📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 বড়দের ভোর

📄 বড়দের ভোর


রবি' বিন খাইসাম রহ.কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, আপনি ভোর করলেন কীভাবে? তিনি বললেন, দুর্বল ও পাপী অবস্থায়; রিজিক খাচ্ছি আর মৃত্যুক্ষণ গুণছি।

মালেক বিন দিনার রহ.কে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনার ভোর হলো কীভাবে? তিনি বললেন, তার ভোর আর কেমন হবে, সে এক ঘর থেকে আরেক ঘরে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে; অথচ জানা নেই, সে জান্নাতে যাবে না জাহান্নামে।

হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালামের ব্যাপারে বর্ণিত, তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, হে রুহুল্লাহ! আপনার ভোর কী অবস্থায় হলো? তিনি বললেন, এই অবস্থায় যে, আমি যা চাই, তার মালিক আমি নই; যেটার ভয় করি, তা প্রতিহত করার শক্তি আমার নেই। নিজের আমলের সাথে আবদ্ধ হয়ে আছি। ভালো মন্দ সবই আরেকজনের হাতে। আমার থেকে অধিক মুখাপেক্ষী আর কেউ নেই।

আমের বিন কায়স রহ.কে একব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, তোমার ভোর হলো কীভাবে? তিনি বললেন, গুনাহর বোঝা মাথায় নিয়ে ভোর করেছি; আর আল্লাহ তা'আলা আমাকে তার নিয়ামতে ডুবিয়ে রেখেছেন। জানা নেই, আমার ইবাদত আমার গুনাহের কাফ্ফারা হবে নাকি আল্লাহর নিয়ামতের শোকর হিসেবে গণ্য হবে?

কথিত আছে, মুহাম্মদ বিন সিরিন রহ. এক ব্যক্তিকে তার অবস্থা জিজ্ঞাসা করলেন। সে বলল, সে ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে, যার ওপর পাঁচশ' দিরহাম ঋণ রয়েছে; আবার পরিবারে লোকজনও আছে। একথা শুনে তিনি ঘরে গিয়ে এক হাজার দিরহাম এনে তাকে দিয়ে বললেন, পাঁচশ' দিরহামের ঋণ শোধ কর; আর বাকি পাঁচশ' দিরহাম পরিবারের লোকজনের জন্য ব্যয় কর। এরপর তিনি আর কাউকে তার অবস্থা জিজ্ঞাসা করতেন না- সে না আবার তার এমন অবস্থা বর্ণনা করে, যার সংশোধন তার জিম্মায় এসে পড়ে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 চারটি জিনিসের শোকর

📄 চারটি জিনিসের শোকর


হযরত ইবরাহীম বিন আদহাম রহ. বলেন, প্রত্যেক প্রভাতকারীর ওপর চারটি জিনিসের শোকর আদায় করা ওয়াজিব। প্রথম শোকর হিসেবে বলবে-
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي نَوَّرَ قَلْبِي بِنُورِ الْهُدَى، وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُؤْمِنِينَ، وَلَمْ يَجْعَلْنِي ضَالًّا.
'সকল প্রশংসা সে সত্তার, যিনি আমার অন্তরকে হেদায়াতের আলো দ্বারা আলোকিত করেছেন, আমাকে ঈমানদারদের মধ্যে রেখেছেন এবং আমাকে পথভ্রষ্ট করেননি।'
দ্বিতীয় শোকর এভাবে করবে-
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَنِي مِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
'সকল প্রশংসা সে সত্তার, যিনি আমাকে মুহাম্মদ ﷺ-এর উম্মত বানিয়েছেন।'
তৃতীয় শোকর এভাবে করবে-
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَجْعَلْ رِزْقِي بِيَدِ غَيْرِهِ
'সকল প্রশংসা সে সত্তার, যিনি আমার রিজিক অন্য কারো হাতে রাখেননি।'
চতুর্থ শুকরিয়া এভাবে করবে-
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي سَتَرَ عَلَيَّ عُيُوبِي
'সকল প্রশংসা সে সত্তার, যিনি আমার দোষত্রুটি গোপন রেখেছেন।'

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 চারটি জিনিস জানা জরুরী

📄 চারটি জিনিস জানা জরুরী


হযরত শকিক বিন ইবরাহীম রহ. বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি দু'শ' বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে এবং এই চারটি জিনিস জানতে না পারে, তা হলে জাহান্নামে যাওয়ার ব্যাপারে তার থেকে উপযুক্ত আর কিছুই নেই। যথা- ১. مَعْرِفَةُ اللَّهِ تَعَالَى অর্থাৎ, আল্লাহর পরিচয়; ২. مَعْرِفَةُ عَمَلِ اللَّهِ تَعَالَى অর্থাৎ, আল্লাহ তা'আলার আমলের পরিচয়; ৩. مَعْرِفَةُ عَدُوِّ اللَّهِ অর্থাৎ আল্লাহর দুশমনের পরিচয়; ৪. وَعَدُوِّ نَفْسِهِ অর্থাৎ, তার ও নিজের নফসের দুশমনের পরিচয়।

