📄 পরকালের আমল
হযরত আবূ যর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ তাঁর রব থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-
হে আমার বান্দারা! আমি আমার ওপর জুলুম হারাম করেছি; আর তোমাদের মধ্যেও হারাম করেছি। কাজেই তোমরা কেউ কারো ওপর জুলুম কর না। হে আমার বান্দারা! তোমাদের সবাই গোমরাহ, তবে যাকে আমি হেদায়াত করি। কাজেই আমার নিকট হেদায়াত চাও, আমি তোমাদেরকে হেদায়াত করব। হে আমার বান্দারা! তোমাদের সবাই ক্ষুধার্ত, তবে আমি যাকে আহার করাই। তাই আমার নিকট আহার চাও, আমি তোমাদেরকে আহার করাব। হে আমার বান্দারা! তোমাদের সবাই বিবস্ত্র, তবে যাকে আমি বস্ত্র দেই। কাজেই আমার নিকট বস্ত্র চাও, আমি তোমাদের বস্ত্র দেবো। হে আমার বান্দারা! তোমরা দিনরাত গুনাহ করতে থাক। আর আমি তোমাদের সব গুনাহ মাফ করে দেই। কাজেই আমার নিকট ক্ষমা চাও, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করব। হে আমার বান্দারা! তোমাদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, সকল মানুষ ও জীন যদি এক সর্বশ্রেষ্ঠ মুত্তাকীর মতো হয়ে যায়, তা হলে তাতে আমার রাজত্বে সামান্যতমও বৃদ্ধি হবে না। হে আমার বান্দারা! তোমাদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল মানুষ ও জীন যদি একটি ময়দানে সমবেত হয়ে প্রত্যেকেই আলাদা আলাদাভাবে আমার নিকট প্রার্থনা করে, আর আমি তাদের প্রত্যেকের প্রার্থনা পূরণ করি, তাতে আমার নিকট যা আছে তাতে, সমুদ্রের মধ্যে সুঁই ডুবালে যে পরিমাণ কমে, সে পরিমাণও কমবে না। হে আমার বান্দারা! এই সব তোমাদের আমল, যেগুলো আমি তোমাদের জন্য হেফাজত করে রেখেছি। সেগুলো কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে পুরোপুরি দেবো। ফেমেন ওয়াজাদা খাইরান ফালিয়াহমাদিল্লাহ আর যদি এর ব্যতিক্রম কিছু পায়, তা হলে যেন নিজেকেই ভর্ৎসনা করে।
টিকাঃ
৬০১. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৫৭৭; আদাবুল মুফরাদ-৪৯০; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৪৯৫; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪২৫৭।
হযরত আবূ যর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ তাঁর রব থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-
হে আমার বান্দারা! আমি আমার ওপর জুলুম হারাম করেছি; আর তোমাদের মধ্যেও হারাম করেছি। কাজেই তোমরা কেউ কারো ওপর জুলুম কর না। হে আমার বান্দারা! তোমাদের সবাই গোমরাহ, তবে যাকে আমি হেদায়াত করি। কাজেই আমার নিকট হেদায়াত চাও, আমি তোমাদেরকে হেদায়াত করব। হে আমার বান্দারা! তোমাদের সবাই ক্ষুধার্ত, তবে আমি যাকে আহার করাই। তাই আমার নিকট আহার চাও, আমি তোমাদেরকে আহার করাব। হে আমার বান্দারা! তোমাদের সবাই বিবস্ত্র, তবে যাকে আমি বস্ত্র দেই। কাজেই আমার নিকট বস্ত্র চাও, আমি তোমাদের বস্ত্র দেবো। হে আমার বান্দারা! তোমরা দিনরাত গুনাহ করতে থাক। আর আমি