📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 জ্বরের প্রতিদান

📄 জ্বরের প্রতিদান


আল্লামা ইবনুল জাওজি রহ. বর্ণনা করেন—একবার উবাই ইবনু কাব রাজিয়াল্লাহু আনহু নবীজিকে জ্বরের প্রতিদান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে তিনি বলেন— 'যতক্ষণ জ্বরের দরুন শরীর কাঁপতে থাকে কিংবা শিরা-উপশিরায় রক্ত দ্রুতবেগে প্রবাহমান থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত জ্বরের বিনিময়ে আমলনামায় নেকি লেখা হয়।' একথা শুনে উবাই ইবনু কাব রাজিয়াল্লাহু আনহু বলেন—
হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট এমন জ্বর কামনা করি, যা আমার জিহাদে অংশগ্রহণ, আপনার ঘর কাবাশরিফ জিয়ারত কিংবা মসজিদে নববিতে উপস্থিত হওয়ায় প্রতিবন্ধক না হয়。
পরবর্তী সময়ে উবাই উবনে কাব রাজিয়াল্লাহু আনহু সর্বক্ষণ জ্বরাক্রান্ত থাকতেন। কেউ তাকে স্পর্শ করলেই তাঁর শরীরের উষ্ণতা অনুভব করত。

টিকাঃ
২৪ সিফাতুস সফওয়া: ১/১৯০

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 সর্বশেষ সাহাবি

📄 সর্বশেষ সাহাবি


আল্লামা শাওকানি রহ. লেখেন-সকল উলামায়ে কেরাম এ-বিষয়ে একমত যে, সাহাবিদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী সাহাবি হলেন আবু তোফায়েল আমির ইবনু ওয়াসিলা আল-জুহানি রাজিয়াল্লাহু আনহু। তিনি ১০২ হিজরিতে মক্কা মুকাররমায় ইন্তেকাল করেন。

টিকাঃ
২৫ আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ পৃ.৪২১-৪২৩

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 অব্যর্থ দুআ

📄 অব্যর্থ দুআ


সুফিয়ান সাওরি রহ. ছিলেন প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও বিশিষ্ট ফকিহ। মোল্লা আলি কারি হানাফি রহ. শামায়েলে তিরমিজির ব্যাখ্যাগ্রন্থে উল্লেখ করেন-
একবার তৎকালীন খলিফা আবু জাফর মনসুর মক্কা গমনের ইচ্ছা করল। কোনো কারণে সে সুফিয়ান সাওরির প্রতি বেশ ক্ষুব্ধ ছিল। তাই মক্কায় পৌঁছার পূর্বেই সে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জন্য শূলের ব্যবস্থাগ্রহণের নির্দেশ দিল। নির্দেশ মোতাবেক শূলের ব্যবস্থা করা হলো। এ সংবাদ সুফিয়ান সাওরি রহ.-এর নিকট এমন সময় পৌঁছল, যখন তিনি ফুজাইল ইবনু আয়াজ রহ.-এর কোলে মাথা ও সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা রহ.-এর কোলে পা রেখে শুয়েছিলেন। খলিফার মক্কাগমনের পূর্বে আত্মগোপন করার জন্য সুফিয়ান সাওরি রহ.-কে তাঁর ভক্তবৃন্দ পরামর্শ দিয়েছিলেন; কিন্তু তিনি [তা প্রত্যাখ্যান করে] সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত-মনে উঠে দাঁড়ালেন। এবং মসজিদে হারামে গিয়ে কাবা-শরিফের গিলাফ ধরে বলতে লাগলেন-
হে আল্লাহ, যদি আবু জাফর মনসুর মক্কায় গমন করে, তাহলে আমি শেষ হয়ে যাবো。
তাঁর এ বাক্যটি শেষ না হতেই আবু জাফর মনসুরের মৃত্যুর সংবাদ এসে পৌঁছল—সে মক্কার পথেই মৃত্যুবরণ করেছে!

