📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 হাদিসের মর্যাদা

📄 হাদিসের মর্যাদা


ঈসা ইবনু ইউনুস রহ. ছিলেন বেশ উঁচুমাপের মুহাদ্দিস। বিশুদ্ধতম ছয় কিতাবে তার সূত্রে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। ইমাম মালেক ও ইমাম আওজায়ি রহ.-এর মতো ব্যক্তিবর্গের শিষ্যত্বে ধন্য হন তিনি। এমনকি ইসহাক ইবনু রাহওয়াইহ এর মতো জগদ্বিখ্যাত মুহাদ্দিসেরও উস্তাদ ছিলেন তিনি। তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—তার পিতা ইউনুস রহ.-ও ছিলেন ঘটনাক্রমে তারই ছাত্র। মোল্লা আলি কারি রহ. তার সম্পর্কে একটি দুর্লভ ঘটনা বর্ণনা করেন—
বাদশা হারুনুর রশিদ একবার হজ পালনের উদ্দেশ্যে পবিত্র মক্কা গমন করলেন। অতঃপর সেখানকার শীর্ষস্থানীয় মুহাদ্দিসগণের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা করলেন। তখন ইসলামি খেলাফতের প্রধান বিচারপতি ছিলেন ফিকাহশাস্ত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র ইমাম আবু ইউসুফ রহ.। বাদশা তাকেই নির্দেশ দিলেন তার সাথে মক্কার বিশিষ্ট মুহাদ্দিসগণের মুলাকাতের আয়োজন করতে। নির্দেশ মোতাবেক ইমাম আবু ইউসুফ রহ. মুহাদ্দিসদেরকে খলিফার পক্ষ থেকে নিমন্ত্রণ জানালেন। নিমন্ত্রণ পেয়ে সকলেই যথাসময়ে দরবারে উপস্থিত হলেন। তবে আবদুল্লাহ ইবনু ইদরিস ও ঈসা ইবনু ইউনুস রহ. উপস্থিত হলেন না। [উল্লেখ্য, বাদশা উলামায়ে কেরামের কদর বুঝতেন।] তাই ব্যাপারটি জানতে পেরে তিনি নিজের স্নেহাস্পদ দুই পুত্র—আমিন ও মামুনকে ঈসা ইবনু ইউনুসের নিকট হাদিস পাঠের জন্য পাঠালেন। বাদশার দুই পুত্র যথাসময়ে ঈসা ইবনু ইউনুসের দরবারে উপস্থিত হলে তিনি তাদেরকে সন্তুষ্টচিত্তে হাদিসের দরস দান করে বিদায় দিলেন। বাদশা হারুনুর রশিদ এতে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। খুশি হয়ে তিনি ঈসা ইবনু ইউনুসের জন্য দশ হাজার রৌপ্যমুদ্রা উপঢৌকন পাঠালেন; কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করলেন না। বাদশা মনে মনে ভাবলেন, ঈসা ইবনু ইউনুস একজন প্রথিতযশা মুহাদ্দিস। হয়তো এ উপঢৌকন তাঁর শান অনুযায়ী হয় নি। এই ভেবে তিনি পুনরায় পূর্বের দিগুণ অর্থাৎ বিশ হাজার দিরহাম পাঠালেন。
এবার যখন উক্ত দিরহামগুলো ঈসা ইবনু ইউনুসের কাছে পৌঁছল তখন তিনি বলিষ্ঠকণ্ঠে জানিয়ে দিলেন—
হাদিসের বিনিময়ে যদি কেউ আমাকে এই মসজিদের ছাদ সমপরিমাণ স্বর্ণও দেয়, তবুও আমি তা গ্রহণ করবো না。
বাদশা তাঁর এহেন ব্যক্তিত্ব ও আত্মমর্যাদাবোধ দেখে তা গ্রহণে পীড়াপীড়ি করলেন না। উল্লেখ্য, ঈসা ইবনু ইউনুসের একটি চিরাচরিত অভ্যাস ছিল—তিনি এক বছর হজ করতেন, পরের বছর জিহাদ করতেন। এভাবে তিনি জীবনে পঁয়তাল্লিশবার হজ করেন এবং পঁয়তাল্লিশবার জিহাদে অংশগ্রহণ করেন!

