📄 দয়া ও নম্রতা
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ : إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى رَفِيقُ يُحِبُّ الرِّفْقَ يُعْطِي عَلَى الرِّفْقِ، مَا لَا يُعْطِي عَلَى الْعُنْفِ।
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. বর্ণনা করেন, হুযুর ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তা'আলা দয়াশীল। তিনি দয়া করা পছন্দ করেন। দয়া ও স্নেহের কারণে আল্লাহ তা'আলা যা দান করেন, কঠোরতায় তা দান করেন না।
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ : إِذَا أَرَادَ اللَّهُ تَعَالَى بِأَهْلِ بَيْتٍ خَيْرًا، أَدْخَلَ عَلَيْهِمُ الرِّفْقَ لَوْ كَانَ خَلْقًا، لَمَا رَأَى النَّاسُ خَلْقًا أَحْسَنَ مِنْهُ، وَإِنَّ الْعُنْفَ لَوْ كَانَ خَلْقًا لَمَا رَأَى النَّاسُ أَقْبَحَ مِنْهُ।
হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, হুজুর ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তা'আলা যখন কোনো পরিবারে দয়া করতে ইচ্ছা করেন, তখন তাদের মধ্যে নম্রতা সৃষ্টি করে দেন। নম্রতাকে যদি রূপ দান করা হতো, তা হলে দুনিয়ার কোনো বস্তুই তার থেকে সুন্দর হতো না। আর যদি কঠোর স্বভাবকে রূপ দেওয়া হতো, তা হলে সেটাই হতো দুনিয়ার সবচেয়ে কুৎসিত আকৃতি।
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا، قَالَتْ: كُنْتُ عَلَى بَعِيرٍ فِيهِ صُعُوبَةٌ فَجَعَلْتُ أَضْرِبُهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ: يَا عَائِشَةُ عَلَيْكِ بِالرِّفْقِ فَإِنَّهُ لَمْ يَكُنْ فِي شَيْءٍ إِلَّا زَانَهُ وَلَا انْتُزِعَ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا شَانَهُ।
হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, আমি একটি উটের ওপর সওয়ার ছিলাম। উটটির স্বভাবে কঠোরতা ছিল। আমি সেটাকে প্রহার করতে লাগলাম। তখন নবীজী বললেন, হে আয়েশা! নম্রতা অবলম্বন কর। কারণ, তা যার মধ্যে থাকবে, তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করবে। আর যার থেকেই দূর করা হবে, তাকে কলঙ্কিত করবে।
টিকাঃ
৫৮৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৯২৭,৬০০০; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২১৬৫।
৫৮৪. আল-আসমা ওয়াস সিফাত লিল-বাইহাকী : ৩২২; মাকারিমুল আখলাক: ৬৯৬।
৫৮৫. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৫৯৪; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-২৪৭৮।
📄 হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শেষ ওসিয়ত
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : لَمَّا نَزَلَتْ : إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ (النصر : ١) مَرِضَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَمَا لَبِثَ أَنْ خَرَجَ إِلَى النَّاسِ يَوْمَ الْخَمِيسِ، وَقَدْ شَدَّ رَأْسَهُ بِعِصَابَةٍ، فَرَقِي الْمِنْبَرَ وَجَلَسَ عَلَيْهِ، مُصْفَرَّ الْوَجْهِ تَدْمَعُ عَيْنَاهُ ثُمَّ دَعَا بِبِلَالٍ، فَأَمَرَهُ بِأَنْ يُنَادِي فِي الْمَدِينَةِ، أَنِ اجْتَمِعُوا لِوَصِيَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ فَإِذَا هِيَ آخِرُ وَصِيَّةٍ لَكُمْ، فَنَادَى بِلَالُ فَاجْتَمَعَ صَغِيرُهُمْ وَكَبِيرُهُمْ، وَتَرَكُوا أَبْوَابَ بُيُوتِهِمْ مُفَتَّحَةً، وَأَسْوَاقَهُمْ عَلَى حَالِهَا، حَتَّى خَرَجَتِ الْعَذَارَى مِنْ خُدُورِهِنَّ، لِيَسْمَعُوا وَصِيَّةَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ حَتَّى غَصَّ الْمَسْجِدُ بِأَهْلِهِ وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ يَقُولُ : وَسَعُوا لِمَنْ وَرَاءَكُمْ ثُمَّ قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ يَبْكِي وَيَسْتَرْجِعُ فَحَمِدَ اللهَ، وَأَثْنَى عَلَيْهِ، وَصَلَّى عَلَى الْأَنْبِيَاءِ، وَ عَلَى نَفْسِهِ، عَلَيْهِمُ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ ، ثُمَّ قَالَ : أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ بْنِ هَاشِمِ الْعَرَبِيُّ الْمَكِّيُّ الَّذِي لَا نَبِيَّ بَعْدِي. أَيُّهَا النَّاسُ اعْلَمُوا أَنَّ نَفْسِي قَدْ نُعِيَتْ، وَحَانَ فِرَاقِي فِي الدُّنْيَا، وَاشْتَقْتُ إِلَى لِقَاءِ رَبِّي فَوَاحْزَنَاهُ عَلَى فِرَاقِ أُمَّتِي، مَاذَا يَقُولُونَ مِنْ بَعْدِي اللَّهُمَّ سَلَّمْ سَلَّمْ. أَيُّهَا النَّاسُ اسْمَعُوا وَصِيَّتِي وَعُوهَا وَاحْফَظُوهَا، وَلْيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ مِنْكُمُ الْغَائِبَ، فَإِنَّهَا آخِرُ وَصِيَّتِي لَكُمْ. أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ بَيَّنَ اللَّهُ لَكُمْ فِي مُحْكَمِ تَنْزِيلِهِ، مَا أَحَلَّ لَكُمْ، وَمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ وَمَا تَأْتُونَ، وَمَا تَتَّقُونَ، فَأَحِلُّوا حَلَالَهُ، وَحَرَّمُوا حَرَامَهُ، وَآمِنُوا بِمُتَشَابِهِهِ، وَاعْمَلُوا بِمُحْكَمِهِ، وَاعْتَبِرُوا بِأَمْثَالِهِ. ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ، فَقَالَ : اللَّهُمَّ بَلَّغْتُ فَاشْهَدْ.
হযরত আলী রাযি. বর্ণনা করেন, 'ইযা জাআ নাসরুল্লাহি ওয়াল ফাতহ্' সূরা নাযিল হওয়ার পর হুযুর ﷺ রোগাক্রান্ত হলেন। বৃহস্পতিবার দিন তিনি বেরিয়ে এলেন। তাঁর মাথায় পট্টি বাঁধা ছিল। তিনি মিম্বরে উঠে বসলেন। চেহারা মুবারক ছিল হলদেটে। চোখ থেকে পানি বেয়ে পড়ছিল। এরপর তিনি বেলাল রাযি.কে ডেকে মদিনায় এই ঘোষণা করার নির্দেশ দিলেন যে, তারা যেন নবীজীর ওসিয়ত শুনতে সমবেত হয়। আর এটা তোমাদের জন্য তাঁর শেষ ওসিয়ত। বেলাল রাযি. ঘোষণা করলে ছোট-বড় সবাই বেরিয়ে এল। ঘরের দরজা খোলা এবং বাজারকে তার অবস্থায় রেখে সবাই চলে এল। এমনকি কুমারী নারীরাও নবীজীর ওসিয়ত শোনার জন্য বেরিয়ে এলো। মসজিদে লোকজন সংকুলান হচ্ছিল না। নবীজী বলছিলেন, পরে যারা এসেছে, তাদের জন্য জায়গা করে দাও।
এরপর যখন তিনি দাঁড়ালেন তখন তিনি কাঁদছিলেন এবং ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন পড়ছিলেন। প্রথমে আল্লাহর হামদ ও সানা পাঠ করলেন, সকল নবীসহ নিজের ওপর সালাত পাঠ করলেন; এরপর বললেন, আমি হলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশেম আল-আরাবি আল-মক্কি। আমার পর কোনো নবী নেই। লোক সকল! জেনে রাখো, আমার ডাক পড়েছে। দুনিয়া থেকে আমার যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। প্রভুর সাথে সাক্ষাতের জন্য মনে অনেক আগ্রহ। এদিকে আমার উম্মতের চিন্তাও আছে, আমার পর তাদের কী অবস্থা হবে! হে আল্লাহ! শান্তি দাও!