টিকাঃ
২৬ জামউল ওয়াসায়েল: পৃ.১৯-২০

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 হাদিসের মর্যাদা

📄 হাদিসের মর্যাদা


ঈসা ইবনু ইউনুস রহ. ছিলেন বেশ উঁচুমাপের মুহাদ্দিস। বিশুদ্ধতম ছয় কিতাবে তার সূত্রে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। ইমাম মালেক ও ইমাম আওজায়ি রহ.-এর মতো ব্যক্তিবর্গের শিষ্যত্বে ধন্য হন তিনি। এমনকি ইসহাক ইবনু রাহওয়াইহ এর মতো জগদ্বিখ্যাত মুহাদ্দিসেরও উস্তাদ ছিলেন তিনি। তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—তার পিতা ইউনুস রহ.-ও ছিলেন ঘটনাক্রমে তারই ছাত্র। মোল্লা আলি কারি রহ. তার সম্পর্কে একটি দুর্লভ ঘটনা বর্ণনা করেন—
বাদশা হারুনুর রশিদ একবার হজ পালনের উদ্দেশ্যে পবিত্র মক্কা গমন করলেন। অতঃপর সেখানকার শীর্ষস্থানীয় মুহাদ্দিসগণের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা করলেন। তখন ইসলামি খেলাফতের প্রধান বিচারপতি ছিলেন ফিকাহশাস্ত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র ইমাম আবু ইউসুফ রহ.। বাদশা তাকেই নির্দেশ দিলেন তার সাথে মক্কার বিশিষ্ট মুহাদ্দিসগণের মুলাকাতের আয়োজন করতে। নির্দেশ মোতাবেক ইমাম আবু ইউসুফ রহ. মুহাদ্দিসদেরকে খলিফার পক্ষ থেকে নিমন্ত্রণ জানালেন। নিমন্ত্রণ পেয়ে সকলেই যথাসময়ে দরবারে উপস্থিত হলেন। তবে আবদুল্লাহ ইবনু ইদরিস ও ঈসা ইবনু ইউনুস রহ. উপস্থিত হলেন না। [উল্লেখ্য, বাদশা উলামায়ে কেরামের কদর বুঝতেন।] তাই ব্যাপারটি জানতে পেরে তিনি নিজের স্নেহাস্পদ দুই পুত্র—আমিন ও মামুনকে ঈসা ইবনু ইউনুসের নিকট হাদিস পাঠের জন্য পাঠালেন। বাদশার দুই পুত্র যথাসময়ে ঈসা ইবনু ইউনুসের দরবারে উপস্থিত হলে তিনি তাদেরকে সন্তুষ্টচিত্তে হাদিসের দরস দান করে বিদায় দিলেন। বাদশা হারুনুর রশিদ এতে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। খুশি হয়ে তিনি ঈসা ইবনু ইউনুসের জন্য দশ হাজার রৌপ্যমুদ্রা উপঢৌকন পাঠালেন; কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করলেন না। বাদশা মনে মনে ভাবলেন, ঈসা ইবনু ইউনুস একজন প্রথিতযশা মুহাদ্দিস। হয়তো এ উপঢৌকন তাঁর শান অনুযায়ী হয় নি। এই ভেবে তিনি পুনরায় পূর্বের দিগুণ অর্থাৎ বিশ হাজার দিরহাম পাঠালেন。
এবার যখন উক্ত দিরহামগুলো ঈসা ইবনু ইউনুসের কাছে পৌঁছল তখন তিনি বলিষ্ঠকণ্ঠে জানিয়ে দিলেন—
হাদিসের বিনিময়ে যদি কেউ আমাকে এই মসজিদের ছাদ সমপরিমাণ স্বর্ণও দেয়, তবুও আমি তা গ্রহণ করবো না。
বাদশা তাঁর এহেন ব্যক্তিত্ব ও আত্মমর্যাদাবোধ দেখে তা গ্রহণে পীড়াপীড়ি করলেন না। উল্লেখ্য, ঈসা ইবনু ইউনুসের একটি চিরাচরিত অভ্যাস ছিল—তিনি এক বছর হজ করতেন, পরের বছর জিহাদ করতেন। এভাবে তিনি জীবনে পঁয়তাল্লিশবার হজ করেন এবং পঁয়তাল্লিশবার জিহাদে অংশগ্রহণ করেন!

টিকাঃ
২৭ জামউল ওয়াসায়েল: পৃ.২৪-২৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00