আল্লাহ তা'আলার পরিচয় হলো তাকে প্রকাশ্যে ও গোপনে জানা। কারণ, তিনি ব্যতীত কোনো দাতা বা বাধাপ্রদানকারী নেই। আল্লাহ তা'আলার আমলের পরিচয় হলো, এ কথা জানা যে, আল্লাহ তা'আলা শুধু তা-ই কবুল করেন, যা একান্তই তার জন্য হয়। নিজের নফসের পরিচয় হলো, নিজের দুর্বলতা জানা, আর এটা জানা যে, আল্লাহ তা'আলা তার ওপর যা ফয়সালা করে রেখেছেন, তা সে প্রতিহত করতে পারবে না। অর্থাৎ, তাকদীরের ওপর বিশ্বাস রাখা। আর আল্লাহর ও নিজের দুশমনের পরিচয় জানা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, তাকে সকল মন্দের মূল মনে করা। আর এর চিকিৎসা করাবে আল্লাহর মারেফত দ্বারা, যেন তার শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 দশটি আবশ্যকীয় বিষয়

📄 দশটি আবশ্যকীয় বিষয়


বলা হয়ে থাকে, প্রতিদিন আদম সন্তানের ওপর আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে দশটি জিনিস আবশ্যক হয়।
১. ওঠার সময় আল্লাহর যিকির করা। ইরশাদ হচ্ছে- وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ حِينَ تَقُومُ 'আর ওঠার সময় তোমার প্রভুর পবিত্রতা ও প্রশংসা কর।' আর ইরশাদ হচ্ছে- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا وَسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا 'হে মুমিনগণ! আল্লাহ তা'আলার অনেক স্মরণ কর; এবং সকাল-সন্ধ্যায় তার পবিত্রতা বর্ণনা কর।'
২. দেহ ঢেকে রাখা। ইরশাদ হচ্ছে- يَا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ 'হে আদম সন্তান! তোমরা মসজিদের প্রত্যেক উপস্থিতির সময় নিজেদের পোশাক পরিধান করে নাও।' আর এর সর্বনিম্ন স্তর হলো লজ্জাস্থান ঢাকা।
৩. উযূর সময় উত্তমরূপে উযূ করা। যেমন আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُؤُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ 'হে মুমিনগণ! তোমরা যখন নামাযের জন্য ওঠ, তখন ধৌত কর তোমাদের মুখমণ্ডল, কনুইসহ হাত, মসেহ কর তোমাদের মাথা এবং পা [ধৌত কর] টাখনু পর্যন্ত।'
৪. নামাযের সময় উত্তমরূপে নামায আদায় করা। إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا 'নিশ্চয় নামায মুমিনদের ওপর ফরয, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।'
৫. রিজিকের ওয়াদার ব্যাপারে আল্লাহর ওপর ভরসা করা। ইরশাদ হচ্ছে- وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا 'জমিনের বিচরণশীল কোনো প্রাণী নেই, যার রিজিক আল্লাহর জিম্মায় নয়।'
৬. আল্লাহ তা'আলা যা কিছু দান করেন, তার ওপর তুষ্ট থাকা। ইরশাদ হচ্ছে- نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُمْ مَعِيشَتَهُمْ فِي الْأَرْضِ 'পার্থিব জীবনে তাদের মধ্যে আমি তাদের জীবিকা বণ্টন করেছি।'
৭. আল্লাহ তা'আলার ওপর ভরসা করা। ইরশাদ হচ্ছে- وَتَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ 'আর ভরসা কর সেই চিরঞ্জীবের ওপর, যার কখনো মৃত্যু হবে না।'
৮. আল্লাহ তা'আলার ফয়সালা ও হুকুমের ওপর সবর করা। ইরশাদ হচ্ছে- وَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ 'আর তোমার প্রভুর হুকুমের উপর নির্ভর কর।'
৯. আল্লাহ তা'আলার নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা। ইরশাদ হচ্ছে- وَاشْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ 'আর আল্লাহর নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, যদি তোমরা তারই ইবাদত কর।' আর প্রাথমিক নিয়ামত হলো দেহের সুস্থতা। আর সবচেয়ে বড় নিয়ামত হলো ইসলামের নিয়ামত। আর এমনিতে তো আল্লাহ তা'আলার নিয়ামত গণনা করে শেষ করা যাবে না। ইরশাদ হচ্ছে- وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا 'তোমরা যদি আল্লাহর নিয়ামত গণনা কর, তা হলে গণনা করে শেষ করতে পারবে না।'
১০. হালাল খাওয়া। ইরশাদ হচ্ছে- كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ 'আমরা তোমাদেরকে যে পবিত্র নিয়ামত দান করেছি, তার থেকে খাও। এখানে পবিত্র দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হালাল রিজিক।

ফন্ট সাইজ
15px
17px