📄 সকাল-সন্ধ্যার দোয়া
হযরত আবান রহ. তার পিতা উসমান রাযি. থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি সকালে তিনবার-
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
(অর্থ: আল্লাহর নামে (সকাল করছি বা বিকাল করছি) যার নামের সাথে আসমান-জমিনের কোনো কিছু ক্ষতি করতে পারবে না। আর তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ) পাঠ করবে, সন্ধ্যা পর্যন্ত সে কোনো বিপদাক্রান্ত হবে না। আর যে সন্ধ্যায় তিনবার তা পাঠ করবে, সকাল পর্যন্ত সে বিপদাক্রান্ত হবে না।
বর্ণনাকারী আবান বিন উসমান রহ. পক্ষাঘাতগ্রস্ত হলে, তাঁকে বলা হলো, তুমি আমাদেরকে যে হাদীস বর্ণনা করতে, সেটা কোথায় গেল! তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি মিথ্যা বলিনি। আর আমার নিকটও মিথ্যা বলা হয়নি। তবে আল্লাহ আমাকে এ পরীক্ষায় ফেলার সময় উক্ত দুআটি ভুলিয়ে দেন।
টিকাঃ
৪৯১. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৪৪৬; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৫০৮৮; সুনানে তিরমিযী: হাদীস- ৩৩৮৮। হাদীসটি হাসান সহীহ [আহমাদ শাকের ও শুয়াইব আরনাউত]।
📄 অভাব দূর হওয়ার দোয়া
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি রাসূল ﷺ-এর দরবারে উপস্থিত হলাম। ইতোমধ্যে একজন লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার তো অভাব দূর হয় না। রাসূল বললেন, ফেরেশতাদের দুআ, সৃষ্টির তাসবীহ ও রিযিকের চাবিকাঠি থেকে তো তুমি অনেক দূরে, যার বদৌলতে তারা রিযিকপ্রাপ্ত হয়। লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এগুলো কী? রাসূল বললেন, সেগুলো হলো-
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيمِ وَاسْتَغْفِرُ اللَّهَ
সুবহে সাদিকের পর থেকে ফজরের নামায আদায় করার মধ্যবর্তী সময়ে একশত বার পড়বে। দেখবে দুনিয়া অপদস্থ লাঞ্ছিত হয়ে তোমার নিকট ধরা দেবে।
টিকাঃ
৪৯২. হাদীসটি অত্যন্ত দুর্বল। কোন কোন ইমাম হাদীসটিকে জালও বলেছেন [আল-ফিরদাউস: হাদীস- ৩৭৩১; তানযীহুশ শারীয়াহ খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৩১৮; তারতীবুল মাওযুয়াত লিয-যাহাবী: ২৭৬]।
📄 নিদ্রাকালের আমল
হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী ﷺ ঘুমানোর পূর্বে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস তিলাওয়াত করতেন এবং দুই হাতের তালু একত্রিত করে তাতে ফুঁ দিতেন। অতঃপর মুখমণ্ডল ও বাকি শরীরে দু'হাত বুলিয়ে দিতেন।
টিকাঃ
৪৯৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-৫০১৭; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩৪০২।
📄 শয়তান থেকে হেফাজতের আমল
হযরত ইকরিমা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি কোথাও সফর করছিল। পথিমধ্যে তিনি কাউকে ঘুমন্ত দেখতে পেলো। আরও দেখতে পেলো যে, তার অদূরে দু'টি শয়তান বসে আছে। এক শয়তান অপর শয়তানকে বলছে, যাও, ঘুমন্ত ব্যক্তির মনে কুমন্ত্রণা দিয়ে এসো। শয়তান লোকটির নিকটবর্তী হয়ে আবার তার সাথী শয়তানের নিকট ফিরে এসে বলল, সে কুরআনের আয়াত পাঠ করে ঘুমিয়েছে। তার নিকট পৌঁছা সম্ভব নয়। তখন সঙ্গী শয়তানটি ঘুমন্ত ব্যক্তির নিকট গেল এবং নিকটবর্তী হয়ে ফিরে এসে বলল, হ্যাঁ, তুমি সত্য বলেছ। তারপর শয়তান দু'টি চলে গেল। মুসাফির লোকটি ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগ্রত করে শয়তান দু'টির ঘটনা শোনাল এবং জিজ্ঞাসা করল, কোন আয়াত পাঠ করে আপনি ঘুমিয়েছিলেন? লোকটি তখন বলল, আমি এই আয়াত পাঠ করেছিলাম-
إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمُوتِ وَالْأَرْضِ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَ الشَّমْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَ الْأَمْرُ تَبْرَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعُلَمِينَ * ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ * وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا إِنَّ رَحْمَتَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِينَ
অর্থ: নিশ্চয় তোমাদের রব আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করছেন। অতঃপর আরশে সমাসীন হয়েছেন। তিনি রাত দ্বারা দিনকে ঢেকে দেন। প্রত্যেকটি একে অপরকে দ্রুত অনুসরণ করে। (সৃষ্টি করেছেন) সূর্য, চাঁদ ও তারকারাজি যা তাঁর নির্দেশে নিয়োজিত। জেনে রাখ, সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই। আল্লাহ মহান, যিনি সকল সৃষ্টির রব। তোমরা তোমাদের রবকে ডাক অনুনয় বিনয় করে ও চুপিসারে। নিশ্চয় তিনি পছন্দ করেন না সীমালঙ্ঘনকারীকে। আর তোমরা জমিনে ফাসাদ কর না তার সংশোধনের পর এবং তাঁকে ডাক ভয় ও আশা নিয়ে। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।