📄 হযরত আবূ যর রাযি. কে নসীহত
তিনি বলেন, আমি আরজ করলাম, হে আল্লাহর নবী, আমাকে কিছু নসীহত করুন। তিনি ইরশাদ করলেন, আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর। এটা তোমার সকল কিছুর ভিত্তি। আমি আরজ করলাম, আরও কিছু বলুন। তিনি বললেন, আল্লাহর যিকির ও কুরআন তিলাওয়াত অবশ্যই করবে। এটা তোমার জন্য আসমানে নূর হবে এবং দুনিয়ার মর্যাদার কারণ হবে। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করবে। এটা আমার উম্মতের জন্য বৈরাগ্য। নীরবতা অবলম্বন করবে। ভালো কাজ ছাড়া কোনো কথা বলবে না। এতে শয়তান বিতাড়িত হবে এবং দীনি ব্যাপারে তোমার জন্য সহায়ক হবে। আর হাসি থেকে বেঁচে থাকো। এতে অন্তর মরে যায় এবং চেহারার নূর চলে যায়।
عَنْ أَبِي ذَرِّ الْغِفَارِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَإِذَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسٌ وَحْدَه، فَمَرَّةً قُلْتُ فِي نَفْسِي آتِيهِ لِأَسْتَفِيدَ مِنْهُ فِي حَالِ خَلْوَتِهِ، وَمُرَّةً قُلْتُ لَا أَشْغَلُهُ عَمَّا هُوَ فِيهِ، فَأَبَيْتُ إِلَّا أَنْ آتِيهِ فَأَتَيْتُهُ وَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ وَجَلَسْتُ عِنْدَهُ طَوِيلًا لَمْ يُكَلِّمْنِي، حَتَّى قُلْتُ فِي نَفْسِي : إِنَّهُ قَدْ شَقَّ عَلَيْهِ جُلُوسي، ثُمَّ قَالَ: يَا أَبَا ذَرِّ هَلْ رَكَعْتَ؟ قُلْتُ: لَا ، قَالَ : قُمْ فَارْكَعْ، فَإِنَّ لِكُلِّ شَيْءٍ تَحِيَّةً وَتَحِيَّةُ الْمَسْجِدِ رَكْعَتَانِ. فَقُمْتُ وَرَكَعْتُ، ثُمَّ جَلَسْتُ إِلَيْهِ طَوِيلًا، ثُمَّ قَالَ : يَا أَبَا ذَرٍّ، اسْتَعِذْ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ، وَمِنْ شَرِّ شَيَاطِينِ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ أَوَمِنَ الْإِنْسِ شَيَاطِينُ؟ قَالَ : أَمَا تَسْمَعُ قَوْلَهُ تَعَالَى: شَيَاطِينَ الإِنْسِ وَالْجِنَّ (الأنعام : ١١٢) ثُمَّ سَكَتَ فَلَمَّا رَأَيْتُ أَنَّهُ لَا يُكَلِّمُنِي، وَلَا يُحَدِّثُنِي، أَفْضَتُ فِي الْكَلَامِ، فَقُلْتُ : يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَمَرْتَنِي بِالصَّلَاةِ فَمَا الصَّلَاةُ؟ وَذَكَرَ نَحْوَ السُّؤَالَاتِ الَّتِي ذَكَرْنَاهَا، قَالَ: ثُمَّ اجْتَمَعَ النَّاسُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَلَا أُنَبِّئُكُمْ بِأَبْخَلِ النَّاسِ? قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ : مَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ।
হযরত আবু যর রাযি. বলেন, আমি মসজিদে প্রবেশ করলাম। হুযুর ﷺ একাকী বসা ছিলেন। আমি মনে মনে ভাবলাম, এটাকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করে তাঁর থেকে উপকৃত হই। আবার ভাবলাম, তিনি কী ভাবছেন, আল্লাহই ভালো জানেন। আমি গেলে হয়ত তাঁর ভাবনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হবে। শেষপর্যন্ত আমি তাঁর নিকট যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললাম। কাছে গিয়ে