📄 নবীজির রসিকতা
আবু উমামা রাজিয়াল্লাহু আনহু বলেন— নবীজির মতো সদা হাস্যোজ্জ্বল ও কৌতুকপ্রিয় কেউ ছিল না।
আবু দারদা রাজিয়াল্লাহু আনহু বলেন— নবিজি সব সময় মুচকি হেসে কথা বলতেন। (তবে, কখনো তিনি অট্টহাসি হাসতেন না।)
জাবির ইবনু সামুরা রাজিয়াল্লাহু আনহু বলেন— নবীজি কখনো আত্মহারা হয়ে হাসতেন না; বরং মুচকি হাসিই ছিল তাঁর চিরাচরিত অভ্যাস।
মুররা রাজিয়াল্লাহু আনহুর পিতা বলেন— প্রচণ্ড হাসি পেলে নবীজি মুখে নিজের পবিত্র হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখতেন।
টিকাঃ
১ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
২ তবরানি: ৭৮৩৮
৩ মুসনাদে আহমাদ: ২১৭৩৫
৪ তিরমিজি: ৩৬৪৫
৫ কানযুল উম্মাল: ৪/২৭
📄 বৃদ্ধারা জান্নাতে যাবে না
হাসান রাজিয়াল্লাহু আনহু বলেন—
একবার এক বৃদ্ধা নবীজির খেদমতে এসে আরজ করল-ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমার জন্য দুআ করেন, যেন জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। উত্তরে নবীজি বললেন-শোনো, জান্নাতে কোনো বৃদ্ধা প্রবেশ করবে না! এ কথা শুনে বৃদ্ধা নিরাশ হয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে চলে যেতে লাগল। নবীজি তখন সাহাবিদের বললেন, তাকে বলে দাও-সে বৃদ্ধাবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে না (যুবতি হয়েই তবে জান্নাতে প্রবেশ করবে)।
টিকাঃ
৬ শামায়েলে তিরমিজি: পৃ.২০
📄 আল্লাহর কী কুদরত
ইমাম রাজি রহ. সূরা ফাতিহার [রাব্বুল আলামিন-'জগৎসমূহের প্রতিপালক]-এর তাফসির প্রসঙ্গে জুন্নুন মিসরি রহ.-এর একটি বিস্ময়কর ঘটনা উল্লেখ করেন:
তিনি একদিন কাপড় ধোয়ার জন্য নীলনদের তীরে গমন করেন। হঠাৎ দেখতে পেলেন বড় একটি বিচ্ছু তীরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিচ্ছুটি নদীর কিনারায় পৌঁছামাত্র পানি থেকে একটি কচ্ছপ ভেসে উঠল। বিচ্ছু কচ্ছপটিকে দেখেই অতি দ্রুতবেগে গিয়ে তার পিঠে চড়ে বসল। অমনি কচ্ছপটি তাকে নিয়ে অপর প্রান্তে ছুটতে লাগল。
জুন্নুন মিসরি রহ. বলেন- তাদের কাণ্ড দেখার জন্য আমি পানিতে নেমে পড়লাম। কচ্ছপটি ওপারে পৌঁছামাত্র বিচ্ছু তার পিঠ থেকে নেমে পড়ল। আমিও নদী থেকে উঠে তার পিছু নিলাম。
একপর্যায়ে দেখতে পেলাম—অল্প বয়সী এক যুবক ঘন বৃক্ষ-ছায়ায় গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন। আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম-বিচ্ছুটি হয়তো নদীর ওপার থেকে যুবকছেলেটিকে দংশন করতে এসেছে। একথা ভাবতেই পথিমধ্যে দেখতে পেলাম-একটি বিষাক্ত সাপ ফণা তুলে যুবকের কাছে এগিয়ে আসছে। সাপটি যুবকের কাছে পৌঁছার আগেই বিচ্ছুটি বিদ্যুৎগতিতে তার মাথার ওপর চড়াও হয়ে দংশন করল। তারপর কিছুক্ষণের মধ্যেই সাপটি মারা গেল। এদিকে বিচ্ছু তার পূর্বের পথ ধরে নদীর তীরে ছুটল। সেখানে কচ্ছপটি ছিল তার প্রতীক্ষায়। অতঃপর তার পিঠে সওয়ার হয়ে পুনরায় সে তার গন্তব্যে চলে গেল। জুন্নুন মিসরি রহ. বলেন—এ অদ্ভুত দৃশ্য দেখে আমি কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলাম—
يا راقدا والجليل يحفظه * من كل سوء يكون في الظلم كيف تنام العين عن ملك * تأتيه منك فوائد النعم.
