📄 আল্লাহর বণ্টনের ওপর মুমিনের রাজী থাকা চাই
وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُمْ بِالْأُنثَى ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًا وَهُوَ كَظِيمٌ
'আর যখন তাদের কাউকে কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমণ্ডল ম্লান হয়ে যায়, আর ক্রোধ দমিয়ে রাখে।'
হযরত কাতাদা রহ. উল্লিখিত আয়াতটি পড়ে বললেন, এখানে আরবের মুশরিকদের নিকৃষ্ট আমলের উল্লেখ হয়েছে। মুমিনের অবস্থা ঠিক এর বিপরীত। তাদের জন্য উচিত এটাই যে, আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্য যে ফয়সালা করবেন, তারা তা নতশিরে মেনে নেবে এবং তার ওপর সন্তুষ্ট থাকবে। ভাববে, বান্দার নিজের সিদ্ধান্ত হতে তাদের জন্য আল্লাহর সিদ্ধান্তই উত্তম। হে আদম সন্তান! আল্লাহ তা'আলা তোমার জন্য যে ফয়সালা করেছেন, সেটা তোমার অপ্রিয় হলেও, সেটা তুমি তোমার পছন্দ মতো যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা থেকে উত্তম। কাজেই আল্লাহকে ভয় কর এবং তার ফয়সালার ওপর রাজি হয়ে যাও। এ কথাটি এই আয়াতের অনুরূপ- وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْ وَ اللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ (অর্থ: খুবই সম্ভব, তোমাদের নিকট একটি বিষয় হয়ত খারাপ লাগবে, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়ত বা তোমরা একটি বিষয়কে পছন্দ করবে, অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আর আল্লাহ তা'আলা জানেন; তোমরা জানো না।)
অর্থাৎ, আল্লাহ তা'আলা ভালোভাবেই জানেন, তোমাদের জন্য তোমাদের দীন- দুনিয়ার কোনটা কল্যাণকর, অথচ তোমরা কিছুই জানো না। এই আয়াতের সারকথা হলো, আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমি তোমাদের জন্য যা পছন্দ করি, তার ওপর মনেপ্রাণে তোমরা রাজি হয়ে যাও।
📄 মানুষের চারটি ধাপ
জনৈক জ্ঞানী বলেছেন, মানুষের জন্য চারটি ধাপ রয়েছে। একটি হলো পার্থিব জীবনের ধাপ; দ্বিতীয়টি কবরের; তৃতীয়টি হাশরের ময়দানে এবং চতুর্থটি শেষ ঠিকানার ধাপ, যার জন্য আমাদের সৃষ্টি। এর একটি দৃষ্টান্ত হলো-হাজীদের কাফেলা চলতে থাকে। চলার পথে কোথাও খানাপিনা ইত্যাদির জন্য কিছুটা সময় থামে। তারা সেখানে তাঁবুও খাটায় না; সওয়ারী থেকে জিসিনপত্রও নামায় না। কারণ, খুব শীঘ্রই তারা সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে যাবে। এটা হলো দুনিয়ার ধাপ। আর কবরের ধাপের দৃষ্টান্ত হলো, এই কাফেলাই যখন কোনো মনযিলে দু'একদিনের জন্য থামবে, তখন তাঁবু ফেলার জন্য সওয়ারী থেকে জিনিসপত্র নামিয়ে নেয়। দু'একদিন পর সেখান থেকে আবার রওয়ানা হয়ে যায়। আর হাশরের দৃষ্টান্ত হলো, এই কাফেলাই যখন মক্কা মুকাররমায় পৌঁছায়, যা প্রত্যেক হাজীর লক্ষ্যস্থল, দূরদূরান্ত থেকে কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে তারা এখানে এসে থেমে যায়। কিন্তু হজ্ব পালনের পর সবাই ডানে-বাঁয়ে ছড়িয়ে পড়ে। আর হাশরের অবস্থাও তদ্রূপ, হিসাব শেষ করে সবাই নিজ নিজ ঠিকানা, জান্নাত বা জাহান্নামে চলে যাবে।
📄 পাঁচটি বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর
عَنْ شَقِيقِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى قَالَ : سَأَلْتُ سَبْعَ مِائَةِ عَالِمٍ، عَنْ خَمْسَةِ أَشْيَاءَ فَكُلُّهُمْ أَجَابُوا بِجَوَابِ وَاحِدٍ قُلْتُ : مَنِ الْعَالِمُ؟ قَالُوا : الْعَالِمُ مَنْ لَمْ يُحِبُّ الدُّنْيَا. قُلْتُ : مَنِ الْكَيِّسُ؟ قَالُوا : مَنْ لَمْ تَغُرُّهُ الدُّنْيَا. قُلْتُ: مَنِ الْغَنِيُّ ؟ قَالُوا: الَّذِي يَرْضَى بِمَا قَسَمَ اللَّهُ لَهُ قُلْتُ مَنِ الْفَقِيهُ؟ قَالُوا : الَّذِي يَمْتَنِعُ مِنْ طَلَبِ الزَّيَادَةِ قُلْتُ: مَنِ الْبَخِيلُ؟ قَالُوا : الَّذِي يَمْنَعُ حَقَّ اللَّهِ تَعَالَى مِنْ مَالِهِ.
হযরত শাকিক বিন ইবরাহিম রহ. বলেন, আমি সাতশত আলেমের নিকট পাঁচটি বিষয় সম্বন্ধে প্রশ্ন করেছি। সবাই একই জবাব দিয়েছেন-
১. আমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, জ্ঞানী কে? তাদের সবাই এই জবাবই দিয়েছেন যে, জ্ঞানী সে, যে দুনিয়ার সাথে ভালোবাসা রাখে না।
২. প্রশ্ন করেছিলাম, সতর্ক কে? জবাব পেয়েছি, যাকে দুনিয়া ধোঁকা দিতে পারে না।
৩. জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ধনী কে? জবাব পেয়েছি, যে নিজের ওপর আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকে।
৪. প্রশ্ন করেছিলাম, ফকীহ [পারদর্শী ও বুদ্ধিমান] কে? তারা জবাব দিয়েছেন, যে অতিরিক্ত চায় না।
৫. আমি প্রশ্ন করেছিলাম, কৃপণ কে? জবাবে বলা হয়েছে, যে (নিজের মাল থেকে) আল্লাহর হক আদায় করে না।
📄 আল্লাহ তা'আলার নারাজ হওয়ার কারণ
বলা হয়ে থাকে, আল্লাহ তা'আলা বান্দার ওপর তিন কারণে নারাজ হন। যথা-
১. أَنْ يُقَصِّرَ فِيمَا أَمَرَ اللَّهُ تَعَالَى অর্থাৎ, আল্লাহ তা'আলার হুকুম পালনে ত্রুটি করার কারণে।
২. أَنْ لَا يَرْضَى بِمَا قَسَمَ اللَّهُ تَعَالَى لَهُ অর্থাৎ, নিজের জন্য আল্লাহ তা'আলার যে ফয়সালা, তার ওপর রাজি না থাকার কারণে এবং
৩. أَنْ يَطْلُبَ شَيْئًا فَلَا يَجِدُهُ فَيَسْخَطَ عَلَى رَبِّهِ চেষ্টা করে না পেয়ে আল্লাহর ওপর নারাজ হওয়ার কারণে।