📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 স্মৃতিশক্তি ও স্মৃতিবিভ্রম

📄 স্মৃতিশক্তি ও স্মৃতিবিভ্রম


আল্লামা ইবনু আবিদিন শামি রহ. হিশাম কালবি রহ.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, হিশাম বলেছেন, আমি একবার স্মরণশক্তির প্রখরতার এমন নজির স্থাপন করেছি, সম্ভবত কেউ তা পারে নি। আবার স্মৃতিবিভ্রমের এমন নজিরও আমার জীবনে রয়েছে—যা অন্য কারও নেই। আমার মেধার প্রখরতা এত অধিক ছিল যে, মাত্র তিন দিনে পুরো কুরআন শরিফ মুখস্থ করেছিলাম! আবার স্মৃতিবিভ্রমের অদ্ভুত ঘটনারও শিকার হয়েছি। একদিন আমি দাড়ির অতিরিক্ত অংশ ছাঁটার জন্য বসেছিলাম। এজন্য মুষ্ঠি বেঁধে নিচের অংশটুকু কাটার জন্য ইচ্ছা করলাম; কিন্তু নিজের অলক্ষ্যে মুষ্ঠির উপরিভাগের দাড়ি কেটে ফেললাম। এতে সম্পূর্ণ দাড়ির গোছা আমার হাতের মুঠোয় চলে এসেছিল!

টিকাঃ
১০ রদ্দুল মুহতার

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 আমরা উভয়ে জান্নাতি

📄 আমরা উভয়ে জান্নাতি


ইমরান ইবনু হাত্তান নামে খারিজি সম্প্রদায়ের খ্যাতিমান একজন কবি ছিল। তার মেধা ও স্মৃতিশক্তির প্রখরতাকে ঘিরে নানা কৌতূহলী ঘটনা আজও কিংবদন্তি হয়ে আছে। এ কবি সম্বন্ধে আল্লামা জমখশরি রহ. বর্ণনা করেছেন—ইমরান ছিল ভয়ঙ্কর কুৎসিত ও বীভৎস প্রকৃতির। অপরদিকে তাঁর স্ত্রী ছিল অনিন্দ্যসুন্দরী। একদিন তার স্ত্রী দীর্ঘক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল। এরপর হঠাৎ বলে উঠল—'আলহামদু লিল্লাহ'! ইমরান জিজ্ঞাসা করল, কী ব্যাপার, তুমি আলহামদু লিল্লাহ বললে কেন? স্ত্রী উত্তরে বলল—আমরা উভয়ে জান্নাতি। তাই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ বললাম আলহামদু লিল্লাহ。
ইমরান জিজ্ঞাসা করল—তা কী করে বুঝলে? স্ত্রী বলল, আপনি আমার মতো পরমাসুন্দরী স্ত্রী পেয়ে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। আর আমি আপনার মতো স্বামী পেয়ে ধৈর্যধারণ করেছি। আল্লাহ তাআলা সবর ও শোকরের বিনিময়স্বরূপ জান্নাত দান করবেন বলে ওয়াদা করেছেন।

টিকাঃ
১১ তাফসিরে কাশশাফ: ১/৫৭২

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 যেমন আশা তেমন ফল

📄 যেমন আশা তেমন ফল


আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাজিয়াল্লাহু আনহু কে কেউ জিজ্ঞাসা করেন, উসমান রাজিয়ালই স্বীয় আংটিতে নিম্নের বাক্যটি অঙ্কন করেছিলেন—
اللهم احيني سعيدا وامتني شهيدا.
হে আল্লাহ, আপনি আমাকে সৌভাগ্যবান জীবন এবং শাহাদাতের মৃত্যু দান করেন!
তারপর ইবনু আব্বাস রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আল্লাহর কসম! তিনি সফলতার জীবন লাভ করেছেন এবং শাহাদাতের মৃত্যুও পেয়েছেন。

