📄 জান্নাত ওয়াজিব হওয়ার ওযীফা
হযরত আবূ উমামা বাহিলী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে-
اللَّهُمَّ أَنتَ الْمَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ آمَنْتُ بِكَ مُخْلِصًا لَكَ دِينِي اصْبَحْتُ عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ مِنْ سَيِّئ عَمَلِي وَاسْتَغْفِرُكَ لِذُنُوبِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
(অর্থ: হে আল্লাহ যাবতীয় প্রশংসা আপনার, আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আপনিই আমার রব, আর আমি আপনার দাস। আমি একনিষ্ঠভাবে আমার দীনের সর্বস্ব নিয়োগ করে আপনার প্রতি ঈমান পোষণ করছি। আমার পক্ষে যতটা সম্ভব, তার সবটুকু প্রয়োগ করে আপনার প্রতিশ্রুতি ও ওয়াদা অনুযায়ী সকাল করছি। আমি আমার মন্দ আমল থেকে আপনার নিকট তওবা করছি। আমার পাপসমূহের জন্য আপনার নিকট ইস্তিগফার করছি। নিশ্চয় আপনি ব্যতীত পাপসমূহ কেউ ক্ষমা করবে না) কালিমাগুলো পাঠ করে এবং সে উক্ত দিন ইন্তেকাল করে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। আর যদি সন্ধ্যায় পড়ে, তাহলে উক্ত রাতে ইন্তেকাল করলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। তবে সন্ধ্যায় أَصْبَحْتُ এর স্থলে أَمْسَيْتُ পড়বে।
টিকাঃ
৪৯০. ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/১১৪; সহীহুল জামে': ৬৪২৪]।
📄 সকাল-সন্ধ্যার দোয়া
হযরত আবান রহ. তার পিতা উসমান রাযি. থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি সকালে তিনবার-
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
(অর্থ: আল্লাহর নামে (সকাল করছি বা বিকাল করছি) যার নামের সাথে আসমান-জমিনের কোনো কিছু ক্ষতি করতে পারবে না। আর তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ) পাঠ করবে, সন্ধ্যা পর্যন্ত সে কোনো বিপদাক্রান্ত হবে না। আর যে সন্ধ্যায় তিনবার তা পাঠ করবে, সকাল পর্যন্ত সে বিপদাক্রান্ত হবে না।
বর্ণনাকারী আবান বিন উসমান রহ. পক্ষাঘাতগ্রস্ত হলে, তাঁকে বলা হলো, তুমি আমাদেরকে যে হাদীস বর্ণনা করতে, সেটা কোথায় গেল! তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি মিথ্যা বলিনি। আর আমার নিকটও মিথ্যা বলা হয়নি। তবে আল্লাহ আমাকে এ পরীক্ষায় ফেলার সময় উক্ত দুআটি ভুলিয়ে দেন।
টিকাঃ
৪৯১. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৪৪৬; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৫০৮৮; সুনানে তিরমিযী: হাদীস- ৩৩৮৮। হাদীসটি হাসান সহীহ [আহমাদ শাকের ও শুয়াইব আরনাউত]।
📄 অভাব দূর হওয়ার দোয়া
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি রাসূল ﷺ-এর দরবারে উপস্থিত হলাম। ইতোমধ্যে একজন লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার তো অভাব দূর হয় না। রাসূল বললেন, ফেরেশতাদের দুআ, সৃষ্টির তাসবীহ ও রিযিকের চাবিকাঠি থেকে তো তুমি অনেক দূরে, যার বদৌলতে তারা রিযিকপ্রাপ্ত হয়। লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এগুলো কী? রাসূল বললেন, সেগুলো হলো-
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيمِ وَاسْتَغْفِرُ اللَّهَ
সুবহে সাদিকের পর থেকে ফজরের নামায আদায় করার মধ্যবর্তী সময়ে একশত বার পড়বে। দেখবে দুনিয়া অপদস্থ লাঞ্ছিত হয়ে তোমার নিকট ধরা দেবে।
টিকাঃ
৪৯২. হাদীসটি অত্যন্ত দুর্বল। কোন কোন ইমাম হাদীসটিকে জালও বলেছেন [আল-ফিরদাউস: হাদীস- ৩৭৩১; তানযীহুশ শারীয়াহ খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৩১৮; তারতীবুল মাওযুয়াত লিয-যাহাবী: ২৭৬]।
📄 নিদ্রাকালের আমল
হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী ﷺ ঘুমানোর পূর্বে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস তিলাওয়াত করতেন এবং দুই হাতের তালু একত্রিত করে তাতে ফুঁ দিতেন। অতঃপর মুখমণ্ডল ও বাকি শরীরে দু'হাত বুলিয়ে দিতেন।
টিকাঃ
৪৯৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-৫০১৭; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩৪০২।