📄 নীলনদের নামে উমরের খোলা চিঠি
অনেক বুজুর্গের মুখে উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর যুগের একটি বিস্ময়কর ঘটনা শুনেছি, কিন্তু কোনো কিতাবে তার সন্ধান পাই নি। আজ আল্লামা ইবনু তাগরি বারদি রহ. কৃত আন-নুজুমুযযাহেরা নামক কিতাবে ঘটনাটির বিশদ বিবরণ নজরে পড়ে গেল। তিনি বলেন, আমর ইবনুল আস রাজিয়াল্লাহু আনহু মিশর জয় করে সেখানকার গভর্নর নিযুক্ত হলেন। কিছুদিন পর 'বাউওনা' মাস এলো। [বাউওনা হলো—জুন মাসের কিবতি নাম] মাসের শুরুতেই মিশরের প্রাচীন কিবতি সম্প্রদায়ের অধিবাসীদের প্রতিনিধিদল তার নিকট হাজির হলো। তারা আমর ইবনুল আস রাজিয়াল্লাহু আনহুকে বলল—জাঁহাপনা, আমাদের এখানে নীলনদের একটি রীতির প্রচলন আছে। তা পূরণ করা না হলে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। আমর রাজিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞাসা করেন, রীতিটা কী? তারা বলল, এ মাসের বারো তারিখের রাত পোহালে আমরা একজন যুবতি কুমারীকে নির্বাচন করে তার মা-বাবাকে রাজি করিয়ে নিই। অতঃপর তাকে মূল্যবান অলঙ্কারাদি ও কাপড়-চোপড়ে সজ্জিত করে নীলনদে নিক্ষেপ করি। তারপরই প্রচণ্ড বেগে পানির স্রোত বইতে শুরু করে। আমর রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এটা কখনো ইসলামি রীতি হতে পারে না; বরং ইসলাম জাহিলি যুগের তাবৎ কুপ্রথাকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। প্রতিনিধিদল এ জবাব শুনে চলে গেল; কিন্তু ঘটনা তাই ঘটল, যা তারা বলেছিল। বাউওনা [জুন] আবইয়াব [জুলাই] এবং মুসরি [অগাস্ট]—এ তিন মাসে নীলনদ পানি বিহীন শুষ্কাবস্থায় পড়ে থাকল। ফলে অধিবাসীরা অঞ্চল ছেড়ে অন্যত্র প্রস্থানের জন্য মনস্থ করল। এহেন পরিস্থিতিতে আমর ইবনুল আস রাজিয়াল্লাহু আনহু খলিফাতুল মুসলিমিন উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর নিকট পরামর্শ চেয়ে চিঠি পাঠালেন। উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু কিবতি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কৃত আচরণকে সাধুবাদ জানিয়ে বললেন, আমি একটি চিঠি লিখে পাঠাচ্ছি। এটা নীলনদে নিক্ষেপ করবে। আমর ইবনুল আস রাজিয়াল্লাহু আনহু চিঠিটা খুলে দেখলেন। তাতে লেখা ছিল—
من عبد الله عمر أمير المؤمنين إلى نيل مصر، أما بعد! فإن كنت تجرى من قبلك فلا تجر وإن كان الله الواحد القهار الذي يجريك فنسأل الله الواحد القهار أن يجريك.
আল্লাহর বান্দা আমিরুল মুমিনিন উমারের পক্ষ হতে মিশরের নীলনদের নামে। হামদ ও সালাতের পর—যদি তুমি [হে নদী!] নিজে থেকে প্রবাহিত হও, তবে তোমার প্রবাহের প্রয়োজন নেই। আর যদি মহা পরাক্রমশালী এক আল্লাহর নির্দেশে প্রবাহিত হও, তবে আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি পানি প্রবাহের জন্য।
আমর ইবনুল আস রাজিয়াল্লাহু আনহু উক্ত চিরকুটটা খ্রিস্টানদের সলিব উৎসবের একদিন পূর্বে নীলনদে নিক্ষেপ করলেন। এ দিকে মিশরের অধিবাসীরা সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছিল। কারণ, নীলনদের পানির ওপরই নির্ভর করত তাদের জীবনযাত্রা। সলিব উৎসবের দিন ভোরে তারা গিয়ে দেখে নীলনদ পূর্ণ তারুণ্যদীপ্তে পূর্বের ন্যায় আবারও তরঙ্গায়িত হচ্ছে। মাত্র এক রাতেই পানি ষোলো ফিট পর্যন্ত উঠে গেল!