হে লোক সকল! আমার ওসিয়ত মন দিয়ে শোনো এবং তা স্মরণ রেখো! তোমরা উপস্থিতরা অনুপস্থিত ব্যক্তিদের নিকট পৌঁছে দিয়ো। কারণ, এটাই আমার শেষ ওসিয়ত।
হে লোক সকল! আল্লাহ তা'আলা তাঁর কিতাবে তোমাদের জন্য হালাল-হারাম স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন। তোমরা কী করবে, কী করবে না, তা-ও বলে দিয়েছেন। কাজেই তিনি যেটাকে হালাল বলেছেন, সেটাকে হালাল জেনো এবং যেটাকে হারাম করেছেন, সেটাকে হারাম জেনো। কুরআনের মুতাশাবিহ আয়াতের ওপর ঈমান রাখো এবং মুহকাম আয়াতের ওপর আমল কর। আর কুরআনে যে-সব দৃষ্টান্ত পেশ করা হয়েছে, সেগুলো থেকে শিক্ষা নাও। এ কথা বলে তিনি আসমানের দিকে মাথা তুলে বললেন, হে আল্লাহ! আমি কি কথা পৌছিঁয়েছি? তুমি সাক্ষী থেকো।
أَيُّهَا النَّاسُ إِيَّاكُمْ وَهَذِهِ الْأَهْوَاءَ الضَّالَةَ الْمُضِلَّةَ الْبَعِيدَةَ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى، وَمِنَ الْجَنَّةِ، الْقَرِيبَةَ مِنَ النَّارِ، وَعَلَيْكُمْ بِالْجَمَاعَةِ، وَالاسْتِقَامَةِ فَإِنَّهَا قَرِيبَةٌ مِنَ اللَّهِ، قَرِيبَةٌ مِنَ الْجَنَّةِ بَعِيدٌ مِنَ النَّارِ. ثُمَّ قَالَ : اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ، أَيُّهَا النَّاسُ، اللَّهَ اللَّهَ فِي دِينِكُمْ وَأَمَانَتِكُمْ، الله اللهَ فِيمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ، فَأَطْعِمُوهُمْ مِمَّا تَأْكُلُونَ وَأَلْبِسُوهُمْ مِمَّا تَلْبَسُونَ، وَلَا تُكَلِّفُوهُمْ مَا لَا يُطِيقُونَ، فَإِنَّهُمْ لَحْمٌ وَدَمٌ، وَخَلْقُ أَمْثَالُكُمْ، أَلَا مَنْ ظَلَمَهُمْ، فَأَنَا خَصْمُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَ اللهُ حَاكِمُهُمْ، الله اللهَ فِي النِّسَاءِ أَوْفُوا لَهُنَّ مُهُورَهُنَّ، وَلَا تَظْلِمُوهُنَّ، فَيَحْرِمَكُمْ حَسَنَاتِكُمْ يَوْমَ الْقِيَامَةِ، أَلَا هَلْ بَلَّغْتُ.
হে লোক সকল! তোমরা এসব গোমরাহী হতে বেঁচে থাক, যা মানুষকে পথভ্রষ্ট করে আল্লাহ থেকে ও জান্নাত থেকে দূর করে জাহান্নামের নিকট পৌছিঁয়ে দেয়। আর তোমরা দীন ও ঐক্যবদ্ধতার ওপর অটল থেকো। কারণ, তা আল্লাহর ও জান্নাতের নিকটবর্তী করে দেয় এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখে। এরপর বললেন, হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছিয়েছি?
হে লোক সকল! তোমাদের দীন ও তোমাদের আমানতের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। তোমাদের দাস-দাসীর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা যা খাও, তা তাদের খাওয়াও; তোমরা যা পরিধান কর, তা তাদের পরিধান করাও। এমন কাজের নির্দেশ দিয়ো না, যা তাদের সাধ্যের বাইরে। কারণ, তারা তোমাদের মতো রক্ত-মাংসে গড়া। জেনে রাখো, তাদের ওপর যে জুলুম করবে, কিয়ামতের দিন আমি তার প্রতিপক্ষ হব এবং বিচারক হবেন আল্লাহ তা'আলা। স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। তাদের মোহরানা পুরোপুরি আদায় কর। তাদের ওপর জুলুম কর না। করলে কিয়ামতের দিন নেকি থেকে বঞ্চিত থেকে যাবে। খবরদার! আমি কি পৌঁছিয়েছি?
