📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ইয়াজুজ-মাজুজ

📄 ইয়াজুজ-মাজুজ


আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় ইয়াজুজ-মাজুজ প্রতিদিন সুড়ঙ্গ পথ খনন করতে থাকে। এমনকি যখন তারা সূর্যের আলোকরশ্মি দেখার মত অবস্থায় পৌঁছে যায় তখন তাদের নেতা বলে, তোমরা ফিরে চলো, আগামীকাল এসে আমরা খনন কাজ শেষ করব। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা (রাতের মধ্যে) সেই প্রাচীরকে আগের চেয়ে মযবুত অবস্থায় ফিরিয়ে দেন। যখন তাদের আবির্ভাবের সময় হবে এবং আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে মানবকুলের মধ্যে পাঠাতে চাইবেন, তখন তারা খনন কাজ করতে থাকবে। শেষে যখন তারা সূর্যরশ্মি দেখার মত অবস্থায় পৌঁছবে তখন তাদের নেতা বলবে, এবার ফিরে চলো, ইনশাআল্লাহ আগামীকাল অবশিষ্ট খনন কাজ সম্পন্ন করব। তারা ইনশাআল্লাহ শব্দ ব্যবহার করবে। সেদিন তারা ফিরে যাবে এবং প্রাচীর তাদের রেখে যাওয়া ক্ষীণ অবস্থায় থেকে যাবে। এ অবস্থায় তারা খননকাজ শেষ করে লোকালয়ে বের হয়ে আসবে এবং সমুদ্রের পানি পান করে শেষ করবে। মানুষ তাদের ভয়ে পালিয়ে দুর্গের মধ্যে আশ্রয় নিবে। তারা আকাশপানে তাদের তীর নিক্ষেপ করবে। রক্তে রঞ্জিত হয়ে তা তাদের দিকে ফিরে আসবে। তখন তারা বলবে, আমরা পৃথিবীবাসীদের চরমভাবে পরাভূত করেছি এবং আসমানবাসীদের উপরও বিজয়ী হয়েছি। অতঃপর আল্লাহ তাদের ঘাড়ে এক ধরনের কীট সৃষ্টি করবেন। কীটগুলো তাদের হত্যা করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সেই মহান সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! ভূপৃষ্ঠের গবাদি পশুগুলো সেগুলোর গোশত খেয়ে মোটাতাজা হয়ে মাংসল হবে।

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. বলেন, ইয়াজুজ মাজুজ বের হওয়ার পরও লোকজন হজ্ব করবে, গাছ লাগাবে।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন ইয়াজুজ মাজুজের কেউ মারা গেলে, হাজারের চেয়ে বেশি তার সন্তান সন্তুতি রেখে যায়।

টিকাঃ
৬২৭. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩১৫৩; সুনানে ইবন মাজাহ: হাদীস-৩৩১৪; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১০৬৩২; হাদীসটি হাসান সহীহ [তিরমিযী, শুয়াইব আরনাউত]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 নানান ফেতনার উৎপত্তি

📄 নানান ফেতনার উৎপত্তি


হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, আমার নিকট এক হাদীস পৌঁছেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের পূর্বে রাতের অন্ধকারের ন্যায় ফেতনা প্রকাশিত হবে। তখন মানুষের অন্তর মৃত্যুবরণ করবে, যেমন দেহ মৃত্যুবরণ করে। মানুষ সকালে মুমিন থাকবে, আর সন্ধ্যায় কাফের হয়ে যাবে। অনুরূপ সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে, আর সকালে কাফের হয়ে যাবে। দুনিয়ার অল্পবস্তুর বিনিময়ে মানুষ দীনকে বিক্রি করে দিবে।

টিকাঃ
৬২৮. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১১৮; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২১৯৭।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কল্যাণ কর্মে দ্রুত কর

📄 কল্যাণ কর্মে দ্রুত কর


হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ছয়টি বিষয় আবির্ভাবের পূর্বে তোমরা বেশি বেশি নেক কাজ কর। যথা- ১. পশ্চিমাকাশে সূর্য উদিত হওয়া। ২. দাজ্জাল বের হওয়া। ৩. ধোঁয়া বের হওয়া। ৪. দাব্বাতুল আরদ আত্মপ্রকাশ করা। ৫. মৃত্যু আসা। ৬. কিয়ামত কায়েম হওয়া।

টিকাঃ
৬২৯. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৪৭; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৮৩০৩।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ভূমিধস ও আকৃতির বিকৃতি সাধন

📄 ভূমিধস ও আকৃতির বিকৃতি সাধন


হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সাবাত রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অচিরেই তোমাদের মাঝে ভূমিধস, আকৃতি পরিবর্তন ও প্রস্তর নিক্ষেপ হবে। সাহাবীরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর সাক্ষ্য দিবে? রাসূল বলেন, হ্যাঁ, যখন তোমাদের মাঝে চারটি বিষয় দেখা দিবে। ১. নর্তকী ২. গান-বাদ্য ৩. মদ ৪. রেশমী পোশাক।

"আপনি বলে দিন, তিনি শক্তিমান এ ব্যাপারে যে, তোমাদের উপর কোনো শাস্তি পাঠাবেন। তোমাদের উপর দিক থেকে অথবা নিচের দিক থেকে ও তোমাদেরকে দলে-উপদলে বিভক্ত করবেন এবং এককে অন্যের উপর আক্রমণের স্বাদ আস্বাদন করাবেন।" উবাই ইবনে কা'ব রাযি. এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, এখানে চারটি বিষয়ের কথা উল্লেখ আছে, যা অবশ্যই সংঘটিত হবে। দু'টি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকালের পঁচিশ বছর পর সংঘটিত হয়েছে অর্থাৎ মানুষ বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত হয়েছে এবং একে অন্যের উপর আক্রমণ করেছে। আর বাকী দু'টি অবশ্যই সংঘটিত হবে। তা হলো ভূমিধস ও ভূমিকম্পন।

টিকাঃ
৬৩০. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২২১১; হাদীসটি সহীহ [সহীহুল জামে: হাদীস-৩৬৬৫]
৬৩১. সূরা আনআম: আয়াত-৬৫
৬৩২. দুররে মানসুর: ৩/২৮৪; তাফসীরে ইবনে কাসীর: ২/১৪৩।

ফন্ট সাইজ
15px
17px