📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ভোর করার অবস্থা

📄 ভোর করার অবস্থা


বলা হয়ে থাকে, মানুষ তিনভাবে ভোর করে। যথা-
১. কতক লোক সম্পদের সন্ধানে।
২. কতক লোক গুনাহের খোঁজে।
৩. কতক লোক সঠিক রাস্তার খোঁজে।
যে ব্যক্তি সম্পদের খোঁজে ভোর করে, সে তার ভাগ্যের অতিরিক্ত ভোগ করতে পারবে না, যদিও তার প্রচুর সম্পদ থাকে। আর যে ব্যক্তি পাপের তালাশে ভোর করে, সে লাঞ্ছিত ও গুনাহগার হয়। আর যে ব্যক্তি সঠিক রাস্তার খোঁজে ভোর করে, আল্লাহ তা'আলা তাকে রিজিকও দান করেন এবং সঠিক রাস্তাও প্রদর্শন করেন।

জনৈক জ্ঞানী বলেছেন, সকাল বেলায় দু'টি বিষয় অবশ্যই আবশ্যক হয়: নিরাপত্তা ও ভয়। নিরাপত্তা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ তা'আলা তার রিজিকের জিম্মা নিয়েছেন, এ ব্যাপারে তার নিশ্চিন্ত থাকা। আর ভয় হলো, আল্লাহ তা'আলা তাকে যে নির্দেশ দিয়েছেন, তা সে পালন করতে পারবে কি না। যখন বান্দা এ-দু'টি বিষয় পূর্ণ করে নেয়, আল্লাহ তা'আলা তাকে দু'টি বস্তু দ্বারা সম্মান প্রদান করেন: একটি হলো আল্লাহ তা'আলা তাকে যা কিছু দিয়েছেন তাতে তুষ্টি; অপরটি হলো আল্লাহর আনুগত্যের স্বাদ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 বড়দের ভোর

📄 বড়দের ভোর


রবি' বিন খাইসাম রহ.কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, আপনি ভোর করলেন কীভাবে? তিনি বললেন, দুর্বল ও পাপী অবস্থায়; রিজিক খাচ্ছি আর মৃত্যুক্ষণ গুণছি।

মালেক বিন দিনার রহ.কে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনার ভোর হলো কীভাবে? তিনি বললেন, তার ভোর আর কেমন হবে, সে এক ঘর থেকে আরেক ঘরে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে; অথচ জানা নেই, সে জান্নাতে যাবে না জাহান্নামে।

হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালামের ব্যাপারে বর্ণিত, তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, হে রুহুল্লাহ! আপনার ভোর কী অবস্থায় হলো? তিনি বললেন, এই অবস্থায় যে, আমি যা চাই, তার মালিক আমি নই; যেটার ভয় করি, তা প্রতিহত করার শক্তি আমার নেই। নিজের আমলের সাথে আবদ্ধ হয়ে আছি। ভালো মন্দ সবই আরেকজনের হাতে। আমার থেকে অধিক মুখাপেক্ষী আর কেউ নেই।

আমের বিন কায়স রহ.কে একব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, তোমার ভোর হলো কীভাবে? তিনি বললেন, গুনাহর বোঝা মাথায় নিয়ে ভোর করেছি; আর আল্লাহ তা'আলা আমাকে তার নিয়ামতে ডুবিয়ে রেখেছেন। জানা নেই, আমার ইবাদত আমার গুনাহের কাফ্ফারা হবে নাকি আল্লাহর নিয়ামতের শোকর হিসেবে গণ্য হবে?