أَيُّهَا النَّاسُ: قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا (التحريم : (٦) وَعَلَّمُنوهُمْ، وَأَدَّبُوهُمْ فَإِنَّهُمْ عِنْدَكُمْ عَوَانٌ، وَأَمَانَةٌ، أَلَا هَلْ بَلَّغْتُ. أَيُّهَا النَّاسُ أَطِيعُوا وَلَاةَ أُمُورِكُمْ، وَلَا تَعْصُوهُمْ وَإِنْ كَانَ عَبْدًا حَبَشِيًّا مُجَدِّعًا، فَإِنَّهُ مَنْ أَطَاعَهُمْ فَقَدْ أَطَاعَنِي، وَمَنْ أَطَاعَنِي فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ، وَمَنْ عَصَاهُمْ فَقَدْ عَصَانِي، وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ عَصَى اللَّهَ، أَلَا لَا تَخْرُجُوا عَلَيْهِمْ، وَلَا تَنْقُضُوا عُهُودَهُمْ. أَلَا هَلْ بَلَّغْتُ. أَيُّهَا النَّاسُ عَلَيْكُمْ بِحُبِّ أَهْلِ بَيْتِي، عَلَيْكُمْ بِحُبِّ حَمَلَةِ الْقُرْآنِ، عَلَيْكُمْ بِحُبِّ عُلَمَائِكُمْ لَا تُبْغِضُوهُمْ، وَلَا تَحْسُدُوهُمْ، وَلَا تَطْعَنُوا فِيهِمْ. أَلَا مَنْ أَحَبَّهُمْ فَقَدْ أَحَبَّنِي وَمَنْ أَحَبَّنِي فَقَدْ أَحَبَّ اللهَ، وَمَنْ أَبْغَضَهُمْ فَقَدْ أَبْغَضَنِي وَمَنْ أَبْগَضَنِي فَقَدْ أَبْغَضَ اللَّهَ. أَلَا هَلْ بَلَّغْتُ؟
হে লোকেরা! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে রাখো। তাদের ইলম ও আদব শিক্ষা দাও। কারণ, তারা তোমাদের নিকট আমানত। সাবধান! আমি কি পৌঁছিয়েছি?
লোক সকল! তোমরা তোমাদের শাসকদের আনুগত্য কর। তাদের অবাধ্য হয়ো না, যদিও তোমাদের শাসক হাবশী অপূর্ণাঙ্গ দেহের অধিকারী হয়। কারণ, যে ব্যক্তি তাদের আনুগত্য করে, সে যেন আমারই আনুগত্য করে। আর যে আমার আনুগত্য করে, সে যেন আল্লাহরই আনুগত্য করে। আর যে তাদের অবাধ্য হয়, সে যেন আমারই অবাধ্য হয়। আর যে আমার অবাধ্য হয়, সে যেন আল্লাহরই অবাধ্য হয়। সাবধান! তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ কর না। তাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ কর না। সাবধান! আমি কি পৌঁছিয়েছি?
