📄 স্ত্রীর সাথে প্রথম সাক্ষাতের দোয়া
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, স্ত্রীকে প্রথম দেখার পর তাকে দুই রাকাআত নামায আদায়ের নির্দেশ দিবে। তারপর মাথার সম্মুখভাগের চুল ধরে-
اللَّهُمَّ بَارِكْ فِي أَهْلِي وَبَارِكْ لِأَهْلِي فِي وَار্সুজুকনি মিনহা ওয়াজমা' বাইনানা মা জামা'তা বিখাইরিন ওয়া ফাররিক্ব বাইনানা ইযা ফাররাক্বতা বিখাইরিন।
(অর্থ: হে আল্লাহ আমার স্ত্রীর মাঝে বরকত দান করুন এবং তার জন্য আমার মাঝে বরকত সৃষ্টি করুন। আমার পক্ষ থেকে তাকে এবং আমাকে তার পক্ষ থেকে রিযিক দান করুন। আমাদেরকে একত্র রাখা যদি আপনার নিকট মঞ্জুর হয়, তবে কল্যাণের সাথে আমাদেরকে একত্রিত করুন। বিচ্ছেদ মঞ্জুর হলে উত্তমভাবে বিচ্ছেদ করুন) বলবে।
টিকাঃ
৫০০. ত্ববারানী আওসাত : ৪/২১৭; হাদীসটি সহীহ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ৪/২৯৫; আদাবুয যিফাফ লিল-আলবানী: পৃষ্ঠা-৯৪-৯৮]।
📄 গুরুত্বপূর্ণ চারটি দোয়া
হযরত জাফর ইবনে মুহাম্মাদ রহ. বলেন, আমি বিস্মিত এমন ব্যক্তির ব্যাপারে, যাকে চারটি বিষয়ে আক্রান্ত করা হয়েছে, সে কিভাবে চারটি বিষয় থেকে গাফেল থাকে! যথা-
১. আমি বিস্মিত সে ব্যক্তির জন্য যে দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত হয়েও 'লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যলিমীন' (অর্থ: আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আমি জালেমদের অন্তর্ভুক্ত) বলে না। অথচ আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, "সুতরাং আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম এবং তাকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করলাম। আর এভাবেই আমি মুমিনদেরকে রক্ষা করি"।
২. আমি বিস্মিত সে ব্যক্তির জন্য যে অনিষ্টের ভয় করেও 'হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল অকীল' (অর্থ : আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি উত্তম কর্মবিধায়ক) বলে না। অথচ আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন "অতঃপর তারা ফিরে এসেছে আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামত ও অনুগ্রহসহ। কোনো মন্দ তাদেরকে স্পর্শ করেনি এবং তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুসরণ করেছিল। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল"।
৩. আমি বিস্মিত সে ব্যক্তির জন্য যে মানুষের ষড়যন্ত্রের ভয় করে কিন্তু 'ওয়া উফাউয়িদু আমরী ইলাল্লাহি ইন্নাল্লাহা বাসীরুম বিল ইবাদ' (অর্থ : আমি আমার বিষয়টি আল্লাহর নিকট সোপর্দ করছি। নিশ্চয় আল্লাহ তার বান্দাদেরকে দেখছেন) বলে না। অথচ আল্লাহ বলেন, "অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তারা যে ষড়যন্ত্র করেছিল, তা থেকে তাকে রক্ষা করলেন, এবং ফেরাউনের বংশের উপর নেমে এল মন্দ আযাব"।
৪. আমি বিস্মিত সে ব্যক্তির জন্য যে জান্নাতের আশা করেও 'মাশাআল্লাহু লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' (অর্থ : আল্লাহ তা'আলা যা ইচ্ছা করেছেন, আল্লাহ ব্যতীত কোনো শক্তি নেই) বলে না। অথচ আল্লাহ বলেন, "হয়তো আমার রব আমাকে তোমার বাগিচা থেকে উত্তম কিছু দান করছেন"।
📄 আল্লাহর নিকট কেবল উত্তম বস্তুই কামনা করবে
হযরত কাতাদা রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ-এর যুগে এক ব্যক্তি দোয়া করল, হে আল্লাহ! আপনি পরকালে আমাকে যে শাস্তি দেবেন, তা দুনিয়াতেই দিন। তারপর লোকটি মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ল। আস্তে আস্তে দেহ জীর্ণ-শীর্ণ হয়ে একেবারে পোকার মত হয়ে গেল। রাসূল ﷺ-কে সংবাদ দেয়া হলে, তিনি উপস্থিত হলেন এবং তার মাথা উঠালেন। কিন্তু তার মাঝে কোনো নড়াচড়া অনুভূত হলো না। তখন জনৈক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! সে অমুক দোয়া করত। এই বলে সে তার কৃত দুআর উল্লেখ করল। তখন রাসূল বললেন, হে আদম সন্তান! তুমি তো আল্লাহর আযাব সহ্য করতে পারবে না। তাই 'রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া ক্বিনা আযাবান্নার' (অর্থ : হে আমাদের রব আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন। আর আখেরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন) এই দোয়া কর। অতঃপর লোকটি এই দোয়া করল। ফলে সুস্থ হয়ে গেল।
টিকাঃ
৫০১ সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৬৮৮; সুনানে তিরমিযী: হাদীস- ৩৪৮৭।
📄 মাগফেরাতের দোয়া
বর্ণিত আছে, উতবা নামক এক ক্রীতদাস ইন্তেকাল করলে জনৈক ব্যক্তি তাকে স্বপ্নে দেখল। জিজ্ঞেস করল, আল্লাহ তা'আলা তোমার সাথে কেমন আচরণ করেছেন? ক্রীতদাস বলল, আমার কয়েকটি দুআর কারণে আল্লাহ তা'আলা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। দুআগুলো দেয়ালে লেখা আছে। উক্ত ব্যক্তি ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে দেখতে পেল, মৃত ব্যক্তির দেয়ালে লেখা আছে-
اللَّهُمَّ يَا هَادِيَ الْمُضِلِّينَ وَيَا رَاحِمَ الْمُذْنِبِينَ، وَيَا مُقِيلَ عَثَرَاتِ الْعَارِينَ، أَرْحَمُ عَبْدَكَ مِنْ ذَا الْخَطَرِ الْعَظِيمِ، وَالْمُسْلِمِينَ كُلَّهُمْ أَجْمَعِينَ، وَاجْعَلْنَا مِنَ الْأَخْيَارِ الْمَرْزُوقِينَ، مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ، وَالصَّالِحِينَ، وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا بِرَحْمَتِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ
অর্থ: হে আল্লাহ, হে পথভ্রষ্টদেরকে পথ প্রদর্শনকারী, হে পাপীদের ক্ষমাকারী, আপনার এই বান্দাকে এবং সকল মুসলমানকে সেই ভয়াবহ আযাব থেকে রক্ষা করে রহমত দান করুন। আমাদেরকে রিযিকপ্রাপ্ত কল্যাণব্রতীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমাদেরকে নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সালেহীনদের সেই সব লোকদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যাদেরকে আপনি নেয়ামতে ভূষিত করেছেন, যারা উত্তম সঙ্গী। হে সর্বাধিক করুণার আধার, আমাদের প্রতি রহম করুন।