📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 আল্লাহর পথে কুদরতি নুসরত

📄 আল্লাহর পথে কুদরতি নুসরত


আল্লামা ইবনুল আসির জাজরি রহ. বর্ণনা করেন, সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রাজিয়াল্লাহু আনহু যখন ইরানি অগ্নিপূজকদের সঙ্গে জিহাদের উদ্দেশ্যে কাদেসিয়া গমন করেন, তখন তিনি আসেম ইবনু আমর রহ.-কে বিশেষ কাজে 'মায়ান' নামক স্থানে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সেনা অফিসার। আর 'মায়ান' হলো শত্রুদেশের ছোট্ট একটি শহর। আসেম রহ. এখানে পৌঁছার পর সকল রসদপত্র ফুরিয়ে গেল। সাথী-সঙ্গীদের কারও নিকট কোনো খাবার ছিল না। তারা চতুর্দিক যথেষ্ট খোজাখুঁজি করে দেখলেন, কোনো গরু-ছাগল কিংবা হালাল প্রাণীর সন্ধান মেলে কি-না; কিন্তু অনেক খোজাখুঁজির পরও কোনো পশুর সন্ধান মিলল না। হঠাৎ বাঁশের একটি ঝুপড়িতে একজন মানুষ দৃষ্টিগোচর হলো। কাছে গিয়ে তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন—এখানে আশেপাশে কোনো গরু-ছাগল পাওয়া যাবে কি? লোকটি উত্তর করল—না。
আসেম রহ. সেখান থেকে ফেরার ইচ্ছা করছিলেন, অমনি ভেতর থেকে ভেসে এলো—
এ ব্যক্তি আল্লাহর দুশমন, সে মিথ্যা বলছে; আমরা এখানেই আছি!
আসেম রহ. ভেতরে প্রবেশ করে দেখলেন, সেখানে কতগুলো গরু দাঁড়িয়ে আছে; কিন্তু কোনো মানুষজন নেই বিধায় তিনি নিশ্চিত হলেন যে, আওয়াজটি কোনো গরুরই ছিল। আসেম রহ. সেখান থেকে গরুগুলো নিয়ে আসলেন এবং সৈন্যদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। এ ঘটনাটি হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফকে জানানো হলে সে তা বিশ্বাস করতে পারছিল না। তাই সে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কাদেসিয়ার যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের নিকট দূত পাঠিয়ে তাদের উপস্থিত করল। তারা সকলেই সাক্ষ্য দিলেন, ঘটনা সম্পূর্ণই বাস্তব। আমরা তখন সেখানে উপস্থিত ছিলাম。
হাজ্জাজ জিজ্ঞাসা করল—এ ঘটনা তখনকার লোকসমাজে কোনো প্রভাব ফেলেছে কি?
তারা বললেন, এ ঘটনা হতে সকলেই নিশ্চিত হয়ে গেল, আল্লাহ তাআলা আমাদের ওপর সন্তুষ্ট। বিজয় আমাদের ভাগ্যেই রয়েছে। হাজ্জাজ বলল—অন্তরের অবস্থা তো আল্লাহই ভালো জানেন। তারা বললেন, তবে আমরা এতটুকু নিশ্চিত, পৃথিবীতে তাদের মতো অমুখাপেক্ষী জাতি আর অতিবাহিত হয় নি。

টিকাঃ
৪৬ স্মর্তব্য—এরূপ অলৌকিক ঘটনা কেবল তখনই সম্ভব, যখন সংশ্লিষ্ট এলাকার অধিকাংশ মানুষ মুত্তাকি ও পরহেজগার হবে。
৪৭ আল্লামা ইবনুল আসির, আল-কামেল: ২/১৭৫

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 আত্মার পরিশুদ্ধি

📄 আত্মার পরিশুদ্ধি


আল্লামা ইবনু খালদুন রহ. ইমাম তাবারি প্রমুখ উলামায়ে কেরামের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আলি রাজিয়াল্লাহু আনহুকে একবার জিজ্ঞাসা করা হলো, জামাল ও সিফিফনের যুদ্ধে মৃতব্যক্তিদের পরিণতি কী হবে? আলি রাজিয়াল্লাহু আনহু উভয় পক্ষের প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন-
لا يموتن أحد من هؤلاء وقلبه نقي إلا دخل الجنة.
'তাঁদের মধ্যে যেই স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারী, সে-ই জান্নাতে প্রবেশ করবে।'

টিকাঃ
৪৮ মুকাদ্দিমায়ে ইবনে খালদুন: পৃ.৩৮۵

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 মাতৃদুগ্ধ আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত

📄 মাতৃদুগ্ধ আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত


মস্কো থেকে প্রকাশিত মাসিক ডাইজেস্ট স্পোর্টিং ১৯৬৮ সালের আগস্ট সংখ্যায় সোভিয়েত ক্যান্সার ইউনিয়নের সেক্রেটারি জেনারেল ডাক্তার আলেকজান্ডার চ্যাকলনের একটি নিবন্ধ ছাপা হয়। তাতে তিনি উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বলেন, 'ইউরোপ-আমেরিকার মেয়েদের স্তনে ক্যান্সার নামক মরণব্যাধি আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে নাশ হচ্ছে অসংখ্য মেয়েদের জীবন। এ ব্যাধির অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, আজকাল মেয়েদের আপন বাচ্চাদেরকে নিজ বুকের দুধ পান করানোর রীতি প্রায় বিলুপ্তির পথে। এ প্রবন্ধে তিনি আরও বলেন, মুসলিম মায়েদের প্রতি কুরআন নিজ সন্তানদেরকে দু'বছর দুধ পান করানোর নির্দেশ দিয়েছে। বুকের দুধ পান করানোর এ ধারা আজও মুসলিমদের মধ্যে চালু আছে। তবে অমুসলিমরা ছাড়াও এ মরণব্যাধি থেকে রেহাই পাচ্ছে না ওইসব মুসলিম, যারা নিজেদের বাস্তবজীবনে ইসলামের শিক্ষা-দীক্ষাকে উপেক্ষা করে চলছে। মায়ের দুধ যত অল্পই হোক না কেন, তা বাচ্চাদের জন্য খুবই উপকারী; কিন্তু এখনকার মেয়েরা বিশেষ করে আমেরিকাতে এ নিয়মকে সম্পূর্ণরূপে বর্জন করেছে। এটা এখন একটা ফ্যাশনে রূপ নিয়েছে। খুবসম্ভব এ কারণেই আমেরিকার মেয়েদের স্তনে ক্যান্সার-ব্যাধি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার জাতীয় কনফারেন্সে বক্ষক্যান্সার নিয়ে সুদীর্ঘ গবেষণামূলক পর্যালোচনার পর উল্লেখিত কারণকেই উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরবর্তী অসংখ্য গবেষণাও এর প্রমাণ বহন করে।'

