📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 চোরের শাস্তির কারণ

📄 চোরের শাস্তির কারণ


জনৈক জ্ঞানী বলেন, কুরআনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, চোরের হাত কেটে দাও। ফকীহগণ এর বিবরণে লিখেছেন, দশ দিরহাম চুরি করলে হাত কাঁটা হবে। কিন্তু দশ দিরহাম এতটা মূল্যবান নয় যে, তার কারণে একজন মুমিনের হাত কাটবে। বরং এর এই শাস্তির কারণ দুটি- একটি হলো, আহলে ইসলামের মর্যাদার হানি। আরেকটি হলো, তার নিজের জন্য আল্লাহ যে ফয়সালা করেছেন, তার ওপর রাজি না থাকা এবং এর ফলে অন্যের মাল হাতিয়ে নেওয়া। তাই আল্লাহ তা'আলা হুকুম দিয়েছেন, এর হাত কেটে দাও, যা এর শাস্তি হওয়ার পাশাপাশি অন্যের জন্য শিক্ষাও হবে। ফলে তারা নিজেদের ওপর আল্লাহর যে ফয়সালা, তার ওপর রাজি থাকবে। আর মুমিনের জন্য এটাই সমীচীন যে, তারা আল্লাহ তা'আলার বণ্টনের ওপর রাজি থাকবে। কারণ, এটা নবী ও নেককারদের স্বভাব।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 নবীদের আখলাক

📄 নবীদের আখলাক


عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ : اثْنَتَا عَشْرَةَ خَصْلَةٌ مِنْ أَخْلَاقِ الْأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمُ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ أَوَّلُهَا : أَنَّهُمْ كَانُوا آمِنِينَ بِوَعْدِ اللَّهِ، وَالثَّانِي : كَانُوا آيِسِينَ مِنَ الْخَلْقِ، وَالثَّالِثُ : كَانَتْ عَدَوَاتُهُمْ مَعَ الشَّيْطَانِ، وَالرَّابِعُ كَانُوا مُقْبِلِينَ عَلَى أَمْرِ أَنْفُسِهِمْ، وَالْخَامِسُ كَانُوا مُشْفِقِينَ عَلَى الْخَلْقِ، وَالسَّادِسُ : كَانُوا مُحْتَمِلِينَ لِأَذَى جَمِيعِ الْخَلْقِ، وَالسَّابِعُ : كَانُوا مُوقِنِينَ بِالْجَنَّةِ، يَعْنِي إِذَا عَمِلُوا عَمَلًا أَيْقَنُوا أَنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ ثَوَابَهُمْ وَلَا ثَوَابَ عَمَلِهِمْ، وَالثَّانِمُ : كَانُوا مُتَوَاضِعِينَ فِي مَوَاضِعِ الْحَقِّ، وَالتَّاسِعُ : كَانُوا لَا يَدَعُونَ النَّصِيحَةَ فِي مَوْضِعِ الْعَدَاوَةِ، وَالْعَاشِرُ : كَانَ رَأْسَ أَمْوَالِهِمُ الْفَقْرُ ، يَعْنِي كَانُوا لَا يُمْسِكُونَ فَضْلَ الْمَالِ وَيُنْفِقُونَ عَلَى الْفُقَرَاءِ ، وَالْحَادِي عَشَرَ : كَانُوا يُدِيمُونَ عَلَى الْوُضُوءِ، وَالثَّانِي عَشَرَ : كَانُوا لَا يَفْرَحُونَ بِمَا وَجَدُوا مِنَ الدُّنْيَا، وَلَا يَغْتَمُونَ عَلَى مَا فَاتَهُمْ مِنَ الدُّنْيَا

হযরত আবু দারদা রাযি. বলেন, বারোটি স্বভাব নবীদের চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত। যথা-
১. তারা আল্লাহর ওয়াদার ওপর পুরোপুরি বিশ্বাস রাখেন।
২. মানুষ থেকে কোনো কিছুর আশা রাখেন না।
৩. শয়তানের সাথে শত্রুতা রাখেন।
৪. নিজেদের পবিত্র নফসের দিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখেন।
৫. সৃষ্টির প্রতি পুরোপুরি সহানুভূতিশীল হন;
৬. সকল কষ্ট সহ্য করেন;
৭. জান্নাতের ওপর পুরোপুরি বিশ্বাস রাখেন; অর্থাৎ, তাদের আমল হয় দৃঢ় বিশ্বাস সহকারে যে, আল্লাহ তা'আলা তাদের আমল নষ্ট করবেন না।
৮. নিজের স্থানে একান্ত বিনয় প্রদর্শন করেন।
৯. শত্রুদের সাথেও কল্যাণকামিতামূলক আচরণ করেন।
১০. দারিদ্র্য তাদের পুঁজি; অর্থাৎ, নিজেদের নিকট প্রয়োজনাতিরিক্ত মাল রাখেন না। অতিরিক্ত থাকলে তা বিলিয়ে দেন।
১১. সর্বদা উযূ সহকারে থাকেন এবং
১২. দুনিয়ার সম্পদ আসা-যাওয়ার ফলে তাদের কোনো সুখ-দুঃখ হয় না।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 যাহেদদের দশটি গুণ

