📄 মানুষকে আক্রান্ত করার শয়তানী পথ
জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি বলেন, আমি বহু চিন্তা ফিকির করে দেখেছি যে, শয়তান দশটি পথে মানুষের নিকট আগমন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে।
১. আমি দেখতে পেলাম, শয়তান লোভ ও খারাপ ধারণা সৃষ্টির পথ দিয়ে আগমন করে। ফলে আমি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ও অল্পেতুষ্টির মাধ্যমে তা প্রতিহত করেছি। অতঃপর এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কুরআনের আয়াত অনুসন্ধান করে এ আয়াতটি পেয়েছি, وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا অর্থ: পৃথিবীতে যত প্রাণী রয়েছে, তার রিযিক আল্লাহর যিম্মায়। এরপর এ আয়াত দ্বারা শয়তানকে পরাভূত করেছি।
২. আমি দেখতে পেলাম, শয়তান দীর্ঘ জীবন ও উঁচু আশা-আকাঙ্ক্ষার পথ দিয়ে আগমন করে। ফলে আমি আকস্মিক মৃত্যুর ভয়ের মাধ্যমে তা প্রতিহত করেছি। অতঃপর এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কুরআনের আয়াত অনুসন্ধান করে এ আয়াতটি পেয়েছি, وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ অর্থ: আর কেউ জানে না সে কোন স্থানে মৃত্যুবরণ করবে। এরপর এ আয়াত দ্বারা শয়তানকে পরাভূত করেছি।
৩. আমি দেখতে পেলাম, শয়তান নিয়ামত, প্রাচুর্য ও শান্তি লাভের পথ দিয়ে আগমন করে। ফলে আমি প্রাচুর্যের ধ্বংস ও হিসাব-নিকাশের ভয়ের মাধ্যমে তা প্রতিহত করেছি। অতঃপর এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কুরআনের আয়াত অনুসন্ধান করে এ কয়টি আয়াত পেয়েছি- ذَرْهُمْ يَأْكُلُوا وَيَتَمَتَّعُوا অর্থ: আপনি তাদের ছেড়ে দিন, তারা আহার করুক, ভোগ-উপভোগ করুক এবং আশায় ব্যাপৃত থাকুক। অন্যত্র এসেছে- أَفَرَأَيْتَ إِنْ مَتَّعْنَاهُمْ سِنِينَ * ثُمَّ جَاءَهُمْ مَا কَانُوا يُوعَدُونَ مَا أَغْنَى عَنْهُمْ مَا كَانُوا يُمَتَّعُونَ অর্থ: আপনি ভেবে দেখেছেন কি যদি আমি তাদেরকে বছরের পর বছর ভোগ বিলাস করতে দেই, অতঃপর যে বিষয় সম্পর্কে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হতো, তা তাদের নিকট এসে পড়ে? তখন তাদের ভোগ বিলাস সামগ্রী তাদের কোনো উপকার করবে না। এরপর এ আয়াত দ্বারা শয়তানকে পরাভূত করেছি।
৪. আমি দেখতে পেলাম, শয়তান আত্মমুগ্ধ হওয়ার পথ দিয়ে আগমন করে। ফলে আমি আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান এবং শেষ পরিণতির ভয়ের মাধ্যমে তা প্রতিহত করেছি। অতঃপর এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কুরআনের আয়াত অনুসন্ধান করে এ আয়াতটি পেয়েছি- فَمِنْهُمْ شَقِيٌّ وَسَعِيدٌ অর্থ: অতঃপর কিছু লোক হতভাগ্য হবে আর কিছু লোক সৌভাগ্যবান হবে। আর আমার জানা নেই আমি এই দুই দলের কোন দলে। এভাবে এখানেও শয়তানকে পরাভূত করেছি।
৫. আমি দেখতে পেলাম, শয়তান মুসলিম ভাইদের তুচ্ছ মনে করা এবং তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার পথ দিয়ে আগমন করে। ফলে আমি তাদের অধিকার জানা ও তাদের মর্যাদা রক্ষা করার মাধ্যমে তাকে প্রতিহত করেছি। অতঃপর এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কুরআনের আয়াত অনুসন্ধান করে এ আয়াতটি পেয়েছি- وَاللَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ অর্থ: মর্যাদা আল্লাহর, তাঁর রাসূলের এবং মুমিনদের। কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না। এরপর এ আয়াত দ্বারা শয়তানকে পরাভূত করেছি।
৬. আমি দেখতে পেলাম, শয়তান হিংসা বিদ্বেষের পথ দিয়ে আগমন করে। ফলে আমি ন্যায়পরায়ণতা সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর বণ্টনে সন্তুষ্টির মাধ্যমে তা প্রতিহত করেছি। অতঃপর এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কুরআনের আয়াত অনুসন্ধান করে এ আয়াতটি পেয়েছি- نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُمْ مَعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَرَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِيَتَّخِذَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا سُخْرِيًّا وَرَحْمَةُ رَبِّكَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ অর্থ: তারা কি আপনার প্রতিপালকের রহমতকে বণ্টন করে? আমি পার্থিব জীবনে তাদের মাঝে তাদের জীবিকা বণ্টন করেছি এবং একজনকে অপরজনের চেয়ে মর্যাদাশীল করেছি, যেন একে অপরকে সেবকরূপে গ্রহণ করে। আর আপনার রবের রহমত তদাপেক্ষা বহুগুণে শ্রেয়, যা তারা সঞ্চয় করেছে। এরপর এ আয়াত দ্বারা শয়তানকে পরাভূত করেছি।
