📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 নিরাপত্তা লাভের ওযীফা

📄 নিরাপত্তা লাভের ওযীফা


হযরত হাসান ইবনে আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণ করলাম ঐ ব্যক্তির, যে বিশটি আয়াত তিলাওয়াত করবে। তাকে বিতাড়িত শয়তান, জালেম, চোর, ডাকাত, হিংস্র প্রাণী বা অন্য কোনো কিছু কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। সে বিশটি আয়াত হলো, আয়াতুল কুরসীর এক আয়াত। তথা-
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَমَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরনিয়ন্তা। তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই একমাত্র তাঁর। কে আছে যে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া কারো জন্য সুপারিশ করতে পারবে? তিনি তাদের (মানুষের) সামনের ও পেছনের সব কিছু জানেন। আর তারা তাঁর জ্ঞান থেকে কোনো কিছুই পূর্ণরূপে অবগত হতে পারে না, তিনি যতটুকু চান ততটুকু ছাড়া। তাঁর সিংহাসন আসমান ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। এ দু'য়ের (আসমান-জমিনের) রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। আর তিনি হলেন সুউচ্চ, মহান।

সূরা আরাফের তিন আয়াত। তথা-
إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي الَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّরْتٍ بِأَمْرِهِ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَ الْأَمْرُ تَبْرَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَلَمِينَ * ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ * وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا إِنَّ رَحْمَتَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِينَ

সুরা সাফফাতের দশ আয়াত। তথা-
وَالصُّفْتِ صَفًّا * فَالزُّجِرْتِ زَجْرًا * فَالتَّلִیتِ ذِكْرًا * إِنَّ الْهَكُمْ لَوَاحِدُهُ * رَبُّ السَّمَاتِ وَ الْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَرَبُّ الْمَشَارِقِ * إِنَّا زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِزِينَةِ الْكَوَاكِبِ * وَحِفْظًا مِنْ كُلِّ شَيْطَنٍ مَّارِدٍ * لَا يَسْمَعُونَ إِلَى الْمَلَا الْأَعْلَى وَيُقْذَفُونَ مِنْ كُلِّ جَانِبِ * دُحُورًا وَلَهُمْ عَذَابٌ وَاصِبٌ * إِلَّا مَنْ خَطِفَ الْخَطْفَةَ فَأَتْبَعَهُ شِهَابٌ ثَاقِبُ .

সূরা রহমানের আয়াত। তথা-
يُبَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ تَنْفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ فَانْفُذُوا لَا تَنْفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَنٍ * فَبِأَيِّ الَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّ بْنِ * يُرْسَلُ عَلَيْكُمَا شُوَاظٌ مِنْ نَارٍ وَنُحَاسٌ فَلَا تَنْتَصِرُنِ

সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত অর্থাৎ, هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَাদَةِ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ * هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّরُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ * هُوَ اللهُ الْخَالِيُّ الْبَارِئُ الْمُصَوِّরُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُসْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا في السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মাখলূকের ক্ষতি থেকে বাঁচার দোয়া

📄 মাখলূকের ক্ষতি থেকে বাঁচার দোয়া


হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। বনু আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি এসে নবী ﷺ কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আজ রাতে একটি বিচ্ছু আমাকে দংশন করেছে। নবী বললেন, যদি তুমি সন্ধ্যায়-
أعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
(অর্থ : আমি আল্লাহ তা'আলার যাবতীয় কালেমার মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির মন্দ থেকে পানাহ চাচ্ছি) বলতে তাহলে আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহে তোমাকে কোনো ক্ষতিই করতে পারত না।

টিকাঃ
৪৮৮. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৭০৯; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩৬০৪।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ঋণমুক্তির ওযীফা