টিকাঃ
৪৯ এটি রাশিয়ার রাজধানী ও বৃহত্তর নগরী। নগরীটি পশ্চিম রাশিয়ার কেন্দ্রশাসিত জেলাতে 'মস্কভা' নদীর তীরে অবস্থিত। উইকিপিডিয়া সূত্রে অনুবাদক
৫০ মাসিক ডাইজেস্ট স্পোর্টিং: পৃ.৮৩, আগস্ট সংখ্যা-১৯৬৮

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 যুদ্ধ-নীতিতে ইসলামের অনুপম আদর্শ

📄 যুদ্ধ-নীতিতে ইসলামের অনুপম আদর্শ


মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহুর জীবনের বড় একটা অংশ কেটেছে রোমীয় খ্রিস্টানদের সঙ্গে জিহাদ করে। একবার রোমাকদের সঙ্গে তাঁর সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুদ্ধ মুলতবির চুক্তি হয়েছিল। যুদ্ধ মুলতবির সময় শেষ হওয়ার কিছুদিন পূর্বে মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহু সৈন্য-সামন্ত নিয়ে বের হয়ে পড়লেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল শত্রুবাহিনীর কাছে পৌঁছতে যত সময় লাগবে ততক্ষণে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। আর মেয়াদ শেষ হওয়ামাত্রই অতর্কিতে হামলা শুরু করা হলে বিজয়ের সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, তখন শত্রুরা থাকবে সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত। পরিকল্পনা অনুযায়ী চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি শত্রুদের সীমান্তে পৌঁছে গেলেন এবং তাদের ওপর হামলে পড়লেন। যেহেতু রোমকরা এ জাতীয় কৌশল থেকে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিল। তাই এ অভিযান কতটা সফল ছিল—তা সহজেই অনুমেয়; কিন্তু মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহু যখন দুর্বার গতিতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন, ঠিক তখনি পেছন হতে ভেসে এলো তাকবির-ধ্বনি। কেউ পেছন হতে 'আল্লাহু আকবার' বলে হাঁক পেড়ে বলল-
وفاء لا غدر
মুমিনের চরিত্র হলো-বিশ্বস্ততা ও ওয়াদা পূরণ করা; অঙ্গীকার ভঙ্গ ও গাদ্দারি নয়。
মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহু পেছনে তাকিয়ে দেখলেন যে, নবীজির প্রখ্যাত সাহাবি আমর ইবনু আবাসা রাজিয়াল্লাহু আনহু ঘোড়ায় সওয়ার অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কী ব্যাপার? আমর ইবনু আবাসা রাজيال্লাহু আনহু উত্তরে বললেন, আমি নবীজিকে বলতে শুনেছি-
যে ব্যক্তি কারও সঙ্গে নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তিতে আবদ্ধ, সে যেন মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বে তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি ভঙ্গের ঘোষণা প্রদান করা ব্যতীত তাদের ওপর হামলা না করে。
মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহু এ হাদিস শুনার পর সৈন্যদের নিয়ে সুনিশ্চিত জয়ের দোরগোড়া হতে ফিরে গেলেন।
মানব-ইতিহাসে এরূপ দৃষ্টান্ত কি কেউ পেশ করতে পেরেছে যে, শত্রুপক্ষের দাবি-দাওয়া ব্যতীত কেবল নিজ ইচ্ছায় সুনিশ্চিত বিজিত এলাকা ছেড়ে চলে এসেছে! এ ঘটনা হতে সেসব লোক নিজেদের ভ্রান্তিগুলো স্বচ্ছ আয়নায় ফুটে ওঠা বস্তুর ন্যায় পরিষ্কার জানতে পারবে, যারা বলে বেড়ায়-'ইসলাম তরবারির জোরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।' পাশাপাশি এতে ওইসব লোকদেরও জবাব হয়ে যাবে, যারা মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহুর আমানতদারি, দ্বীনদারি ও উচ্চমর্যাদা সম্পর্কে অজ্ঞতাবশত অহেতুক নানা উদ্ভট প্রোপাগান্ডায় প্রভাবিত হয়ে থাকে。
এই মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে কেউ কেউ বলে থাকে—তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য ইসলামের সর্বজন স্বীকৃত বিধি-বিধানকেও জলাঞ্জলি দিতে কুণ্ঠিত হন নি। অথচ আলোচ্য ঘটনাটি কোনো ইতিহাস-শাস্ত্রের বুলি নয়; বরং সুনানু আবি দাউদ ও তিরমিজির মতো নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থের বর্ণনা!

টিকাঃ
৫১ মিশকাতুল-মাসাবিহ: পৃ.৩৪৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00