হে লোক সকল! তোমরা আমার আহলে বাইতদের ভালোবেসো। হাফেজে-কুরআনদের ভালোবেসো। তোমাদের আলেমদের ভালোবেসো। তাদের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ রেখো না। তাদের দোষ খুঁজো না। জেনে রাখো! যে তাদের ভালোবাসল, সে আমাকে ভালোবাসল। আর যে আমাকে ভালোবাসল, সে আল্লাহকে ভালোবাসল। আর যে তাদের প্রতি বিদ্বেষ রাখল, সে আমার প্রতি বিদ্বেষ রাখল। আর যে আমার প্রতি বিদ্বেষ রাখল, সে আল্লাহর প্রতি বিদ্বেষ রাখল। সাবধান! আমি কি পৌঁছিয়েছি।
أَيُّهَا النَّاسُ عَلَيْكُمْ بِالصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ، بِإِسْبَاغِ وَضُوئِهَا، وَإِثْمَامِ رُكُوعِهَا، وَسُجُودِهَا. أَيُّهَا النَّاسُ أَدُّوا زَكَاةَ أَمْوَالِكُمْ. أَلَا مَنْ لَمْ يُؤَدِّ الزَّكَاةَ فَلَا صَلَاةَ لَهُ، أَلَا مَنْ لَا صَلَاةَ لَهُ، فَلَا دِينَ لَهُ، وَلَا صَوْمَ لَهُ، وَلَا حَجَّ لَهُ، وَلَا جِهَادَ لَهُ، اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ. أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى فَرَضَ الْحَجَّ عَلَى مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا وَمَنْ لَمْ يَفْعَلُ فَلْيَمُتْ عَلَى أَيِّ حَالٍ شَاءَ يَهُودِيًّا أَوْ نَصْرَانِيًّا أَوْ مَجُوسِيًّا، إِلَّا أَنْ يَكُونَ بِهِ مَرَضٌ حَابِسُهُ، أَوْ مَنَعَهُ سُلْطَانٌ جَائِرٌ، أَلَا لَا نَصِيبَ لَهُ فِي شَفَاعَتِي وَلَا يَرِدُ حَوْضِي، أَلَا هَلْ بَلَّغْتُ.
তোমরা পরিপূর্ণরূপে উযূ করে নামাযের রুকু-সেজদা পুরোপুরি আদায় করে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় কর। তোমরা তোমাদের মালের যাকাত আদায় কর। যে ব্যক্তি যাকাত আদায় করে না, তার নামায হয় না। আর যার নামায নেই, তার দীন নেই, তার রোযা নেই, তার হজ্ব নেই, তার জিহাদ নেই। হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছিয়েছি?
হে লোক সকল! তোমাদের যাদের সামর্থ্য আছে, তাদের ওপর আল্লাহ তা'আলা হজ্ব ফরয করেছেন। যে আদায় করল না, সে চাই ইয়াহুদি হয়ে মারা যাক, বা নাসারা হয়ে, কিংবা মাজুসী হয়ে। তবে যদি কোনো রোগের কারণে কিংবা জালেম শাসকের কারণে আসতে না পারে, [তবে ভিন্ন কথা]। সাবধান! সে আমার সুপারিশ পাবে না! আমার হাউজে কাউসারের কাছে আসবে না। সাবধান! আমি কি পৌঁছিয়েছি?
أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللَّهَ جَامِعُكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فِي صَعِيدٍ وَاحِدٍ، فِي مَقَامٍ عَظِيمٍ، وَهُوَ شَدِيدٌ فِي يَوْمٍ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ، إِلَّا مَنْ أَتَى اللهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ. أَلَا هَلْ بَلَّغْتُ. أَيُّهَا النَّاسُ احْفَظُوا أَلْسِنَتَكُمْ وَابْكُوا عُيُونَكُمْ وَاخْضِعُوا قُلُوبَكُمْ وَأَنِيبُوا أَبْدَانَكُمْ، وَ جَاهِدُوا أَعْدَاءَكُمْ وَ عَمِّرُوا مَسَاجِدَكُمْ وَ أَخْلِصُوا إِيمَانَكُمْ وَانْصَحُوا إِخْوَانَكُمْ، وَقَدِمُوا لِأَنْفُسِكُمْ وَاحْفَظُوا فُرُوجَكُمْ وَتَصَدَّقُوا مِنْ أَمْوَالِكُمْ، وَلَا تَحَاسَدُوا فَتَذْهَبَ حَسَنَاتُكُمْ، وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا فَتَهْلِكُوا ، أَلَا هَلْ بَلَّغْتُ.
