📄 মানুষের চারটি ধাপ
জনৈক জ্ঞানী বলেছেন, মানুষের জন্য চারটি ধাপ রয়েছে। একটি হলো পার্থিব জীবনের ধাপ; দ্বিতীয়টি কবরের; তৃতীয়টি হাশরের ময়দানে এবং চতুর্থটি শেষ ঠিকানার ধাপ, যার জন্য আমাদের সৃষ্টি। এর একটি দৃষ্টান্ত হলো-হাজীদের কাফেলা চলতে থাকে। চলার পথে কোথাও খানাপিনা ইত্যাদির জন্য কিছুটা সময় থামে। তারা সেখানে তাঁবুও খাটায় না; সওয়ারী থেকে জিসিনপত্রও নামায় না। কারণ, খুব শীঘ্রই তারা সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে যাবে। এটা হলো দুনিয়ার ধাপ। আর কবরের ধাপের দৃষ্টান্ত হলো, এই কাফেলাই যখন কোনো মনযিলে দু'একদিনের জন্য থামবে, তখন তাঁবু ফেলার জন্য সওয়ারী থেকে জিনিসপত্র নামিয়ে নেয়। দু'একদিন পর সেখান থেকে আবার রওয়ানা হয়ে যায়। আর হাশরের দৃষ্টান্ত হলো, এই কাফেলাই যখন মক্কা মুকাররমায় পৌঁছায়, যা প্রত্যেক হাজীর লক্ষ্যস্থল, দূরদূরান্ত থেকে কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে তারা এখানে এসে থেমে যায়। কিন্তু হজ্ব পালনের পর সবাই ডানে-বাঁয়ে ছড়িয়ে পড়ে। আর হাশরের অবস্থাও তদ্রূপ, হিসাব শেষ করে সবাই নিজ নিজ ঠিকানা, জান্নাত বা জাহান্নামে চলে যাবে।
📄 পাঁচটি বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর
عَنْ شَقِيقِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى قَالَ : سَأَلْتُ سَبْعَ مِائَةِ عَالِمٍ، عَنْ خَمْسَةِ أَشْيَاءَ فَكُلُّهُمْ أَجَابُوا بِجَوَابِ وَاحِدٍ قُلْتُ : مَنِ الْعَالِمُ؟ قَالُوا : الْعَالِمُ مَنْ لَمْ يُحِبُّ الدُّنْيَا. قُلْتُ : مَنِ الْكَيِّسُ؟ قَالُوا : مَنْ لَمْ تَغُرُّهُ الدُّنْيَا. قُلْتُ: مَنِ الْغَنِيُّ ؟ قَالُوا: الَّذِي يَرْضَى بِمَا قَسَمَ اللَّهُ لَهُ قُلْتُ مَنِ الْفَقِيهُ؟ قَالُوا : الَّذِي يَمْتَنِعُ مِنْ طَلَبِ الزَّيَادَةِ قُلْتُ: مَنِ الْبَخِيلُ؟ قَالُوا : الَّذِي يَمْنَعُ حَقَّ اللَّهِ تَعَالَى مِنْ مَالِهِ.
হযরত শাকিক বিন ইবরাহিম রহ. বলেন, আমি সাতশত আলেমের নিকট পাঁচটি বিষয় সম্বন্ধে প্রশ্ন করেছি। সবাই একই জবাব দিয়েছেন-
১. আমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, জ্ঞানী কে? তাদের সবাই এই জবাবই দিয়েছেন যে, জ্ঞানী সে, যে দুনিয়ার সাথে ভালোবাসা রাখে না।
২. প্রশ্ন করেছিলাম, সতর্ক কে? জবাব পেয়েছি, যাকে দুনিয়া ধোঁকা দিতে পারে না।
৩. জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ধনী কে? জবাব পেয়েছি, যে নিজের ওপর আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকে।
৪. প্রশ্ন করেছিলাম, ফকীহ [পারদর্শী ও বুদ্ধিমান] কে? তারা জবাব দিয়েছেন, যে অতিরিক্ত চায় না।
৫. আমি প্রশ্ন করেছিলাম, কৃপণ কে? জবাবে বলা হয়েছে, যে (নিজের মাল থেকে) আল্লাহর হক আদায় করে না।
📄 আল্লাহ তা'আলার নারাজ হওয়ার কারণ
বলা হয়ে থাকে, আল্লাহ তা'আলা বান্দার ওপর তিন কারণে নারাজ হন। যথা-
১. أَنْ يُقَصِّرَ فِيمَا أَمَرَ اللَّهُ تَعَالَى অর্থাৎ, আল্লাহ তা'আলার হুকুম পালনে ত্রুটি করার কারণে।
২. أَنْ لَا يَرْضَى بِمَا قَسَمَ اللَّهُ تَعَالَى لَهُ অর্থাৎ, নিজের জন্য আল্লাহ তা'আলার যে ফয়সালা, তার ওপর রাজি না থাকার কারণে এবং
৩. أَنْ يَطْلُبَ شَيْئًا فَلَا يَجِدُهُ فَيَسْخَطَ عَلَى رَبِّهِ চেষ্টা করে না পেয়ে আল্লাহর ওপর নারাজ হওয়ার কারণে।
📄 চোরের শাস্তির কারণ
জনৈক জ্ঞানী বলেন, কুরআনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, চোরের হাত কেটে দাও। ফকীহগণ এর বিবরণে লিখেছেন, দশ দিরহাম চুরি করলে হাত কাঁটা হবে। কিন্তু দশ দিরহাম এতটা মূল্যবান নয় যে, তার কারণে একজন মুমিনের হাত কাটবে। বরং এর এই শাস্তির কারণ দুটি- একটি হলো, আহলে ইসলামের মর্যাদার হানি। আরেকটি হলো, তার নিজের জন্য আল্লাহ যে ফয়সালা করেছেন, তার ওপর রাজি না থাকা এবং এর ফলে অন্যের মাল হাতিয়ে নেওয়া। তাই আল্লাহ তা'আলা হুকুম দিয়েছেন, এর হাত কেটে দাও, যা এর শাস্তি হওয়ার পাশাপাশি অন্যের জন্য শিক্ষাও হবে। ফলে তারা নিজেদের ওপর আল্লাহর যে ফয়সালা, তার ওপর রাজি থাকবে। আর মুমিনের জন্য এটাই সমীচীন যে, তারা আল্লাহ তা'আলার বণ্টনের ওপর রাজি থাকবে। কারণ, এটা নবী ও নেককারদের স্বভাব।