৭. আমি দেখতে পেলাম, শয়তান রিয়া ও মানুষের প্রশংসাপ্রিয়তার পথ দিয়ে আগমন করে। ফলে ইখলাস ও পূর্ণ নিষ্ঠার মাধ্যমে তা প্রতিহত করেছি। অতঃপর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কুরআনের আয়াত অনুসন্ধান করে এ আয়াতটি পেয়েছি- فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا অর্থ: অতএব যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন সৎকাজ করে এবং তার প্রতিপালকের ইবাদতে কাউকে শরীক না করে। এরপর এ আয়াত দ্বারা শয়তানকে পরাভূত করেছি।
৮. আমি দেখতে পেলাম, শয়তান কৃপণতার পথ দিয়ে আগমন করে। ফলে মানুষের নিকট যা আছে, তা নিঃশেষ হয়ে যাওয়া ও আল্লাহর নিকট যা আছে, তা চিরস্থায়ী থাকার চিন্তার মাধ্যমে আমি তা প্রতিহত করেছি। অতঃপর এ বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস হওয়ার জন্য কুরআনের আয়াতসমূহ অনুন্ধান করে এ আয়াতটি পেয়েছি, مَا عِنْدَكُمْ يَنْفَدُ وَمَا عِنْدَ اللَّهِ بَاقٍ وَلَنَجْزِيَنَّ الَّذِينَ صَبَرُوا أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ. অর্থ: তোমাদের কাছে যা আছে, তা নিঃশেষ হয়ে যাবে এবং আল্লাহর কাছে যা আছে তা কখনো শেষ হবে না। আর যারা ধৈর্যধারণ করে, আমি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের চেয়ে উত্তম পুরষ্কার প্রদান করব। এরপর এ আয়াত দ্বারা শয়তানকে পরাভূত করেছি।
৯. আমি দেখতে পেলাম, শয়তান অহঙ্কারের পথ দিয়ে আগমন করে। ফলে বিনয় ও নম্রতার মাধ্যমে আমি তা প্রতিহত করেছি। অতঃপর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কুরআনের আয়াতসমূহ অনুসন্ধান করে এ আয়াতটি পেয়েছি, إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ. অর্থ: হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যেন তোমরা পরস্পরে পরিচিত হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সর্বাধিক সম্মানিত যে তোমাদের মাঝে সবচেয়ে বেশি পরহেযগার। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ। এরপর এ আয়াত দ্বারা শয়তানকে পরাভূত করেছি।
১০. আমি দেখতে পেলাম, শয়তান লোভ লালসার পথ দিয়ে আগমন করে। তাই মানুষ থেকে নিরাশ ও আল্লাহর নিকট যা আছে তাতে আস্থা ও বিশ্বাস সৃষ্টির মাধ্যমে আমি তা প্রতিহত করেছি। অতঃপর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কুরআনের আয়াতসমূহ অনুসন্ধান করে এ আয়াতটি পেয়েছি, وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقُهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ অর্থ: আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য নিস্কৃতির পথ করে দেন এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক প্রদান করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট। এরপর এ আয়াত দ্বারা শয়তানকে পরাভূত করেছি।
টিকাঃ
৬৫৪. সূরা হুদ: আয়াত-৬
৬৫৫. সূরা লুকমান: আয়াত-৩৪
৬৫৬. সূরা হিজরাত: আয়াত-৩
৬৫৭. সূরা শুআরা: আয়াত-২০৫-২০৬
৬৬৮. সূরা হুদ: আয়াত-১০৫
৬৬৯. সূরা মুনাফিকুন: আয়াত-৮
৬৭০. সূরা যুখরুফ: আয়াত-৩২
৬৬১. সূরা কাহফ: আয়াত-১১০
৬৬২. সূরা নাহল: আয়াত-৯৬
৬৬৩. সূরা হিজরাত: আয়াত-১৩
৬৬৪. সূরা আত তালাক: আয়াত-২-৩
📄 মূসা আ.-এর দরবারে ইবলীস
বর্ণিত আছে, একদা অভিশপ্ত ইবলীস মূসা আ.-এর দরবারে এলো। মূসা আ. তখন আল্লাহর সাথে কথা বলছিলেন। জনৈক ফেরেশতা তার এই কাণ্ড দেখে বললেন, তুই ধ্বংস হ! তুই ধ্বংস হ! এমন অবস্থায় তুই এখানে কেন? ইবলীস বলল, তার পিতা আদম জান্নাতে থাকাকালীন তার থেকে যা চেয়েছি, তার থেকেও তা-ই চাই।
