📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জ্ঞানীর নিদর্শন

📄 জ্ঞানীর নিদর্শন


বর্ণিত আছে, জ্ঞানী ব্যক্তির নিদর্শন চারটি। যথা-
১. الْحِلْمُ عَنِ الْجَاهِلِ অর্থাৎ, নির্বোধ ব্যক্তির সাথে সহনশীলতা প্রদর্শন করা।
২. وَرَدُّ النَّفْسِ عَنِ الْبَاطِلِ অর্থাৎ, প্রবৃত্তিকে পাপ কাজ থেকে বিরত রাখা।
৩. وَإِنْفَاقُ الْمَالِ فِي حَقَّهِ অর্থাৎ, ন্যায় পথে সম্পদ ব্যয় করা।
৪. وَمَعْرِفَةً صَدِيقِهِ مِنْ عَدُوٌّهِ অর্থাৎ, শত্রু ও বন্ধুর মাঝে পার্থক্য করতে পারা।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মানুষের স্বভাব

📄 মানুষের স্বভাব


عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّةٍ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى، أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ إِبْلِيسَ لَقِيَ يَحْيَى بْنَ زَكَرِيَّا عَلَيْهِمَا السَّلَامُ فَقَالَ لَهُ يَحْيَى بْنِ زَكَرِيَّا أَخْبِرْنِي عَنْ طَبَائِعِ ابْنِ آدَمَ عِنْدَكُمْ؟ فَقَالَ إِبْلِيسُ: أَمَّا صِنْفٌ مِنْهُمْ، فَهُوَ مِثْلُكَ مَعْصُومُونَ لَا تَقْدِرُ مِنْهُمْ عَلَى شَيْءٍ، وَالصِّنْفُ الثَّانِي، فَهُمْ فِي أَيْدِينَا كَالْكُرَةِ فِي أَيْدِي صِبْيَانِكُمْ، وَقَدْ كَفَوْنَا أَنْفُسَهُمْ، وَالصِّنْفُ الثَّالِثُ، فَهُمْ أَشَدُّ الْأَصْنَافِ عَلَيْنَا، فَنُقْبِلُ عَلَى أَحَدِهِمْ حَتَّى نُدْرِكَ مِنْهُ حَاجَتَنَا، ثُمَّ يَفْزَعَ إِلَى الاسْتِغْفَارِ فَيُفْسِدُ بِهِ عَلَيْنَا مَا أَدْرَكْنَا مِنْهُ، فَلَا نَحْنُ نَيْنَسُ مِنْهُ وَلَا نَحْنُ نُدْرِكُ حَاجَتَنَا مِنْهُ.

হযরত ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইবলীস ইয়াহইয়া ইবন যাকারিয়া আ.-এর সাথে সাক্ষাত করল। ইয়াহইয়া আ. বললেন, আমাকে জানাও, তোমাদের নিকট মানুষের চরিত্র কেমন? ইবলীস বলল, এক প্রকার মানুষ আপনার মতোই। তারা নিষ্পাপ, মাসূম। তাদের উপর আমরা বিন্দুমাত্র ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারি না। আরেক প্রকার মানুষ শিশুদের হাতের বলের মতো। তারা আমাদের হাতে রয়েছে। তাদের জন্য নফসই যথেষ্ট। অর্থাৎ, তাদের গোমরা করতে আমাদের কষ্ট করতে হয় না, বরং তাদের নফসই যথেষ্ট। আরেক প্রকার মানুষ আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তাদের কারো নিকট গিয়ে কুমন্ত্রণা দেই। আর সে সাথে সাথে তওবা-ইস্তিগফার করে নেয়। ফলে আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। আমরা তাদের থেকে নিরাশ হই না, আবার সফলও হই না।

টিকাঃ
৬৫৩. হাদীসটি হাকেম তিরমিযী ও ইবনে আবিদ দুনিয়া বর্ণনা করেছেন (ফাইযুল কাদীর লিল-মুনাবী: খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৪৪৮; সনদটি জয়ীফ)।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মানুষকে আক্রান্ত করার শয়তানী পথ

📄 মানুষকে আক্রান্ত করার শয়তানী পথ


জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি বলেন, আমি বহু চিন্তা ফিকির করে দেখেছি যে, শয়তান দশটি পথে মানুষের নিকট আগমন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে।

১. আমি দেখতে পেলাম, শয়তান লোভ ও খারাপ ধারণা সৃষ্টির পথ দিয়ে আগমন করে। ফলে আমি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ও অল্পেতুষ্টির মাধ্যমে তা প্রতিহত করেছি। অতঃপর এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কুরআনের আয়াত অনুসন্ধান করে এ আয়াতটি পেয়েছি, وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا অর্থ: পৃথিবীতে যত প্রাণী রয়েছে, তার রিযিক আল্লাহর যিম্মায়। এরপর এ আয়াত দ্বারা শয়তানকে পরাভূত করেছি।

