📄 দাব্বাতুল আরদ
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না পরিবারের লোকেরা একই দস্তরখানে একত্রিত হবে এবং তারা চিনবে তাদের কে কাফের আর কে মুমিন। জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, এটা কিভাবে সম্ভব? তিনি বললেন, দাব্বাতুল আরদ আত্মপ্রকাশ করবে এবং প্রত্যেক মানুষের সেজদার স্থান ছুঁয়ে দিবে। এতে মুমিনের সেজদার স্থানটি উজ্জ্বল হয়ে যাবে এবং তা গোটা চেহারায় ছড়িয়ে পড়বে। ফলে তার চেহারা উজ্জ্বল ঝলমল করতে থাকবে। আর কাফেরের সেজদার স্থানটি ছুঁয়ে দিলে, কালো দাগে রূপান্তরিত হবে এবং তারপর তা গোটা চেহারায় ছড়িয়ে পড়বে। ফলে তার চেহারা কালো হয়ে যাবে। তখন তারা বাজারে বেচাকেনা করবে এবং বলবে, হে মুমিন! কত দিয়ে বিক্রয় করবে? হে কাফের! কত দিয়ে ক্রয় করবে? তারা একে অপরের কথার উত্তর দেবে না।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দাব্বাতুল আরদের চারটি পা হবে। পাখির মতো পশম বিশিষ্ট হবে। তিহামার এক উপত্যকা থেকে আত্মপ্রকাশ করবে।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. বলেন- "যখন প্রতিশ্রুতি (কিয়ামত) সমাগত হবে, তখন আমি তাদের সামনে ভূগর্ভ থেকে একটি প্রাণী নির্গত করব। সে মানুষের সাথে কথা বলবে। এ কারণে যে, মানুষ আমার নিদর্শনসমূহ বিশ্বাস করত না।"
এ আয়াতে الناس দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, সেসব লোক যারা ভালোকাজের আদেশ করতো না বা মন্দকাজের নিষেধ করতো না।
টিকাঃ
৬২০. কিতাবুল ফিতান লি-আবী আমর আদ-দানী: ৬/১২৫৪।
৬২১. সূরা নামল: আয়াত-৮২
📄 সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়া
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পশ্চিমাকাশ থেকে সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। আর পশ্চিমাকাশ থেকে সূর্যোদয় হলে সকল মানুষ ঈমান আনবে। সে দিন যারা পূর্বে ঈমান আনেনি বা ঈমান দ্বারা কল্যাণকর কিছু করেনি, তাদের ঈমান তাদের কোনো কাজে আসবে না।
হযরত ইবনে আবী আওফা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অতিসত্ত্বর তোমাদের নিকট এমন এক রাত আসবে, যা তোমাদের এই রাতগুলোর তিন রাতের সমপরিমাণ হবে। সে রাত এলে তাহাজ্জুদের নামায আদায়কারীরা চিনে ফেলবে। তারা ঘুম থেকে উঠে ওযীফা পাঠ করবে, তারপর ঘুমিয়ে যাবে এবং উঠে ওযীফা পাঠ করবে। এমনি অবস্থায় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়বে। আর বলবে, এ কী ব্যাপার! তারপর ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় মসজিদে ছুটে আসবে। তখন পশ্চিমাকাশে সূর্য উদিত হবে। সূর্যটি মধ্য আকাশে পৌঁছে ফিরে আসবে। তারপর পূর্বদিক থেকে উদিত হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
"যেদিন আপনার পালনকর্তার কিছু নিদর্শন প্রকাশিত হবে, সেদিন এমন ব্যক্তির ঈমান আনয়ন তার জন্য ফলপ্রসূ হবে না, যে পূর্ব থেকে ঈমান আনেনি কিংবা স্বীয় ঈমান অনুযায়ী কোনোরূপ সৎকর্ম করেনি। বলুন, তোমরা অপেক্ষা কর। আমিও অপেক্ষা করছি।"
টিকাঃ
৬২২. সহীহ বুখারী: হাদীস-৪৬৩৫, ৪৬৩৬; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৫৭।
৬২৩. হাদীসটির সনদ যঈফ [ইতিহাফুল খিয়ারাত: ৮/১০৯]।
৬২৪. সূরা আনআম: আয়াত-১৫৮
📄 ঈসা আ.-এর অবতরণ
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নবীগণ পরস্পর বৈমাত্রেয় ভাই। তাদের মা ভিন্ন ভিন্ন হলেও, ধর্ম এক ও অভিন্ন। আমি তাদের মাঝে ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর অধিক নিকটতর। আমার ও তাঁর মাঝে কোনো নবী নেই। তিনি আমার উম্মতের মাঝে আমার প্রতিনিধি হিসাবে আগমন করবেন। তিনি এসে শুকর হত্যা করবেন, ক্রুশ ধ্বংস করবেন, ট্যাক্স উঠিয়ে দিবেন, যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটাবেন, জুলুম ও অত্যাচারে ভরপুর পৃথিবীকে ন্যায় ও ইনসাফে পরিপূর্ণ করবেন। ফলে সিংহ উটের সাথে, বাঘ গরুর সাথে এবং নেকড়ে মেষের সাথে চরে বেড়াবে। আর শিশুরা সাপ নিয়ে খেলা করবে।
টিকাঃ
৬২৫. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৯২৭০; সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস-৬৮১৪; হাদীসটি সহীহ [শুয়াইব আরনাউত]।
📄 দাজ্জাল ও ইহুদীদের হত্যা
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. অবতরণ করবেন। দাজ্জাল যখন তাঁকে দেখবে, সে চর্বির ন্যায় গলে যাবে। তিনি তাঁকে হত্যা করবেন। ইহুদীরা তাঁর থেকে বিক্ষিপ্ত হয়ে যাবে। তিনি তাদের হত্যা করবেন। এমনকি পাথর ইহুদীদেরকে দেখিয়ে বলবে, হে মুসলমান! এই যে ইহুদী। তাকে হত্যা কর।
টিকাঃ
৬২৬. সুনানে আবী দাউদ হাদীস-৪৩২২; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-৪০৭৭; সনদ সহীহ [ফাতহুল বারী: ৬/৭০৬]।