টিকাঃ
৬৬৫. ফয়যুল কাদির লিল-মুনাবী: ২/১৭৯।
📄 নামাযে শয়তানের প্ররোচনা
বলা হয়, নামাযের সময় হলে ইবলীস তার বাহিনী ও সাঙ্গ-পাঙ্গ চারদিকে পাঠিয়ে দেয়, যাতে তারা মানুষদেরকে নামায থেকে বিরত রাখে। তারা মানুষদেরকে নামায থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করে। এটা সম্ভব না হলে, চেষ্টা করে যেন রুকু, সেজদা, তাসবীহ ও দুআসমূহ পরিপূর্ণভাবে আদায় করতে না পারে। এটাও সম্ভব না হলে, দুনিয়াবী ঝামেলায় ফেলে, তাদেরকে অন্যমনস্ক করতে চেষ্টা করে। এটাও যদি সম্ভব না হয়, তাহলে ইবলীস তার ব্যর্থ বাহিনীকে শক্ত করে বেঁধে সমুদ্রে নিক্ষেপ করে। আর যারা সফল হয়, তাদেরকে সম্মানিত করে ও মর্যাদায় ভূষিত করে।
ইবলিসের প্রতিজ্ঞা সম্পর্কে কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন- قَالَ فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ ثُمَّ لَآتِيَنَّهُمْ مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَائِلِهِمْ وَلَا تَجِدُ أَكْথَرَهُمْ شَاكِرِينَ অর্থ: ইবলীস বলল, আপনি আমাকে যেমন উদভ্রান্ত করেছেন আমিও অবশ্যই তাদের জন্য আপনার সরল পথে বসে থাকব। এরপর তাদের কাছে আসব, তাদের সামনের দিক থেকে, পশ্চাদদিক থেকে, ডানদিক থেকে এবং বামদিক থেকে। আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।
অপর এক আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন- يَا بَنِي آدَمَ لَا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ كَمَا أَخْرَجَ أَبَوَيْكُمْ مِنَ الْجَنَّةِ يَنْزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْءَاتِهِمَا إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيْطَانَ أَوْلِيَاءَ لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ অর্থ: হে আদম সন্তান। শয়তান যেন তোমাদেরকে কিছুতেই বিভ্রান্ত না করে। যেমনিভাবে সে তোমাদের পিতা-মাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছিল এমন অবস্থায় যে, সে তাদের পোশাক তাদের থেকে খুলে ফেলেছে তাদেরকে তাদের লজ্জাস্থান দেখানোর লক্ষ্যে। সে এবং তার দলবল তোমাদেরকে দেখে আর তোমরা তাদের দেখ না। আমি শয়তানকে তাদের বন্ধু বানিয়েছি, যারা ঈমান আনে না।
الشَّيْطَانُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُمْ بِالْفَحْشَاءِ وَاللَّهُ يَعِدُكُمْ مَغْفِرَةً مِنْهُ وَفَضْلًا وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ. অর্থ: শয়তান তোমাদেরকে অভাব-অনটনের ভীতি প্রদর্শন করে এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সুবিজ্ঞ।
অন্যত্র আল্লাহ তা'আলা বলেন- إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا অর্থ: নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু। সুতরাং তোমরা তাকে শত্রু হিসাবে গ্রহণ কর।
টিকাঃ
৬৬৬. সূরা আরাফ: আয়াত-২৭
৬৬৭. সূরা বাকারা: আয়াত-২৬৭
৬৬৮. সূরা ফাতির: আয়াত-৬
📄 শয়তান ব্যতীত অন্যান্য শত্রু
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : الْمُؤْمِنُ بَيْنَ خَمْسٍ شَدَائِدَ، مُؤْمِنٍ يَحْسُدُهُ، وَمُنَافِقٍ يُبْغِضُهُ، وَعَدُوٌّ يُقَاتِلُهُ، وَشَيْطَانٍ يُضِلُّهُ، وَنَفْسٍ تُغْوِيهِ. يَعْنِي أَنَّ النَّفْسَ مَائِلَةٌ إِلَى مَا هُوَ سَبَبُ ضَلَالَتِهِ وَإِغْوَائِهِ.
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী বলেন, মুমিন পাঁচ ধরনের শত্রু দ্বারা পরিবেষ্টিত। যথা- ১. মুমিন, যে তাকে হিংসা করে। ২. মুনাফিক, যে তার ধ্বংস কামনা করে। ৩. শত্রু, যে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। ৪. শয়তান, যে তাকে গোমরা করে। ৫. কুপ্রবৃত্তি, যা তাকে পথহারা করে।
তাই মুমিনের উচিত সকল শত্রুর বিরুদ্ধে আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা। যেন তিনি সকল শত্রুর উপর তাকে ক্ষমতা দান করেন।
টিকাঃ
৬৬৯ মুসনাদুল ফিরদাউদ হাদীস-৬৫৬০; কানযুল উম্মাল: হাদীস-৮০৯।