সালাম বলে বসে পড়লাম। অনেকক্ষণ তিনি আমার সাথে কোনো কথাই বলেননি। একপর্যায়ে আমি ভাবতে লাগলাম, তাঁর নিকট আমার বসাটা হয়ত তাঁর কষ্টের কারণ হয়েছে। কিন্তু এরপর তিনি আমার সাথে কথা বললেন। বললেন, হে আবু যর! তুমি কি নামায পড়েছ? আমি বললাম, জি-না। তিনি বললেন, উঠে গিয়ে দু'রাকআত পড়ে নাও। প্রত্যেক বস্তুরই একটি সম্মান-প্রদর্শন আছে। মসজিদের সম্মান-প্রদর্শন হলো দু'রাকআত নামায। আমি উঠে দু'রাকআত পড়ে নিলাম। এরপর অনেকক্ষণ যাবৎ তাঁর নিকট বসে রইলাম। এর পর তিনি আমাকে বললেন, হে আবু যর! বিতাড়িত শয়তান, মানুষ শয়তান ও জীন শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও। আমি আরজ করলাম, মানুষের মধ্যেও কি শয়তান হয়? তিনি বললেন, শয়তানিন ইনসি ওয়াল জিন্নি—এই আয়াতটি কি তুমি শোনোনি? (এখানে তো দুটোরই উল্লেখ আছে।) এরপর তিনি আবার নীরব রইলেন। (এমনকি, আমার বিশ্বাস হয়ে গেল, তিনি নিজের থেকে কিছুই বলবেন না।) তখন আমি আরজ করলাম, হে আল্লাহর নবী! আপনি আমাকে নামাযের হুকুম দিয়েছেন। নামায কাকে বলে? মোটকথা, এভাবে প্রথম হাদীসে বর্ণিত প্রশ্নগুলো আলোচনা করলেন। শেষে তিনি বলেন, এরই মধ্যে অনেক লোকের সমাগম হলো। হুযুর আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে সবচেয়ে বড় কৃপণের কথা বলব না? আমি আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! অবশ্যই বলুন! তিনি বললেন, সবচাইতে বড় কৃপণ সে, যার নিকট আমার আলোচনা হয়, কিন্তু সে আমার ওপর দরূদ পাঠ করে না।
টিকাঃ
৬৩৬. মুসনাদে আহমাদ হাদীস-২১৫২; সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস-৩৬১; আল-কামেল লি-ইবনে আদী: ৭/২৪৪; হাদীসটি সহীহ [তুহফাতুল মুহতাজ লি-ইবনিল মুলাক্কিন: ১/৪২২]।
৬৩৭. মাজমাউয যাওয়ায়েদ: খণ্ড-৮, পৃষ্ঠা-১৫৯; কাশফুল খাফা: খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৩৩২।
📄 তাবুকের যুদ্ধে হযরত আবূ যর রাযি.-এর বিলম্বে পৌঁছা
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ : لَمَّا خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى غَزْوَةِ تَبُوكِ صَحِبَهُ رِجَالٌ مِنَ الْمُنَافِقِينَ، وَكَانَ يَتَخَلَّفُ عَنْهُ الرَّجُلُ وَالرَّجُلَانِ فَيَقُولُونَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ تَخَلَّفَ فُلَانٌ، فَيَقُولُ : دَعُوهُ فَإِنْ يَكُ فِيهِ خَيْرٌ فَسَيُلْحِقُهُ اللَّهُ بِكُمْ وَإِنْ يَكُ غَيْرَ ذَلِكَ فَقَدْ أَرَاحَكُمُ اللهُ مِنْهُ، فَقَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ تَخَلَّفَ أَبُو ذَرَّ. قَالَ : دَعُوهُ فَإِنْ يَكُ فِيهِ خَيْرٌ فَسَيُلْحِقُهُ اللهُ بِكُمْ وَكَانَ أَبُو ذَرِّ تَخَلَّفَ لِأَنَّهُ أَبْطَأَ بِهِ بَعِيرُهُ فَكُلِمَ بَعِيرُهُ فَلَمَّا أَبْطَأَ عَلَيْهِ أَخَذَ مَتَاعَهُ، فَحَمَلَهُ عَلَى ظَهْرِهِ، ثُمَّ رَجَعَ يَتْبَعُ أَثَرَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَاشِيًا حَامِلًا عَلَى ظَهْرِهِ فِي شِدَّةِ الْحَرِّ وَحْدَهُ، فَقَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ أَقْبَلَ إِلَيْنَا رَجُلٌ يَمْشِي وَحْدَهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لِيَكُنْ أَبَا ذَرِّ، فَلَمَّا تَأَمَّلَهُ النَّاسُ قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ هُذَا وَاللَّهِ أَبُو ذَرِّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ فَدَمَعَتْ عَيْنَا رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ : رَحِمَ اللهُ أَبَا ذَرِّ يَمْشِي وَحْدَهُ وَيَمُوتُ وَحْدَهُ وَيُبْعَثُ وَحْدَهُ।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বর্ণনা করেন, হুযুর ﷺ যখন তাবুকের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিলেন, তখন মুনাফিকদের কেউ কেউ তাঁর সঙ্গী হলো; আবার কেউ কেউ পিছনে থেকে গেল। লোকজন বলত, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক ব্যক্তি পিছনে থেকে গেছে; সাথে আসেনি। তিনি বলতেন, তার মধ্যে কল্যাণ থাকলে আল্লাহ তা'আলা তাকে তোমাদের সাথে মিলিয়ে দেবেন। আর না থাকলে আল্লাহ তা'আলা তার থেকে তোমাদের বাঁচিয়েছেন। লোকজন বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ যর পিছনে থেকে গেছে। ইরশাদ করলেন, তার মধ্যে ভালো থাকলে আল্লাহ তা'আলা তাকে তোমাদের সাথে মিলিয়ে দিবেন। আবু যর রাযি.-এর পিছনে থাকার কারণ ছিল, তার উটটি ছিল খুবই দুর্বল। সেটাকে দ্রুতগতিতে চালাতে অনেকভাবে চেষ্টা করেছিলেন। অবশেষে নিরাশ হয়ে মালপত্র তুলে নিয়ে নবীজীর পায়ের দাগ অনুসরণ করে চলতে লাগলেন। প্রচণ্ড গরম ছিল। কোমরের ওপর বোঝা। একাকী; কোনো সাথী-সঙ্গী নেই। লোকজন বলল, হে আল্লাহর রাসূল। এক ব্যক্তি পায়ে হেঁটে একাকী আসছে। তিনি ইরশাদ করলেন, সে যেন আবু যর হয়। লোকজন ভালোভাবে মনোযোগ দিয়ে দেখে বলে উঠল, হে আল্লাহর রাসূল! খোদার কসম! সে তো আবু যরই! এতে নবীজীর চোখদুটি অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল। বললেন, আল্লাহ তা'আলা আবূ যরের ওপর দয়া করুন। সে আজও একাকী আসছে; মৃত্যুও তার নির্জনে আসবে, আর কিয়ামতের ময়দানেও একাকী উঠবে।
টিকাঃ
৬৩৮. মুসতাদরাকে হাকেম: খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৫২; সিয়ারে আলামীন নুবালা: খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৫৬; ইমাম হাকেম হাদীসটিকে সহীহ বললেও শায়েখ শুয়াইব আরনাউত সনদটিকে জয়ীফ বলেছেন।
📄 হযরত আবূ যর রাযি.-এর মৃত্যু
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمْ، قَالَ : لَمَّا سَارَ أَبُو ذَرِّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ إِلَى الرِّبْذَةِ فِي عَهْدِ عُثْمَانَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، وَأَصَابَهُ بِهَا قَدَرُهُ. وَلَمْ يَكُنْ مَعَهُ إِلَّا امْرَأَتُهُ وَغُلَامُهُ، فَأَوْصَى إِلَيْهِمَا: أَنْ غَسَّلَانِي وَكَفَّنَانِي، ثُمَّ ضَعَانِي عَلَى قَارِعَةِ الطَّرِيقِ، فَأَوَّلُ رَكْبٍ يَمُرُّ عَلَيْكُمْ، فَقُولُوا : هَذَا أَبُو