📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কল্যাণের দরজা

📄 কল্যাণের দরজা


عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى أَبْوابِ الْخَيْرِ؟ قُلْتُ: نَعَمْ. قَالَ: الصَّوْمُ جُنَّةٌ، وَالصَّدَقَةُ بُرْهَانٌ، وَقِيَامُ الْعَبْدِ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ يُطْفِئُ كُلَّ خَطِيئَةٍ.

হযরত মুআয বিন জাবাল রাযি. হতে বর্ণিত, রাসূল ইরশাদ করেছেন, আমি কি তোমাদের কল্যাণের পথ দেখাব না? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি ইরশাদ করলেন, রোযা হলো ঢালস্বরূপ। সদকা হলো প্রমাণ। আর রাতের অন্ধকারের ইবাদত দ্বারা সকল গুনাহ মিটে যায়।

عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: الصَّوْمُ جُنَّةٌ مَا لَمْ يَخْرِقْهَا. يَعْنِي مَا لَمْ يَخْرِقْهَا بِالْغِيبَةِ

হযরত আবূ উবাইদা রাযি. বলেন, আমি নবীজীর-কে বলতে শুনেছি, রোযা হলো ঢাল, যতক্ষণ না তা ফেড়ে ফেলা হয়। অর্থাৎ, গীবত ইত্যাদি দ্বারা তাকে নিষ্প্রাণ করা হয়।

টিকাঃ
৬৪৩ সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৬১৬; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৩৯৭৩; হাসান সহীহ।
৬৪৪. মুসনাদে আহমাদ : হাদীস-১৬৯০; সুনানে নাসায়ী : হাদীস-২২৩৫; হাদীসটি হাসান [শুয়াইব আরনাউত]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 পরকালের পাথেয়

📄 পরকালের পাথেয়


عَنْ الْحَسَنِ رَحِمَهُمُ اللَّهُ تَعَالَى، قَالَ : أَرْبَعُ مِنْ زَادِ الْآخِرَةِ الصَّوْمُ صِحَّةُ النَّفْسِ، وَالصَّدَقَةُ سِتْرُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّارِ، وَالصَّلَاةُ تُقَرِّبُ الْعَبْدَ إِلَى رَبِّهِ وَالدُّمُوعُ تَمْحُو الخَطِيئَةَ.

হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, চারটি জিনিস পরকালের পাথেয়। যথা- ১. রোযা হলো নফসের জন্য সুস্থতা; ২. সদকা হলো সদকা প্রদানকারী ও জাহান্নামের মধ্যে প্রাচীর; ৩. নামায দ্বারা বান্দা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করে ৪. এবং চোখের পানি পাপ মোচন করে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আনুগত্য ও পাপের ভিত্তি

📄 আনুগত্য ও পাপের ভিত্তি


বলা হয়, আনুগত্যের মূল ভিত্তি হলো তিনটি: ভয়, আশা ও ভালোবাসা। ভয়ের নিদর্শন হলো হারাম কাজ ছেড়ে দেওয়া; আশার নিদর্শন হলো ইবাদতের প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসার নিদর্শন হলো উদ্দীপনা ও আল্লাহমুখী হওয়া।

বলা হয়, পাপের ভিত্তিও তিনটি: অহংকার, লোভ ও হিংসা। শয়তানকে যখন আদম আলাইহিস্ সালামকে সেজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সে অহংকারের কারণে তা করেনি। ফলে সে অভিশপ্ত হলো। আর লোভ প্রকাশ পেয়েছে আদম আলাইহিস্ সালামের মধ্যে। তিনি জান্নাতে চিরকাল থাকার লোভে নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়েছিলেন। ফলে তিনি সেখান থেকে বহিষ্কৃত হলেন। আর হিংসা প্রকাশ পেয়েছে আদম আ.-এর পুত্র কাবিলের মধ্যে। হিংসার বশবর্তী হয়ে তার ভাই হাবিলকে হত্যা করেছিল, যার ফলে তাকে জাহান্নামে যেতে হলো। প্রত্যেকের কর্তব্য হলো, পাপ থেকে দূরে থাকা, অনুগত্য করার ক্ষেত্রে চেষ্টা করে যাওয়া এবং একনিষ্ঠভাবে আল্লাহরই জন্য ইবাদত করা।

নবীজি ইরশাদ করেছেন- مَنْ أَخْلَصَ الْعِبَادَةَ اللهِ تَعَالَى أَرْبَعِينَ يَوْمًا ، ظَهَرَتْ يَنَابِيعُ الْحِكْمَةِ مِنْ قَلْبِهِ عَلَى لِسَانِهِ.

অর্থাৎ, যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে চল্লিশ দিন পর্যন্ত আল্লাহর ইবাদত করে, আল্লাহ তা'আলা তার অন্তর থেকে হিকমত উৎসারিত করে তার মুখ দিয়ে তা জারি করে দেন।

টিকাঃ
৬৪৫ হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৫/১৮৯; হাদীসটি রাসূল সা. থেকে প্রমাণিত নেই [মাওযুয়াতে ইবনুল জাওযী: ৩/১৪৫]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ঘৃণার বীজ ও ভালোবাসার বীজ

📄 ঘৃণার বীজ ও ভালোবাসার বীজ


বলা হয়ে থাকে, তিন ধরনের ব্যক্তি নিজের জন্য মানুষের অন্তরে ঘৃণার বীজ বপন করে, তাদের অসন্তুষ্টি অর্জন করে এবং নিজের বানানো প্রসাদ ধ্বংস করে-
১. যে মানুষের দোষ খুঁজে বেড়ায়।
২. যে আত্মগৌরবে ডুবে থাকে।
৩. যে লোকদের দেখানোর জন্য আমল করে।

আর তিন ধরনের ব্যক্তি নিজের জন্য মানুষের মনে ভালোবাসার বীজ বপন করে, তাদের থেকে নিরাপত্তা ও শান্তি লাভ করে এবং আসমানে মর্যাদা বৃদ্ধি করে;
১. উন্নত চরিত্রবান লোক।
২. একনিষ্ঠভাবে ইবাদতকারী।
৩. বিনয়ী।

ফন্ট সাইজ
15px
17px