📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জনৈক জ্ঞানীর উক্তি

📄 জনৈক জ্ঞানীর উক্তি


জনৈক জ্ঞানী বলেছেন, যে ব্যক্তি এই তিনটি বিষয় ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ের চিন্তা বা দুঃখ করে, বুঝতে হবে, সে দুঃখ-সুখ চিনতে পারেনি। যথা-
১. হাম্মুল ঈমানি আন্নাহু ইয়াখতিমু উমরাহু বিহি আম লা অর্থাৎ, ঈমানের চিন্তা, তার আয়ুটা ঈমানের মধ্যে শেষ হবে কি না।
২. হাম্মু আম্রিল্লাহি তায়ালা আন্নাহু ইয়াতিম্মু আম লা অর্থাৎ, আল্লাহর আহকামের চিন্তা, তা আদায় হচ্ছে কি না।
৩. হাম্মুল খুছামাই আন্নাহু ইয়ানজু মিনহুম আম লা অর্থাৎ, হকদারদের চিন্তা, তাদের থেকে মুক্তি পাবে কি না।

জনৈক জ্ঞানী বলেছেন, যে ব্যক্তি এই তিনটি বিষয় ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ের চিন্তা বা দুঃখ করে, বুঝতে হবে, সে দুঃখ-সুখ চিনতে পারেনি। যথা-
১. হাম্মুল ঈমানি আন্নাহু ইয়াখতিমু উমরাহু বিহি আম লা অর্থাৎ, ঈমানের চিন্তা, তার আয়ুটা ঈমানের মধ্যে শেষ হবে কি না।
২. হাম্মু আম্রিল্লাহি তায়ালা আন্নাহু ইয়াতিম্মু আম লা অর্থাৎ, আল্লাহর আহকামের চিন্তা, তা আদায় হচ্ছে কি না।
৩. হাম্মুল খুছামাই আন্নাহু ইয়ানজু মিনহুম আম লা অর্থাৎ, হকদারদের চিন্তা, তাদের থেকে মুক্তি পাবে কি না।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন

📄 আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন


হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. বর্ণনা করেন, নবীজী ইরশাদ করেছেন, যে চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হয়, সে চোখকে আল্লাহ তা'আলা আগুনের ওপর হারাম করে দেন। যদি চোখের পানি গাল বেয়ে পড়ে, তাহলে তা কখনও কালোও হবে না, লাঞ্ছিতও হবে না। প্রত্যেক নেক আমলেরই সওয়াব নির্ধারিত আছে। তবে চোখের পানির নেই। কারণ, তা অনেকগুলো আগুনের সমুদ্র নিভিয়ে দেয়। কোনো বান্দা যদি আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করে, ওই বান্দার ক্রন্দনের কারণে আল্লাহ তা'আলা ওই উম্মতের ওপর দয়া করেন।

কা'ব আহবার রাযি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করা আমার নিকট আমার সমান ওজনের স্বর্ণ আল্লাহর রাস্তায় দান করা হতেও প্রিয়। যে বান্দাই আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করে, আর তার চোখ থেকে অশ্রু বেয়ে মাটিতে পড়ে, সেই চোখকে আগুন স্পর্শ করবে না, যে পর্যন্ত না আসমান থেকে পড়া পানির ফোটা আসমানে ফিরে যায়। আর তা ফিরে যায় না। যেমনিভাবে আসমান থেকে পড়া পানি কখনও ফিরে যায় না, তেমনিভাবে যে ব্যক্তি দুনিয়ায় আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করে, তাকে কখনও আগুন স্পর্শ করবে না।

হযরত আব্দুল্লাহর বিন মাসউদ রাযি. হতে বর্ণিত, রাসূল ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তির চোখ থেকে মাছির সমান অথবা বলেছেন, মাছির মাথার সমান পানি বেয়ে পড়ে, জাহান্নামের আগুন তাকে কখনও স্পর্শ করবে না।

হযরত আতা বিন আবী রবাহ রহ. বলেন, হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. বলেছেন, কোনো চোখ যদি কাঁদে, তাহলে আল্লাহর অনুগ্রহেই কাঁদে। যার চোখ দিয়েই পানি প্রবাহিত হয়, ফেরেশতারা তার অন্তর মুছে দেয়।

হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, নবীজী ইরশাদ করেছেন, আল্লাহর নিকট দু'টি ফোঁটা সবচেয়ে বেশি প্রিয়: রাতের আঁধারে প্রবাহিত চোখের পানির ফোঁটা এবং আল্লাহর রাস্তায় প্রবাহিত রক্তের ফোঁটা। যিয়াদ নুমাইরী রহ. কোনো এক আসমানী কিতাব হতে আল্লাহর এই কালামটি নকল করেন, যে বান্দাই আমার ভয়ে ক্রন্দন করে, আমি তাকে আমার শাস্তি থেকে মুক্তি দেই। আর যে বান্দা আমার ভয়ে ক্রন্দন করে, আমি তাকে আমার নুরে কুদসের হাসিতে পরিবর্তন করি।

হযরত উমর বিন আব্দুল আযীয এক রাতে নামায পড়ছিলেন। নামাযে এই আয়াতটি এল- "যখন তাদের গলায় বেড়ি ও শৃঙ্খল পড়বে, তাদেরকে টেনে নেওয়া হবে।" তিনি আয়াতটি বার বার পড়তে লাগলেন। আর এভাবেই তার ভোর হলো। হযরত তামিম দারী রাযি.-এর ব্যাপারে বর্ণিত আছে, তিনিও একটি আয়াত পুরো রাত বার বার পড়তে থাকেন। আয়াতটি হলো- "যারা পাপ উপার্জন করেছে, তারা কি ধারণা করে যে, আমি তাদেরকে তাদের মত করব, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে?" এক হাদীসে আছে, নবীজী এই আয়াতটি পুরো রাত পড়তে থাকেন- "তুমি যদি তাদের শাস্তি দাও, তাহলে এরা তোমারই বান্দা; আর যদি ক্ষমা করে দাও, তাহলে তুমি পরাক্রমশীল; প্রজ্ঞাময়।"

হযরত দাউদ আ. এতটা কাঁদতেন যে, তার পানীয় পানির অর্ধেকই থাকত তার চোখের পানি। বাহয বিন হাকিম রহ. বলেন, হযরত যারারা বিন আবি আউফা রহ. আমাদেরকে নামায পড়াতে শুরু করলেন এবং এই আয়াতটি- "আর যখন শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে।" তিলাওয়াত করলেন। আর ওখানেই তার পড়া শেষ হলো। আমরা সেখান থেকে তার মৃতদেহ উঠিয়ে নিলাম।

টিকাঃ
৬০৩. শুয়াবুল ঈমান: হাদীস-৮১১; ইবনে আদী ও ইবনে তাহের আল-মাকদিসী হাদীসটিকে মুনকার বলেছেন [আল-কামেল: খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৮৫]।
৬০৪. সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-৪২৯৭; সনদ জয়ীফ [যাওয়াদে ইবনে মাজাহ]। সহীহ হাদীসে এসেছে, আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনকারী ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে না [সুনানে তিরমিযী হাদীস-১৬৩৩]।
৬০৫. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৬৬৯; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন।
৬০৬. সূরা মায়িদাহ: আয়াত-১১৮; সুনানে নাসায়ী: হাদীস-১০১০; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-১৩৫০; মুসনাদে আহমাদ: ৩৫/৩০৯। হাদীসটি সহীহ [বুসিরী ও শুয়াইব আরনাউত]।

হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. বর্ণনা করেন, নবীজী ইরশাদ করেছেন, যে চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হয়, সে চোখকে আল্লাহ তা'আলা আগুনের ওপর হারাম করে দেন। যদি চোখের পানি গাল বেয়ে পড়ে, তাহলে তা কখনও কালোও হবে না, লাঞ্ছিতও হবে না। প্রত্যেক নেক আমলেরই সওয়াব নির্ধারিত আছে। তবে চোখের পানির নেই। কারণ, তা অনেকগুলো আগুনের সমুদ্র নিভিয়ে দেয়। কোনো বান্দা যদি আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করে, ওই বান্দার ক্রন্দনের কারণে আল্লাহ তা'আলা ওই উম্মতের ওপর দয়া করেন।

কা'ব আহবার রাযি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করা আমার নিকট আমার সমান ওজনের স্বর্ণ আল্লাহর রাস্তায় দান করা হতেও প্রিয়। যে বান্দাই আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করে, আর তার চোখ থেকে অশ্রু বেয়ে মাটিতে পড়ে, সেই চোখকে আগুন স্পর্শ করবে না, যে পর্যন্ত না আসমান থেকে পড়া পানির ফোটা আসমানে ফিরে যায়। আর তা ফিরে যায় না। যেমনিভাবে আসমান থেকে পড়া পানি কখনও ফিরে যায় না, তেমনিভাবে যে ব্যক্তি দুনিয়ায় আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করে, তাকে কখনও আগুন স্পর্শ করবে না।

