📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আমল ধর্তব্য শেষটা হিসেবে

📄 আমল ধর্তব্য শেষটা হিসেবে


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، قَالَ : شَهِدْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ يَوْمَ حُنَيْنٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ لِرَجُلٍ مِمَّنْ يَدَّعِي الْإِسْلَامَ : إِنَّ هَذَا مِنْ أَهْلِ النَّارِ، فَلَمَّا حَضَرَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ الرَّجُلَ الَّذِي ذَكَرْتَ لَهُ مِنْ أَهْلِ النَّارِ، فَوَ اللَّهِ لَيُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَشَدَّ الْقِتَالِ، فَقَالَ : أَمَا إِنَّهُ مِنْ أَهْلِ النَّارِ، فَكَادَ بَعْضُ النَّاسِ يَرْتَابُ، فَبَيْنَمَا هُوَ عَلَى ذَلِكَ إِذْ وَجَدَ أَلَمَ الْجِرَاحِ فَأَهْوَى بِيَدِهِ إِلَى الْكَنَانَةِ فَاسْتَخْرَجَ مِنْهَا سَهْمًا، وَتَكَلَّمَ بِكَلِمَةٍ مُنْكَرَةٍ وَنَحَرَ نَفْسَهُ، فَاشْتَدَّ الرِّجَالُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ إِلَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ : قَدْ صَدَّقَ اللَّهُ حَدِيثَكَ قَدْ فَجَرَ فُلَانٌ فَقَتَلَ نَفْسَهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ : قُمْ يَا فُلَانُ فَنَادِ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا مُؤْمِنٌ. وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ : إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالْخَوَاتِيمِ لَا عِبْرَةً بِكَثْرَةِ الصَّلَاةِ وَالصِّيَامِ وَإِنَّمَا يُنْظَرُ إِلَى خَاتِمَةِ أَمْرِهِ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. হতে বর্ণিত, হুনাইনের যুদ্ধে আমরা নবীজীর সাথে ছিলাম। তখন মুসলমান নামধারী এক ব্যক্তির ব্যাপারে তিনি বললেন, এই লোকটি জাহান্নামী। ওই ব্যক্তি যখন যুদ্ধের ময়দানে গেল, তখন সে দুর্দান্ত সাহসিকতার সাথে বীরদর্পে যুদ্ধ করতে লাগল। এক সাহাবী দৌড়ে এসে নবীজীকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যাকে বলেছিলেন যে, সে জাহান্নামী, সে তো বেশ দুর্দান্ত সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করছে! তিনি বললেন, সে জাহান্নামী। এতে কতক লোক সন্দেহ করতে লাগল। এরই মধ্যে ওই লোকটি আঘাতপ্রাপ্ত হলো। সে তৃণীর থেকে একটি তীর বের করল। একটি খারাপ কথা বলল, এবং নিজেকে সে জবাই করে দিল। কয়েকজন মুসলমান দৌড়ে নবীজীর নিকট গেল। বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা'আলা আপনার কথা সত্য করেছেন। অমুক ব্যক্তি নিজের গলা কেটে আত্মহত্যা করেছে। তখন নবীজী এক ব্যক্তিকে বললেন, হে অমুক! উঠে ঘোষণা করে দাও, মুমিন ছাড়া কেউ জান্নাতে যাবে না। আর নবীজী বলেছেন, আমলের হিসাব শেষ হিসেবে। নামায রোযা বেশি হওয়ার ধর্তব্য নয়। ব্যক্তির শেষ কী, তা দেখা হবে।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ، وَهُوَ الصَّادِقُ الْمَصْدُوقُ : إِنَّ خَلْقَ أَحَدِكُمْ يُجْمَعُ فِي بَطْنِ أُمَّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا نُطْفَةً، ثُمَّ يَكُونُ عَلَقَةً أَرْبَعِينَ يَوْمًا، ثُمَّ يَكُونُ مُضْغَةً أَرْبَعِينَ يَوْমًا، ثُمَّ يَبْعَثُ اللَّهُ إِلَيْهِ الْمَلَكَ بِأَرْبَعِ كَلِمَاتٍ فَيُقَالُ لَهُ : اكْتُبْ أَجَلَهُ، وَأَمَلَهُ وَعَمَلَهُ وَرِزْقَهُ وَاكْتُبْ شَقِيًّا أَوْ سَعِيدًا، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ حَتَّى مَا يَكُونَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا إِلَّا ذِرَاعٌ فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الْكِتَابُ فَيُخْتَمُ لَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ فَيَدْخُلَهَا, وَإِنَّ أَحَدُكُمْ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ حَتَّى مَا يَكُونَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا إِلَّا ذِرَاعٌ فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الْكِتَابُ، فَيُخْتَمُ لَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَيَدْخُلَهَا ، فَهَذَا الْحَدِيثُ مُوَافِقُ لِلْحَدِيثِ الْأوَّلِ : إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالْخَوَاتِيمِ.

হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. বলেন, নবীজী ইরশাদ করেছেন, আর তিনি হলেন, সত্যবাদী ও সত্যায়িত, মানুষ তার জন্মের প্রথম চল্লিশ দিন মায়ের পেটে বীর্য হিসেবে থাকে। এর পরের চল্লিশ দিন জমাট রক্তের মতো থাকে। এর পর চল্লিশ দিন মাংসপিণ্ড হয়ে থাকে। এরপর আল্লাহ তা'আলা একজন ফেরেশতাকে চারটি কথা নিয়ে পাঠান। তাকে বলা হয়, তার আয়ু, তার ইচ্ছা, তার আমল ও তার রিজিক লেখ। আরও লেখ, সে সৌভাগ্যবান, না কি দুর্ভাগা। একব্যক্তি জান্নাতীর মতো আমল করতে থাকে। এমনকি, যখন তার মধ্যে ও জান্নাতর মধ্যে এক হাতের দূরত্ব বাকি থাকে, তখন তার ভাগ্যের লিখন প্রভাবশালী হয়ে যায়; জাহান্নামীদের আমল দিয়ে তার জীবনের সমাপ্তি ঘটে এবং সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আর তোমাদের একব্যক্তি জাহান্নামীদের আমল করতে থাকে। এমনকি, যখন তার মধ্যে এবং জাহান্নামের মধ্যে এক হাতের দূরত্ব বাকি থাকে তখন তার ওপর তার ভাগ্যের লিখন প্রভাবশালী হয়ে যায়। ফলে জান্নাতীদের আমলের মধ্য দিয়ে তার জীবনের সমাপ্তি ঘটে। এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করে। এই হাদীসটি আগের হাদীস, 'আমলের হিসাব শেষ হিসেবে'-র সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। তাই মুমিনদের উচিত সব সময় এই দোয়া করতে থাকা যে, আল্লাহ তা'আলা যেন তার মৃত্যু ভালো অবস্থার ওপর করেন। কারণ, রূহ বের হওয়ার সময়ই ঈমান হারানোর আশঙ্কা বেশি থাকে।

টিকাঃ
৬৭৬ সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৬০৭; সুনানে দারেমী: হাদীস-২৫২০।
৬৭৭ সহীহ বুখারী: হাদীস-৩২০৮; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৬৪৩।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ঈমান একটি বিরাট নিয়ামত

📄 ঈমান একটি বিরাট নিয়ামত


ইয়াহইয়া বিন মুআয রহ. বলতেন, হে আল্লাহ! আমার সবচেয়ে বড় খুশির বিষয় হলো এটা যে, তুমি আমাকে ঈমানের দৌলত দান করেছ। আর সবচেয়ে ভয় তো এটাই যে, এই নিয়ামত আবার আমার থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় কি না! যতক্ষণ পর্যন্ত আমার এই ভয় বাকি থাকবে, আমি আশা রাখি, তুমি আমাকে এই নিয়ামত হতে বঞ্চিত করবে না।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 নিজের শেষপরিণতি নিয়ে ভীত থাকা

📄 নিজের শেষপরিণতি নিয়ে ভীত থাকা


عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيَّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ : يُعَذِّبُ الرَّجُلُ فِي النَّارِ أَلْفَ سَنَةٍ ثُمَّ يَخْرُجُ مِنْهَا إِلَى الْجَنَّةِ، ثُمَّ قَالَ الْحَسَنُ يَا لَيْتَنِي كُنْتُ أَنَا ذَلِكَ الرَّجُلَ، وَإِنَّمَا قَالَ الْحَسَنُ ذلِكَ لِأَنَّهُ خَافَ عَاقِبَةَ أَمْرِهِ، هَكَذَا كَانَ الصَّالِحُونَ يَخَافُونَ خَاتِمَةً أَمْرِهِمْ।

হযরত হাসান বসরী রহ. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তিকে হাজার বছর আগুনে শাস্তি দেওয়া হবে। এর পর তাকে সেখান থেকে বের করে জান্নাতে নেওয়া হবে। এ কথা বলে তিনি বললেন, হায়, আমি যদি ওই ব্যক্তি হতাম! হাসান রহ. এ কথা এ কারণে বলেছেন যে, তিনি তার শেষ পরিণতি কী হবে, তা নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন। আর নেককাররা এইরূপই হন। তারা তাদের শেষ নিয়ে শঙ্কিত থাকেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ঈমান ধ্বংসকারী গুনাহ

📄 ঈমান ধ্বংসকারী গুনাহ


হাকিম আবুল কাসেমকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, এমন কোনো পাপ আছে কি, যার ফলে ঈমান ছিনিয়ে নেওয়া হয়? তিনি বললেন, হ্যাঁ; তিনটি পাপের কারণে ঈমান ছিনিয়ে নেওয়া হয়। যথা-
১. আল্লাহ তা'আলা ঈমানের যে নিয়ামত দান করেছেন, তার না শোকরিয়া করা।
২. ঈমান বিনষ্ট হওয়ার ভয় না করা।
৩. মুসলমানদের ওপর জুলুম করা।

ফন্ট সাইজ
15px
17px