📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 জনগণের প্রতি মুআবিয়া রা.-এর দায়িত্ববোধ

📄 জনগণের প্রতি মুআবিয়া রা.-এর দায়িত্ববোধ


আমর ইবনু মুররা রাজিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি একবার মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহুকে বললাম, আমি নবীজিকে বলতে শুনেছি- যাকে আল্লাহ তাআলা কোনো সম্প্রদায়ের দায়িত্বে নিয়োজিত করেন, আর সে তাদের খোঁজ-খবর ও প্রয়োজনাদির প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে, তবে আল্লাহ তাআলাও তার সঙ্গে অনুরূপ আচরণ করেন。
মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহু এ হাদিস শুনেই প্রজাদের খবরাখবর নেওয়ার জন্য একজন লোক নিয়োগ করেন। খুবসম্ভব এ হাদিসেরই ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইমাম বাগাবি রহ. আবু কাইস রহ.-এর সূত্রে নকল করেন যে, কেবলমাত্র প্রজাদের দেখভাল করার জন্য মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহু প্রত্যেক গোত্রে একজন করে লোক নিয়োগ দিয়েছিলেন। সে হিসেবে আমাদের গোত্রে আবু ইয়াহইয়া নামের এক ব্যক্তি প্রতিদিন ভোরে টহল দিত এবং ঘোষণা করত—আজ রাতে তোমাদের গোত্রে কোনো নবজাতকের জন্ম হয়েছে কি? আজ রাতে তোমাদের গোত্রে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে কি? তোমাদের গোত্রে নতুন কোনো ব্যক্তির আগমন ঘটেছে কি? যদি কেউ তার প্রশ্নের উত্তরে বলত, অমুক আজ ইয়েমেন হতে আপন পরিবার নিয়ে চলে এসেছে, তাহলে সে ঘোষণা সমাপ্তির পর তাদের সকলের নাম বাইতুল মালের নথিতে অন্তর্ভুক্ত করে দিত।

টিকাঃ
৫২ প্রাগুক্ত: পৃ.৩২৪
৫০ ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ, মিনহাজুস-সুন্নাহ: ৩/১৮৫

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 মুসলিম রাষ্ট্রের আয়

📄 মুসলিম রাষ্ট্রের আয়


মুহাম্মদ ইবনু আবদুস রহ. বলেন, যখন মুসলিম সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল বাগদাদে, তখন শুধুমাত্র দামেস্ক শহরের বাইতুল মালের আয় ছিল চার লাখ বিশ হাজার দিনার। আল্লামা মাদায়েনি রহ. বলেন, মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে কেবলমাত্র দামেস্কের একটি শহরে বাইতুল মালের আমদানি থেকে সেখানকার সেনা, গভর্নর, ফকিহ, মুয়াজ্জিন ও কাজিগণের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচাদি বহনের পরও বাইতুল মালে চার লাখ দিনার অবশিষ্ট থেকে যেত。

টিকাঃ
৫৪ তাহযিবে ইবনে আসাকির: ১/৫৪

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 বড়দের ভুল

📄 বড়দের ভুল


ইমাম কিসায়ি রহ. ছিলেন ইলমে নাহু [আরবি ব্যাকরণশাস্ত্র] ও ইলমে কেরাতের প্রসিদ্ধ আলেম। উভয় শাস্ত্রে তার অসামান্য দক্ষতা ছিল। তিনি বলেন—
একবার আমি নামাজের ইমামতি করছিলাম। পেছনে ছিলেন বাদশা হারুনুর রশিদ। তিলাওয়াত করছিলাম একাগ্রমনে। একপর্যায়ে আমি আমার নিজের কেরাতে নিজেই মুগ্ধ হয়ে পড়ি। কিছুদূর না যেতেই এমন মারাত্মক ভুল করে বসলাম—যা সাধারণত কোনো বাচ্চারাও করে না। আমি لَعَلَّهُم يَرْجِعُونَ পড়ার স্থলে মুখ ফসকে বলে ফেললাম- لعلهم يرجعين কিন্তু আল্লাহর শপথ! সেদিন বাদশা হারুনুর রশিদও ভুল ধরতে সাহস করেন নি। নামাজ শেষে তিনি শুধু জিজ্ঞেস করেছেন—এটা কোন লুগাত [ভাষা]? আমি বললাম, আমিরুল মুমিনিন, কখনো কখনো দ্রুতগামী ঘোড়াও হোঁচট খায়। হারুনুর রশিদ বললেন, তাহলে তো ভিন্ন কথা。

টিকাঃ
৫৫ ইমাম জাহাবি, মা'রিফাতুল কুররাইল কিবার: ১/১০৩

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 বড়াইয়ের পরিণাম

📄 বড়াইয়ের পরিণাম


ইমাম যাহাবি রহ. উল্লেখ করেন, একবার ইমাম কিসায়ি ও ইয়াজিদি রহ. বাদশা হারুনুর রশিদের মজলিসে এলেন। তাঁরা উভয়েই ছিলেন ইলমে কেরাতের ইমাম। নামাজের সময় ইমাম কিসায়ি রহ. ইমামতি করেন। সূরা কাফিরুন দিয়ে নামাজ আরম্ভ করলেন।
قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ বলার পর হঠাৎ ভুলে গেলেন। অবশিষ্ট আয়াতগুলো আর পড়তে পারলেন না। নামাজের পর ইমাম ইয়াযেদি রহ. বললেন, 'আশ্চর্য! কুফার কারি সাহেব قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ -এ এসেই আটকে গেলেন!' এ দিন এ পর্যন্তই। পরবর্তী সময়ে একদিন ইমাম ইয়াজিদি রহ. নামাজ পড়াতে গিয়ে সূরা ফাতিহা-ই ভুলে গেলেন। নামাজান্তে নিজের পূর্ব ভুলের জন্য অনুতপ্ত ও সতর্ক হয়ে এই কবিতাটি পাঠ করলেন—
احفظ لسانك لا تقول فتبتلى * إن البلاء مؤكل بالمنطق
'মুখ সামলে রেখো! বলবেনা কিছু, ফেঁসে যাবে। কারণ, মুখের কথাই বিপদ টেনে আনে।'

টিকাঃ
৫৬ প্রাগুক্ত: ১/১০৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00