টিকাঃ
২৭ জামউল ওয়াসায়েল: পৃ.২৪-২৫

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 সুনিপুণ যুদ্ধকৌশল

📄 সুনিপুণ যুদ্ধকৌশল


ব্ল‍্যাক আউট বর্তমানকার যুদ্ধের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাসুলুল্লাহ সা.-এর যুগেও এর নজির পাওয়া যায়। অষ্টম হিজরির জুমাদাল উখরাতে একটি বাহিনীকে মদিনা হতে দশ মনজিল দূরে অবস্থিত 'লাখম ও জুজাম' গোত্রের মোকাবেলার জন্য পাঠানো হয়। সেনাপতি ছিলেন আমর ইবনুল আস রাজিয়াল্লাহু আনহু। সে যুদ্ধে শত্রুপক্ষ পুরো মুসলিমবাহিনীকে খুব শক্তভাবে শিকলে বেঁধে ফেলে। এজন্য এ যুদ্ধকে 'গাজওয়ায়ে জাতুস সালাসিল বা শিকলের যুদ্ধ' বলে নামকরণ করা হয়। [স্মর্তব্য, গাজওয়ায়ে জাতুস সালাসিল নামে যে যুদ্ধটি আমাদের মাঝে প্রসিদ্ধ আছে, সেটি এই যুদ্ধের পরে সাহাবিদের যুগে সংঘটিত হয়েছিল।] আলোচ্য যুদ্ধে দলপতি আমর ইবনুল আস রাজিয়াল্লাহু আনহু সৈন্যবাহিনীকে তিনদিন যাবৎ রাত্রিবেলায় কোনো প্রকার আলো জ্বালাতে নিষেধ করেছিলেন। তিনদিন পর শত্রুপক্ষ যুদ্ধস্থল ছেড়ে পালাতে লাগল। সাহাবায়ে কেরাম রাজিয়াল্লাহু আনহু তাদের পশ্চাদ্ধাবন করতে চাইলে আমর ইবনুল আস রাজিয়াল্লাহু আনহু বারণ করেন। আলো জ্বালানো ও' পশ্চাদ্ধাবন—উভয়টি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ সাহাবায়ে কেরামের মনঃপূত হয় নি। তারা সকলেই এতে মনঃক্ষুণ্ণ হন; কিন্তু আমিরের আনুগত্যের আবশ্যকতার কথা ভেবে সকলেই অকুণ্ঠচিত্তে তা মেনে নিয়েছিলেন। অবশ্য মদিনায় প্রত্যাবর্তনের পর নবীজির নিকট অভিযোগ জানালে তিনি আমর ইবনুল আস রাজিয়াল্লাহু আনহু কে ডেকে কারণ দর্শাতে বললেন। আমর ইবনুল আম রাজিয়াল্লাহু আনহু আরজ করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমার সৈন্যসংখ্যা শত্রুপক্ষের তুলনায় ছিল অনেক কম। এ কারণেই আমি রাতে আলো জ্বালাতে নিষেধ করেছি, যাতে শত্রুবাহিনী আমাদের দুর্বলতার কথা টের পেয়ে বাঘের ন্যায় হুঙ্কার না ছাড়ে। আর পশ্চাদ্ধাবন নিষেধ করেছি, যাতে আমাদের সংখ্যার স্বল্পতার বিষয়টি তাদের সামনে প্রকাশ না পায়। কারণ, হতে পারে তারা ফিরে এসে আমাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করবে। নবীজি তার এই সুনিপুণ যুদ্ধ-কৌশলকে অত্যন্ত পছন্দ করেন। এবং মহান আল্লাহর নিকট শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন。

টিকাঃ
২৮ কোনো ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্যে, অন্যায়ের যথাযথ প্রতিবাদ জানাতে নির্ধারিত সময়ের জন্য বিশেষ কোনো এলাকার সব আলো নিভিয়ে দিয়ে যে নীরব প্রতিবাদ করা হয়ে থাকে, তাকে 'ব্ল‍্যাক আউট' বলে। উইকিপিডিয়া সূত্রে অনুবাদক
২৯ জামউল ফাওয়ায়েদ: ২/২৭

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 কুরআনে নবীজির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আলোচনা

📄 কুরআনে নবীজির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আলোচনা


আল্লামা আবদুর রউফ মুনাবি রহ. লেখেন-নবীজির অসংখ্য বৈশিষ্ট্যের একটি হলো, কুরআনে কারিমে তাঁর প্রতিটি অঙ্গের আলোচনা করা হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন ভাবে। নবীজির চেহারা মোবারকের আলোচনা করা হয়েছে-
قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ
চোখের ব্যাপারে ইরশাদ হচ্ছে- وَلَا تَمُدَّنَّ عَيْنَيْكَ
পবিত্র জবান সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে- فَإِنَّمَا يَسَّرْنَاهُ بِلِسَانِكَ
হাত ও ঘাড়ের কথা রয়েছে এই আয়াতে-
وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةٌ إِلَى عُنُقِكَ . অনুরূপভাবে বুক ও পিঠ মোবারকের আলোচনা রয়েছে সূরা আলাম নাশরাহের এই আয়াতে- أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ (১) وَوَضَعْنَا عَنْكَ وِزْرَكَ (২) الَّذِي أَنْقَضَ ظَهْرَكَ আর পবিত্র হৃদয়ের কথা রয়েছে এই আয়াতে- نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ (১৯৩) عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ (১৯৪)

টিকাঃ
৩০ সূরা বাকারা: ১৪৪
৩১ সূরা ত্ব-হা: ১৩১
৩২ সূরা মারইয়াম: ৯৭
৩৩ সূরা বনি ইসরাঈল: ২৯
৩৪ সূরা আলাম নাশরাহ: ১-৩
৩৫ সূরা শুআরা: ১৯৩-১৯৪
৩৬ জামউল ওয়াসায়েলের পার্শ্বটীকা: পৃ.৪৫

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 কুরআন খতমের পর দুআ

📄 কুরআন খতমের পর দুআ


কুরআন খতমের পর দুআ করার রীতি পূর্ববর্তী মহা মনীষীগণ থেকেই চলে আসছে। সাহাবায়ে কেরাম রাজিয়াল্লাহু আনহু র আমল থেকেই মূলত এর সূচনা হয়। আল্লামা কুরতুবি রহ. আবু বকর আম্বারি রহ.-এর উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেন-
عن قتادة أن أنس بن مالك كان إذا ختم القرآن جمع أهله ودعا.
কাতাদাহ সূত্রে বর্ণিত, আনাস ইবনু মালেক রাজিয়াল্লাহু আনহু কুরআন খতমের পর পরিবারের সকলকে নিয়ে দুআ করতেন।
মুজাহিদ ও আবদা ইবনু আবি লুবাবা রহ. হতেও অনুরূপ আমল পাওয়া যায়। পাশাপাশি তারা এও বলতেন—
فإن الرحمة تنزل عند ختم القرآن.
কুরআন খতমের সময় রহমত অবতীর্ণ হয়。

টিকাঃ
৩৭ তাফসিরে কুরতুবি: ১/২৬
৩৮ প্রাগুক্ত

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00