২. আমি দেখতে পেলাম, শয়তান দীর্ঘ জীবন ও উঁচু আশা-আকাঙ্ক্ষার পথ দিয়ে আগমন করে। ফলে আমি আকস্মিক মৃত্যুর ভয়ের মাধ্যমে তা প্রতিহত করেছি। অতঃপর এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কুরআনের আয়াত অনুসন্ধান করে এ আয়াতটি পেয়েছি, وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ অর্থ: আর কেউ জানে না সে কোন স্থানে মৃত্যুবরণ করবে। এরপর এ আয়াত দ্বারা শয়তানকে পরাভূত করেছি।

৩. আমি দেখতে পেলাম, শয়তান নিয়ামত, প্রাচুর্য ও শান্তি লাভের পথ দিয়ে আগমন করে। ফলে আমি প্রাচুর্যের ধ্বংস ও হিসাব-নিকাশের ভয়ের মাধ্যমে তা প্রতিহত করেছি। অতঃপর এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কুরআনের আয়াত অনুসন্ধান করে এ কয়টি আয়াত পেয়েছি- ذَرْهُمْ يَأْكُلُوا وَيَتَمَتَّعُوا অর্থ: আপনি তাদের ছেড়ে দিন, তারা আহার করুক, ভোগ-উপভোগ করুক এবং আশায় ব্যাপৃত থাকুক। অন্যত্র এসেছে- أَفَرَأَيْتَ إِنْ مَتَّعْنَاهُمْ سِنِينَ * ثُمَّ جَاءَهُمْ مَا কَانُوا يُوعَدُونَ مَا أَغْنَى عَنْهُمْ مَا كَانُوا يُمَتَّعُونَ অর্থ: আপনি ভেবে দেখেছেন কি যদি আমি তাদেরকে বছরের পর বছর ভোগ বিলাস করতে দেই, অতঃপর যে বিষয় সম্পর্কে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হতো, তা তাদের নিকট এসে পড়ে? তখন তাদের ভোগ বিলাস সামগ্রী তাদের কোনো উপকার করবে না। এরপর এ আয়াত দ্বারা শয়তানকে পরাভূত করেছি।

৪. আমি দেখতে পেলাম, শয়তান আত্মমুগ্ধ হওয়ার পথ দিয়ে আগমন করে। ফলে আমি আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান এবং শেষ পরিণতির ভয়ের মাধ্যমে তা প্রতিহত করেছি। অতঃপর এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কুরআনের আয়াত অনুসন্ধান করে এ আয়াতটি পেয়েছি- فَمِنْهُمْ شَقِيٌّ وَسَعِيدٌ অর্থ: অতঃপর কিছু লোক হতভাগ্য হবে আর কিছু লোক সৌভাগ্যবান হবে। আর আমার জানা নেই আমি এই দুই দলের কোন দলে। এভাবে এখানেও শয়তানকে পরাভূত করেছি।

৫. আমি দেখতে পেলাম, শয়তান মুসলিম ভাইদের তুচ্ছ মনে করা এবং তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার পথ দিয়ে আগমন করে। ফলে আমি তাদের অধিকার জানা ও তাদের মর্যাদা রক্ষা করার মাধ্যমে তাকে প্রতিহত করেছি। অতঃপর এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কুরআনের আয়াত অনুসন্ধান করে এ আয়াতটি পেয়েছি- وَاللَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ অর্থ: মর্যাদা আল্লাহর, তাঁর রাসূলের এবং মুমিনদের। কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না। এরপর এ আয়াত দ্বারা শয়তানকে পরাভূত করেছি।

৬. আমি দেখতে পেলাম, শয়তান হিংসা বিদ্বেষের পথ দিয়ে আগমন করে। ফলে আমি ন্যায়পরায়ণতা সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর বণ্টনে সন্তুষ্টির মাধ্যমে তা প্রতিহত করেছি। অতঃপর এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কুরআনের আয়াত অনুসন্ধান করে এ আয়াতটি পেয়েছি- نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُمْ مَعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَرَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِيَتَّخِذَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا سُخْرِيًّا وَرَحْمَةُ رَبِّكَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ অর্থ: তারা কি আপনার প্রতিপালকের রহমতকে বণ্টন করে? আমি পার্থিব জীবনে তাদের মাঝে তাদের জীবিকা বণ্টন করেছি এবং একজনকে অপরজনের চেয়ে মর্যাদাশীল করেছি, যেন একে অপরকে সেবকরূপে গ্রহণ করে। আর আপনার রবের রহমত তদাপেক্ষা বহুগুণে শ্রেয়, যা তারা সঞ্চয় করেছে। এরপর এ আয়াত দ্বারা শয়তানকে পরাভূত করেছি।