ذَرِّ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَعِينُونِي عَلَى دَفْنِهِ، فَلَمَّا مَاتَ فَعَلَا بِهِ ذَلِكَ، ثُمَّ وَضَعَاهُ عَلَى قَارِعَةِ الطَّرِيقِ، فَأَقْبَلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ فِي رَهْطٍ مِنَ الْعِرَاقِ فَلَمَّا رَآهُمُ الْغُلَامُ قَامَ إِلَيْهِمْ، فَقَالَ: هَذَا أَبُو ذَرِّ صَاحِبُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَعِينُونَا عَلَى دَفْنِهِ فَأَقْبَلَ ابْنُ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ وَهُৱো যবকী, রফি'আন সওতাহু ছুম্মা ক্বালা: ছদাক্বা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: তামশী ওয়াহদাক, ওয়াতামূতু ওয়াহদাক, ওয়াতুব'আছু ওয়াহদাক ছুম্মা ওয়ারওহু ওয়ামাদ্বও ওয়াহুয়া ইউহাদ্দীছুহুম বিমা ক্বালা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফী মাসীরাতিহি ইলা তাবূক।
হযরত মুহাম্মদ বিন কা'ব রহ. বর্ণনা করেন, হযরত উসমান রাযি.-এর খেলাফতকালে হযরত আবু যর রাযি. যখন রবযায় অবস্থান করছিলেন, তখন তার সাথে তার স্ত্রী এবং এক গোলাম ছিল। মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে তিনি তাদের দুজনকে ডেকে ওসিয়ত করলেন যে, আমাকে গোসল দিয়ে কাফন পরিয়ে এই চলার পথে রেখে দেবে। সর্বপ্রথম যে কাফেলা এখান দিয়ে যাবে, তাদের বলবে, এটা হলো হুযুর ﷺ-এর সাহাবী আবূ যরের মৃতদেহ। তাঁকে দাফন করার ব্যাপারে আমাদের সাহায্য করুন। তার মৃত্যুর পর ওসিয়ত মুতাবিক তাকে কাফন পরিয়ে রাস্তার ওপর রেখে দেওয়া হলো। ঘটনাক্রমে হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. কয়েকজন সাথী নিয়ে সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের দেখে গোলাম কাছে গিয়ে বলল, এটা হলো হুযুর ﷺ-এর সাহাবী আবু যর রাযি.-এর মৃতদেহ। তাঁকে দাফন করার ব্যাপারে আমাদের সাহায্য করুন। এ কথা শুনে হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. হু হু করে কেঁদে ফেললেন। বললেন, হুযুর ﷺ-এর ওই ইরশাদ আজ পুরো হলো। তিনি তাঁকে বলেছিলেন, তুমি একাকী এসেছ; তোমার মৃত্যুও একাকী হবে, এবং কিয়ামতের দিনও তুমি একাকী উঠবে। এরপর সবাই মিলে তাঁকে দাফন করলেন। এরপর সাথীদেরকে আবু যর রাযি.-এর তাবুকের ঘটনা শোনাতে শোনাতে সামনের দিকে অগ্রসর হলেন।
টিকাঃ
৬৩৯. হিলইয়াতুল আউলিয়া: খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-১৬৯; আল-মাতালেবুল আলীয়া খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-৩০৪; হাফেজ ইবনুল কায়্যিম বলেন, এই ঘটনায় আপত্তি আছে [যাদুল মায়াদ খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৪৬৮]।
📄 হযরত আবূ যর রাযি. শাম গমন ও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন
عَنْ أَبِي ذَرِّ الْغِفَارِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : سَيُصِيبُكَ بَعْدِي بَلَاءُ ، قَالَ : قُلْتُ فِي اللهِ? قَالَ : فِي اللهِ، قُلْتُ : فَمَرْحَبًا بِأَمْرِ اللهِ قَالَ : يَا أَبَا ذَرَّ اسْمَعْ وَأَطِعْ، وَلَوْ صَلَّيْتَ خَلْفَ أَسْوَدَ فَلَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَاسْتُخْلِفَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، دَعَاهُ فَحَيَّاهُ وَبَكَى، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ : قَدْ سَمِعْتَ الْبَلَاءَ بِسَبَبِي، أَوْ فِي زَمَانِي فَلَمَّا تُوُفِّيَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ وَوَلِيَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، دَعَاهُ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، وَقَالَ : قَدْ سَمِعْتُ قَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيكَ، فَأَعُوذُ بِاللهِ أَنْ أَكُونَ صَاحِبَكَ يَعْنِي أَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ يُصِيبَكَ الْبَلَاءُ بِسَبَبِي، أَوْ فِي زَمَانِي، فَلَمَّا تُوُفِّيَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، وَوَلِيَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا : كُنْتُ قَاعِدًا عِنْدَ عُثْمَانَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، فَاسْتَأْذَنَ أَبُو ذَرَّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، فَقُلْتُ : يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ هُذَا أَبُو ذَرِّ يَسْتَأْذَنُ، قَالَ: ائْذَنْ لَهُ إِنْ شِئْتَ. قَالَ: فَأَذِنْتُ لَهُ، فَدَخَلَ حَتَّى جَلَسَ، فَقَالَ لَهُ عُثْمَانُ: أَنْتَ الَّذِي تَزْعُمُ أَنَّكَ خَيْرٌ مِنْ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا. قَالَ: مَا قُلْتُ هَذَا قَالَ : أَنَا أُقِيمُ عَلَيْكَ الْبَيِّنَةَ. قَالَ أَبُو ذَرٍّ : نَضَّرَ اللَّهُ وَجْهَكَ لَا أَدْرِي مَا بَيِّنَتُكَ، وَقَدْ عَرَفْتَ كَيْفَ قُلْتُ، قَالَ : فَكَيْفَ قُلْتَ، قَالَ: قُلْتُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ أَحَبَّكُمْ إِلَيَّ وَأَقْرَبَكُمْ مِنِّي الَّذِي يَأْخُذُ بِالْعَهْدِ الَّذِي تَرَكْتُهُ عَلَيْهِ حَتَّى يَلْحَقَنِي وَكُلُّكُمْ قَدْ أَصَابَ مِنَ الدُّنْيَا. قَالَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ: الْحَقِّ بِمُعَاوِيَةَ فَأَخْرِجْهُ إِلَى الشَّامِ، فَلَمَّا قَدِمَ إِلَى الشَّامِ أَخَذَ يُعَلِّمُ النَّাসَ، فَأَبْكَى عُيُونَهُمْ وَأَحْزَنَ صُدُورَهُمْ، وَكَانَ فِيمَا يَقُولُ : لَا يَبِيتَنَّ أَحَدُكُمْ وَفِي بَيْتِهِ دِينَارُ وَلَا دِرْهَمُ إِلَّا شَيْءٌ يُنْفِقُهُ فِي سَبِيلِ اللهِ، أَوْ يُعِدُّهُ لِغَرِيمٍ، فَأَبْكَى مُعَاوِيَةَ وَالنَّাসَ، فَبَعَثَ إِلَيْهِ بِأَلْفِ دِينَارٍ فَأَرَادَ أَنْ يُخَالِفَ قَوْلُهُ فِعْلَهُ، وَسَرِيرَتُهُ عَلَانِيَتَهُ، فَأَخَذَ الْأَلْفَ وَقَسَّمَهُ كُلَّهُ فَلَم์ يَبْقَ عِنْدَهُ شَيْءٌ، فَدَعَا مُعَاوِيَةُ الرَّسُولَ فِي الْيَوْمِ الثَّانِي، فَقَالَ لَهُ: اذْهَبْ إِلى أَبِي ذَرٍّ وَقُلْ لَهُ : إِنَّمَا أَرْسَلَنِي بِالْأَلْفِ دِينَارٍ إِلَى غَيْرِكَ فَأَخْطَأْتُ بِهِ إِلَيْكَ، فَجَاءَهُ الرَّسُولُ وَقَالَ لَهُ : أَنْقِذْنِي مِنْ عَذَابٍ مُعَاوِيَةَ، فَإِنَّمَا أَرْسَلَنِي بِأَلْفِ إِلَى غَيْرِكَ، فَأَخْطَأْتُ بِهِ، فَدَفَعْتُهُ إِلَيْكَ، فَقَالَ أَبُو ذَرِّ لِلرَّسُولِ: أَقْرِئُ مُعَاوِيَةَ مِنِّي السَّلَامَ، وَقُلْ لَهُ: مَا أَصْبَحَ عِنْدَنَا مِنْ دَنَانِيرِكَ شَيْءٌ فَإِنْ أَرَدْتَهَا فَانْتَظِرْنَا ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ نَجْمَعْهَا لَكَ، فَلَمَّا رَأَى مُعَاوِيَةَ أَنَّ فِعْلَهُ يُصَدِّقُ قَوْلَهُ، كَتَبَ إِلَى عُثْمَانَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ : إِنْ كَانَ لَكَ بِالشَّامِ حَاجَةٌ، فَأَرْسِلْ إِلَى أَبِي ذَرٍّ وَاسْتَدْعِهِ : قَالَ : فَكَتَبَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ : أَنِ الْحَقِّ بِي قَالَ : فَقَدِمَ أَبُو ذَرٍّ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، وَعُثْمَانُ فِي الْمَسْجِدِ، فَأَقْبَلَ حَتَّى سَلَّمَ عَلَيْهِ ، فَرَدَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ، وَقَالَ لَهُ: كَيْفَ أَنْتَ يَا أَبَا ذَرٍّ؟ قَالَ : بِخَيْرٍ، فَكَيْفَ أَنْتُمْ؟ ثُمَّ خَرَجَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، فَقَامَ أَبُو ذَرَّ إِلَى سَارِيَةٍ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ قَعَدَ، وَجَلَسَ إِلَيْهِ النَّاسُ، فَقَالُوا لَهُ : يَا أَبَا ذَرَ حَدَّثْنَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : نَعَمْ حَدَّثَنِي حَبِيبِي أَنَّ فِي الْإِبِلِ صَدَقَةً، وَفِي الزَّرْعِ صَدَقَةً، وَفِي الدَّرْهَم صَدَقَةً، وَفِي الشَّاةِ صَدَقَةً، وَمَنْ بَاتَ وَفِي بَيْتِهِ دِينَارُ أَوْ دِرْهَمُ لَا يُعِدُّهُ لِغَرِيمِهِ أَوْ يُنْفِقُهُ فِي سَبِيلِ اللهِ، فَهُوَ كَنْزُ يُكْوَى بِهِ يَوْমَ الْقِيَامَةِ. قَالُوا : يَا أَبَا ذَرَ اتَّقِ اللَّهَ وَانْظُرْ مَا تُحَدِّثُ، فَإِنَّ هَذِهِ الْأَمْوَالَ قَدْ فَشَتْ فِي النَّاسِ، فَقَالَ: أَمَا تَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ: وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنْفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشَّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ (التوبة : ٣٤) فَمَكَثَ لَيْلَتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا، فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ عُثْمَانُ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ فَقَالَ : الْحَقِّ بِالرِّبْذَةِ : وَهِيَ قَرْيَةٌ خَرِبَةٌ، فَخَرَجَ إِلَى الرَّبْذَةِ فَوَجَدَهُمْ يَؤُمُّهُمْ أَسْوَدُ، فَقِيلَ لِأَبِي ذَرٍّ : تَقَدَّمْ فَأَبَى وَصَلَّى خَلْفَ الْأَسْوَدِ، وَقَالَ صَدَقَ اللهُ وَرَسُولُهُ قَالَ لِي: اسْمَعْ وَأَطِعْ وَإِنْ صَلَّيْتَ خَلْفَ أَسْوَدَ، وَمَكَثَ هُنَاكَ حَتَّى مَاتَ رَحِمَهُ اللَّهُ.
