📄 দুঃস্বপ্ন দেখলে
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেছেন, তোমাদের কেউ দুঃস্বপ্ন দেখলে তিনবার বাম দিকে থুথু ফেলবে এবং তিনবার ক্ষতিকর বিষয় থেকে পানাহ চাইবে। তাহলে তার কোনো ক্ষতি হবে না।
টিকাঃ
৪৯৭. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৯৮৬; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২২৬১।
📄 সর্বোত্তম দোয়া
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল ﷺ-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! কোন দোয়া সর্বোত্তম দুআ? তিনি বললেন, তোমার প্রতিপালকের নিকট ইহকাল-পরকালের নিরাপত্তা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা। তারপর দ্বিতীয় দিন এসে বলল, হে আল্লাহর নবী! কোন দোয়া সর্বোত্তম দুআ? রাসূল বললেন, তোমার প্রতিপালকের নিকট ইহকাল ও পরকালের নিরাপত্তা ও ক্ষমা প্রর্থনা করা। তারপর তৃতীয় দিন তাঁর নিকট এসে পূর্বের ন্যায় প্রশ্ন করল। তখন নবী বললেন, যদি দুনিয়া ও আখেরাতের নিরাপত্তা ও ক্ষমা তোমাকে দান করা হয়, তাহলে তুমি সফলকাম হয়ে গেলে।
টিকাঃ
৪৯৮. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩৫১২; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৩৮৪৮; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১২২৯১; হাদীসটি হাসান গরীব।
📄 সফরের দোয়া
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি সফরের ইচ্ছা করলে বাহনে আরোহণ করে বলতেনঃ
سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ.
(অর্থ : সকল পবিত্রতা ঐ সত্তার, যিনি এ বাহনকে আমাদের অনুগত করে দিয়েছেন। অথচ আমরা তা কাবু করতে সম্পূর্ণরূপে অক্ষম ছিলাম। আর আমরা আমাদের রবের দিকেই ফিরে যাব) বলতেন।
اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالخَلِيفَةُ في الأَهْلِ اللَّهُمَّ هَوَنُ عَلَيْنَا السَّفَرَ وَاطْوِ لَنَا بُعْدَ الْأَرْضِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَابَةِ الْمُنْقَلَبِ وَالْحَوْরِ بَعْدَ الْكَوْرِ وَدَعْوَةِ الْمَظْلُومِ وَسُوءِ الْمَنْظَرِ فِي الْأَهْلِ وَالْمَالِ
(অর্থ: হে আল্লাহ আপনিই সফরে আমার সঙ্গী এবং পরিজনের রক্ষণাবেক্ষণকারী। হে আল্লাহ আমাদের জন্য যমীনকে সুসংক্ষিপ্ত করে দিন এবং সফরকে সহজ করে দিন। হে আল্লাহ, আমরা সফরের কষ্ট, দুরাবস্থা, মন্দ প্রত্যাবর্তন এবং পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতিকে বিরূপ অবস্থায় দেখতে পাওয়া থেকে আপনার পানাহ চাচ্ছি) বলতেন।
টিকাঃ
৪৯৯. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৩৪২; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩৪৪৭।
📄 স্ত্রীর সাথে প্রথম সাক্ষাতের দোয়া
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, স্ত্রীকে প্রথম দেখার পর তাকে দুই রাকাআত নামায আদায়ের নির্দেশ দিবে। তারপর মাথার সম্মুখভাগের চুল ধরে-
اللَّهُمَّ بَارِكْ فِي أَهْلِي وَبَارِكْ لِأَهْلِي فِي وَار্সুজুকনি মিনহা ওয়াজমা' বাইনানা মা জামা'তা বিখাইরিন ওয়া ফাররিক্ব বাইনানা ইযা ফাররাক্বতা বিখাইরিন।
(অর্থ: হে আল্লাহ আমার স্ত্রীর মাঝে বরকত দান করুন এবং তার জন্য আমার মাঝে বরকত সৃষ্টি করুন। আমার পক্ষ থেকে তাকে এবং আমাকে তার পক্ষ থেকে রিযিক দান করুন। আমাদেরকে একত্র রাখা যদি আপনার নিকট মঞ্জুর হয়, তবে কল্যাণের সাথে আমাদেরকে একত্রিত করুন। বিচ্ছেদ মঞ্জুর হলে উত্তমভাবে বিচ্ছেদ করুন) বলবে।
টিকাঃ
৫০০. ত্ববারানী আওসাত : ৪/২১৭; হাদীসটি সহীহ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ৪/২৯৫; আদাবুয যিফাফ লিল-আলবানী: পৃষ্ঠা-৯৪-৯৮]।