📄 হিসাবের আগেই হিসাব নাও
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : حَاسِبُوا أَنْفُسَكُمْ قَبْلَ أَنْ تُحَاسَبُوا، فَإِنَّهُ أَيْسَرُ وَأَهْوَنُ لِحِسَابِكُمْ، وَزِنُوا أَنْفُسَكُمْ قَبْلَ أَنْ تُوزَنُوا، وَتَجَهَّرُوا لِلْعَرْضِ الْأَكْبَرِ يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ، لَا تَخْفَى مِنْكُمْ خَافِيَةٌ.
হযরত উমর রাযি. বলেন, তোমাদের হিসাব হওয়ার আগেই তোমরা নিজেদের হিসাব নাও। কারণ, এতে তোমাদের হিসাব সহজ হবে। তোমাদের ওজন করার আগেই তোমরা নিজেদের ওজন করে নাও এবং আল্লাহর দরবারে উপস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নাও। কারণ, সেদিন কেউ গোপন থাকতে পারবে না।
হযরত ইয়াহইয়া বিন মুআয রাযি. বলেন, মানুষ তিন ধরনের-
১. এক ধরনের লোক, পরকালের চিন্তার কারণে যাদের দুনিয়া অর্জনের প্রতি আগ্রহ নেই।
২. আরেক ধরনের লোক, দুনিয়া কামানোর কারণে যারা পরকাল থেকে গাফেল হয়ে আছে।
৩. আরেক ধরনের লোক দুনিয়া ও আখেরাত, দুটো নিয়েই ব্যস্ত।
প্রথম ধরনের লোক হলো সফলকাম ইবাদতগুজার। দ্বিতীয় ধরনের লোক হলো ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং তৃতীয় ধরনের লোক হলো বিপদের সম্মুখীন, তারা সাবধানে না থাকলে ধ্বংস হয়ে যাবে।
টিকাঃ
৬৪৬. আয-যুহদ লি-আহমাদ ইবনে হাম্বাল : ৬৩৩; হিলইয়াতুল আউলিয়া: ১/৫২; হাদীসটি মাশহুর তবে সনদে ইনকিতা বিদ্যমান [মুসনাদে ফারুক লি-ইবনে কাসীর : ২/৬১৮]।
📄 চার বস্তুর মূল্যায়ন
হাতেম রহ. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, চারটি বস্তুর মূল্য চার ব্যক্তিই বুঝতে পারে-
১. যৌবনের মূল্য শুধুমাত্র বৃদ্ধরাই বোঝে।
২. শান্তি ও নিরাপত্তার মূল্য শুধুমাত্র বিপদগ্রস্তরাই বোঝে।
৩. সুস্থতার মূল্য শুধুমাত্র রোগাক্রান্ত ব্যক্তিই বোঝে এবং
৪. জীবনের মূল্য শুধুমাত্র মৃত ব্যক্তিই বোঝে।
এ কথাটি একটি হাদীস থেকে নেওয়া হয়েছে। রাসূল ﷺ বলেছেন- اغْتَنِمْ خَمْسًا قَبْلَ خَمْسٍ: شَبَابَكَ قَبْلَ هَرَمِكَ، وَصِحَّتَكَ قَبْلَ سَقَمِكَ، وَغِنَاكَ قَبْلَ فَقْرِكَ وَفَرَاغَكَ قَبْلَ شُغْلِكَ، وَحَيَاتَكَ قَبْلَ مَوْتِكَ
পাঁচটি বিষয়কে পাঁচটি বিষয়ের আগে গনীমত মনে কর; যৌবনকে বার্ধক্যের পূর্বে; সুস্থতাকে অসুস্থতার পূর্বে; ধনাট্যতাকে দারিদ্র্যের পূর্বে; অবসর সময়কে ব্যস্ততার পূর্বে এবং জীবনকে মৃত্যুর পূর্বে।
তাই মানুষের উচিত তার জীবনের মূল্য বোঝা এবং প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্যবান মনে করা। এ কথা ভাববে, পরবর্তী সময় আমার অবস্থা কী হবে? মৃতদের অনুতাপ ও লজ্জা নিয়ে ভাববে। তারা মারা যাওয়ার পর এখন দু'রাকআত নামায পড়ার মতো সময় বা لا اله الا الله বলা পরিমাণ সময় পেতে কতটা আগ্রহী! অথচ তুমি তা পেয়ে আছ। কাজেই তোমার লজ্জা ও আক্ষেপের সময় আসার আগেই তুমি প্রাণপণে আল্লাহর ইবাদত কর।
টিকাঃ
৬৪৭. শুআবুল ঈমান: হাদীস-১০২৪৮; মুস্তাদরাকে হাকেম ৪/৩০৬; হাকেম, যাহাবী ও আলবানী প্রমুখ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
📄 আমলের ভিত্তি
হাতেম রহ. কে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনার আমলের ভিত্তি কী? তিনি বললেন, চারটি জিনিস-
১. আমার রিজিক নির্ধারিত হয়ে আছে, যা আমি ছাড়া আর কারো নিকট যাবে না। আবার অন্যের রিজিকও আমার নিকট আসবে না। এ কথাটি আমি মনে বসিয়ে নিয়েছি।
২. আমার ওপর কিছু ফরয কাজ আছে, আমি ছাড়া আর কেউ আদায় করবে না। তাই আমি সেগুলো আদায় করি।
৩. আমার প্রভু আমাকে সব সময় দেখছেন। তাই আমি তার থেকে লজ্জা করি।
৪. আমি জানি, আমার জীবনকাল নির্ধারিত। তাই সে ব্যাপারে অগ্রসর হই।
এখানে অগ্রসর হওয়া দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, নেক আমল দ্বারা তার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া; আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়াদি থেকে বিরত থাকা এবং আল্লাহর নিকট মিনতি করা যে, তিনি যেন এর ওপর অটল রাখেন।
📄 ইবাদতের স্বাদ ও দুনিয়ার সওয়াব
জনৈক জ্ঞানী বলেছেন, মানুষ ইবাদতের সওয়াব তখন পায়, যখন সে ভালো নিয়ত দ্বারা শুরু করে, এটাকে আল্লাহর অনুগ্রহ মনে করে, ভয়-ভীতি নিয়ে আল্লাহর ইবাদত করে, ইখলাস সহকারে করে। কারণ, যখন সুন্দর নিয়ত দ্বারা ইবাদত শুরু হবে এবং এ কথা জানা থাকবে যে, আল্লাহ তা'আলা তাকে এই আমলের তাওফিক দিয়েছেন, তখন সে এটাকে আল্লাহর অনুগ্রহ মনে করবে এবং শোকরও আদায় করবে। ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে সে আরও বেশি পাবে- لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ وَلَئِنْ كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ. 'তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, তা হলে আমি তোমাদেরকে আরও বাড়িয়ে দিব। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে জেনে রাখো, আমার শাস্তি কঠিন।' আর যখন ভয়-ভীতি নিয়ে আমল করা হবে, তখন আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে সওয়াব পাওয়া যাবে। ইরশাদ হচ্ছে- إِنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ 'আল্লাহ তা'আলা নেককারদের সওয়াব বিনষ্ট করেন না।'
দুনিয়ার সওয়াব হলো, এর ফলে ইবাদতে-আনুগত্যে স্বাদ পেতে থাকবে। আর আখেরাতের সওয়াব হলো জান্নাত। আর ইখলাসসহ যদি আমল করা হয় তা হলে আল্লাহ তা'আলা তা কবুল করবেন। এর নিদর্শন হলো, সে আরও বড় আমল করার তাওফিক পাবে।