তোমাদের সব গুনাহ মাফ করে দেই। কাজেই আমার নিকট ক্ষমা চাও, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করব। হে আমার বান্দারা! তোমাদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, সকল মানুষ ও জীন যদি এক সর্বশ্রেষ্ঠ মুত্তাকীর মতো হয়ে যায়, তা হলে তাতে আমার রাজত্বে সামান্যতমও বৃদ্ধি হবে না। হে আমার বান্দারা! তোমাদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল মানুষ ও জীন যদি একটি ময়দানে সমবেত হয়ে প্রত্যেকেই আলাদা আলাদাভাবে আমার নিকট প্রার্থনা করে, আর আমি তাদের প্রত্যেকের প্রার্থনা পূরণ করি, তাতে আমার নিকট যা আছে তাতে, সমুদ্রের মধ্যে সুঁই ডুবালে যে পরিমাণ কমে, সে পরিমাণও কমবে না। হে আমার বান্দারা! এই সব তোমাদের আমল, যেগুলো আমি তোমাদের জন্য হেফাজত করে রেখেছি। সেগুলো কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে পুরোপুরি দেবো। ফেমেন ওয়াজাদা খাইরান ফালিয়াহমাদিল্লাহ আর যদি এর ব্যতিক্রম কিছু পায়, তা হলে যেন নিজেকেই ভর্ৎসনা করে।
টিকাঃ
৬০১. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৫৭৭; আদাবুল মুফরাদ-৪৯০; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৪৯৫; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪২৫৭।
📄 জানাযার সাথে যাওয়া
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. বর্ণনা করেন, নবীজী ইরশাদ করেছেন, তোমরা রোগীদের শুশ্রূষা কর এবং জানাযার পিছনে পিছনে যাও। এতে তোমাদের পরকালের কথা স্মরণ হবে।
জনৈক জ্ঞানী হতে বর্ণিত, তিনি কতক লোককে মৃত ব্যক্তির ওপর দয়া দেখাতে দেখলেন। বললেন, তোমরা যদি নিজের আত্মার ওপর দয়া দেখাতে, তা হলে তোমাদের জন্য উত্তম হতো। সে তো মারা গেছে এবং তিনটি বিষয় থেকে মুক্তি পেয়ে গেছে- ১. মালাকুল মউতের দেখা থেকে; ২. মৃত্যুর কষ্ট থেকে এবং ৩. খাতেমার ভয় থেকে।
আবুদ্দারদা রাযি. হতে বর্ণিত, তিনি এক ব্যক্তিকে জানাযার পিছনে থেকে বলতে শুনলেন, এই মৃতব্যক্তি কে? তিনি বললেন, এ হলো তুমি। এটা যদি তোমার কাছে ভালো না লাগে, তাহলে আমি। কারণ, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- "নিশ্চয় তুমি মৃত্যুবরণ করবে এবং তারাও মৃত্যুবরণ করবে।"
টিকাঃ
৬০২. মুসনাদে আহমাদ হাদীস-১১৪৪৫; সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস-২৯৫৫; সনদ সহীহ।
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. বর্ণনা করেন, নবীজী ইরশাদ করেছেন, তোমরা রোগীদের শুশ্রূষা কর এবং জানাযার পিছনে পিছনে যাও। এতে তোমাদের পরকালের কথা স্মরণ হবে।
জনৈক জ্ঞানী হতে বর্ণিত, তিনি কতক লোককে মৃত ব্যক্তির ওপর দয়া দেখাতে দেখলেন। বললেন, তোমরা যদি নিজের আত্মার ওপর দয়া দেখাতে, তা হলে তোমাদের জন্য উত্তম হতো। সে তো মারা গেছে এবং তিনটি বিষয় থেকে মুক্তি পেয়ে গেছে- ১. মালাকুল মউতের দেখা থেকে; ২. মৃত্যুর কষ্ট থেকে এবং ৩. খাতেমার ভয় থেকে।
