📄 ভোর কেমন হওয়া চাই
হযরত মুজাহিদ রহ. বলেন, আমাকে হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রাযি. বলেছেন, হে মুজাহিদ! সকাল বেলায় তুমি সন্ধ্যার কল্পনা কর না, এবং সন্ধ্যাবেলায় সকালের কল্পনাকে মনে স্থান দিয়ো না। মৃত্যুর আগেই তোমার জীবন দিয়ে উপকৃত হও। রোগাক্রান্ত হওয়ার আগেই সুস্থতা দ্বারা উপকার অর্জন করে নাও। কারণ, তুমি জানো না, আগামীকাল তোমাকে কী নামে ডাকা হবে।
টিকাঃ
৬০৭. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৪১৬।
📄 চার বস্তুর নিয়ত
জনৈক জ্ঞানীর উক্তি, ভোর হলে মানুষের উচিত চারটি জিনিসের নিয়ত করে নেওয়া। যথা-
১. أَدَاءُ مَا فَرَضَ اللَّهُ عَلَيْهِ অর্থাৎ, আল্লাহর ফরযগুলো আদায় করার নিয়ত;
২. إِجْتِنَابُ مَا নَهَى اللَّهُ عَنْهُ অর্থাৎ, আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজগুলো থেকে বিরত থাকার নিয়ত;
৩. إِنْصَافُ مَنْ كَانَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَهُ مُعَامَلَةٌ অর্থাৎ, লেনদেনের ক্ষেত্রে ইনসাফ করার নিয়ত;
৪. إِصْلَاحُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ خُصَمَائِهِ অর্থাৎ, যাদের সাথে বিবাদ রয়েছে, তাদের সাথে মিটমাট করে নেওয়ার নিয়ত।
এই চারটি বিষয়ের নিয়ত করে নিলে আশা করা যায়, তুমি সফলকাম হবে।
📄 ঘুমানো ও জাগ্রত হওয়ার পদ্ধতি
জনৈক জ্ঞানীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, বিছানা হতে মানুষের কী নিয়ত নিয়ে ওঠা উচিত? তিনি বললেন, আগে তো এটা দেখা চাই যে, কী নিয়তে ঘুমোনো উচিত। এরপর প্রশ্ন হবে জাগার। যে ঘুমোনোর পদ্ধতিই জানে না সে কীভাবে জাগার অবস্থা জানবে?
এরপর বললেন, ৪টি বিষয় সংশোধন করার আগে ঘুমোনো উচিত নয়। যথা-
১. দুনিয়ায় যদি তার নিকট দাবি করার মতো কেউ থাকে, তাহলে তার নিকট এসে তা থেকে মুক্ত হয়ে নেওয়া চাই। কারণ, রাতেই মালাকুল মউত এসে যেতে পারেন। তাহলে সে যখন আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হবে, তখন তা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো উপায় থাকবে না।
২. আল্লাহর কোনো ফরয জিম্মায় রেখে ঘুমোনো না চাই। কারণ, ফরয আমল বাদ দিয়ে ঘুমোনোর সপক্ষে তার কোনো দলিল নেই।
৩. অতীত জীবনের কৃত গুনাহ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া চাই। কারণ, হতে পারে, রাতের বেলায় সে মৃত্যুবরণ করবে। অথচ তখনও সে গুনাহগার হিসেবে চিহ্নিত।
৪. সঠিকভাবে ওসিয়ত না লিখে ঘুমোনো উচিত হবে না। কারণ, হতে পারে, রাতেই মৃত্যু এসে যাবে। অথচ তার ওসিয়ত লেখা হয়নি।
📄 ভোর করার অবস্থা
বলা হয়ে থাকে, মানুষ তিনভাবে ভোর করে। যথা-
১. কতক লোক সম্পদের সন্ধানে।
২. কতক লোক গুনাহের খোঁজে।
৩. কতক লোক সঠিক রাস্তার খোঁজে।
যে ব্যক্তি সম্পদের খোঁজে ভোর করে, সে তার ভাগ্যের অতিরিক্ত ভোগ করতে পারবে না, যদিও তার প্রচুর সম্পদ থাকে। আর যে ব্যক্তি পাপের তালাশে ভোর করে, সে লাঞ্ছিত ও গুনাহগার হয়। আর যে ব্যক্তি সঠিক রাস্তার খোঁজে ভোর করে, আল্লাহ তা'আলা তাকে রিজিকও দান করেন এবং সঠিক রাস্তাও প্রদর্শন করেন।
জনৈক জ্ঞানী বলেছেন, সকাল বেলায় দু'টি বিষয় অবশ্যই আবশ্যক হয়: নিরাপত্তা ও ভয়। নিরাপত্তা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ তা'আলা তার রিজিকের জিম্মা নিয়েছেন, এ ব্যাপারে তার নিশ্চিন্ত থাকা। আর ভয় হলো, আল্লাহ তা'আলা তাকে যে নির্দেশ দিয়েছেন, তা সে পালন করতে পারবে কি না। যখন বান্দা এ-দু'টি বিষয় পূর্ণ করে নেয়, আল্লাহ তা'আলা তাকে দু'টি বস্তু দ্বারা সম্মান প্রদান করেন: একটি হলো আল্লাহ তা'আলা তাকে যা কিছু দিয়েছেন তাতে তুষ্টি; অপরটি হলো আল্লাহর আনুগত্যের স্বাদ।