৭. আমি দেখতে পেলাম, শয়তান রিয়া ও মানুষের প্রশংসাপ্রিয়তার পথ দিয়ে আগমন করে। ফলে ইখলাস ও পূর্ণ নিষ্ঠার মাধ্যমে তা প্রতিহত করেছি। অতঃপর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কুরআনের আয়াত অনুসন্ধান করে এ আয়াতটি পেয়েছি- فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا অর্থ: অতএব যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন সৎকাজ করে এবং তার প্রতিপালকের ইবাদতে কাউকে শরীক না করে। এরপর এ আয়াত দ্বারা শয়তানকে পরাভূত করেছি।

৮. আমি দেখতে পেলাম, শয়তান কৃপণতার পথ দিয়ে আগমন করে। ফলে মানুষের নিকট যা আছে, তা নিঃশেষ হয়ে যাওয়া ও আল্লাহর নিকট যা আছে, তা চিরস্থায়ী থাকার চিন্তার মাধ্যমে আমি তা প্রতিহত করেছি। অতঃপর এ বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস হওয়ার জন্য কুরআনের আয়াতসমূহ অনুন্ধান করে এ আয়াতটি পেয়েছি, مَا عِنْدَكُمْ يَنْفَدُ وَمَا عِنْدَ اللَّهِ بَاقٍ وَلَنَجْزِيَنَّ الَّذِينَ صَبَرُوا أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ. অর্থ: তোমাদের কাছে যা আছে, তা নিঃশেষ হয়ে যাবে এবং আল্লাহর কাছে যা আছে তা কখনো শেষ হবে না। আর যারা ধৈর্যধারণ করে, আমি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের চেয়ে উত্তম পুরষ্কার প্রদান করব। এরপর এ আয়াত দ্বারা শয়তানকে পরাভূত করেছি।

৯. আমি দেখতে পেলাম, শয়তান অহঙ্কারের পথ দিয়ে আগমন করে। ফলে বিনয় ও নম্রতার মাধ্যমে আমি তা প্রতিহত করেছি। অতঃপর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কুরআনের আয়াতসমূহ অনুসন্ধান করে এ আয়াতটি পেয়েছি, إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ. অর্থ: হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যেন তোমরা পরস্পরে পরিচিত হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সর্বাধিক সম্মানিত যে তোমাদের মাঝে সবচেয়ে বেশি পরহেযগার। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ। এরপর এ আয়াত দ্বারা শয়তানকে পরাভূত করেছি।

১০. আমি দেখতে পেলাম, শয়তান লোভ লালসার পথ দিয়ে আগমন করে। তাই মানুষ থেকে নিরাশ ও আল্লাহর নিকট যা আছে তাতে আস্থা ও বিশ্বাস সৃষ্টির মাধ্যমে আমি তা প্রতিহত করেছি। অতঃপর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কুরআনের আয়াতসমূহ অনুসন্ধান করে এ আয়াতটি পেয়েছি, وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقُهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ অর্থ: আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য নিস্কৃতির পথ করে দেন এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক প্রদান করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট। এরপর এ আয়াত দ্বারা শয়তানকে পরাভূত করেছি।

টিকাঃ
৬৫৪. সূরা হুদ: আয়াত-৬
৬৫৫. সূরা লুকমান: আয়াত-৩৪
৬৫৬. সূরা হিজরাত: আয়াত-৩
৬৫৭. সূরা শুআরা: আয়াত-২০৫-২০৬
৬৬৮. সূরা হুদ: আয়াত-১০৫
৬৬৯. সূরা মুনাফিকুন: আয়াত-৮
৬৭০. সূরা যুখরুফ: আয়াত-৩২
৬৬১. সূরা কাহফ: আয়াত-১১০
৬৬২. সূরা নাহল: আয়াত-৯৬
৬৬৩. সূরা হিজরাত: আয়াত-১৩
৬৬৪. সূরা আত তালাক: আয়াত-২-৩

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মূসা আ.-এর দরবারে ইবলীস

📄 মূসা আ.-এর দরবারে ইবলীস


বর্ণিত আছে, একদা অভিশপ্ত ইবলীস মূসা আ.-এর দরবারে এলো। মূসা আ. তখন আল্লাহর সাথে কথা বলছিলেন। জনৈক ফেরেশতা তার এই কাণ্ড দেখে বললেন, তুই ধ্বংস হ! তুই ধ্বংস হ! এমন অবস্থায় তুই এখানে কেন? ইবলীস বলল, তার পিতা আদম জান্নাতে থাকাকালীন তার থেকে যা চেয়েছি, তার থেকেও তা-ই চাই।

টিকাঃ
৬৬৫. ফয়যুল কাদির লিল-মুনাবী: ২/১৭৯।

ফন্ট সাইজ
15px
17px