হযরত আবু যর রাযি. বলেন, নবীজী আমাকে বলেছিলেন, আমার পর তুমি কিছুটা কষ্টের সম্মুখীন হবে। আরজ করলাম, তা কি আল্লাহর রাস্তায়? ইরশাদ করলেন, হ্যাঁ; আল্লাহর রাস্তায়। আরজ করলাম, তা হলে আমি সেটাকে স্বাগত জানাচ্ছি। তিনি ইরশাদ করলেন, আবু যর! তুমি হুকুম পালন করতে থেকো, যদিও কোনো হাবশীর পিছনে নামায পড়তে হয়। হুযুর ﷺ-এর ওফাত হলো। হযরত আবূ বকর রাযি. খলিফা হলেন। তিনি তাঁকে ডেকে পাঠালেন। বললেন, আবু যর! তোমার ব্যাপারে রাসূল-এর বাণী আমি শুনেছি। কাজেই আমি এর থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই যে, আমার কারণে কিংবা আমার কালে তোমার কোনো কষ্ট হবে। হযরত আবু বকর রাযি.-এর মৃত্যুর পর হযরত উমর রাযি. খলিফা হলেন। তিনিও তাঁকে ডেকে এনে তাঁর প্রশংসা করে বললেন, তোমার ব্যাপারে আমি আল্লাহর রাসূলের বাণী শুনেছি। আমি তোমার এমন সাথী হওয়া থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই যে, আমার কারণে কিংবা আমার কালে তোমার কোনো কষ্ট হবে। হযরত উমর রাযি.-এর ওফাতের পর হযরত উসমান রাযি. খলিফা হলেন। বর্ণনাকারী হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, আমি উসমান রাযি.-এর নিকট বসা ছিলাম। এ সময় হযরত আবু যর অনুমতি চাইলেন। আমি বললাম, আমিরুল মুমেনিন! আবু যর অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন, চাইলে তাঁকে অনুমতি দাও। হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, আমি তাঁকে অনুমতি দিলাম। তিনি এসে বসে পড়লেন। হযরত উসমান রাযি. তাঁকে লক্ষ করে বললেন, তোমার কি এই ধারণা যে, তুমি আবূ বকর এবং উমর থেকে উত্তম? তিনি বললেন, এ কথা আমি কখনও বলিনি। হযরত উসমান রাযি. বলেন, এ ব্যাপারে আমি সাক্ষী আনতে পারি। হযরত আবু যর রাযি. বললেন, আল্লাহ আপনাকে সর্বদা সুখী ও খুশি রাখুন। আপনার সাক্ষীর বাস্তবতা তো আমি জানি না। তবে আমি যা বলেছি, তা আমার স্মরণ আছে। হযরত উসমান জিজ্ঞাসা করলেন, তা কী? তিনি বললেন, আমি এরূপ বলেছি যে, রাসূল ইরশাদ করেছেন, তোমাদের মধ্যে আমার সবচেয়ে বেশি প্রিয় ও আপনজন সে হবে, যে আমৃত্যু এই অঙ্গীকারের ওপর থাকবে। আর আমি ছাড়া তোমাদের সবাই দুনিয়ার কিছুটা হলেও গ্রহণ করেছ। হযরত উসমান রাযি. তাঁকে হযরত মুআবিয়া রাযি.-এর নিকট শাম যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে তাঁকে শাম পাঠিয়ে দিলেন। তিনি সেখানে পৌঁছে লোকদের তালিম দিতে লাগলেন। তাদের খুব কাঁদালেন। তাদের মনে চিন্তা জাগরিত করে তুললেন। তিনি যে-সব কথা বলতেন, তার মধ্যে এটাও আছে যে, কেউ ঘরে দীনার-দিরহাম নিয়ে রাত্রি যাপন করবে না। হ্যাঁ, যদি তা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করার জন্য হয় বা ঋণ পরিশোধ করার জন্য হয়, তবে ভিন্ন কথা। তিনি হযরত মুআবিয়া রাযি.