হে সুখ নিদ্রায় বিভোর ব্যক্তি, মহান স্রষ্টা তোমায় নিকষ আঁধারের যাবতীয় বিপদাপদ থেকে রক্ষা করেছেন। কীভাবে তোমার চোখ সুখ নিদ্রায় বুঁদ হয়ে আছে সে প্রভুকে ভুলে, যাঁর অফুরন্ত নিয়ামতের ফল্গুধারা সদা প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ওপর。
আমার কবিতা পাঠ শুনে যুবকের ঘুম ভেঙে গেল। আমি তাকে চাক্ষুষ ঘটনাটির পূর্ণ বিবরণ শুনালাম। ঘটনাটি তার হৃদয়জগতকে দারুণভাবে ভাবিয়ে তুলল। ফলে সে বিগত জীবনের অভিশপ্ত গুনাহর পথ ছেড়ে দিয়ে বাকি দিনগুলো আল্লাহর পথেই কাটিয়ে দিল।
টিকাঃ
৭ ইমাম ফখরুদ্দিন রাজি, তাফসিরে কাবির: ১/২৩৭
📄 এক অদ্ভুত তালাক
কাজি আবু বকর ইবনু আরাবি রহ. বর্ণনা করেন—খলিফা মনসুরের শাসনামলে বাগদাদের মুসা ইবনু ঈসা হাশেমি নামে জনৈক ব্যক্তি নিজ স্ত্রীকে আবেগ তাড়িত হয়ে বলে ফেলল— তুমি চাঁদের চেয়ে অধিক সুন্দরী না হলে তোমাকে তিন তালাক。
এতে তালাক পতিত হয়ে গেছে ভেবে স্ত্রী ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়ল এবং স্বামীর সঙ্গে পর্দা শুরু করল। স্বামী নিজের অলক্ষ্যে এবং ভালোবাসার আতিশয্যে উক্ত বাক্যটি উচ্চারণ করেছিল; কিন্তু পরক্ষণে সেও চিন্তায় পড়ে গেল। উভয়ের সারারাত কাটল উদ্বিগ্নতা ও অস্থিরতায়। সকালবেলায় স্বামী খলিফার দরবারে গিয়ে ঘটনার বিবরণ দিল। ঘটনা শুনে খলিফা মনসুর বাগদাদের বড় বড় আলেম ও বিজ্ঞ ফকিহদের একটি জরুরি-সভা তলব করলেন। সভায় উক্ত মাসআলাটি উত্থাপন করলে প্রায় সকলেই তার স্ত্রী যেহেতু বাস্তবিক পক্ষেই চাঁদের চেয়ে সুন্দর নয়, তাই তালাক পতিত হয়ে গেছে—এ অভিমত ব্যক্ত করলেন; কিন্তু উপস্থিত ফকিহদের একজন উঠে বললেন, 'আমার মতে তালাক পতিত হয় নি।' এর কারণ হিসাবে তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারিমে ইরশাদ করেন—
لقد خلقنا الانسان في احسن تقويم. আমি তো মানুষকে সবচে' সুন্দর গঠনে সৃষ্টি করেছি。
এ উত্তরটি খলিফার দারুণ পছন্দ হলো। তিনি মুসা ইবনু ঈসাকে এ বলে সংবাদ পাঠালেন যে, তালাক পতিত হয় নি।
টিকাঃ
৮ সূরা তীন: ৩
৯ আল্লামা দামিরি, হায়াতুল হায়াওয়ান: ১/৩২