টিকাঃ
৫৭ গলগথায় যিশু খ্রিস্টের ক্রুশ বিদ্ধকরণ, মৃত্যু ও সমাধি-মন্দির থেকে তাঁর পুনরুজ্জীবনের স্মরণে এই উৎসবটি পালিত হয়। এটি 'গুড ফ্রাইড' [পুণ্য শুক্রবার) নামেও পরিচিত। - উইকিপিডিয়া সূত্রে অনুবাদক
৫৮ আন-নুজুমুয যাহেরা: ১/৩৫-৩৬
📄 দুনিয়া-বিমুখতা
সাহাবায়ে কেরাম রাজিয়াল্লাহু আনহু আমর ইবনুল আস রাজিয়াল্লাহু আনহুর নেতৃত্বে মিশরের প্রসিদ্ধ শহর আলেকজান্দ্রিয়া অবরোধ করে রেখেছিলেন। পথিমধ্যে উবাদা ইবনু সামেত রাজিয়াল্লাহু আনহু কোনো প্রয়োজনে তাঁবু থেকে সামান্য দূরে চলে গেলেন। কিছুক্ষণ এগিয়ে কোথাও ঘোড়া থেকে নেমে নামাজের নিয়ত বাঁধলেন। ইত্যবসরে কয়েকজন রোম্যানসেনা ধীরে ধীরে তাঁর নিকট চলে এলো। তারা ভাবল একে হত্যা করার এখনই সুবর্ণ সুযোগ। এ হীন উদ্দেশ্যে তারা এগোতে লাগল। যখন একেবারে কাছে এসে পৌঁছল, অমনি উবাদা রাজিয়াল্লাহু আনহু টের পেয়ে দ্রুত সালাম ফেরালেন। তিনি অত্যন্ত প্রফুল্লচিত্তে এক লাফে ঘোড়ায় চেপে বসলেন। এবং তাদের ওপর আক্রমণ শুরু করলেন। রোম্যানরা ভেবেছিল—লোকটি একজন আবেদ ও দরবেশ। সে এতটা পটু হওয়ার কথা নয়। যখন আল্লাহর এ শার্দুল তাদের ওপর চড়াও হলো, তখন তারা পেছনে পালাতে লাগল; কিন্তু উবাদা রাজিয়াল্লাহু আনহু তাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হতে বিরত থাকলেন না। তারা সবাই সম্মুখে আর তিনি তাদের পেছনে। একপর্যায়ে যখন তারা দেখল, জীবন বাঁচানোর জন্য আর কোনো পথ নেই, তখন তারা কোমরের বেল্টে বাঁধা বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস মাটিতে ফেলতে লাগল। তাদের ধারণা ছিল, লোকটি আরব যাযাবর। সে এসব মূল্যবান সামগ্রী দেখে সেগুলোর লোভে আমাদের পশ্চাদ্ধাবন ছেড়ে দিয়ে এগুলো কুড়ানোতে ব্যস্ত হয়ে পড়বে; কিন্তু উবাদা রাজিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন বিশ্ব মানবতার সরদারের হাতে গড়া একজন আদর্শ সাহাবি। তিনি সেগুলোর প্রতি বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ না করে তাদের পশ্চাদ্ধবনে অব্যাহত রইলেন। বহু কষ্টে একপর্যায়ে তারা দুর্গের ভেতর ঢুকে পড়ল এবং দরজা বন্ধ করে দিল। উবাদা রাজিয়াল্লাহু আনহু কিছুক্ষণ দুর্গের ওপর হতে পাথর নিক্ষেপ করে ফিরে গেলেন। ফেরার পথে দেখলেন—রোম্যানদের মালামাল মরুভূমিতে পড়ে আছে। আল্লাহ প্রেমে মাতোয়ারা এ সাহাবি সেসব মাল কুড়ানোকে নিজের সময় নষ্ট ভেবে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে পূর্বের স্থানে গিয়ে পুনরায় নামাজ আরম্ভ করলেন। আর রোমকরা এসে তাদের মালামাল আপন অবস্থায় পড়ে আছে দেখে তা কুড়িয়ে নিল。
টিকাঃ
৫৯ প্রাগুক্ত: ১/৯
📄 সকল উত্তর কুরআনের ভাষায়
আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ. বলেন, একবার আমি হজের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। পথে জনৈকা বৃদ্ধার সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো। তার পরনে ছিল জামা এবং ওড়না, যা বাতাসে দোল খাচ্ছিল। আমি তাকে সালাম করলাম। জবাবে বৃদ্ধা বললেন—
سَلَامٌ قَوْلًا مِنْ رَبِّ رَحِيمٍ.
