📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আল্লাহর নিকট কেবল উত্তম বস্তুই কামনা করবে

📄 আল্লাহর নিকট কেবল উত্তম বস্তুই কামনা করবে


হযরত কাতাদা রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ-এর যুগে এক ব্যক্তি দোয়া করল, হে আল্লাহ! আপনি পরকালে আমাকে যে শাস্তি দেবেন, তা দুনিয়াতেই দিন। তারপর লোকটি মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ল। আস্তে আস্তে দেহ জীর্ণ-শীর্ণ হয়ে একেবারে পোকার মত হয়ে গেল। রাসূল ﷺ-কে সংবাদ দেয়া হলে, তিনি উপস্থিত হলেন এবং তার মাথা উঠালেন। কিন্তু তার মাঝে কোনো নড়াচড়া অনুভূত হলো না। তখন জনৈক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! সে অমুক দোয়া করত। এই বলে সে তার কৃত দুআর উল্লেখ করল। তখন রাসূল বললেন, হে আদম সন্তান! তুমি তো আল্লাহর আযাব সহ্য করতে পারবে না। তাই 'রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া ক্বিনা আযাবান্নার' (অর্থ : হে আমাদের রব আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন। আর আখেরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন) এই দোয়া কর। অতঃপর লোকটি এই দোয়া করল। ফলে সুস্থ হয়ে গেল।

টিকাঃ
৫০১ সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৬৮৮; সুনানে তিরমিযী: হাদীস- ৩৪৮৭।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মাগফেরাতের দোয়া

📄 মাগফেরাতের দোয়া


বর্ণিত আছে, উতবা নামক এক ক্রীতদাস ইন্তেকাল করলে জনৈক ব্যক্তি তাকে স্বপ্নে দেখল। জিজ্ঞেস করল, আল্লাহ তা'আলা তোমার সাথে কেমন আচরণ করেছেন? ক্রীতদাস বলল, আমার কয়েকটি দুআর কারণে আল্লাহ তা'আলা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। দুআগুলো দেয়ালে লেখা আছে। উক্ত ব্যক্তি ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে দেখতে পেল, মৃত ব্যক্তির দেয়ালে লেখা আছে-
اللَّهُمَّ يَا هَادِيَ الْمُضِلِّينَ وَيَا رَاحِمَ الْمُذْنِبِينَ، وَيَا مُقِيلَ عَثَرَاتِ الْعَارِينَ، أَرْحَمُ عَبْدَكَ مِنْ ذَا الْخَطَرِ الْعَظِيمِ، وَالْمُسْلِمِينَ كُلَّهُمْ أَجْمَعِينَ، وَاجْعَلْنَا مِنَ الْأَخْيَارِ الْمَرْزُوقِينَ، مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ، وَالصَّالِحِينَ، وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا بِرَحْمَتِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ
অর্থ: হে আল্লাহ, হে পথভ্রষ্টদেরকে পথ প্রদর্শনকারী, হে পাপীদের ক্ষমাকারী, আপনার এই বান্দাকে এবং সকল মুসলমানকে সেই ভয়াবহ আযাব থেকে রক্ষা করে রহমত দান করুন। আমাদেরকে রিযিকপ্রাপ্ত কল্যাণব্রতীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমাদেরকে নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সালেহীনদের সেই সব লোকদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যাদেরকে আপনি নেয়ামতে ভূষিত করেছেন, যারা উত্তম সঙ্গী। হে সর্বাধিক করুণার আধার, আমাদের প্রতি রহম করুন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আবদালদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দোয়া

