📄 মুসলিম রাষ্ট্রের আয়
মুহাম্মদ ইবনু আবদুস রহ. বলেন, যখন মুসলিম সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল বাগদাদে, তখন শুধুমাত্র দামেস্ক শহরের বাইতুল মালের আয় ছিল চার লাখ বিশ হাজার দিনার। আল্লামা মাদায়েনি রহ. বলেন, মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে কেবলমাত্র দামেস্কের একটি শহরে বাইতুল মালের আমদানি থেকে সেখানকার সেনা, গভর্নর, ফকিহ, মুয়াজ্জিন ও কাজিগণের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচাদি বহনের পরও বাইতুল মালে চার লাখ দিনার অবশিষ্ট থেকে যেত。
টিকাঃ
৫৪ তাহযিবে ইবনে আসাকির: ১/৫৪
📄 বড়দের ভুল
ইমাম কিসায়ি রহ. ছিলেন ইলমে নাহু [আরবি ব্যাকরণশাস্ত্র] ও ইলমে কেরাতের প্রসিদ্ধ আলেম। উভয় শাস্ত্রে তার অসামান্য দক্ষতা ছিল। তিনি বলেন—
একবার আমি নামাজের ইমামতি করছিলাম। পেছনে ছিলেন বাদশা হারুনুর রশিদ। তিলাওয়াত করছিলাম একাগ্রমনে। একপর্যায়ে আমি আমার নিজের কেরাতে নিজেই মুগ্ধ হয়ে পড়ি। কিছুদূর না যেতেই এমন মারাত্মক ভুল করে বসলাম—যা সাধারণত কোনো বাচ্চারাও করে না। আমি لَعَلَّهُم يَرْجِعُونَ পড়ার স্থলে মুখ ফসকে বলে ফেললাম- لعلهم يرجعين কিন্তু আল্লাহর শপথ! সেদিন বাদশা হারুনুর রশিদও ভুল ধরতে সাহস করেন নি। নামাজ শেষে তিনি শুধু জিজ্ঞেস করেছেন—এটা কোন লুগাত [ভাষা]? আমি বললাম, আমিরুল মুমিনিন, কখনো কখনো দ্রুতগামী ঘোড়াও হোঁচট খায়। হারুনুর রশিদ বললেন, তাহলে তো ভিন্ন কথা。
টিকাঃ
৫৫ ইমাম জাহাবি, মা'রিফাতুল কুররাইল কিবার: ১/১০৩
📄 বড়াইয়ের পরিণাম
ইমাম যাহাবি রহ. উল্লেখ করেন, একবার ইমাম কিসায়ি ও ইয়াজিদি রহ. বাদশা হারুনুর রশিদের মজলিসে এলেন। তাঁরা উভয়েই ছিলেন ইলমে কেরাতের ইমাম। নামাজের সময় ইমাম কিসায়ি রহ. ইমামতি করেন। সূরা কাফিরুন দিয়ে নামাজ আরম্ভ করলেন।
قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ বলার পর হঠাৎ ভুলে গেলেন। অবশিষ্ট আয়াতগুলো আর পড়তে পারলেন না। নামাজের পর ইমাম ইয়াযেদি রহ. বললেন, 'আশ্চর্য! কুফার কারি সাহেব قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ -এ এসেই আটকে গেলেন!' এ দিন এ পর্যন্তই। পরবর্তী সময়ে একদিন ইমাম ইয়াজিদি রহ. নামাজ পড়াতে গিয়ে সূরা ফাতিহা-ই ভুলে গেলেন। নামাজান্তে নিজের পূর্ব ভুলের জন্য অনুতপ্ত ও সতর্ক হয়ে এই কবিতাটি পাঠ করলেন—
احفظ لسانك لا تقول فتبتلى * إن البلاء مؤكل بالمنطق
'মুখ সামলে রেখো! বলবেনা কিছু, ফেঁসে যাবে। কারণ, মুখের কথাই বিপদ টেনে আনে।'
টিকাঃ
৫৬ প্রাগুক্ত: ১/১০৪
📄 নীলনদের নামে উমরের খোলা চিঠি
অনেক বুজুর্গের মুখে উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর যুগের একটি বিস্ময়কর ঘটনা শুনেছি, কিন্তু কোনো কিতাবে তার সন্ধান পাই নি। আজ আল্লামা ইবনু তাগরি বারদি রহ. কৃত আন-নুজুমুযযাহেরা নামক কিতাবে ঘটনাটির বিশদ বিবরণ নজরে পড়ে গেল। তিনি বলেন, আমর ইবনুল আস রাজিয়াল্লাহু আনহু মিশর জয় করে সেখানকার গভর্নর নিযুক্ত হলেন। কিছুদিন পর 'বাউওনা' মাস এলো। [বাউওনা হলো—জুন