কেও কাঁদাতেন; অন্যদেরও কাঁদাতেন। হযরত মুআবিয়া রাযি. তাঁর জন্য একবার ১০০০ দীনার পাঠালেন; দেখতে চেয়েছিলেন, তাঁর কথায় আর কাজে মিল আছে কিনা। তিনি ওই এক হাজার দিনার নিয়ে সবগুলো বণ্টন করে দিলেন। তার নিকট কিছুই রইল না। যাকে দিয়ে পাঠিয়েছিলেন, তাঁকে ডেকে হযরত মুআবিয়া রাযি. বললেন আবূ যরের নিকট গিয়ে বল, আমাকে এক হাজার দিনার দিয়ে অন্য কারও নিকট পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ভুলে তা আমি আপনার নিকট নিয়ে এসেছি। ওই দূত তাঁর নিকট এল। বলল, আমাকে মুআবিয়ার শাস্তি থেকে বাঁচান। ওই এক হাজার দীনার নিয়ে মুআবিয়া আমাকে অন্য কারও নিকট পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু ভুলে তা আমি আপনার নিকট নিয়ে এসেছি। হযরত আবু যর রাযি. বললেন, মুআবিয়াকে গিয়ে আমার সালাম বলো। আর বলো, সেগুলো তো খরচ হয়ে গেছে। আমার নিকট কিছুই বাকী নেই। তবে যদি ফিরিয়ে নিতেই হয়, তা হলে আমাকে তিন দিনের সময় দিক। এর মধ্যে আমি সেগুলো ব্যবস্থা করে দেবো। হযরত মুআবিয়া রাযি. যখন দেখতে পেলেন, তাঁর কথায় কাজে মিল আছে, তিনি হযরত উসমান রাযি.-এর নিকট লিখে পাঠালেন, শামে যদি আপনার কোনো কাজ থাকে, তা হলে সাথে করে আবু যরকেও ডেকে নিন। বর্ণনাকারী বলেন, হযরত উসমান রাযি. চিঠির মাধ্যমে ডেকে পাঠালেন। হযরত আবু যর রাযি. যখন মদিনা পৌঁছলেন তখন হযরত উসমান রাযি. মসজিদে ছিলেন। তিনি এগিয়ে গিয়ে সালাম বললেন। সালামের জবাব দিয়ে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আবু যর! তোমার কী অবস্থা? আবূ যর রাযি. বললেন, ভালো। আপনারা কেমন আছেন? এরপর হযরত উসমান রাযি. উঠে গেলেন। আবু যর রাযি. একটি খুঁটির দিকে গিয়ে দু'রাকআত নামায পড়লেন। এরপর বসে পড়লেন। লোকজন তাঁর পাশে সমবেত হয়ে গেল। বলল, আবূ যর! আমাদেরকে নবীজীর হাদীস শোনান। তিনি বললেন ঠিক আছে; শোনাচ্ছি। আমার হাবিব বলেছেন, উটের মধ্যে সদকা আছে। শস্যের মধ্যে সদকা আছে। দিরহামের সদকা আছে। বকরির মধ্যে সদকা আছে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় খরচ করার উদ্দেশ্য ছাড়া, বা ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্য ছাড়া দীনার-দিরহাম ঘরে রাখে, তা হলো গচ্ছিত সম্পদ, যা নিয়ে কিয়ামতের দিন তাঁকে দাগ দেওয়া হবে।
লোকজন বলল, আবু যর! আল্লাহকে ভয় কর। দেখ, তুমি কী বলছ? কারণ, এরূপ সম্পদ তো ব্যাপক হয়েছে। তিনি বললেন, তোমরা কুরআন পড়ো না- وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنْفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ 'আর যারা স্বর্ণ-রুপা জমা রাখে এবং তা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে না, তাদেরকে কঠিন শাস্তির সুসংবাদ শুনিয়ে দাও।'
তিনি সেখানে দুই বা তিন দিন ছিলেন। এরপর হযরত উসমান রাযি. তাঁর নিকট সংবাদ পাঠালেন যে, তুমি রবযায় চলে যাও। রবযা একটি বিরান গ্রাম। তিনি সেদিকে রওয়ানা হয়ে গেলেন। সেখানে একজন হাবশীকে ইমামতী করতে দেখলেন। হযরত আবু যর রাযি.কে বলা হলো, আপনি সামনে যান। তিনি তা করতে অস্বীকৃতি জানালেন এবং হাবশীর পিছনে নামায পড়লেন এবং বললেন, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল আমাকে সত্য বলেছেন। বলেছেন, শোনো এবং মান্য কর, যদিও তোমাকে হাবশির পিছনে নামায পড়তে হয়। আমৃত্যু তিনি সেখানেই থাকেন।
টিকাঃ
৬৪০. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৯৬।
৬৪১. হিলইয়াতুল আউলিয়া: খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-১৬২; মাজমাউয যাওয়ায়েদ খণ্ড-৯, পৃষ্ঠা-৩২৭।