📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 স্থিরতা

📄 স্থিরতা


হযরত হাসান বসরী রহ. রহ. বলেন, যে ব্যক্তিই জান্নাতের আকাঙ্ক্ষী হবে, তাকে খুব মেহনত করতে হবে, জীর্ণশীর্ণ হতে হবে এবং আমৃত্যু সার্বক্ষণিক স্থিরতা দেখাতে হবে। যেমন ইরশাদ হয়েছে- إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا (যারা বলেছে, আমাদের প্রভু হলো আল্লাহ, অতঃপর তার ওপর স্থির থেকেছে।)

জনৈক জ্ঞানী বলেছেন, স্থিরতার আলামত হলো সে পাহাড়ের মত হবে। আর পাহাড়ের মধ্যে চারটি বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। যথা- ১. গরমে তা গলে যায় না; ২. ঠাণ্ডায় তা জমে যায়-না; ৩. বাতাস তাকে নাড়াতে পারে না, এবং ৪. বন্যায় তা ভেসে যায় না।

তদ্রূপ যে স্থির থাকবে, তারও চারটি আলামত রয়েছে- ১. কেউ যদি তার প্রতি অনুগ্রহ করে, তা হলে শুধু এ কারণে অন্যায়ভাবে তার পক্ষপাতিত্ব করবে না। ২. কেউ যদি তার সাথে অন্যায় আচরণ করে, তা হলে এ কারণে তাকে অন্যায় কথা বলবে না। ৩. তার প্রবৃত্তি তাকে আল্লাহর হুকুম থেকে ফেরাবে না। এবং ৪. পার্থিব আসবাবপত্র তাকে আল্লাহর আনুগত্য থেকে ফেরাবে না।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কল্যাণের খাজানা

📄 কল্যাণের খাজানা


কল্যাণের খাজানা সাতটি। কুরআনের আলোকে এর সবক'টিই ওয়াজিব।
১. ইবাদতে ইখলাস থাকা। ইরশাদ হচ্ছে- وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ 'আর তাদেরকে এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছে, তারা খাঁটি মনে, একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে।'
২. পিতামাতার সাথে সদাচারণ করা। ইরশাদ হচ্ছে- أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ 'তুমি আমার এবং তোমার পিতামাতার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। এরপর আমারই দিকে ফিরে আসবে।'
৩. ছেলায়ে রেহমী করা তথা আত্মীয়তার বন্ধন ঠিক রাখা। ইরশাদ হচ্ছে- وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ 'আর তোমরা খোদাকে ভয় কর, যার নামে একে অপর থেকে চাও এবং আত্মীয়-জ্ঞাতিদের ব্যাপারে ভয় কর।'
৪. আমানত আদায় করা। ইরশাদ হচ্ছে- إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا 'নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা হকদারের হক পৌছিঁয়ে দেবে।'
৫. আল্লাহ তা'আলার নাফরমানিতে একে অপরের আনুগত্য না করা। ইরশাদ হচ্ছে- وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ 'আমাদের কেউ আল্লাহকে ছাড়া অপর কাউকে প্রভু হিসেবে গ্রহণ করবে না।'
৬. প্রবৃত্তির চাহিদা অনুযায়ী কাজ না করা। ইরশাদ হচ্ছে- وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى فَإِنَّ الْجَنَّةَ হِيَ الْمَأْوَى আর যে 'নফসকে প্রবৃত্তির চাহিদা থেকে বাধা দিল, তার ঠিকানা জান্নাত।'
৭. ভয় ও আশা নিয়ে আল্লাহর ইবাদত করা। ইরশাদ হচ্ছে- يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ 'তারা তাদের প্রভুকে ভয় ও আশা নিয়ে ডাকে এবং তাদের আমি যে রিযিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।'

প্রত্যেকেরই উচিত ভয়ে কাঁদতে থাকা। কারণ, কিয়ামতের বিষয়টি খুবই কঠিন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 পাহাড়ও আল্লাহর ভয়ে ভীত

📄 পাহাড়ও আল্লাহর ভয়ে ভীত


বর্ণিত আছে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম একটি বসতির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেখানে একটি পাহাড় ছিল। পাহাড়টি চিৎকার ও বিলাপ করছিল। তিনি গ্রামবাসীদের জিজ্ঞাসা করলেন, পাহাড়ে এটা কীসের কান্না? তারা বলল, হে ঈসা! আমরা এই গ্রামে থাকার শুরু থেকেই এই কান্না ও বিলাপ শুনছি। ঈসা আলাইহিস্ সালাম বললেন, হে আল্লাহ! এই পাহাড়কে আমার সাথে কথা বলার অনুমতি দিন। আল্লাহ তা'আলা পাহাড়কে কথা বলার অনুমতি দিলেন। বলল, হে ঈসা! তুমি আমার নিকট কী চাও? তিনি বললেন, তুমি তোমার বিলাপ ও কান্না সম্বন্ধে আমাকে বলো। পাহাড় বলল, হে ঈসা। আমার পাথর থেকে মূর্তি বানিয়ে লোকজন সেগুলোর ইবাদত করত। এখন আমার ভয় হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা আমাকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন। কারণ, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ 'তোমরা দোযখ থেকে বেঁচে থাকো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।'