কথিত আছে, মুহাম্মদ বিন সিরিন রহ. এক ব্যক্তিকে তার অবস্থা জিজ্ঞাসা করলেন। সে বলল, সে ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে, যার ওপর পাঁচশ' দিরহাম ঋণ রয়েছে; আবার পরিবারে লোকজনও আছে। একথা শুনে তিনি ঘরে গিয়ে এক হাজার দিরহাম এনে তাকে দিয়ে বললেন, পাঁচশ' দিরহামের ঋণ শোধ কর; আর বাকি পাঁচশ' দিরহাম পরিবারের লোকজনের জন্য ব্যয় কর। এরপর তিনি আর কাউকে তার অবস্থা জিজ্ঞাসা করতেন না- সে না আবার তার এমন অবস্থা বর্ণনা করে, যার সংশোধন তার জিম্মায় এসে পড়ে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 চারটি জিনিসের শোকর

📄 চারটি জিনিসের শোকর


হযরত ইবরাহীম বিন আদহাম রহ. বলেন, প্রত্যেক প্রভাতকারীর ওপর চারটি জিনিসের শোকর আদায় করা ওয়াজিব। প্রথম শোকর হিসেবে বলবে-
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي نَوَّرَ قَلْبِي بِنُورِ الْهُدَى، وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُؤْمِنِينَ، وَلَمْ يَجْعَلْنِي ضَالًّا.
'সকল প্রশংসা সে সত্তার, যিনি আমার অন্তরকে হেদায়াতের আলো দ্বারা আলোকিত করেছেন, আমাকে ঈমানদারদের মধ্যে রেখেছেন এবং আমাকে পথভ্রষ্ট করেননি।'
দ্বিতীয় শোকর এভাবে করবে-
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَنِي مِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
'সকল প্রশংসা সে সত্তার, যিনি আমাকে মুহাম্মদ ﷺ-এর উম্মত বানিয়েছেন।'
তৃতীয় শোকর এভাবে করবে-
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَجْعَلْ رِزْقِي بِيَدِ غَيْرِهِ
'সকল প্রশংসা সে সত্তার, যিনি আমার রিজিক অন্য কারো হাতে রাখেননি।'
চতুর্থ শুকরিয়া এভাবে করবে-
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي سَتَرَ عَلَيَّ عُيُوبِي
'সকল প্রশংসা সে সত্তার, যিনি আমার দোষত্রুটি গোপন রেখেছেন।'

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 চারটি জিনিস জানা জরুরী

📄 চারটি জিনিস জানা জরুরী


হযরত শকিক বিন ইবরাহীম রহ. বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি দু'শ' বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে এবং এই চারটি জিনিস জানতে না পারে, তা হলে জাহান্নামে যাওয়ার ব্যাপারে তার থেকে উপযুক্ত আর কিছুই নেই। যথা- ১. مَعْرِفَةُ اللَّهِ تَعَالَى অর্থাৎ, আল্লাহর পরিচয়; ২. مَعْرِفَةُ عَمَلِ اللَّهِ تَعَالَى অর্থাৎ, আল্লাহ তা'আলার আমলের পরিচয়; ৩. مَعْرِفَةُ عَدُوِّ اللَّهِ অর্থাৎ আল্লাহর দুশমনের পরিচয়; ৪. وَعَدُوِّ نَفْسِهِ অর্থাৎ, তার ও নিজের নফসের দুশমনের পরিচয়।

আল্লাহ তা'আলার পরিচয় হলো তাকে প্রকাশ্যে ও গোপনে জানা। কারণ, তিনি ব্যতীত কোনো দাতা বা বাধাপ্রদানকারী নেই। আল্লাহ তা'আলার আমলের পরিচয় হলো, এ কথা জানা যে, আল্লাহ তা'আলা শুধু তা-ই কবুল করেন, যা একান্তই তার জন্য হয়। নিজের নফসের পরিচয় হলো, নিজের দুর্বলতা জানা, আর এটা জানা যে, আল্লাহ তা'আলা তার ওপর যা ফয়সালা করে রেখেছেন, তা সে প্রতিহত করতে পারবে না। অর্থাৎ, তাকদীরের ওপর বিশ্বাস রাখা। আর আল্লাহর ও নিজের দুশমনের পরিচয় জানা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, তাকে সকল মন্দের মূল মনে করা। আর এর চিকিৎসা করাবে আল্লাহর মারেফত দ্বারা, যেন তার শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px