📄 যাহেদদের দশটি গুণ


জনৈক আলেম বলেছেন, যুহদের দশটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে-
১. عَدَاوَةُ الشَّيْطَانِ يَرَوْنَهَا وَاجِبَةٌ عَلَى أَنْفُسِهِمْ শয়তানের সাথে শত্রুতা রাখা নিজের জন্য আবশ্যক মনে করা। ইরশাদ হচ্ছে- إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا 'নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু; তাই তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ কর।'
২. لَا يَعْمَلُونَ عَمَلًا إِلَّا بِالْحُجَّةِ অর্থাৎ, দলীল ছাড়া কোনো আমল না করা। অর্থাৎ, এমন আমলই করেন, যার দলীল কিয়ামতের দিন পেশ করা যাবে। ইরশাদ হচ্ছে- قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ 'বলো, তোমাদের দলীল উপস্থাপন কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।'
৩. أَنَّهُمْ مُسْتَعِدُّونَ لِلْمَوْتِ অর্থাৎ, প্রতিটি মুহূর্ত মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা। ইরশাদ হচ্ছে- كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ 'প্রত্যেক প্রাণই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে।'
৪. يُحِبُّونَ فِي اللهِ وَيُبْغِضُونَ فِي اللهِ অর্থাৎ, বন্ধুত্ব বা শত্রুতা শুধুই আল্লাহর জন্য হওয়া।
৫. أَنَّهُمْ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ .. অসৎকাজে নিষেধ করা। ইরশাদ হচ্ছে- وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَٰلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ 'ভালো কাজের নির্দেশ দাও; মন্দকাজে বাধা দাও। আর তুমি যে মসিবতের সম্মুখিন হও, তাতে ধৈর্যধারণ কর। নিশ্চয় এটা সাহসিকতার কাজ।'
৬. أَنَّهُمْ يَعْتَبِرُونَ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي أَمْرِ اللَّهِ . অর্থাৎ, সৃষ্টিজগত নিয়ে চিন্তা ফিকির করা এবং তা থেকে শিক্ষা নেওয়া। ইরশাদ হচ্ছে- وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ 'তারা আসমান ও জমিন নিয়ে চিন্তা ফিকির করে।' অপর আয়াতে বলা হয়েছে- فَاعْتَبِرُوا يَا أُولِي الْأَبْصَارِ 'হে জ্ঞানীগণ! তোমরা [এর থেকে] শিক্ষা নাও।'
৭. يَحْرُسُونَ قُلُوبَهُمْ لِكَيْ لَا يَتَفَكَّرُوا فِيمَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ رِضَا اللَّهِ মনের দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা, যেন তা আল্লাহর সন্তুষ্টির বাইরের কোনো কিছুতে লিপ্ত না হয়ে পড়ে। ইরশাদ হচ্ছে- إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا 'নিশ্চয় প্রত্যেককেই তার কান, চোখ ও অন্তর সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ হবে।'
৮. أَنْ لَا يَأْمَنَ مَكْرَ اللَّهِ অর্থাৎ, আল্লাহ তা'আলার কৌশল থেকে নির্ভয় না হওয়া। ইরশাদ হচ্ছে- فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ 'কাজেই আল্লাহর কৌশল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ছাড়া আর কেউ নিশ্চিন্ত হয় না।'
৯. أَنْ لَا يَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ অর্থাৎ, আল্লাহ তা'আলার রহমত থেকে নিরাশ না হওয়া। ইরশাদ হচ্ছে- لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ 'আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা সকল গুনাহ মাফ করে দিবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল ও দয়াময়।'
১০. ...وَلَا يَحْنَنُونَ عَلَى مَا فَاتَهُمْ وَلَا يَفْرَحُونَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنَ الدُّنْيَا, নেয়ামত পেয়ে উল্লসিত না হওয়া। আর কিছু চলে গেলে তাতেও চিন্তিত না হওয়া। ইরশাদ হচ্ছে- لِكَيْ لَا تَأْسَوْا عَلَى مَا فَاتَكُمْ وَلَا تَفْرَحُوا بِمَا آتَاكُمْ 'যেন তোমাদের যা যায়, তাতে দুঃখ না পাও। আর যা তোমাদের দান করা হয়, তাতে উল্লসিত না হও।'

সারকথা, বান্দার যখন এটাই জানা নেই যে, পাওয়ার মধ্যে আমার লাভ, নাকি যাওয়ার মধ্যে, সে ক্ষেত্রে তার আসায় বা যাওয়ায় এক রকমই থাকা চাই। মুমিনের দৃষ্টান্ত মেদিগাছের মতো, যা সব সময় একই রকম থাকে। মওসুম পরিবর্তনে তার মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসে না। আর মুনাফিকের দৃষ্টান্ত হলো গোলাপের মতো, যা আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তনে পরিবর্তিত হয়। অর্থাৎ, মুমিন ব্যক্তি দুঃখে-সুখে, সম্পদ থাকা-না থাকা, সর্বাবস্থায় একই রকম থাকে; তাদের মনে কোনো পরিবর্তন আসে না। আল্লাহর বণ্টনের ওপরই রাজি থাকে। আর মুনাফিক সামান্য বিপদেই অস্থির হয়ে পড়ে। তাই মুমিনদের উচিত নবী ও নেককারদের অনুসরণ করা। কাফের ও মুনাফিকদের অনুসরণ না করা।

টিকাঃ
৬৭৪ সূরা মুজাদালা : আয়াত-২২

ফন্ট সাইজ
15px
17px