এখন আমার ভয় হচ্ছে, আমিও কি সে পাথর থেকে, যেগুলোকে কিয়ামতের দিন জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তখন আল্লাহ তা'আলা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের নিকট ওহী পাঠালেন যে, পাহাড়টিকে স্থির হতে বলো। আমি তাকে জাহান্নাম হতে আশ্রয় দিয়েছি।

পাথর কঠিন ও শক্ত হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহকে ভয় করে। আর দুর্বল মানুষ কীভাবে আল্লাহকে ভয় পায় না? আল্লাহর নিকট আশ্রয় চায় না? হে আদম সন্তান! জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাকো। পাপ থেকে বেঁচে থাকলেই জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাকা হবে। কারণ, পাপের কারণে আল্লাহর ক্রোধ সৃষ্টি হয়। আর আল্লাহর শাস্তি সহ্য করার শক্তি তোমার নেই।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কিয়ামতের দিন উম্মতে মুহাম্মাদীর সাক্ষ্য

📄 কিয়ামতের দিন উম্মতে মুহাম্মাদীর সাক্ষ্য


عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : لَمَّا نَزَلَ قَوْلُهُ تَعَالَى : وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا (البقرة : ١٤٣) دَمَعَتْ عَيْنَا رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ قَالَ : يَا مَعْشَرَ النَّاسِ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى بَعَثَنِي نَبِيًّا، وَأَرْسَلَنِي رَسُولًا، وَاخْتَارَكُمْ لِنَبِيِّهِ، وَأَشْهَدَنِي عَلَيْكُمْ، وَأَشْهَدَكُمْ عَلَى الْأُمَمِ السَّابِقَةِ وَالْقُرُونِ الْمَاضِيَةِ. فَقَامَ إِلَيْهِ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارٍ، يُقَالُ لَهُ قَيْسُ بْنُ عُرْوَةَ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ، وَكَيْفَ نَشْهَدُ عَلَى الْأُمَمِ السَّالِفَةِ، وَلَمْ نَكُنْ مِنْهُمْ، وَلَمْ يَكُونُوا فِي زَمَانِنَا؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ : يَا ابْنَ عُرْوَةَ إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ، وَبُدِّلَتِ الْأَرْضُ غَيْرَ الْأَرْضِ، وَطُوِيَتِ السَّمَوَاتُ كَطَى السَّجِلَّ لِلْكِتَابِ، وَحُشِرَ الْخَلَائِقُ فَمِنْهُمْ سُودُ الْوُجُوهِ، وَمِنْهُمْ بِيضُ الْوُجُوهِ فَيَقِفُونَ أَرْبَعِينَ عَامًا. قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَاذَا يَنْتَظِرُونَ؟ قَالَ: الصَّيْحَةَ الَّتِي قَالَ اللهُ تَعَالَى : يَوْمَئِذٍ يَتَّبِعُونَ الدَّاعِيَ لَا عِوَجَ لَهُ وَخَشَعَتِ الْأَصْوَاتُ لِلرَّحْمَنِ فَلَا تَسْمَعُ إِلَّا هَمْسًا (طه : ১০৮) يَعْنِي تَحْرِيكَ الشَّفَتَيْنِ مِنْ غَيْرِ نُطْقٍ وَهُمْ يُسَاقُونَ إِلَى أَرْضِ لَمْ يُسْفَكْ عَلَيْهَا الدِّمَاءُ، ثُمَّ يُؤْتَى بِالْبَهَائِمِ فَيُقْتَصُّ لِبَعْضِهَا مِنْ بَعْضٍ، ثُمَّ يُقَالُ لَهَا : كُونِي تُرَابًا فَتَكُونُ تُرَابًا فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى : وَيَقُولُ الْكَافِرُ يَا لَيْتَنِي كُنْتُ تُرَابًا (النبأ : ٤٠) ثُمَّ يُؤْتَى بِكُلِّ نَبِيَّ وَأُمَّتِهِ، وَيُحْكَمُ بَيْنَهُمْ بِالْحَقِّ فَفَرِيقُ فِي الْجَنَّةِ وَفَرِيقٌ فِي السَّعِيرِ، ثُمَّ يُنَادِي مُنَادٍ أَيْنَ نُوحٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ، فَيُؤْتَى بِهِ فَيَقُولُ اللَّهُ : يَا نُوحُ : هَلْ بَلَّغْتَ الرِّسَالَةَ وَأَدَّيْتَ الْأَمَانَةَ، فَيُؤْتَى بِقَوْمِهِ فَيُقَالُ : يَا أُمَّةَ نُوحٍ : هُذَا نُوحٌ بَعَثْتُهُ لَكُمْ يَدْعُوكُمْ إِلَى كَلِمَةِ الْإِخْلَاصِ، فَهَلْ بَلَّغَ إِلَيْكُمُ الرِّسَالَةَ؟ فَيَقُولُونَ : يَا رَبَّنَا مَا جَاءَنَا مِنْ بَشِيرٍ وَلَا نَذِيرٍ، فَيَقُولُ اللهُ تَعَالى يَا نُوحُ : هَؤُلَاءِ أُمَّتُكَ أَنْكَرُوكَ، فَهَلْ مَنْ يَشْهَدُ لَكَ بِذلِكَ فَيَقُولُ : نَعَمْ أُمَّةُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيُنَادِي مُنَادٍ يَا خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ، يَا صُوَّامَ شَهْرِ رَمَضَانَ، فَيَقُومُونَ مِنَ الصُّفُوفِ كَمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى فِي مُحْكَمِ تَنْزِيلِهِ : سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ (الفتح : ٢٩) فَيَقُولُونَ : لَبَّيْكَ دَاعِيَ اللهِ، فَيَقُولُ عَزَّ وَجَلَّ : يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ هَلْ تَشْهَدُونَ لِنُوحٍ؟ فَيَقُولُونَ : أَيْ رَبِّ نَشْهَدُ أَنَّهُ بَلَغَ الرِّسَالَةَ وَأَدَّى الْأَمَانَةَ فَتَقُولُ أُمَّهُ نُوحٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ إِنَّ نُوحًا أَوَّلُ نَبِيَّ وَمُحَمَّدًا آخِرُ نَبِيِّ، فَكَيْفَ يَشْهَدُونَ لِمَنْ لَمْ يُدْرِكُوا زَمَانَهُ؟ فَيَقُولُونَ فِي كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ الْمُنَزَّلِ عَلَى نَبِيِّهِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّا أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ (نوح : ١) كُنَّا قَرَأناهُ إِلَى آخِرِهِ، فَيَقُولُ اللهُ تَعَالَى : صَدَقْتُمْ يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ، وَإِنِّي آلَيْتُ عَلَى نَفْسِي أَنْ لَا أُعَذِّبَ أَحَدًا إِلَّا بِحُجَّةٍ، فَتَوَاهَبُوا يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ الْمَظَالِمَ فِيمَا بَيْنَكُمْ فَإِنِّي قَدْ وَهَبْتُ الَّذِي بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ.

হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. বলেন, যখন এই আয়াত নাযিল হলো- وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرََّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا 'আর এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী জাতি বানিয়েছি, যেন তোমরা লোকদের জন্য সাক্ষী হও, আর রাসূল সাক্ষী হবেন তোমাদের জন্য।'

তখন রাসূল-এর চোখদু'টি অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল। বললেন, হে লোকসকল! আল্লাহ তা'আলা আমাকে নবী ও রাসূল করে পাঠিয়েছেন। আর তোমাদেরকে তার নবীর জন্য মনোনীত করেছেন। আমাকে তোমাদের জন্য এবং তোমাদেরকে অন্যান্য উম্মতের ওপর সাক্ষী বানিয়েছেন। আনসারি সাহাবী কায়স বিন উরওয়া রাযি. দাঁড়িয়ে আরজ করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কীভাবে আগেকার উম্মতদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিব? আমরা তো আগেকার উম্মতও নই; আর সেকালে ছিলামও না। তারাও আমাদের সময় নেই। নবীজী ইরশাদ করলেন, হে ইবনে উরওয়া! যখন কিয়ামত হবে, জমিনের আকার-আকৃতি বদলে যাবে, সেদিন আসমান কিতাব গুটানোর মতো গুটিয়ে নেওয়া হবে, সকল মানুষ সমবেত করা হবে, যাদের কারো চেহারা সাদা হবে, কারো চেহারা কালো হবে। চল্লিশ বছর পর্যন্ত মানুষ এভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে। বললেন, সে চিৎকারের অপেক্ষায়, যার ব্যাপারে বলা হয়েছে- يَوْمَئِذٍ يَتَّبِعُونَ الدَّاعِيَ لَا عِوَجَ لَهُ وَخَشَعَتِ الْأَصْوَاتُ لِلرَّحْمَنِ فَلَا تَسْمَعُ إِلَّا هَمْسًا 'সেদিন তারা আহ্বানকারীর অনুসরণ করবে, যার এদিক-ওদিক করা যাবে না। দয়াময় আল্লাহর ভয়ে সবার শব্দ ক্ষীণ হয়ে যাবে। মৃদু গুঞ্জন ছাড়া কিছুই শুনতে পাবে না।'

