📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 সুনিপুণ যুদ্ধকৌশল

📄 সুনিপুণ যুদ্ধকৌশল


ব্ল‍্যাক আউট বর্তমানকার যুদ্ধের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাসুলুল্লাহ সা.-এর যুগেও এর নজির পাওয়া যায়। অষ্টম হিজরির জুমাদাল উখরাতে একটি বাহিনীকে মদিনা হতে দশ মনজিল দূরে অবস্থিত 'লাখম ও জুজাম' গোত্রের মোকাবেলার জন্য পাঠানো হয়। সেনাপতি ছিলেন আমর ইবনুল আস রাজিয়াল্লাহু আনহু। সে যুদ্ধে শত্রুপক্ষ পুরো মুসলিমবাহিনীকে খুব শক্তভাবে শিকলে বেঁধে ফেলে। এজন্য এ যুদ্ধকে 'গাজওয়ায়ে জাতুস সালাসিল বা শিকলের যুদ্ধ' বলে নামকরণ করা হয়। [স্মর্তব্য, গাজওয়ায়ে জাতুস সালাসিল নামে যে যুদ্ধটি আমাদের মাঝে প্রসিদ্ধ আছে, সেটি এই যুদ্ধের পরে সাহাবিদের যুগে সংঘটিত হয়েছিল।] আলোচ্য যুদ্ধে দলপতি আমর ইবনুল আস রাজিয়াল্লাহু আনহু সৈন্যবাহিনীকে তিনদিন যাবৎ রাত্রিবেলায় কোনো প্রকার আলো জ্বালাতে নিষেধ করেছিলেন। তিনদিন পর শত্রুপক্ষ যুদ্ধস্থল ছেড়ে পালাতে লাগল। সাহাবায়ে কেরাম রাজিয়াল্লাহু আনহু তাদের পশ্চাদ্ধাবন করতে চাইলে আমর ইবনুল আস রাজিয়াল্লাহু আনহু বারণ করেন। আলো জ্বালানো ও' পশ্চাদ্ধাবন—উভয়টি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ সাহাবায়ে কেরামের মনঃপূত হয় নি। তারা সকলেই এতে মনঃক্ষুণ্ণ হন; কিন্তু আমিরের আনুগত্যের আবশ্যকতার কথা ভেবে সকলেই অকুণ্ঠচিত্তে তা মেনে নিয়েছিলেন। অবশ্য মদিনায় প্রত্যাবর্তনের পর নবীজির নিকট অভিযোগ জানালে তিনি আমর ইবনুল আস রাজিয়াল্লাহু আনহু কে ডেকে কারণ দর্শাতে বললেন। আমর ইবনুল আম রাজিয়াল্লাহু আনহু আরজ করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমার সৈন্যসংখ্যা শত্রুপক্ষের তুলনায় ছিল অনেক কম। এ কারণেই আমি রাতে আলো জ্বালাতে নিষেধ করেছি, যাতে শত্রুবাহিনী আমাদের দুর্বলতার কথা টের পেয়ে বাঘের ন্যায় হুঙ্কার না ছাড়ে। আর পশ্চাদ্ধাবন নিষেধ করেছি, যাতে আমাদের সংখ্যার স্বল্পতার বিষয়টি তাদের সামনে প্রকাশ না পায়। কারণ, হতে পারে তারা ফিরে এসে আমাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করবে। নবীজি তার এই সুনিপুণ যুদ্ধ-কৌশলকে অত্যন্ত পছন্দ করেন। এবং মহান আল্লাহর নিকট শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন。

টিকাঃ
২৮ কোনো ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্যে, অন্যায়ের যথাযথ প্রতিবাদ জানাতে নির্ধারিত সময়ের জন্য বিশেষ কোনো এলাকার সব আলো নিভিয়ে দিয়ে যে নীরব প্রতিবাদ করা হয়ে থাকে, তাকে 'ব্ল‍্যাক আউট' বলে। উইকিপিডিয়া সূত্রে অনুবাদক
২৯ জামউল ফাওয়ায়েদ: ২/২৭

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 কুরআনে নবীজির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আলোচনা

📄 কুরআনে নবীজির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আলোচনা


আল্লামা আবদুর রউফ মুনাবি রহ. লেখেন-নবীজির অসংখ্য বৈশিষ্ট্যের একটি হলো, কুরআনে কারিমে তাঁর প্রতিটি অঙ্গের আলোচনা করা হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন ভাবে। নবীজির চেহারা মোবারকের আলোচনা করা হয়েছে-
قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ
চোখের ব্যাপারে ইরশাদ হচ্ছে- وَلَا تَمُدَّنَّ عَيْنَيْكَ
পবিত্র জবান সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে- فَإِنَّمَا يَسَّرْنَاهُ بِلِسَانِكَ
হাত ও ঘাড়ের কথা রয়েছে এই আয়াতে-
وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةٌ إِلَى عُنُقِكَ . অনুরূপভাবে বুক ও পিঠ মোবারকের আলোচনা রয়েছে সূরা আলাম নাশরাহের এই আয়াতে- أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ (১) وَوَضَعْنَا عَنْكَ وِزْرَكَ (২) الَّذِي أَنْقَضَ ظَهْرَكَ আর পবিত্র হৃদয়ের কথা রয়েছে এই আয়াতে- نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ (১৯৩) عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ (১৯৪)