‘পরম করুণাময় প্রতিপালকের পক্ষ থেকে বলা হবে—‘সালাম’। ’
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহ আপনার ওপর রহম করেন! আপনি এখানে কী করছেন? উত্তরে তিনি বললেন—
مَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَلَا هَادِيَ لَهُ.
‘আল্লাহ তাআলা যাকে পথহারা করেন, তাকে কেউ পথ দেখাতে পারে না। ’
আমার বুঝতে বাকি রইল না যে, তিনি পথ হারিয়ে ফেলেছেন। তাই আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, কোথায় যাবেন আপনি? তিনি উত্তর করলেন-
سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى.
পবিত্র ও মহিমাময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে মসজিদে হারাম হতে মসজিদে আকসা পর্যন্ত রজনীতে ভ্রমণ করিয়েছিলেন。
আমি বুঝতে পারলাম, তিনি হজ সমাপন করে বাইতুল মুকাদ্দাসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, কতদিন যাবৎ এখানে বসে আছেন? উত্তরে বুড়ি বললেন-
ثَلَاثَ لَيَالٍ سَوِيًّا
একনাগাড়ে তিন দিন তিন রাত。
আমি বললাম, আপনার কাছে তো কোনো রসদপত্র দেখছি না, আপনি কী খেয়ে থাকেন? উত্তরে তিনি বললেন-
هُوَ يُطْعِمُنِي وَيَسْقِينِ.
তিনিই আমাকে খাওয়ান এবং পান করান。
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি অজু করেন কীভাবে? তিনি উত্তর করলেন-
فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا
পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করো。
আমি বললাম, আমার নিকট কিছু খাবার আছে, আপনি তা গ্রহণ করবেন কি? উত্তরে তিনি বললেন-
أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ
রোজাকে রাত পর্যন্ত পূর্ণ করো。
আমি বললাম, এখন তো রমজান মাসনয়। জবাবে বৃদ্ধা বললেন-
وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ.
আর যে ব্যক্তি নফল রোজা রাখবে, আল্লাহ তাআলা তার পুরস্কারদাতা, সর্বজ্ঞ。
আমি বললাম, মুসাফিরের জন্য তো ফরজ রোজাও ভঙ্গ করা যায়। তিনি উত্তর করলেন-
وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ.
'তবে রোজা রাখাটাই অধিকতর কল্যাণপ্রসূ, যদি তোমরা জানতে।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি আমার মতো স্বাভাবিক কথা বলছেন না কেন? উত্তরে তিনি বললেন-
مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ.
মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তার জন্য তার নিকটই রয়েছে তৎপর প্রহরী。
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কোন গোত্রের? তিনি উত্তর করলেন-
وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ .
যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, সে বিষয়ের অনুসরণ করো না。
আমি বললাম, মাফ করে দেন। ভুল হয়ে গেছে। তিনি বললেন-
لَا تَثْرِيبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ يَغْفِرُ اللَّهُ لَكُمْ.
আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করেন。
আমি বললাম, আপনি ইচ্ছা করলে আমার উটে সওয়ার হতে পারেন। আমি আপনাকে আপনার হারানো কাফেলার নিকট পৌঁছে দেবো। জবাবে বৃদ্ধা বললেন-
وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ اللَّهُ .
আর তোমরা যে ভালো কাজই করো না কেন, আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন。
বৃদ্ধামহিলার সম্মতি দেখে আমি তাঁকে উটে আরোহণ করালাম। তবে তিনি আরোহণ করার পূর্বে বললেন—
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ
আপনি মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন আপন দৃষ্টিকে সংযত রাখে。
আমি দৃষ্টিকে নিচু করে বললাম, আপনি উটে সওয়ার হোন; কিন্তু তিনি যখন সওয়ার হতে চাইলেন, তখন হঠাৎ উট দাঁড়িয়ে গেল। তাতে উঠার চেষ্টা করলে বৃদ্ধার জামা ছিঁড়ে গেল। তিনি বললেন,
وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ.
