।
ইমাম সাহেব রহ. বললেন, তাহলে এক কাজ করেন। অত্র এলাকার সকল দুর্বৃত্তদেরকে আপনাদের মসজিদে আটকে রাখেন। অতঃপর তাদের এক এক করে বের করেন। যখনই কেউ বের হবে, সঙ্গে সঙ্গে লোকটিকে জিজ্ঞেস করবেন—এ লোকটি ডাকাতি করেছিল? যদি সে ডাকাত না হয়, তাহলে সে অস্বীকার করবে। অন্যথায় চুপ থাকবে। হ্যাঁ বা না—কিছুই বলবে না। এ প্রক্রিয়া অবলম্বনে আপনারা সহজেই বুঝতে পারবেন, প্রকৃত ডাকাত কে। পাশাপাশি বেচারার স্ত্রীও তালাক হবে না। সকলে এ পন্থাটি গ্রহণ করল। এতে ডাকাত ধরা পড়ে গেল। গৃহকর্তা তার মালামালও ফেরত পেল। অধিকন্তু তার স্ত্রীও তালাক হলো না。
টিকাঃ
৯৮ আল্লামা তাকিউদ্দিন হামাবি, সামারাতুল আওরাক আলাল মুস্তাতরিফ: ১/১৪৬-১৪৭