লোকজনকে এমন জায়গার দিকে নেওয়া হবে, যেখানে রক্ত প্রবাহিত হয়নি। এরপর চতুস্পদ জন্তুদের ডাকা হবে। তাদের পরস্পরের বদলা নেওয়ার পর বলা হবে, তোমরা মাটি হয়ে যাও। সকল পশু মাটি হয়ে যাবে। এটাই আল্লাহ তা'আলা বলেছেন। তখন কাফেরদের একান্ত আকাঙ্ক্ষা হবে, 'হায়! যদি মাটি হয়ে যেতাম!' এরপর প্রত্যেক নবীকে তার উম্মত সহকারে ডাকা হবে। তাদের মধ্যে সঠিক ফয়সালা করে দেওয়া হবে। এক দল জান্নাতে যাবে; আরেক দল জাহান্নামে। এরপর ঘোষণা দেওয়া হবে, নূহ আলাইহিস্ সালাম কোথায়? তাকে আনা হবে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, হে নূহ! তুমি কি রেসালাতের দায়িত্ব পালন করেছ? আমানত কি আদায় করেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ প্রভু! আমি রেসালত পৌঁছিয়েছি; আমানত আদায় করেছি। এরপর তার সম্প্রদায়কে আনা হবে। বলা হবে, হে নূহের উম্মত! এ হলো নূহ। একে আমি তোমাদের নিকট ইখলাসের কালিমা নিয়ে পাঠিয়েছিলাম। সে কি তোমাদের নিকট রেসালত পৌছিয়েছে? তারা বলবে, হে আমাদের প্রভু! আমাদের নিকট কোনো সুসংবাদাতা বা ভয় প্রদর্শনকারী আসেনি। আল্লাহ তা'আলা বলবেন, হে নূহ! এরা তোমার উম্মত। তোমার কথা তারা অস্বীকার করছে। এখন তোমার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার মত কেউ কি আছে? তিনি বলবেন, হ্যাঁ, উম্মতে মুহাম্মদ। তখন এক আহ্বানকারী আহ্বান করবে, হে লোকদের কল্যাণে বের হওয়া সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত! হে রমযান মাসে রোযা আদায়কারীরা! তখন তারা কাতার থেকে বেরিয়ে আসবে। যেমন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ 'তাদের চেহারায় সেজদার চিহ্ন বিদ্যমান থাকবে।'

তারা বলবে, হে আল্লাহর পক্ষ থেকে আহ্বানকারী! আমরা উপস্থিত। তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, হে উম্মতে মুহাম্মদ! তোমরা কি নূহের পক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছ? তারা বলবে, হে আমার প্রভু! আমরা সাক্ষ দিচ্ছি যে, তিনি রিসালাত পৌঁছিয়েছেন এবং আমানত আদায় করেছেন। তখন নুহ আলাইহিস সালামের উম্মত বলবে, নূহ হলেন সর্বপ্রথম নবী। আর মুহাম্মদ হলেন, সর্বশেষ নবী। তাহলে তারা কীভাবে সাক্ষ্য দিচ্ছে? তারা বলবে, মুহাম্মদ ﷺ-এর ওপর নাযিল করা কিতাবে আছে- إِنَّا أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ 'আমি নূহকে তার জাতির নিকট রাসূল করে পাঠিয়েছি।' আমরা তা পাঠ করেছি। তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তোমরা সত্য বলেছ, হে উম্মতে মুহাম্মদ! আমি নিজের ওপর শপথ করে রেখেছি যে, প্রমাণ ছাড়া কাউকে শাস্তি দেব না। কাজেই হে উম্মতে মুহাম্মদ! তোমাদের পরস্পরের অপরাধ ক্ষমা করে দাও। আমার আর তোমাদের মাঝে যা কিছু আছে, আমি তা ক্ষমা করে দিয়েছি।

টিকাঃ
৬৪৮. সহীহ বুখারী : হাদীস-৪৪৮৭; সুনানে তিরমিযী : হাদীস-২৯৬১ (কাছাকাছি অর্থে); ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px