📄 ঈসা আ.-এর অবতরণ
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নবীগণ পরস্পর বৈমাত্রেয় ভাই। তাদের মা ভিন্ন ভিন্ন হলেও, ধর্ম এক ও অভিন্ন। আমি তাদের মাঝে ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর অধিক নিকটতর। আমার ও তাঁর মাঝে কোনো নবী নেই। তিনি আমার উম্মতের মাঝে আমার প্রতিনিধি হিসাবে আগমন করবেন। তিনি এসে শুকর হত্যা করবেন, ক্রুশ ধ্বংস করবেন, ট্যাক্স উঠিয়ে দিবেন, যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটাবেন, জুলুম ও অত্যাচারে ভরপুর পৃথিবীকে ন্যায় ও ইনসাফে পরিপূর্ণ করবেন। ফলে সিংহ উটের সাথে, বাঘ গরুর সাথে এবং নেকড়ে মেষের সাথে চরে বেড়াবে। আর শিশুরা সাপ নিয়ে খেলা করবে।
টিকাঃ
৬২৫. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৯২৭০; সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস-৬৮১৪; হাদীসটি সহীহ [শুয়াইব আরনাউত]।
📄 দাজ্জাল ও ইহুদীদের হত্যা
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. অবতরণ করবেন। দাজ্জাল যখন তাঁকে দেখবে, সে চর্বির ন্যায় গলে যাবে। তিনি তাঁকে হত্যা করবেন। ইহুদীরা তাঁর থেকে বিক্ষিপ্ত হয়ে যাবে। তিনি তাদের হত্যা করবেন। এমনকি পাথর ইহুদীদেরকে দেখিয়ে বলবে, হে মুসলমান! এই যে ইহুদী। তাকে হত্যা কর।
টিকাঃ
৬২৬. সুনানে আবী দাউদ হাদীস-৪৩২২; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-৪০৭৭; সনদ সহীহ [ফাতহুল বারী: ৬/৭০৬]।
📄 ইয়াজুজ-মাজুজ
আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় ইয়াজুজ-মাজুজ প্রতিদিন সুড়ঙ্গ পথ খনন করতে থাকে। এমনকি যখন তারা সূর্যের আলোকরশ্মি দেখার মত অবস্থায় পৌঁছে যায় তখন তাদের নেতা বলে, তোমরা ফিরে চলো, আগামীকাল এসে আমরা খনন কাজ শেষ করব। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা (রাতের মধ্যে) সেই প্রাচীরকে আগের চেয়ে মযবুত অবস্থায় ফিরিয়ে দেন। যখন তাদের আবির্ভাবের সময় হবে এবং আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে মানবকুলের মধ্যে পাঠাতে চাইবেন, তখন তারা খনন কাজ করতে থাকবে। শেষে যখন তারা সূর্যরশ্মি দেখার মত অবস্থায় পৌঁছবে তখন তাদের নেতা বলবে, এবার ফিরে চলো, ইনশাআল্লাহ আগামীকাল অবশিষ্ট খনন কাজ সম্পন্ন করব। তারা ইনশাআল্লাহ শব্দ ব্যবহার করবে। সেদিন তারা ফিরে যাবে এবং প্রাচীর তাদের রেখে যাওয়া ক্ষীণ অবস্থায় থেকে যাবে। এ অবস্থায় তারা খননকাজ শেষ করে লোকালয়ে বের হয়ে আসবে এবং সমুদ্রের পানি পান করে শেষ করবে। মানুষ তাদের ভয়ে পালিয়ে দুর্গের মধ্যে আশ্রয় নিবে। তারা আকাশপানে তাদের তীর নিক্ষেপ করবে। রক্তে রঞ্জিত হয়ে তা তাদের দিকে ফিরে আসবে। তখন তারা বলবে, আমরা পৃথিবীবাসীদের চরমভাবে পরাভূত করেছি এবং আসমানবাসীদের উপরও বিজয়ী হয়েছি। অতঃপর আল্লাহ তাদের ঘাড়ে এক ধরনের কীট সৃষ্টি করবেন। কীটগুলো তাদের হত্যা করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সেই মহান সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! ভূপৃষ্ঠের গবাদি পশুগুলো সেগুলোর গোশত খেয়ে মোটাতাজা হয়ে মাংসল হবে।
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. বলেন, ইয়াজুজ মাজুজ বের হওয়ার পরও লোকজন হজ্ব করবে, গাছ লাগাবে।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন ইয়াজুজ মাজুজের কেউ মারা গেলে, হাজারের চেয়ে বেশি তার সন্তান সন্তুতি রেখে যায়।
টিকাঃ
৬২৭. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩১৫৩; সুনানে ইবন মাজাহ: হাদীস-৩৩১৪; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১০৬৩২; হাদীসটি হাসান সহীহ [তিরমিযী, শুয়াইব আরনাউত]।
📄 নানান ফেতনার উৎপত্তি
হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, আমার নিকট এক হাদীস পৌঁছেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের পূর্বে রাতের অন্ধকারের ন্যায় ফেতনা প্রকাশিত হবে। তখন মানুষের অন্তর মৃত্যুবরণ করবে, যেমন দেহ মৃত্যুবরণ করে। মানুষ সকালে মুমিন থাকবে, আর সন্ধ্যায় কাফের হয়ে যাবে। অনুরূপ সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে, আর সকালে কাফের হয়ে যাবে। দুনিয়ার অল্পবস্তুর বিনিময়ে মানুষ দীনকে বিক্রি করে দিবে।
টিকাঃ
৬২৮. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১১৮; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২১৯৭।