📄 কল্যাণ কর্মে দ্রুত কর
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ছয়টি বিষয় আবির্ভাবের পূর্বে তোমরা বেশি বেশি নেক কাজ কর। যথা- ১. পশ্চিমাকাশে সূর্য উদিত হওয়া। ২. দাজ্জাল বের হওয়া। ৩. ধোঁয়া বের হওয়া। ৪. দাব্বাতুল আরদ আত্মপ্রকাশ করা। ৫. মৃত্যু আসা। ৬. কিয়ামত কায়েম হওয়া।
টিকাঃ
৬২৯. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৪৭; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৮৩০৩।
📄 ভূমিধস ও আকৃতির বিকৃতি সাধন
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সাবাত রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অচিরেই তোমাদের মাঝে ভূমিধস, আকৃতি পরিবর্তন ও প্রস্তর নিক্ষেপ হবে। সাহাবীরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর সাক্ষ্য দিবে? রাসূল বলেন, হ্যাঁ, যখন তোমাদের মাঝে চারটি বিষয় দেখা দিবে। ১. নর্তকী ২. গান-বাদ্য ৩. মদ ৪. রেশমী পোশাক।
"আপনি বলে দিন, তিনি শক্তিমান এ ব্যাপারে যে, তোমাদের উপর কোনো শাস্তি পাঠাবেন। তোমাদের উপর দিক থেকে অথবা নিচের দিক থেকে ও তোমাদেরকে দলে-উপদলে বিভক্ত করবেন এবং এককে অন্যের উপর আক্রমণের স্বাদ আস্বাদন করাবেন।" উবাই ইবনে কা'ব রাযি. এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, এখানে চারটি বিষয়ের কথা উল্লেখ আছে, যা অবশ্যই সংঘটিত হবে। দু'টি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকালের পঁচিশ বছর পর সংঘটিত হয়েছে অর্থাৎ মানুষ বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত হয়েছে এবং একে অন্যের উপর আক্রমণ করেছে। আর বাকী দু'টি অবশ্যই সংঘটিত হবে। তা হলো ভূমিধস ও ভূমিকম্পন।
টিকাঃ
৬৩০. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২২১১; হাদীসটি সহীহ [সহীহুল জামে: হাদীস-৩৬৬৫]
৬৩১. সূরা আনআম: আয়াত-৬৫
৬৩২. দুররে মানসুর: ৩/২৮৪; তাফসীরে ইবনে কাসীর: ২/১৪৩।
📄 ধোঁয়ার শাস্তি
হযরত মাসরুক রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদে এক ব্যক্তি বয়ান করছিলেন যে, কিয়ামতের দিন আকাশ থেকে ধোঁয়া নেমে আসবে। তা মুনাফিকদের নাকে কানে ঢুকে যাবে এবং মুমিনদের সর্দির ন্যায় ধরবে। মাসরুক রহ. বলেন, আমি তখন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি.-এর নিকট গিয়ে একথা বললাম। তিনি তখন হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। বললেন হে লোকেরা! তোমাদের কারো নিকট কিছু জানা থাকলে, সে যেন তা বলে। জানা না থাকলে যেন বলে, আল্লাহ তা'আলাই ভালো জানেন।
আল্লাহ তা'আলা তার নবীকে বলেছেন-
"অতএব অপেক্ষা করুন সেদিনের, যেদিন স্পষ্ট ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হবে আকাশ।"
টিকাঃ
৬৩৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-৪৯৭৪,৪৮২২; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৯৯৮।
৬৩৪. সূরা দুখান: আয়াত-১০
📄 হযরত উমর রাযি.-এর প্রতি হযরত ঈসা আ.-এর এক খাদেমের পয়গাম
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি. কাদিসিয়ায় থাকাকালীন সময়ে উমর রাযি. তাঁর নিকট পত্র লিখলেন। তিনি লিখলেন যে, নাযলা ইবনে মুআবিয়া রাযি. কে হালওয়ান নামক স্থানে প্রেরণ করুন। তখন সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি. নাযলা ইবনে মুআবিয়া রাযি. কে তিন শত অশ্বারোহীসহ সেখানে প্রেরণ করলেন। তারা চলার পথে হালওয়ানের আশেপাশে আক্রমণ করলেন এবং অনেক গনীমতের মাল ও গোলাম-বাঁদি লাভ করলেন। ফেরার পথে তারা একটি পাহাড়ে এসে যাত্রা বিরতি দিলেন। নাযলা রাযি. দাঁড়িয়ে নামাযের জন্য আযান দিলেন। বললেন, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার তখন হঠাৎ পাহাড় থেকে এক ব্যক্তি আওয়াজ দিয়ে বলল, হে নাযলা। তুমি আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করলে। তারপর