হে লোক সকল! আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তোমাদের সবাইকে একটি বিশাল মাঠে সমবেত করবেন। সেদিন হবে খুবই কঠিন দিন। সেদিন কোনো ধন দৌলত বা সন্তানাদি কাজে আসবে না। তবে কেউ যদি [কুফর-শিরক হতে মুক্ত] সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর নিকট আসে, সে মুক্তি পাবে।
হে লোক সকল! তোমাদের জবান হেফাজত কর। তোমাদের চোখকে কাঁদাও। অন্তরকে বিনম্র কর। দেহকে ক্লান্ত কর। শত্রুদের সাথে জিহাদ কর। মসজিদ আবাদ কর। ঈমানকে একনিষ্ঠ কর। ভাইদের কল্যাণকামিতা কর। নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য সৎকর্ম আগে পাঠাও। নিজেদের লজ্জাস্থান হেফাজত কর। সম্পদ দান কর। পরস্পরে হিংসা কর না। তা হলে তোমাদের নেকিগুলো বিনষ্ট হয়ে যাবে। একে অপরের নিন্দা করবে না। এরূপ করলে ধ্বংস হয়ে যাবে। সাবধান! আমি কি পৌঁছিয়েছি?
أَيُّهَا النَّاسُ اسْعَوْا فِي فِكَاكِ رِقَابِكُمْ، وَاعْمَلُوا الْخَيْرَ لِيَوْمِ فَقْرِكُمْ وَفَاقَتِكُمْ. أَيُّهَا النَّاسُ لَا تَظْلِمُوا فَإِنَّ اللهَ تَعَالَى هُوَ الطَّالِبُ لِمَنْ جَارَ، وَعَلَيْهِ حِسَابُكُمْ وَإِلَيْهِ إِيَابُكُمْ، إِنَّهُ لَا يَرْضَى مِنْكُمْ بِالْمَعَاصِي. أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهُ مَنْ عَمِلَ مِنْكُمْ صَالِحًا فَلِنَفْسِهِ، وَمَنْ أَسَاءَ فَعَلَيْهَا ، وَمَا رَبُّكَ بِظَلَّامٍ لِلْعَبِيدِ، وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللهِ، ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ مَا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ. أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي قَادِمٌ إِلَى رَبِّي، وَقَدْ نُعِيَتْ إِلَيَّ نَفْسِي، فَاسْتَوْدِعُ اللَّهَ دِينَكُمْ، وَأَمَانَتَكُمْ وَالسَّلَامُ عَلَيْكُمْ مَعْشَرَ أَصْحَابِي، وَ عَلَى جَمِيعِ أُمَّتِي السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ. ثُمَّ نَزَلَ فَدَخَلَ الْمَنْزِلَ، فَمَا خَرَجَ بَعْدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ، وَمُحِبِّهِ وَأُمَّتِهِ وَسَلَّمَ.
তোমরা তোমাদের দাস-দাসী মুক্ত করানোর জন্য চেষ্টা কর। আর তোমাদের দারিদ্র্য ও অভাবের দিনের জন্য কিছু উত্তম কাজ কর। তোমরা জুলুম কর না। কারণ, আল্লাহ তা'আলা জালেমকে খোঁজ করেন; আর তিনি তোমাদের হিসাব নেবেন। তারই নিকট তোমাদের ফিরে যেতে হবে। তোমাদের থেকে পাপকর্ম হওয়াটা তিনি পছন্দ করেন না।
হে লোক সকল! যে কোনো সৎকর্ম করে, সে তা নিজের জন্যই করে। আর যে মন্দ করে, তার কুফল তারই ওপর বর্তায়। তোমাদের রব মোটেই জুলুম করেন না। এমন দিনকে ভয় কর, যেদিন তোমরা তাঁর নিকট ফিরে যাবে। অতঃপর প্রত্যেক আত্মাই তার কৃতকর্মের ফল পাবে, তাদের কারো ওপর জুলুম হবে না।
হে লোক সকল! আমি আমার প্রভুর নিকট যাব। আমাকে ডাক দেওয়া হয়েছে। কাজেই আমি তোমাদের দীন, তোমাদের আমানত আল্লাহরই নিকট সোপর্দ করছি। তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, হে আমার সাহাবীর দল এবং উম্মতগণ! আস্সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু। এরপর তিনি মিম্বর থেকে নেমে ঘরে প্রবেশ করলেন। এরপর আর তিনি ঘর থেকে বের হননি।
টিকাঃ
৫৮৬ হাদীসটির সনদ নিতান্তই দুর্বল। কেননা সনদে দাউদ ও আব্বাদ দুজনই দুর্বল রাবী।