📄 হযরত আবূ যর রাযি.-এর শেষ মুহূর্তগুলো
عَنِ امْرَأَةِ أَبِي ذَرِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، قَالَتْ : لَمَّا حَضَرَ أَبَا ذَرِّ الْوَفَاةُ بَكَيْتُ قَالَ: مَا يُبْكِيكِ؟ قُلْتُ : تَمُوتُ فِي فَلَاةٍ مِنَ الْأَرْضِ وَلَيْسَ لِي ثَوْبٌ أُكَفِّنُكَ فِيهِ، قَالَ: لَا تَبْكِي وَأَبْشِرِي فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ لِتَفَرٍ كُنْتُ أَنَا فِيهِمْ : لَيَمُوتَنَّ رَجُلٌ مِنْكُمْ فِي فَلَاةٍ مِنَ الْأَرْضِ، يَشْهَدُهُ عِصَابَةٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ، وَلَيْসَ مِنَ أُولَئِكَ النَّفَرِ أَحَدٌ، إِلَّا وَقَدْ هَلَكَ فِي قَرْيَةٍ أَوْ جَمَاعَةٍ إِلَّا أَنَا، وَاللَّهِ مَا كَذَبْتُ وَلَا كَذَبْتُ، فَأَنَا ذُلِكَ الرَّجُلُ فَأَبْصِرِي الطَّرِيقَ قَالَتْ : فَقُلْتُ قَدْ ذَهَبَ الْحَاجُ وَانْقَطَعَ الطَّرِيقُ، فَكُنْتُ أَقُومُ عَلَى كَثِيبٍ، فَأَنْظُرُ فَأَرْجِعُ إِلَيْهِ فَأُمَرِّضُهُ، فَبَيْنَمَا أَنَا كَذَلِكَ إِذَا بِنَفَرٍ عَلَى رِحَالِهِمْ، فَأَحْتُ إِلَيْهِمْ بِثَوْبِي فَأَسْرَعُوا إِلَيَّ، فَقَالُوا : يَا أَمَةَ اللَّهِ مَا لَكِ؟ قُلْتُ، رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَمُوتُ فَكَفَّنُوهُ. قَالُوا : وَمَنْ هُذَا قُلْتُ أَبُو ذَرٍّ قَالُوا : صَاحِبُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قُلْتُ : نَعَمْ، فَفَدَوْهُ بِآبَائِهِمْ وَأُمَّهَاتِهِمْ، فَأَسْرَعُوا حَتَّى دَخَلُوا عَلَيْهِ، وَسَلَّمُوا فَرَحَبَ بِهِمْ وَقَالَ : أَبْشِرُوا فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لِنَفَرٍ أَنَا فِيهِمْ : لَيَمُوتَنَّ رَجُلٌ مِنْكُمْ فِي فَلَاةٍ مِنَ الْأَرْضِ يَشْهَدُهُ عِصَابَةٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ، وَلَيْসَ مِنْ أُولَئِكَ الْقَوْمِ أَحَدٌ إِلَّا وَقَدْ هَلَكَ فِي قَرْيَةٍ أَوْ جَمَاعَةٍ إِلَّا أَنَا، فَأَنَا ذَلِكَ الرَّجُلُ، وَأَنْتُمْ أُولَئِكَ الْعِصَابَةُ، وَلَوْ كَانَ لِي ثَوْبٌ يَسَعُنِي كَفَنًا أَوْ لِامْرَأَتِي لَمْ أُكَفَّنْ إِلَّا فِي ثَوْبِ لِي، أَوْ لِأَهْلِي، وَإِنِّي أُنْشِدُكُمْ بِاللَّهِ لَا يُكَفِّنُنِي رَجُلٌ مِنْكُمْ كَانَ أَمِيرًا أَوْ بَرِيدًا، أَوْ عَرِيفًا، أَوْ نَقِيبًا، وَلَمْ يَكُنْ فِي الْقَوْمِ إِلَّا قَدْ أَصَابَ ذَلِكَ أَوْ بَعْضَ ذَلِكَ، إِلَّا رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ. فَقَالَ: يَا عَمَّ أَنَا أُكَফِّنُكَ فَإِنِّي لَمْ أُصِبْ شَيْئًا مِمَّا ذَكَرْتَ، أُكَفِّنُكَ فِي رِدَائِي هُذَا، أَوْ فِي ثَوْبَيْنِ، أَوْ فِي عَبَاءَتَيْنِ مِنْ غَزْلِ أُمِّي؟ قَالَ: أَنْتَ تُكَفِّنِّي، فَمَاتَ فَكَفَّنَهُ الْأَنْصَارِيُّ فِي النَّفَرِ الَّذِينَ شَهِدُوهُ، وَكُلُّهُمْ مِنْ أَهْلِ الدِّينِ فَرَجَعُوا مَسْرُورِينَ بِمَا سَمِعُوا مِنْهُ.
