📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 এক অদ্ভুত তালাক

📄 এক অদ্ভুত তালাক


কাজি আবু বকর ইবনু আরাবি রহ. বর্ণনা করেন—খলিফা মনসুরের শাসনামলে বাগদাদের মুসা ইবনু ঈসা হাশেমি নামে জনৈক ব্যক্তি নিজ স্ত্রীকে আবেগ তাড়িত হয়ে বলে ফেলল— তুমি চাঁদের চেয়ে অধিক সুন্দরী না হলে তোমাকে তিন তালাক。
এতে তালাক পতিত হয়ে গেছে ভেবে স্ত্রী ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়ল এবং স্বামীর সঙ্গে পর্দা শুরু করল। স্বামী নিজের অলক্ষ্যে এবং ভালোবাসার আতিশয্যে উক্ত বাক্যটি উচ্চারণ করেছিল; কিন্তু পরক্ষণে সেও চিন্তায় পড়ে গেল। উভয়ের সারারাত কাটল উদ্বিগ্নতা ও অস্থিরতায়। সকালবেলায় স্বামী খলিফার দরবারে গিয়ে ঘটনার বিবরণ দিল। ঘটনা শুনে খলিফা মনসুর বাগদাদের বড় বড় আলেম ও বিজ্ঞ ফকিহদের একটি জরুরি-সভা তলব করলেন। সভায় উক্ত মাসআলাটি উত্থাপন করলে প্রায় সকলেই তার স্ত্রী যেহেতু বাস্তবিক পক্ষেই চাঁদের চেয়ে সুন্দর নয়, তাই তালাক পতিত হয়ে গেছে—এ অভিমত ব্যক্ত করলেন; কিন্তু উপস্থিত ফকিহদের একজন উঠে বললেন, 'আমার মতে তালাক পতিত হয় নি।' এর কারণ হিসাবে তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারিমে ইরশাদ করেন—
لقد خلقنا الانسان في احسن تقويم. আমি তো মানুষকে সবচে' সুন্দর গঠনে সৃষ্টি করেছি。
এ উত্তরটি খলিফার দারুণ পছন্দ হলো। তিনি মুসা ইবনু ঈসাকে এ বলে সংবাদ পাঠালেন যে, তালাক পতিত হয় নি।

টিকাঃ
৮ সূরা তীন: ৩
৯ আল্লামা দামিরি, হায়াতুল হায়াওয়ান: ১/৩২

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 স্মৃতিশক্তি ও স্মৃতিবিভ্রম

📄 স্মৃতিশক্তি ও স্মৃতিবিভ্রম


আল্লামা ইবনু আবিদিন শামি রহ. হিশাম কালবি রহ.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, হিশাম বলেছেন, আমি একবার স্মরণশক্তির প্রখরতার এমন নজির স্থাপন করেছি, সম্ভবত কেউ তা পারে নি। আবার স্মৃতিবিভ্রমের এমন নজিরও আমার জীবনে রয়েছে—যা অন্য কারও নেই। আমার মেধার প্রখরতা এত অধিক ছিল যে, মাত্র তিন দিনে পুরো কুরআন শরিফ মুখস্থ করেছিলাম! আবার স্মৃতিবিভ্রমের অদ্ভুত ঘটনারও শিকার হয়েছি। একদিন আমি দাড়ির অতিরিক্ত অংশ ছাঁটার জন্য বসেছিলাম। এজন্য মুষ্ঠি বেঁধে নিচের অংশটুকু কাটার জন্য ইচ্ছা করলাম; কিন্তু নিজের অলক্ষ্যে মুষ্ঠির উপরিভাগের দাড়ি কেটে ফেললাম। এতে সম্পূর্ণ দাড়ির গোছা আমার হাতের মুঠোয় চলে এসেছিল!

টিকাঃ
১০ রদ্দুল মুহতার

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 আমরা উভয়ে জান্নাতি

📄 আমরা উভয়ে জান্নাতি


ইমরান ইবনু হাত্তান নামে খারিজি সম্প্রদায়ের খ্যাতিমান একজন কবি ছিল। তার মেধা ও স্মৃতিশক্তির প্রখরতাকে ঘিরে নানা কৌতূহলী ঘটনা আজও কিংবদন্তি হয়ে আছে। এ কবি সম্বন্ধে আল্লামা জমখশরি রহ. বর্ণনা করেছেন—ইমরান ছিল ভয়ঙ্কর কুৎসিত ও বীভৎস প্রকৃতির। অপরদিকে তাঁর স্ত্রী ছিল অনিন্দ্যসুন্দরী। একদিন তার স্ত্রী দীর্ঘক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল। এরপর হঠাৎ বলে উঠল—'আলহামদু লিল্লাহ'! ইমরান জিজ্ঞাসা করল, কী ব্যাপার, তুমি আলহামদু লিল্লাহ বললে কেন? স্ত্রী উত্তরে বলল—আমরা উভয়ে জান্নাতি। তাই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ বললাম আলহামদু লিল্লাহ。
ইমরান জিজ্ঞাসা করল—তা কী করে বুঝলে? স্ত্রী বলল, আপনি আমার মতো পরমাসুন্দরী স্ত্রী পেয়ে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। আর আমি আপনার মতো স্বামী পেয়ে ধৈর্যধারণ করেছি। আল্লাহ তাআলা সবর ও শোকরের বিনিময়স্বরূপ জান্নাত দান করবেন বলে ওয়াদা করেছেন।

টিকাঃ
১১ তাফসিরে কাশশাফ: ১/৫৭২

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 যেমন আশা তেমন ফল

📄 যেমন আশা তেমন ফল


আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাজিয়াল্লাহু আনহু কে কেউ জিজ্ঞাসা করেন, উসমান রাজিয়ালই স্বীয় আংটিতে নিম্নের বাক্যটি অঙ্কন করেছিলেন—
اللهم احيني سعيدا وامتني شهيدا.
হে আল্লাহ, আপনি আমাকে সৌভাগ্যবান জীবন এবং শাহাদাতের মৃত্যু দান করেন!
তারপর ইবনু আব্বাস রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আল্লাহর কসম! তিনি সফলতার জীবন লাভ করেছেন এবং শাহাদাতের মৃত্যুও পেয়েছেন。

টিকাঃ
১২ মুস্তাদরাকে হাকেম: ৩/১০৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00