তিনি বললেন- আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ উক্ত ব্যক্তি আওয়াজ দিয়ে বলল, হে নাযলা! এটি ইখলাসের কালেমা। তারপর তিনি বললেন- আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ উক্ত ব্যক্তি আওয়াজ দিয়ে বলল, তার সম্পর্কেই তো ঈসা আ. আমাদের সুসংবাদ দিয়েছেন। তারপর তিনি বললেন- হাইয়্যা আলাস সালাহ উক্ত ব্যক্তি আওয়াজ দিয়ে বলল, সুসংবাদ ঐ ব্যক্তির জন্য, যে নামাযে যায় এবং নিয়মিত নামায আদায় করে। তারপর তিনি বললেন- হাইয়্যা আলাল ফালাহ উক্ত ব্যক্তি আওয়াজ দিয়ে বলল, যে মুহাম্মাদ-এর ডাকে সাড়া দিয়েছে, সে সফল হয়েছে। আর এর মধ্যেই মুহাম্মাদ-এর উম্মতের সফলতা রয়েছে। তারপর তিনি বললেন, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বলল, হে নাযলা! তুমি এমন ইখলাস অর্জন করেছ, যার কারণে আল্লাহ তা'আলা তোমার শরীরকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।
নাযলা রাযি. আযান শেষ করে বললেন, হে ব্যক্তি! আল্লাহ আপনার উপর রহম করুন! আপনি কে? কোনো ফেরেশতা, না কোনো জীন, না আল্লাহর কোনো বান্দা? আপনি আমাদেরকে আপনার আওয়াজ শুনিয়েছেন, এখন আপনার আকৃতি দেখান। আমরা আল্লাহর, তাঁর রাসূলের ও উমর রাযি.-এর প্রতিনিধি। তখন অকস্মাৎ বিশাল আকৃতির একজন বৃদ্ধ বেরিয়ে এলো। সাদা ধবধবে ছিল তার চুল ও দাড়ি। পরণে ছিল পশমের পোশাক। তিনি বললেন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আমরা সালামের উত্তর দিলাম। অতঃপর বললাম, আপনি কে? আল্লাহ আপনার প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। বৃদ্ধ বললেন, আমি যারনাব ইবনে ইয়া'লা। ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর গোলাম। তিনি আমাকে এই পাহাড়ে অবস্থানের হুকুম দিয়েছেন এবং আমার জন্য দোয়া করেছেন, যেন আমি তাঁর আকাশ থেকে অবতীর্ণ হওয়া পর্যন্ত আয়ু লাভ করি। যেহেতু মুহাম্মাদ-এর সাথে আমার সাক্ষাত হয়নি, তাই উমর রাযি.-কে আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাবে এবং তাঁকে বলবে, হে উমর! অবিচল থেকো এবং মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর। কারণ, কিয়ামত নিকটবর্তী হয়ে গেছে। আর তাঁকে এসব বিষয় জানিয়ে দিয়ো, যা এখন আমি তোমাদেরকে বলছি। এগুলো যখন মুহাম্মদ-এর উম্মতের মাঝে প্রকাশ পাবে, তখন নির্জনে চলে যাবে। যখন (সমকামিতার মাধ্যমে) পুরুষ পুরুষ দ্বারা এবং নারী নারী দ্বারা তৃপ্ত হবে, অন্য বংশকে নিজের বংশ বলবে, তাদের বড়রা ছোটদের স্নেহ করবে না এবং ছোটরাও বড়দের সম্মান করবে না, সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ ছেড়ে দিবে, টাকা-পয়সা উপার্জনের উদ্দেশ্যে দ্বীনের ইলম শিখবে, গ্রীষ্মকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে, সন্তান পিতা-মাতার উপর ক্ষিপ্ত হবে, নিচু লোকের সংখ্যা বেড়ে যাবে, সম্মানিত লোকের সংখ্যা হ্রাস পাবে, লোকেরা প্রাসাদ নির্মাণ করবে, প্রবৃত্তির অনুসরণ করবে, দুনিয়ার বিনিময়ে দীনকে বিক্রয় করে দিবে, মানুষ হত্যা সাধারণ বিষয়ে পরিণত হবে, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন হবে, অর্থের বিনিময়ে সহজ ফয়সালা দিবে, উঁচু উঁচু মিনার তৈরি করবে, কুরআনকে অলঙ্কৃত করবে, মসজিদকে সুসজ্জিত করবে, সুদ-ঘুষ ব্যাপক হবে, ধনবান ব্যক্তিদেরকে সম্মানিত মনে করা হবে, মেয়েরা ঘোড়ায় আরোহণ করবে। এরপর তিনি আমাদের থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন।
বলা হয়, এরপর সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি. চার হাজার লোক নিয়ে সেখানে চল্লিশ দিন অবস্থান করেন এবং প্রত্যেক ওয়াক্তে তিনি আযান দেন। কিন্তু আর কোনো উত্তর শোনা যায়নি।
টিকাঃ
৬৩৫. ইমাম যাহাবী বলেন, হাদীসটি বাতিল [মীযানুল এতেদাল: ২/৫৪৫-৫৪৬]।