মাসের কিবতি নাম] মাসের শুরুতেই মিশরের প্রাচীন কিবতি সম্প্রদায়ের অধিবাসীদের প্রতিনিধিদল তার নিকট হাজির হলো। তারা আমর ইবনুল আস রাজিয়াল্লাহু আনহুকে বলল—জাঁহাপনা, আমাদের এখানে নীলনদের একটি রীতির প্রচলন আছে। তা পূরণ করা না হলে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। আমর রাজিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞাসা করেন, রীতিটা কী? তারা বলল, এ মাসের বারো তারিখের রাত পোহালে আমরা একজন যুবতি কুমারীকে নির্বাচন করে তার মা-বাবাকে রাজি করিয়ে নিই। অতঃপর তাকে মূল্যবান অলঙ্কারাদি ও কাপড়-চোপড়ে সজ্জিত করে নীলনদে নিক্ষেপ করি। তারপরই প্রচণ্ড বেগে পানির স্রোত বইতে শুরু করে। আমর রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এটা কখনো ইসলামি রীতি হতে পারে না; বরং ইসলাম জাহিলি যুগের তাবৎ কুপ্রথাকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। প্রতিনিধিদল এ জবাব শুনে চলে গেল; কিন্তু ঘটনা তাই ঘটল, যা তারা বলেছিল। বাউওনা [জুন] আবইয়াব [জুলাই] এবং মুসরি [অগাস্ট]—এ তিন মাসে নীলনদ পানি বিহীন শুষ্কাবস্থায় পড়ে থাকল। ফলে অধিবাসীরা অঞ্চল ছেড়ে অন্যত্র প্রস্থানের জন্য মনস্থ করল। এহেন পরিস্থিতিতে আমর ইবনুল আস রাজিয়াল্লাহু আনহু খলিফাতুল মুসলিমিন উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর নিকট পরামর্শ চেয়ে চিঠি পাঠালেন। উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু কিবতি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কৃত আচরণকে সাধুবাদ জানিয়ে বললেন, আমি একটি চিঠি লিখে পাঠাচ্ছি। এটা নীলনদে নিক্ষেপ করবে। আমর ইবনুল আস রাজিয়াল্লাহু আনহু চিঠিটা খুলে দেখলেন। তাতে লেখা ছিল—
من عبد الله عمر أمير المؤمنين إلى نيل مصر، أما بعد! فإن كنت تجرى من قبلك فلا تجر وإن كان الله الواحد القهار الذي يجريك فنسأل الله الواحد القهار أن يجريك.
আল্লাহর বান্দা আমিরুল মুমিনিন উমারের পক্ষ হতে মিশরের নীলনদের নামে। হামদ ও সালাতের পর—যদি তুমি [হে নদী!] নিজে থেকে প্রবাহিত হও, তবে তোমার প্রবাহের প্রয়োজন নেই। আর যদি মহা পরাক্রমশালী এক আল্লাহর নির্দেশে প্রবাহিত হও, তবে আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি পানি প্রবাহের জন্য।
আমর ইবনুল আস রাজিয়াল্লাহু আনহু উক্ত চিরকুটটা খ্রিস্টানদের সলিব উৎসবের একদিন পূর্বে নীলনদে নিক্ষেপ করলেন। এ দিকে মিশরের অধিবাসীরা সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছিল। কারণ, নীলনদের পানির ওপরই নির্ভর করত তাদের জীবনযাত্রা। সলিব উৎসবের দিন ভোরে তারা গিয়ে দেখে নীলনদ পূর্ণ তারুণ্যদীপ্তে পূর্বের ন্যায় আবারও তরঙ্গায়িত হচ্ছে। মাত্র এক রাতেই পানি ষোলো ফিট পর্যন্ত উঠে গেল!
টিকাঃ
৫৭ গলগথায় যিশু খ্রিস্টের ক্রুশ বিদ্ধকরণ, মৃত্যু ও সমাধি-মন্দির থেকে তাঁর পুনরুজ্জীবনের স্মরণে এই উৎসবটি পালিত হয়। এটি 'গুড ফ্রাইড' [পুণ্য শুক্রবার) নামেও পরিচিত। - উইকিপিডিয়া সূত্রে অনুবাদক
৫৮ আন-নুজুমুয যাহেরা: ১/৩৫-৩৬