📄 আবদালদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দোয়া


বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি প্রত্যেক নামাযের পর এই পাঁচটি দোয়া পড়বে, তার নাম আবদালদের দলে লিপিবদ্ধ করা হবে। দুআটি হলো-
اللَّهُمَّ أَصْلِحْ أُمَّةً مُحَمَّدٍ، اللهُمَّ ارْحَمْ أُمَّةَ مُحَمَّدٍ، اللهُمَّ فَرِّجْ عَنْ أُمَّةٍ مُحَمَّদٍ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِأُمَّةِ مُحَمَّদٍ، وَلِجَمِيعِ مَنْ آمَنَ بِكَ
অর্থ: হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ﷺ-এর উম্মতকে ইছলাহ দান করুন। হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ﷺ-এর উম্মাতের উপর রহম করুন। হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ﷺ-এর উম্মতকে বিপদমুক্ত করুন। হে আল্লাহ মুহাম্মাদ ﷺ-এর উম্মতকে এবং সকল ঈমানদারকে মাগফেরাত দান করুন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জালেমদের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া

📄 জালেমদের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া


হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. বলেন, একদা হাজ্জাজ ইবনে ইউছুফ তাঁর উপর নারাজ হয়ে বলল, যদি আব্দুল মালেক ইবনে মারওয়ানের নির্দেশ না থাকত (পত্র মারফত মারওয়ান তাকে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছিল) তাহলে আপনার বিরুদ্ধে এমন এমন ব্যবস্থা নিতাম। আনাস রাযি. বললেন, তুমি তা করতে পারতে না। হাজ্জাজ বলল, কে আমাকে তা করতে বাধা দিত? আনাস রাযি. বললেন, কয়েকটি দোয়া আমাকে রাসূল শিক্ষা দিয়েছেন যা আমি প্রত্যহ সকাল সন্ধ্যায় পাঠ করি। হাজ্জাজ বলল, আমাকে দুআগুলো শিখিয়ে দিন। আনাস রাযি. অস্বীকার করলেন। হাজ্জাজ বারবার অনুরোধ করল। আনাস রাযি. অস্বীকার করলেন। আবান রহ. বলেন, আনাস রাযি. অসুস্থ হলে আমি তাঁর নিকট সে দুআগুলোর কথা জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি পড়লেন-
بِسْمِ اللهِ عَلَى نَفْسِي وَدِينِي بِسْمِ اللَّهِ عَلَى أَهْلِ وَمَالِي وَوَلَدِي بِسْمِ اللَّهِ عَلَى كُلِّ مَا أَعْطَانِي رَبِّي اللهُ اللهُ رَبِّي لَا أُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا اللهُ اللهُ رَبِّي لَا أُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَأَعَزُّ وَأَجَلٌ مِمَّا أَخَافُ وَأَحْذَرُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَمِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ مَرِيدٍ وَمِنْ شَرِّ كُلِّ جَبَّارٍ عَنِيدٍ فَإِذَا تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ عَزَّ جَارُكَ وَجَدَّ تَنَاؤُكَ وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ.

অর্থ: নফস ও দ্বীনের ক্ষেত্রে আল্লাহর নামের সাহায্য গ্রহণ করছি, পরিবার-পরিজন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির ক্ষেত্রে আল্লাহর নাম স্মরণ করছি। আমার রব আমাকে যা দান করেছেন, তার ক্ষেত্রে আল্লাহর নামের আশ্রয় নিচ্ছি। তিনিই আমার রব, তাঁর সাথে আমি কাউকে অংশীদার করি না। তিনিই আমার প্রতিপালক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আল্লাহ, মহান, মহৎ ও সর্ববৃহৎ। যার ভয়ে আমি ভীত, যার থেকে সতর্কতা অবলম্বন করি, তাঁর তুলনায় তিনি মহান, শক্তিধর ও সম্মানিত। হে আল্লাহ, নফসের কূট চাল থেকে আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি এবং প্রত্যেক উদ্ধত শয়তান এবং প্রতাপশালী ও অহংকারী থেকে আপনার আশ্রয় নিচ্ছি। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ঠ। তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। তাঁরই উপর আমি তাওয়াক্কুল করছি। তিনিই আরশের অধিপতি। আপনার প্রশংসা অতুলনীয় ও মহান। আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই।

ফন্ট সাইজ
15px
17px