📄 ঋণমুক্তির ওযীফা


হযরত মুআয ইবনে জাবাল রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা জুমুআর দিনে নবী ﷺ তাঁকে পেলেন না। নামাযের পর মুআয রাযি. তাঁর নিকট এলে তিনি বললেন, কী হলো, তোমাকে যে দেখলাম না? মুআয রাযি. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক ইহুদীর আমার নিকট কিছু পাওনা ছিল। তাই ভয় হলো যে, নামাযের জন্য বের হলে সে আমাকে আটকে রাখবে। রাসূল বললেন, হে মুআয! আমি কি তোমাকে এমন একটি দোয়া শিখিয়ে দিব, যা পাঠ করলে, তোমার ঋণ অনেক হলেও আল্লাহ তা'আলা তা থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করে দিবেন? মুআয রাযি. বললেন হ্যাঁ, শিখিয়ে দিন। রাসূল বললেন-
قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ بِيَدِكَ الْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ * تُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَتُولِজُ النَّহারَ فِي اللَّيْلِ وَتُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَتُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَتَرْزُقُ مَنْ تَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ
(অর্থ: বলুন, হে আল্লাহ, রাজত্বের মালিক! আপনি যাকে চান রাজত্ব দান করেন, আর যার থেকে চান রাজত্ব কেড়ে নেন এবং আপনি যাকে চান সম্মান দান করেন আর যাকে চান অপমানিত করেন। আপনার হাতেই কল্যাণ। নিশ্চয় আপনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আপনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান। আর মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন। আর যাকে চান বিনা হিসাবে রিযক দান করেন) পাঠ করবে। অতঃপর-
يَا رَحْمَنَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَرَحِيْمَهُمَا تُعْطِي مِنْهُمَا مَنْ تَشَاءُ وَ تَمْنَعُ مِنْهُمَا مَنْ تَشَاءُ فَارْحَمْنِي رَحْمَةً تُغْنِينِي بِهِ عن رَحْمَةٍ مِّน์ سِوَاكَ
(অর্থ: হে দুনিয়া ও আখেরাতের রহমান ও রহীম! আপনি আপনার এ উভয় জগত থেকে যাকে ইচ্ছা তাকে দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা তা থেকে বঞ্চিত করেন। সুতরাং আপনি আমাকে এমন রহমত দান করুন, যা আমাকে আপনি ব্যতীত অন্য সকলের করুণা থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিবে) পাঠ করবে। বর্ণিত আছে, কোনো বন্দী ব্যক্তি এই দোয়া পাঠ করলে আল্লাহ তা'আলা তার মুক্তির ব্যবস্থা করে দেন।

টিকাঃ
৪৮৯. জামে সগীর: হাদীস-৫৫৮; দুররে মানসুর: ৩/৪৯৮; সনদ সহীহ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১০/১৮৯; সহীহুত তারগীব: ১৮২১]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জান্নাত ওয়াজিব হওয়ার ওযীফা

📄 জান্নাত ওয়াজিব হওয়ার ওযীফা


হযরত আবূ উমামা বাহিলী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে-
اللَّهُمَّ أَنتَ الْمَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ آمَنْتُ بِكَ مُخْلِصًا لَكَ دِينِي اصْبَحْتُ عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ مِنْ سَيِّئ عَمَلِي وَاسْتَغْفِرُكَ لِذُنُوبِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
(অর্থ: হে আল্লাহ যাবতীয় প্রশংসা আপনার, আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আপনিই আমার রব, আর আমি আপনার দাস। আমি একনিষ্ঠভাবে আমার দীনের সর্বস্ব নিয়োগ করে আপনার প্রতি ঈমান পোষণ করছি। আমার পক্ষে যতটা সম্ভব, তার সবটুকু প্রয়োগ করে আপনার প্রতিশ্রুতি ও ওয়াদা অনুযায়ী সকাল করছি। আমি আমার মন্দ আমল থেকে আপনার নিকট তওবা করছি। আমার পাপসমূহের জন্য আপনার নিকট ইস্তিগফার করছি। নিশ্চয় আপনি ব্যতীত পাপসমূহ কেউ ক্ষমা করবে না) কালিমাগুলো পাঠ করে এবং সে উক্ত দিন ইন্তেকাল করে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। আর যদি সন্ধ্যায় পড়ে, তাহলে উক্ত রাতে ইন্তেকাল করলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। তবে সন্ধ্যায় أَصْبَحْتُ এর স্থলে أَمْسَيْتُ পড়বে।

টিকাঃ
৪৯০. ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/১১৪; সহীহুল জামে': ৬৪২৪]।

ফন্ট সাইজ
15px
17px