টিকাঃ
৩০ সূরা বাকারা: ১৪৪
৩১ সূরা ত্ব-হা: ১৩১
৩২ সূরা মারইয়াম: ৯৭
৩৩ সূরা বনি ইসরাঈল: ২৯
৩৪ সূরা আলাম নাশরাহ: ১-৩
৩৫ সূরা শুআরা: ১৯৩-১৯৪
৩৬ জামউল ওয়াসায়েলের পার্শ্বটীকা: পৃ.৪৫

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 কুরআন খতমের পর দুআ

📄 কুরআন খতমের পর দুআ


কুরআন খতমের পর দুআ করার রীতি পূর্ববর্তী মহা মনীষীগণ থেকেই চলে আসছে। সাহাবায়ে কেরাম রাজিয়াল্লাহু আনহু র আমল থেকেই মূলত এর সূচনা হয়। আল্লামা কুরতুবি রহ. আবু বকর আম্বারি রহ.-এর উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেন-
عن قتادة أن أنس بن مالك كان إذا ختم القرآن جمع أهله ودعا.
কাতাদাহ সূত্রে বর্ণিত, আনাস ইবনু মালেক রাজিয়াল্লাহু আনহু কুরআন খতমের পর পরিবারের সকলকে নিয়ে দুআ করতেন।
মুজাহিদ ও আবদা ইবনু আবি লুবাবা রহ. হতেও অনুরূপ আমল পাওয়া যায়। পাশাপাশি তারা এও বলতেন—
فإن الرحمة تنزل عند ختم القرآن.
কুরআন খতমের সময় রহমত অবতীর্ণ হয়。

টিকাঃ
৩৭ তাফসিরে কুরতুবি: ১/২৬
৩৮ প্রাগুক্ত

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 লোভী আশআব

📄 লোভী আশআব


আশআব নামক এক ব্যক্তি লোভী হিসেবে বেশ খ্যাত ছিল। একপর্যায়ে তার উপাধিই হয়ে যায় ‘লোভী’। উক্ত বিশেষণের দরুন সে প্রবাদ পুরুষে পরিণত হয়। কারও লোভের কথা বলতে গিয়ে বলা হতো—'এ তো দেখি যুগের আশআব, অথবা, এ তো দেখি আশআবকে হার মানিয়েছে।' এখনো আরবে এ প্রবাদ চালু আছে। তারিখে বাগদাদগ্রন্থ অধ্যয়ন করতে গিয়ে তার কয়েকটি ঘটনা নজরে পড়ল :
১. আসমায়ি রহ. বলেন—
একবার কিছু চঞ্চল কিশোর আশআবকে ক্ষিপ্ত ও তিক্ত করার জন্য তার পেছনে লাগল। নানাভাবে তারা তাকে উত্ত্যক্ত করে তুলল। অগত্যা আশআব তাদের থেকে মুক্তি পেতে মিছামিছি বলল—আরে, তোমরা কি জানো, সালেম ইবনু আবদিল্লাহ খেজুর বিতরণ করছে! কিশোররা এ কথা শোনামাত্রই সালেমের বাড়ির দিকে ছুটল। কিছুক্ষণ পর আশআব কিশোরদের দৌড়াদৌড়ি দেখে ভাবল, বাস্তবেই তো সালেম খেজুর বিতরণ করতে পারে। অতঃপর সেও তাদের সঙ্গে দৌড়াতে শুরু করল。
২. জাহহাক বলেন—
লোভী আশআব কিছু লোককে দেখল, তারা বিক্রির জন্য খাবারের পাত্র তৈরি করছে। সে তাদের উদ্দেশ্য করে বলল, ভাই, একটু বড় বড় করে তৈরি করেন! তারা জিজ্ঞেস করল, কেন? উত্তরে আশআব বলল—হতে পারে কেউ কোনোদিন এখান থেকে পাত্র কিনে নেবে আর সে পাত্রে আমাকে কিছু দান করবে。
৩. আশআব নিজেই তার অভ্যাসের বিবরণ দিতে গিয়ে বলল—
আমি কোনো জায়গায় শরিক হলে কাউকে কানাঘুষা করতে দেখলে ভাবতাম—মৃতব্যক্তি বোধহয় আমার জন্য কোনো কিছুর অসিয়ত করে গেছে। আর তা নিয়েই হয়তো আলাপ-আলোচনা চলছে。

টিকাঃ
৩৯ তারিখে বাগদাদ : ৭১/৪২-৪৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00