আবুদ্দারদা রাযি. হতে বর্ণিত, তিনি এক ব্যক্তিকে জানাযার পিছনে থেকে বলতে শুনলেন, এই মৃতব্যক্তি কে? তিনি বললেন, এ হলো তুমি। এটা যদি তোমার কাছে ভালো না লাগে, তাহলে আমি। কারণ, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- "নিশ্চয় তুমি মৃত্যুবরণ করবে এবং তারাও মৃত্যুবরণ করবে।"
টিকাঃ
৬০২. মুসনাদে আহমাদ হাদীস-১১৪৪৫; সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস-২৯৫৫; সনদ সহীহ।
📄 হযরত হাসান বসরী রহ.-এর প্রতিক্রিয়া
এক ব্যক্তিকে হযরত হাসান বসরী রহ. কবরস্থানে কিছু খেতে দেখলেন। এতে তিনি বললেন- হাযা মুনাফিকুন আল মাউতু বাইনা আইয়াইনিহি ওয়াহুওয়া ইয়াশতাহি ত্বাআমা। অর্থাৎ, এ হলো মুনাফিক। মৃত্যু তার চোখের সামনে, আর সে কিনা খাবারের স্বাদ নিচ্ছে। হাসান বসরী রহ. বলেন- ইয়া আজাবান কুল্লাল আজাবি মিন ক্বাওমিন উমিরু বিযযাদি ওয়ানুদু বিররাহীলি ওয়া ক্বাদ জালাসা আওয়ালুহুম লিআখিরিহিম ওয়াহুম কুউদুঁ ইয়ালআবুনা। অর্থাৎ, হায়! বিস্ময় তাদের ওপর, যাদের পাথেয় প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সফরের ঘণ্টা বাজানো হয়েছে, কাফেলার প্রথম দল পরবর্তী দলের জন্য অপেক্ষা করছে। অথচ তারা এখনও বসে বসে খেলছে। অথবা বলেছেন, এরা বসে খেলা করছে। হাসান বসরী রহ. এর ব্যাপারে বর্ণিত, তিনি যখনই কোনো মৃত দেখতেন, মনে হতো, এইমাত্র তিনি তার মাকে দাফন করে এসেছেন।
এক ব্যক্তিকে হযরত হাসান বসরী রহ. কবরস্থানে কিছু খেতে দেখলেন। এতে তিনি বললেন- হাযা মুনাফিকুন আল মাউতু বাইনা আইয়াইনিহি ওয়াহুওয়া ইয়াশতাহি ত্বাআমা। অর্থাৎ, এ হলো মুনাফিক। মৃত্যু তার চোখের সামনে, আর সে কিনা খাবারের স্বাদ নিচ্ছে। হাসান বসরী রহ. বলেন- ইয়া আজাবান কুল্লাল আজাবি মিন ক্বাওমিন উমিরু বিযযাদি ওয়ানুদু বিররাহীলি ওয়া ক্বাদ জালাসা আওয়ালুহুম লিআখিরিহিম ওয়াহুম কুউদুঁ ইয়ালআবুনা। অর্থাৎ, হায়! বিস্ময় তাদের ওপর, যাদের পাথেয় প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সফরের ঘণ্টা বাজানো হয়েছে, কাফেলার প্রথম দল পরবর্তী দলের জন্য অপেক্ষা করছে। অথচ তারা এখনও বসে বসে খেলছে। অথবা বলেছেন, এরা বসে খেলা করছে। হাসান বসরী রহ. এর ব্যাপারে বর্ণিত, তিনি যখনই কোনো মৃত দেখতেন, মনে হতো, এইমাত্র তিনি তার মাকে দাফন করে এসেছেন।
📄 সব সময় নির্ভয় থাকা
হযরত ইবরাহীম তাইমী রহ. বলেন, যে ব্যক্তি নিশ্চিন্তে থাকে, তার ব্যাপারে আশঙ্কা হচ্ছে, সে জান্নাতী হবে না। কারণ, জান্নাতিরা বলবে- "ইন্না কুন্না ক্বাবলু ফী আহলিনা মুশফিক্বীন" অর্থাৎ, 'ইতঃপূর্বে আমরা আমাদের ঘরে তথা দুনিয়ায় খুবই ভয়ে ছিলাম।'
হযরত ইবরাহীম তাইমী রহ. বলেন, যে ব্যক্তি নিশ্চিন্তে থাকে, তার ব্যাপারে আশঙ্কা হচ্ছে, সে জান্নাতী হবে না। কারণ, জান্নাতিরা বলবে- "ইন্না কুন্না ক্বাবলু ফী আহলিনা মুশফিক্বীন" অর্থাৎ, 'ইতঃপূর্বে আমরা আমাদের ঘরে তথা দুনিয়ায় খুবই ভয়ে ছিলাম।'