আবু যর রাযি.-এর স্ত্রী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত আবু যর রাযি.-এর ওপর যখন মৃত্যুর নিদর্শন দেখা গেল, তখন আমি কাঁদতে লাগলাম। তিনি বললেন, কাঁদছ কেন? আমি বললাম, নির্জন স্থানে আপনার মৃত্যু হচ্ছে। আর আপনাকে কাফন দেওয়ার মতো কাপড় আমার নিকট নেই। তিনি বললেন, কাঁদার পরিবর্তে তোমার খুশি হওয়া উচিত। কারণ, রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, তিনি একটি দলকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, যাদের মধ্যে আমিও ছিলাম। তিনি বলেছিলেন, তোমাদের থেকে এক ব্যক্তির মৃত্যু বিরান স্থানে হবে। আর ঈমানদারদের একটি জামাআত তার নিকট পৌঁছবে। ওই দলের প্রত্যেকেই কোনো না কোনো বস্তিতে লোকদের উপস্থিতিতে মৃত্যুবরণ করেছে। একমাত্র আমিই বাকি আছি। খোদার কসম! আমি মিথ্যা বলছি না; আর আল্লাহর রাসূলের কথা মিথ্যা হতে পারে না। তাই ওই ব্যক্তি নিশ্চয়ই আমি। কাজেই তুমি পথের দিকে লক্ষ রাখো। তিনি [হযরত আবূ যর রাযি.-এর স্ত্রী] বলেন, আমি ভাবলাম, হাজ্বীদের দল চলে গেছে। এখন আর কোনো পথিক এদিক দিয়ে আসবে না। রাস্তা সুনসান। তবুও আমি টিলার ওপর উঠে এদিক-অধিক দেখতাম। আর ফিরে এসে তার অবস্থা দেখতাম। এরই মধ্যে আমি একটি আরোহী দলকে দেখতে পেলাম। কাপড় নেড়ে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তারা এগিয়ে এল। বলল, আরে আল্লাহর বান্দী! কী ব্যাপার? আমি বললাম, একজন মুসলমান মৃত্যুশয্যায়। তার কাফন ইত্যাদির প্রয়োজন। জিজ্ঞাসা করল, কে সে? বললাম, আবু যর। বলল, কোন আবূ যর? রাসূলের সাহাবী আবু যর? আমি বললাম, হ্যাঁ। তারা বলল, আমাদের পিতামাতা তার ওপর কুরবান হোন। তারা দ্রুত তাঁর নিকট এল। সালাম করল। হযরত আবু যর রাযি.ও তাদের মোবারকবাদ জানালেন। বললেন, তোমাদের জন্য সুসংবাদ আছে। আমি রাসূল ﷺ-কে একটি দলকে লক্ষ্য করে, যে দলের মধ্যে আমিও ছিলাম, বলতে শুনেছি, তোমাদের থেকে এক ব্যক্তি বিরানভূমিতে মারা যাবে। আর ঈমানদারদের একটি দল সেখানে পৌঁছাবে। তাদের সবাই কোনো না কোনো বসতিতে লোকজনের মধ্যে মারা গেছে। একমাত্র আমিই বাকি ছিলাম। তাই ওই ব্যক্তি আমি; আর ঈমানদারদের ওই দল হলে তোমরা। যদি আমার নিকট বা আমার স্ত্রীর নিকট কাফনের কাপড় থাকে, তা হলে তাতেই আমাকে দাফন কর।
আর আমি তোমাদেরকে কসম দিয়ে বলছি, আমাকে এমন কেউ কাফন পরাবে না, যে কখনও কর্মকর্তা, দূত, সংবাদবাহক, বা কোনো গোত্রের সরদার বা দায়িত্বশীল থেকেছে। তাদের মধ্যে কেউ না কেউ কোনো না কোনোভাবে উল্লিখিত পদগুলোয় ছিল। তবে এক আনসারী বলল, চাচা! আপনার বলা পদগুলোর কোনোটির সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তাই আমি আপনাকে আমার চাদর দিয়ে কাফন পরিধান করাব? নাকি আরও দু'টি কাপড়ে? না কি আমার দু'টি আবায়, সেগুলো আমার মা বুনেছিলেন? তিনি বললেন, তুমি আমাকে কাফন পরিয়ো। এরপর তিনি মারা গেলেন। ওই আনসারী ব্যক্তি তাঁকে কাফন পরাল। তাদের প্রত্যেকেই ছিল দীনদার। হযরত আবু যর রাযি. থেকে যা শুনেছে, সে খুশি নিয়ে তারা ফিরে গেল।
টিকাঃ
৬৪২. মুসনাদে আহমাদ : হাদীস-২১৩৭৩; মুসনাদে বাযযার : হাদীস-৪০৬০; সহীহ ইবনে হিব্বান : হাদীস-৬৬৭০; হাদীসটি সহীহ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৯/৩৩২; শুয়াইব আরনাউত]।