📄 পাঁচটি বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর
عَنْ شَقِيقِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى قَالَ : سَأَلْتُ سَبْعَ مِائَةِ عَالِمٍ، عَنْ خَمْسَةِ أَشْيَاءَ فَكُلُّهُمْ أَجَابُوا بِجَوَابِ وَاحِدٍ قُلْتُ : مَنِ الْعَالِمُ؟ قَالُوا : الْعَالِمُ مَنْ لَمْ يُحِبُّ الدُّنْيَا. قُلْتُ : مَنِ الْكَيِّسُ؟ قَالُوا : مَنْ لَمْ تَغُرُّهُ الدُّنْيَا. قُلْتُ: مَنِ الْغَنِيُّ ؟ قَالُوا: الَّذِي يَرْضَى بِمَا قَسَمَ اللَّهُ لَهُ قُلْتُ مَنِ الْفَقِيهُ؟ قَالُوا : الَّذِي يَمْتَنِعُ مِنْ طَلَبِ الزَّيَادَةِ قُلْتُ: مَنِ الْبَخِيلُ؟ قَالُوا : الَّذِي يَمْنَعُ حَقَّ اللَّهِ تَعَالَى مِنْ مَالِهِ.
হযরত শাকিক বিন ইবরাহিম রহ. বলেন, আমি সাতশত আলেমের নিকট পাঁচটি বিষয় সম্বন্ধে প্রশ্ন করেছি। সবাই একই জবাব দিয়েছেন-
১. আমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, জ্ঞানী কে? তাদের সবাই এই জবাবই দিয়েছেন যে, জ্ঞানী সে, যে দুনিয়ার সাথে ভালোবাসা রাখে না।
২. প্রশ্ন করেছিলাম, সতর্ক কে? জবাব পেয়েছি, যাকে দুনিয়া ধোঁকা দিতে পারে না।
৩. জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ধনী কে? জবাব পেয়েছি, যে নিজের ওপর আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকে।
৪. প্রশ্ন করেছিলাম, ফকীহ [পারদর্শী ও বুদ্ধিমান] কে? তারা জবাব দিয়েছেন, যে অতিরিক্ত চায় না।
৫. আমি প্রশ্ন করেছিলাম, কৃপণ কে? জবাবে বলা হয়েছে, যে (নিজের মাল থেকে) আল্লাহর হক আদায় করে না।
📄 আল্লাহ তা'আলার নারাজ হওয়ার কারণ
বলা হয়ে থাকে, আল্লাহ তা'আলা বান্দার ওপর তিন কারণে নারাজ হন। যথা-
১. أَنْ يُقَصِّرَ فِيمَا أَمَرَ اللَّهُ تَعَالَى অর্থাৎ, আল্লাহ তা'আলার হুকুম পালনে ত্রুটি করার কারণে।
২. أَنْ لَا يَرْضَى بِمَا قَسَمَ اللَّهُ تَعَالَى لَهُ অর্থাৎ, নিজের জন্য আল্লাহ তা'আলার যে ফয়সালা, তার ওপর রাজি না থাকার কারণে এবং
৩. أَنْ يَطْلُبَ شَيْئًا فَلَا يَجِدُهُ فَيَسْخَطَ عَلَى رَبِّهِ চেষ্টা করে না পেয়ে আল্লাহর ওপর নারাজ হওয়ার কারণে।
📄 চোরের শাস্তির কারণ
জনৈক জ্ঞানী বলেন, কুরআনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, চোরের হাত কেটে দাও। ফকীহগণ এর বিবরণে লিখেছেন, দশ দিরহাম চুরি করলে হাত কাঁটা হবে। কিন্তু দশ দিরহাম এতটা মূল্যবান নয় যে, তার কারণে একজন মুমিনের হাত কাটবে। বরং এর এই শাস্তির কারণ দুটি- একটি হলো, আহলে ইসলামের মর্যাদার হানি। আরেকটি হলো, তার নিজের জন্য আল্লাহ যে ফয়সালা করেছেন, তার ওপর রাজি না থাকা এবং এর ফলে অন্যের মাল হাতিয়ে নেওয়া। তাই আল্লাহ তা'আলা হুকুম দিয়েছেন, এর হাত কেটে দাও, যা এর শাস্তি হওয়ার পাশাপাশি অন্যের জন্য শিক্ষাও হবে। ফলে তারা নিজেদের ওপর আল্লাহর যে ফয়সালা, তার ওপর রাজি থাকবে। আর মুমিনের জন্য এটাই সমীচীন যে, তারা আল্লাহ তা'আলার বণ্টনের ওপর রাজি থাকবে। কারণ, এটা নবী ও নেককারদের স্বভাব।