তোমাদের ওপর যে বিপদই আসুক না কেন, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল。
আমি বললাম, আপনি একটু অপেক্ষা করেন, আমি উটকে বেঁধে নিলে তখন উঠবেন। বৃদ্ধা বললেন—
فَفَهَّمْنَاهَا سُلَيْمَانَ
আমি সুলাইমানকে বিষয়টির সমাধান সম্পর্কে বুঝ দান করেছি。
তারপর আমি উটকে বেঁধে নিয়ে তাকে বললাম, এবার সওয়ার হোন। অতঃপর তিনি সওয়ার হয়ে এই দুআ পাঠ করলেন—
سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ.
পবিত্র ও মহান সত্তা তিনি, যিনি আমাদের জন্য এ বাহনকে বশীভূত করে দিয়েছেন। অথচ আমরা এদেরকে বশীভূত করতে সমর্থ ছিলাম না। আর অবশ্যই আমরা সকলেই আমাদের পালনকর্তার নিকট প্রত্যাবর্তিত হবো。
আমি উটের লাগাম হাতে নিয়ে রওনা হলাম। উটকে ক্ষিপ্র গতিতে চালানোর জন্য সজোরে হাঁকড়াতে লাগলাম। এদৃশ্য দেখে বৃদ্ধা বললেন-
وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ وَاغْضُضْ مِنْ صَوْتِكَ.
তুমি মধ্যম গতিতে চলো এবং তোমার স্বরকে নিচু করো。
তারপর আমি ধীরগতিতে চলতে লাগলাম এবং সুরেলাকণ্ঠে কয়েকটি কবিতা পাঠ করতে লাগলাম। বৃদ্ধা বললেন-
فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْه.
কুরআনের যে অংশ সহজ মনে হয়, পড়ো。
আমি বললাম, আপনাকে আল্লাহ অনেক পুণ্য দ্বারা ধন্য করেছেন। উত্তরে তিনি বললেন-
وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ.
জ্ঞানীরাই কেবল শিক্ষা গ্রহণ করে。
কিছুক্ষণ চুপ থেকে আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার কোনো স্বামী আছে কি? জবাবে তিনি বললেন-
لَا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ.
তোমরা এমন বিষয়াদি সম্পর্কে প্রশ্ন করো না যা প্রকাশ করা হলে তোমরা দুঃখিত হবে।
এরপর আমি সম্পূর্ণ নীরব হয়ে গেলাম এবং তাঁর হারানো কাফেলার সন্ধান না মেলা পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কথোপকথন থেকে বিরত থাকলাম। অবশেষে কাফেলার সন্ধান পেয়ে তাঁর নিকট গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম-এ কাফেলায় আপনার কে আছে? বৃদ্ধা বললেন-
الْمَالُ وَالْبَنُونَ زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا.
ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের শোভা。
তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, কাফেলায় তার ছেলে রয়েছে। তারপর জিজ্ঞাসা করলাম, কাফেলায় সে কোন উদ্দেশ্যে রয়েছে? তিনি উত্তর করলেন-
وعَلَامَاتٍ وَبِالنَّجْمِ هُمْ يَهْتَدُونَ.
আর পথ নির্ণায়ক চিহ্নসমূহ ও তারকারাজির সাহায্যে তারা পথের দিশা পায়。
এতে আমি বুঝে নিলাম যে, তাঁর ছেলে কাফেলার রাহবার। তারপর আমি তাঁকে নিয়ে তাঁবুর ভেতরে প্রবেশ করে তাঁকে বললাম, এ হলোআপনাদের কাফেলার তাঁবু। এবার বলুন, আপনার ছেলে কে? তিনি উত্তর করলেন—
وَاتَّخَذَ اللَّهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلًا. وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا. يَا يَحْيَى خُذِ الْكِتَابَ بِقُوَّةٍ.
'আল্লাহ তাআলা ইবরাহিমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন। ' 'আর মুসার সঙ্গে আল্লাহ সাক্ষাৎ-বাক্যালাপ করেছিলেন। হে ইয়াহইয়া, তুমি এই কিতাব শক্ত করে আঁকড়ে ধরো。
তাঁর কথা শুনে 'হে ইবরাহিম, হে মুসা, হে ইয়াহইয়া' বলে ডাক দিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই চাঁদের মতো কয়েকজন সুশ্রী যুবক আমার সামনে এসে দাঁড়াল। অতঃপর যখন আমরা সকলে স্থির হয়ে বসে পড়লাম, তখন বৃদ্ধা তাঁর ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বললেন-
فَابْعَثُوا أَحَدَكُمْ بِوَرِقِكُمْ هَذِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ فَلْيَنْظُرْ أَيُّهَا أَزْكَى طَعَامًا فَلْيَأْتِكُمْ بِرِزْقٍ مِنْهُ.