টিকাঃ
১২ মুস্তাদরাকে হাকেম: ৩/১০৬

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 একটি কাকতালীয় ঘটনা

📄 একটি কাকতালীয় ঘটনা


বর্তমান যুগে কল্পনা ও ভাবনার জোরে ব্যাপকহারে প্রাচীন যুগের লোকদের ছবি নির্মাণ হচ্ছে। বেশ কিছুদিন আগে রিডার্স ডাইজেস্ট-এ এতদসংক্রান্ত একটি মনোমুগ্ধকর ঘটনা আমার নজরে পড়েছিল। রুচির খোরাক হিসেবে ঘটনাটি তুলে ধরছি:
'বুনি চেম্বারলিন জনৈক বৃদ্ধ পাদ্রির বরাত দিয়ে বর্ণনা করেন, কয়েক শতাব্দী পূর্বে সিসিলিয়ানের একটি গির্জার দেওয়ালে ছবি অঙ্কনের জন্য একজন চিত্রশিল্পীকে ডাকা হয়েছিল। উদ্যেশ্য ছিল—ছবি অঙ্কনের মাধ্যমে ঈসা আ.-এর পুরো জীবনের চিত্র তুলে ধরা। উক্ত কাজ সম্পাদনের জন্য শিল্পী আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি প্রায় সব ছবির কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। তবে দু'টি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র অঙ্কনের কাজ বাকি ছিল। তার একটি হলো-ঈসা আ.-এর বাল্যকালের চিত্র। অপরটি ছিল ইয়াহুদা এস্কারিয়ুটি নামক ঈসা আ.-এর সহচরের ছবি। উক্ত ছবি দুটির উপযুক্ত কোনো আকৃতি চিত্রশিল্পীর মাথায় আসছিল না। তাই সে এর খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। একদিন সে নগরীর একটি পথ অতিক্রম করছিল। হঠাৎ তার দৃষ্টি গিয়ে পড়ে গলিতে খেলাধুলায় মত্ত শিশুদের মধ্যে বারো বছরের বয়সী এক কিশোরের প্রতি। শিল্পী এই নিষ্পাপ চেহারাকেই ঈসা আ.-এর কিশোর বয়সের ছবির জন্য বেশ উপযোগী বলে মনে করে তাকে সাথে যেতে উদ্বুদ্ধ করল। ছেলেটি রাজি হলে চিত্রকার তার ছবি আঁকতে শুরু করে। কিছুদিনের মধ্যে এ কাজটি সম্পাদন হয়ে গেল。
তবে ইয়াহুদা এস্কারিয়ুটির ছবির কাজ তখনো বাকি ছিল; কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ সে এর উপযুক্ত কোনো চেহারা পাচ্ছিল না। ইয়াহুদা যেহেতু দুশ্চরিত্রের ছিল, তাই অনেকেই নিজেকে অনুরূপ ভেবে ছবি আঁকার জন্য নিজেকে পেশ করল; কিন্তু কোনোটিই শিল্পীর মনঃপূত হয় নি। সে মূলত এমন একটি আকৃতি খোঁজ করছিল, যা দেখেই অনুমান করা যায় যে, এটা কোনো লোভী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও পথভ্রষ্ট ব্যক্তির আকৃতি; কিন্তু কয়েক বছরেও এর উপযুক্ত কোনো আকৃতির সন্ধান মিলল না। একদিন সে অপরাহ্ণে একটি পানশালায় বসেছিল। হঠাৎ দরজার সামনে এক ক্ষীণকায়, ছিপছিপে, দুর্বল, বীভৎস আকৃতি ও দুরবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তি তার দৃষ্টিতে পড়ল। সে হেলে-দুলে পানশালায় প্রবেশ করেই 'মদ-মদ' বলে হাঁক ছাড়ল। লোকটিকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন সকল প্রকার পাপ-পঙ্কিলতার প্রতিচ্ছবি তার চেহারায় ভাসছে। শিল্পী তাকে দেখে খুশিতে আটখানা হয়ে গেল। এবং মদের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে সঙ্গে নিয়ে চলল। ঘরে এসে তার ছবি আঁকতে শুরু করল। আর সে একদম নীরবে-নিঃশব্দে বসেছিল। ছবি আঁকার কাজ প্রায় শেষ। একদিন দেখতে পেল যে, লোকটি নিজেই নিজের অঙ্কিত চেহারা দেখে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। শিল্পী তাকে জিজ্ঞাসা করল-কী ব্যাপার! ঘাবড়াচ্ছ কেন? লোকটি কিছুক্ষণ নিজ মাথায় হাত রেখে দীর্ঘনিঃশ্বাস ছেড়ে বলল—আপনি আমাকে একটু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখেন—আমাকে চেনা যায় কি-না! কয়েক বছর পূর্বে আপনি আমাকেই ঈসা আ.-এর কিশোর বয়সের ছবি চিত্রাঙ্কনের জন্য এনেছিলেন!'

টিকাঃ
১৩ বিশ্বের অন্যতম বহুল পঠিত অসাধারণ একটি ম্যাগাজিন।
১৪ যার ব্যাপারে ইঞ্জিল শরিফে উল্লেখ আছে-সে ঈসা আ.-কে মাত্র ত্রিশ টাকার লোভে গ্রেফতার করিয়েছিল。
১৫ রিডার্স ডাইজেস্ট: মে- ১৯৬৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00