হযরত আব্দুল্লাহর বিন মাসউদ রাযি. হতে বর্ণিত, রাসূল ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তির চোখ থেকে মাছির সমান অথবা বলেছেন, মাছির মাথার সমান পানি বেয়ে পড়ে, জাহান্নামের আগুন তাকে কখনও স্পর্শ করবে না।

হযরত আতা বিন আবী রবাহ রহ. বলেন, হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. বলেছেন, কোনো চোখ যদি কাঁদে, তাহলে আল্লাহর অনুগ্রহেই কাঁদে। যার চোখ দিয়েই পানি প্রবাহিত হয়, ফেরেশতারা তার অন্তর মুছে দেয়।

হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, নবীজী ইরশাদ করেছেন, আল্লাহর নিকট দু'টি ফোঁটা সবচেয়ে বেশি প্রিয়: রাতের আঁধারে প্রবাহিত চোখের পানির ফোঁটা এবং আল্লাহর রাস্তায় প্রবাহিত রক্তের ফোঁটা। যিয়াদ নুমাইরী রহ. কোনো এক আসমানী কিতাব হতে আল্লাহর এই কালামটি নকল করেন, যে বান্দাই আমার ভয়ে ক্রন্দন করে, আমি তাকে আমার শাস্তি থেকে মুক্তি দেই। আর যে বান্দা আমার ভয়ে ক্রন্দন করে, আমি তাকে আমার নুরে কুদসের হাসিতে পরিবর্তন করি।

হযরত উমর বিন আব্দুল আযীয এক রাতে নামায পড়ছিলেন। নামাযে এই আয়াতটি এল- "যখন তাদের গলায় বেড়ি ও শৃঙ্খল পড়বে, তাদেরকে টেনে নেওয়া হবে।" তিনি আয়াতটি বার বার পড়তে লাগলেন। আর এভাবেই তার ভোর হলো। হযরত তামিম দারী রাযি.-এর ব্যাপারে বর্ণিত আছে, তিনিও একটি আয়াত পুরো রাত বার বার পড়তে থাকেন। আয়াতটি হলো- "যারা পাপ উপার্জন করেছে, তারা কি ধারণা করে যে, আমি তাদেরকে তাদের মত করব, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে?" এক হাদীসে আছে, নবীজী এই আয়াতটি পুরো রাত পড়তে থাকেন- "তুমি যদি তাদের শাস্তি দাও, তাহলে এরা তোমারই বান্দা; আর যদি ক্ষমা করে দাও, তাহলে তুমি পরাক্রমশীল; প্রজ্ঞাময়।"

হযরত দাউদ আ. এতটা কাঁদতেন যে, তার পানীয় পানির অর্ধেকই থাকত তার চোখের পানি। বাহয বিন হাকিম রহ. বলেন, হযরত যারারা বিন আবি আউফা রহ. আমাদেরকে নামায পড়াতে শুরু করলেন এবং এই আয়াতটি- "আর যখন শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে।" তিলাওয়াত করলেন। আর ওখানেই তার পড়া শেষ হলো। আমরা সেখান থেকে তার মৃতদেহ উঠিয়ে নিলাম।

টিকাঃ
৬০৩. শুয়াবুল ঈমান: হাদীস-৮১১; ইবনে আদী ও ইবনে তাহের আল-মাকদিসী হাদীসটিকে মুনকার বলেছেন [আল-কামেল: খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৮৫]।
৬০৪. সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-৪২৯৭; সনদ জয়ীফ [যাওয়াদে ইবনে মাজাহ]। সহীহ হাদীসে এসেছে, আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনকারী ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে না [সুনানে তিরমিযী হাদীস-১৬৩৩]।
৬০৫. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৬৬৯; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন।
৬০৬. সূরা মায়িদাহ: আয়াত-১১৮; সুনানে নাসায়ী: হাদীস-১০১০; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-১৩৫০; মুসনাদে আহমাদ: ৩৫/৩০৯। হাদীসটি সহীহ [বুসিরী ও শুয়াইব আরনাউত]।

ফন্ট সাইজ
15px
17px