📄 নবীদের আখলাক
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ : اثْنَتَا عَشْرَةَ خَصْلَةٌ مِنْ أَخْلَاقِ الْأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمُ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ أَوَّلُهَا : أَنَّهُمْ كَانُوا آمِنِينَ بِوَعْدِ اللَّهِ، وَالثَّانِي : كَانُوا آيِسِينَ مِنَ الْخَلْقِ، وَالثَّالِثُ : كَانَتْ عَدَوَاتُهُمْ مَعَ الشَّيْطَانِ، وَالرَّابِعُ كَانُوا مُقْبِلِينَ عَلَى أَمْرِ أَنْفُسِهِمْ، وَالْخَامِسُ كَانُوا مُشْفِقِينَ عَلَى الْخَلْقِ، وَالسَّادِسُ : كَانُوا مُحْتَمِلِينَ لِأَذَى جَمِيعِ الْخَلْقِ، وَالسَّابِعُ : كَانُوا مُوقِنِينَ بِالْجَنَّةِ، يَعْنِي إِذَا عَمِلُوا عَمَلًا أَيْقَنُوا أَنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ ثَوَابَهُمْ وَلَا ثَوَابَ عَمَلِهِمْ، وَالثَّانِمُ : كَانُوا مُتَوَاضِعِينَ فِي مَوَاضِعِ الْحَقِّ، وَالتَّاسِعُ : كَانُوا لَا يَدَعُونَ النَّصِيحَةَ فِي مَوْضِعِ الْعَدَاوَةِ، وَالْعَاشِرُ : كَانَ رَأْسَ أَمْوَالِهِمُ الْفَقْرُ ، يَعْنِي كَانُوا لَا يُمْسِكُونَ فَضْلَ الْمَالِ وَيُنْفِقُونَ عَلَى الْفُقَرَاءِ ، وَالْحَادِي عَشَرَ : كَانُوا يُدِيمُونَ عَلَى الْوُضُوءِ، وَالثَّانِي عَشَرَ : كَانُوا لَا يَفْرَحُونَ بِمَا وَجَدُوا مِنَ الدُّنْيَا، وَلَا يَغْتَمُونَ عَلَى مَا فَاتَهُمْ مِنَ الدُّنْيَا
হযরত আবু দারদা রাযি. বলেন, বারোটি স্বভাব নবীদের চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত। যথা-
১. তারা আল্লাহর ওয়াদার ওপর পুরোপুরি বিশ্বাস রাখেন।
২. মানুষ থেকে কোনো কিছুর আশা রাখেন না।
৩. শয়তানের সাথে শত্রুতা রাখেন।
৪. নিজেদের পবিত্র নফসের দিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখেন।
৫. সৃষ্টির প্রতি পুরোপুরি সহানুভূতিশীল হন;
৬. সকল কষ্ট সহ্য করেন;
৭. জান্নাতের ওপর পুরোপুরি বিশ্বাস রাখেন; অর্থাৎ, তাদের আমল হয় দৃঢ় বিশ্বাস সহকারে যে, আল্লাহ তা'আলা তাদের আমল নষ্ট করবেন না।
৮. নিজের স্থানে একান্ত বিনয় প্রদর্শন করেন।
৯. শত্রুদের সাথেও কল্যাণকামিতামূলক আচরণ করেন।
১০. দারিদ্র্য তাদের পুঁজি; অর্থাৎ, নিজেদের নিকট প্রয়োজনাতিরিক্ত মাল রাখেন না। অতিরিক্ত থাকলে তা বিলিয়ে দেন।
১১. সর্বদা উযূ সহকারে থাকেন এবং
১২. দুনিয়ার সম্পদ আসা-যাওয়ার ফলে তাদের কোনো সুখ-দুঃখ হয় না।