📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 হেদায়েত ও গোমরাহী কারও হাতে নয়

📄 হেদায়েত ও গোমরাহী কারও হাতে নয়


عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: بُعِثْتُ دَاعِيًا وَمُبَلِّغَا، وَلَيْسَ إِلَيَّ مِنَ الْهِدَايَةِ شَيْءٌ، وَخُلِقَ إِبْلِيسُ مُزَيَّنَا وَلَيْسَ إِلَيْهِ مِنَ الضَّلَالَةِ شَيْءٍ

হযরত উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, আমাকে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ নিয়ে পাঠানো হয়েছে। কারো হেদায়াত আমার হাতে নয়। আর ইবলীসকে সুশোভিত-সুসজ্জিতকারী বানিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। সে পথভ্রষ্ট করার কোনো ক্ষমতা রাখে না। অর্থাৎ, ইবলীস পাপকে মানুষের নিকট সুশোভিত সুসজ্জিত করে উপস্থাপন করে। এর বেশি কিছু করতে পারে না। তাই মানুষকে পরম সাধনার সাথে ইবলিসের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতে হবে। কারণ, ইবলীস মানুষের চিরশত্রু।

আল্লাহ তা'আলা বলেন- إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا
অর্থ: নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু। সুতরাং তোমরা তাকে শত্রু হিসাবেই গ্রহণ কর।

টিকাঃ
৬৫০. হাদীসটি জাল [মাওযুয়াতে ইবনুল জাওযী: খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-২৭২; মীযানুল এতেদাল: খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৬৩৪; ফাইযুল কাদীর লিল-মুনাবী: খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-২০৪]।
৬৫১. সূরা ফাতির: আয়াত-৬

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মূর্খের নিদর্শন

📄 মূর্খের নিদর্শন


বর্ণিত আছে, মূর্খ ব্যক্তির নিদর্শন চারটি। যথা-
১. الْغَضَبُ مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ অর্থাৎ, অকারণে ক্রুদ্ধ হওয়া।
২. اِتِّبَاعُ النَّفْسِ فِي الْبَاطِلِ অর্থাৎ, প্রবৃত্তির অনুসরণ করা।
৩. إِنْفَاقُ الْمَالِ فِي غَيْرِ حَقٌّ অর্থাৎ, অন্যায় পথে সম্পদ ব্যয় করা।
৪. قِلَّةُ مَّعْرِفَةِ صَدِيقِهِ مِنْ عَدُوِّهِ অর্থ শত্রু ও বন্ধুর মাঝে পার্থক্য কম করতে পারা। অর্থাৎ, আল্লাহর আনুগত্য ছেড়ে শয়তানের আনুগত্য অবলম্বন করা।

আল্লাহ তা'আলা বলেন- أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ بِئْسَ لِلظَّالِمِينَ بَدَلًا.
অর্থ: তোমরা কি তাহলে আমাকে ছেড়ে ইবলীস ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছ, অথচ তারা তোমাদের শত্রু? জালেমদের জন্য তা কতই না নিকৃষ্ট পরিবর্তন।

টিকাঃ
৬৫২. সূরা কাহফ: আয়াত-৫০

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জ্ঞানীর নিদর্শন

📄 জ্ঞানীর নিদর্শন


বর্ণিত আছে, জ্ঞানী ব্যক্তির নিদর্শন চারটি। যথা-
১. الْحِلْمُ عَنِ الْجَاهِلِ অর্থাৎ, নির্বোধ ব্যক্তির সাথে সহনশীলতা প্রদর্শন করা।
২. وَرَدُّ النَّفْسِ عَنِ الْبَاطِلِ অর্থাৎ, প্রবৃত্তিকে পাপ কাজ থেকে বিরত রাখা।
৩. وَإِنْفَاقُ الْمَالِ فِي حَقَّهِ অর্থাৎ, ন্যায় পথে সম্পদ ব্যয় করা।
৪. وَمَعْرِفَةً صَدِيقِهِ مِنْ عَدُوٌّهِ অর্থাৎ, শত্রু ও বন্ধুর মাঝে পার্থক্য করতে পারা।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মানুষের স্বভাব

📄 মানুষের স্বভাব


عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّةٍ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى، أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ إِبْلِيسَ لَقِيَ يَحْيَى بْنَ زَكَرِيَّا عَلَيْهِمَا السَّلَامُ فَقَالَ لَهُ يَحْيَى بْنِ زَكَرِيَّا أَخْبِرْنِي عَنْ طَبَائِعِ ابْنِ آدَمَ عِنْدَكُمْ؟ فَقَالَ إِبْلِيسُ: أَمَّا صِنْفٌ مِنْهُمْ، فَهُوَ مِثْلُكَ مَعْصُومُونَ لَا تَقْدِرُ مِنْهُمْ عَلَى شَيْءٍ، وَالصِّنْفُ الثَّانِي، فَهُمْ فِي أَيْدِينَا كَالْكُرَةِ فِي أَيْدِي صِبْيَانِكُمْ، وَقَدْ كَفَوْنَا أَنْفُسَهُمْ، وَالصِّنْفُ الثَّالِثُ، فَهُمْ أَشَدُّ الْأَصْنَافِ عَلَيْنَا، فَنُقْبِلُ عَلَى أَحَدِهِمْ حَتَّى نُدْرِكَ مِنْهُ حَاجَتَنَا، ثُمَّ يَفْزَعَ إِلَى الاسْتِغْفَارِ فَيُفْسِدُ بِهِ عَلَيْنَا مَا أَدْرَكْنَا مِنْهُ، فَلَا نَحْنُ نَيْنَسُ مِنْهُ وَلَا نَحْنُ نُدْرِكُ حَاجَتَنَا مِنْهُ.

হযরত ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইবলীস ইয়াহইয়া ইবন যাকারিয়া আ.-এর সাথে সাক্ষাত করল। ইয়াহইয়া আ. বললেন, আমাকে জানাও, তোমাদের নিকট মানুষের চরিত্র কেমন? ইবলীস বলল, এক প্রকার মানুষ আপনার মতোই। তারা নিষ্পাপ, মাসূম। তাদের উপর আমরা বিন্দুমাত্র ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারি না। আরেক প্রকার মানুষ শিশুদের হাতের বলের মতো। তারা আমাদের হাতে রয়েছে। তাদের জন্য নফসই যথেষ্ট। অর্থাৎ, তাদের গোমরা করতে আমাদের কষ্ট করতে হয় না, বরং তাদের নফসই যথেষ্ট। আরেক প্রকার মানুষ আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তাদের কারো নিকট গিয়ে কুমন্ত্রণা দেই। আর সে সাথে সাথে তওবা-ইস্তিগফার করে নেয়। ফলে আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। আমরা তাদের থেকে নিরাশ হই না, আবার সফলও হই না।

টিকাঃ
৬৫৩. হাদীসটি হাকেম তিরমিযী ও ইবনে আবিদ দুনিয়া বর্ণনা করেছেন (ফাইযুল কাদীর লিল-মুনাবী: খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৪৪৮; সনদটি জয়ীফ)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px