📄 মাখলূকের ক্ষতি থেকে বাঁচার দোয়া
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। বনু আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি এসে নবী ﷺ কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আজ রাতে একটি বিচ্ছু আমাকে দংশন করেছে। নবী বললেন, যদি তুমি সন্ধ্যায়-
أعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
(অর্থ : আমি আল্লাহ তা'আলার যাবতীয় কালেমার মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির মন্দ থেকে পানাহ চাচ্ছি) বলতে তাহলে আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহে তোমাকে কোনো ক্ষতিই করতে পারত না।
টিকাঃ
৪৮৮. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৭০৯; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩৬০৪।
📄 ঋণমুক্তির ওযীফা
হযরত মুআয ইবনে জাবাল রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা জুমুআর দিনে নবী ﷺ তাঁকে পেলেন না। নামাযের পর মুআয রাযি. তাঁর নিকট এলে তিনি বললেন, কী হলো, তোমাকে যে দেখলাম না? মুআয রাযি. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক ইহুদীর আমার নিকট কিছু পাওনা ছিল। তাই ভয় হলো যে, নামাযের জন্য বের হলে সে আমাকে আটকে রাখবে। রাসূল বললেন, হে মুআয! আমি কি তোমাকে এমন একটি দোয়া শিখিয়ে দিব, যা পাঠ করলে, তোমার ঋণ অনেক হলেও আল্লাহ তা'আলা তা থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করে দিবেন? মুআয রাযি. বললেন হ্যাঁ, শিখিয়ে দিন। রাসূল বললেন-
قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ بِيَدِكَ الْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ * تُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَتُولِজُ النَّহারَ فِي اللَّيْلِ وَتُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَتُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَتَرْزُقُ مَنْ تَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ
(অর্থ: বলুন, হে আল্লাহ, রাজত্বের মালিক! আপনি যাকে চান রাজত্ব দান করেন, আর যার থেকে চান রাজত্ব কেড়ে নেন এবং আপনি যাকে চান সম্মান দান করেন আর যাকে চান অপমানিত করেন। আপনার হাতেই কল্যাণ। নিশ্চয় আপনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আপনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান। আর মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন। আর যাকে চান বিনা হিসাবে রিযক দান করেন) পাঠ করবে। অতঃপর-
يَا رَحْمَنَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَرَحِيْمَهُمَا تُعْطِي مِنْهُمَا مَنْ تَشَاءُ وَ تَمْنَعُ مِنْهُمَا مَنْ تَشَاءُ فَارْحَمْنِي رَحْمَةً تُغْنِينِي بِهِ عن رَحْمَةٍ مِّน์ سِوَاكَ
(অর্থ: হে দুনিয়া ও আখেরাতের রহমান ও রহীম! আপনি আপনার এ উভয় জগত থেকে যাকে ইচ্ছা তাকে দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা তা থেকে বঞ্চিত করেন। সুতরাং আপনি আমাকে এমন রহমত দান করুন, যা আমাকে আপনি ব্যতীত অন্য সকলের করুণা থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিবে) পাঠ করবে। বর্ণিত আছে, কোনো বন্দী ব্যক্তি এই দোয়া পাঠ করলে আল্লাহ তা'আলা তার মুক্তির ব্যবস্থা করে দেন।
টিকাঃ
৪৮৯. জামে সগীর: হাদীস-৫৫৮; দুররে মানসুর: ৩/৪৯৮; সনদ সহীহ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১০/১৮৯; সহীহুত তারগীব: ১৮২১]।
📄 জান্নাত ওয়াজিব হওয়ার ওযীফা
হযরত আবূ উমামা বাহিলী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে-
اللَّهُمَّ أَنتَ الْمَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ آمَنْتُ بِكَ مُخْلِصًا لَكَ دِينِي اصْبَحْتُ عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ مِنْ سَيِّئ عَمَلِي وَاسْتَغْفِرُكَ لِذُنُوبِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
(অর্থ: হে আল্লাহ যাবতীয় প্রশংসা আপনার, আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আপনিই আমার রব, আর আমি আপনার দাস। আমি একনিষ্ঠভাবে আমার দীনের সর্বস্ব নিয়োগ করে আপনার প্রতি ঈমান পোষণ করছি। আমার পক্ষে যতটা সম্ভব, তার সবটুকু প্রয়োগ করে আপনার প্রতিশ্রুতি ও ওয়াদা অনুযায়ী সকাল করছি। আমি আমার মন্দ আমল থেকে আপনার নিকট তওবা করছি। আমার পাপসমূহের জন্য আপনার নিকট ইস্তিগফার করছি। নিশ্চয় আপনি ব্যতীত পাপসমূহ কেউ ক্ষমা করবে না) কালিমাগুলো পাঠ করে এবং সে উক্ত দিন ইন্তেকাল করে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। আর যদি সন্ধ্যায় পড়ে, তাহলে উক্ত রাতে ইন্তেকাল করলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। তবে সন্ধ্যায় أَصْبَحْتُ এর স্থলে أَمْسَيْتُ পড়বে।
টিকাঃ
৪৯০. ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/১১৪; সহীহুল জামে': ৬৪২৪]।
📄 সকাল-সন্ধ্যার দোয়া
হযরত আবান রহ. তার পিতা উসমান রাযি. থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি সকালে তিনবার-
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
(অর্থ: আল্লাহর নামে (সকাল করছি বা বিকাল করছি) যার নামের সাথে আসমান-জমিনের কোনো কিছু ক্ষতি করতে পারবে না। আর তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ) পাঠ করবে, সন্ধ্যা পর্যন্ত সে কোনো বিপদাক্রান্ত হবে না। আর যে সন্ধ্যায় তিনবার তা পাঠ করবে, সকাল পর্যন্ত সে বিপদাক্রান্ত হবে না।
বর্ণনাকারী আবান বিন উসমান রহ. পক্ষাঘাতগ্রস্ত হলে, তাঁকে বলা হলো, তুমি আমাদেরকে যে হাদীস বর্ণনা করতে, সেটা কোথায় গেল! তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি মিথ্যা বলিনি। আর আমার নিকটও মিথ্যা বলা হয়নি। তবে আল্লাহ আমাকে এ পরীক্ষায় ফেলার সময় উক্ত দুআটি ভুলিয়ে দেন।
টিকাঃ
৪৯১. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৪৪৬; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৫০৮৮; সুনানে তিরমিযী: হাদীস- ৩৩৮৮। হাদীসটি হাসান সহীহ [আহমাদ শাকের ও শুয়াইব আরনাউত]।