তোমাদের একজনকে এ মুদ্রাসহ নগরে প্রেরণ করো, সে যেন সেখানে গিয়ে দেখে—কোনটি উত্তম খাবার। অতঃপর তা থেকে কিছু খাবার যেন নিয়ে আসে。
এ কথা শোনার পর সাথে সাথে একজন দাঁড়িয়ে গেল। এবং কিছু খাবার ক্রয় করে নিয়ে এসে আমার সামনে পেশ করল। তখন বৃদ্ধা বললেন—
كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا أَسْلَفْتُمْ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَةِ.
তোমরা তৃপ্তির সঙ্গে পানাহার করো তোমাদের অতীতের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ。
আমি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদেরকে বললাম, তোমাদের এ খাবার আমার জন্য হারাম, যতক্ষণ না তোমরা এ বৃদ্ধার রহস্য সম্পর্কে আমাকে অবগত করবে। তারা বলল, আমাদের মায়ের এ অবস্থা দীর্ঘ চল্লিশ বছর যাবৎ। এর মধ্যে তিনি কুরআনের আয়াত ছাড়া অন্য কোনো স্বাভাবিক কথাবার্তা বলেন নি। আর এ নিয়মানুবর্তিতার প্রতি ঝুঁকার কারণ হলো—কুরআন ব্যতীত অন্য যে কোনো কথার মধ্যে কোনো প্রকার অবৈধ কিংবা অসমীচীন কথা বের হয়ে যেতে পারে, যা আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও গজবের শামিল। এ কথা শুনে আমি বললাম—
ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ.
এটা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর তিনিই পরম করুণাময়।
টিকাঃ
৬০ সূরা ইয়াসিন: ৫৮
৬১ সূরা আরাফ: ১৮৬
৬২ সূরা বনি ইসরাঈল: ০১
৬০ সূরা মারইয়াম: ১০
৬৪ সূরা শুআরা: ৭৯
৬৫ সূরা মায়েদা: ০৬
৬৬ সূরা বাকারা: ১৮৭
৬৭ সূরা বাকারা: ১৫৮
৬৮ সূরা বাকারা: ১৮৪
৬৯ সূরা ক্বাফ: ১৮
৭০ সূরা বনি ইসরাঈল: ৩৬
৭১ সূরা ইউসুফ: ৯২
৭২ সূরা বাকারা: ১৯৭
৭৩ সূরা নূর: ৩০
৭৪ সূরা শুরা: ৩০
৭৫ সূরা আম্বিয়া: ৭৯
৭৬ সূরা যুখরুফ: ১৩
৭৭ সূরা লুকমান: ১৯
৭৮ সূরা মুযযাম্মিল: ২০
৭৯ সূরা বাকারা: ২৬৯
৮০ সূরা মায়েদা: ১০১
৮১ সূরা কাহফ: ৪৬
৮২ সূরা নাহল: ১৬
৮০ সূরা নিসা: ১২৫
৮৪ সূরা নিসা: ১৬৪
৮৫ সূরা মারইয়াম: ১২
৮৬ সূরা কাহফ : ১৯
৮৭ সূরা হাক্কাহ: ২৪
৮৮ সূরা হাদিদ: ২১
৮৯ আল-মুস্তাতরিফ: ১/৫৬-৫৭
📄 চমৎকার প্রার্থনা!
কায়েস ইবনু সাদ ইবনি উবাদা রাজিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন প্রসিদ্ধ সাহাবি। দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি মিশরের গভর্নর ছিলেন। মুসা ইবনু উকবা সূত্রে বর্ণিত আছে, একবার কায়েসের নিকট জনৈকা বৃদ্ধামহিলা এসে বলতে লাগল, জনাব! আমার অভিযোগ হলো—আমার ঘরে ইঁদুর নেই। কায়েস রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন, বেশ চমৎকার প্রার্থনা তো! অতঃপর তিনি তার ঘরকে রুটি, গোশত এবং খেজুর দ্বারা ভরে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন।
টিকাঃ
৯০ আন-নুজুমুয যাহিরা: ১/৯৬