📄 দুআ কবুল হওয়ার আমল
হযরত আতা রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি বারো রাকাআত নামায আদায় করে, এর মাঝে কোনো কথা না বলে সাতবার সূরা ফাতিহা ও সাতবার আয়াতুল কুরসী তিলাওয়াত করে দশবার
لا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ.
(অর্থ: এক আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই, সব কিছুর উপর তিনিই ক্ষমতাবান) পড়বে, অতঃপর সেজদায় গিয়ে-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَلُكَ بِمُعَاقِدِ العِزَّ مِنْ عَرْشِكَ وَمُنْتَهَى الرَّحْمَةِ مِنْ كِتَابِكَ وَبِاسْمِكَ العَظِيمِ وَجَدَّكَ الأَعْلَى وَكَلِمَاتِكَ التَّامَّةِ
(অর্থ: হে আল্লাহ আমি আপনার আরশের ইজ্জতের কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে আপনার কিতাবের সর্বোচ্চ রহমতের ওসিলায়, আপনার মহান নামের বরকতে এবং আপনার পূর্ণাঙ্গ কালেমাসমূহের ওসিলায় আপনার নিকট দোয়া করছি) পড়ে তারপর দোয়া করবে। (এই কালেমাগুলো উচ্চারণ করে নিজের প্রয়োজনের জন্য দোয়া করলে) তা কবুল হবে।
রাসূল ﷺ-এর খাদেমা মায়মুনা বিনতে সা'দ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নামাযের পর সালমান রাযি. দোয়া করছিলেন, আর তখন নবী তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। রাসূল বললেন, হে সালমান! তোমার কি তোমার রবের নিকট কোনো প্রয়োজন আছে? সালমান রাযি. বললেন, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তখন রাসূল বললেন, দুআর পূর্বে তাঁর ছানা ও গুণকীর্তন কর, যেভাবে তিনি নিজের ছানা ও গুণকীর্তণ করেছেন। তারপর তাঁর তাসবিহ পাঠ কর, আলহাম্দুলিল্লাহ বলো এবং লাইলাহা ইল্লাহ্ বলো। সালমান রাযি. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কীভাবে তার ছানা (প্রশংসা) করব? রাসূল বললেন, তিনবার সূরা ফাতেহা পাঠ করবে। সালমান রাযি. বললেন আমি কিভাবে তার গুণকীর্তন করবো? রাসূল বললেন, তিনবার সূরা ইখলাস পাঠ করবে। সালমান রাযি. বললেন, আমি কিভাবে আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করব? রাসূল বললেন- سُبْحَانَ اللهِ ؛ وَالحَمْدُ للهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَاللهُ أَكْبَرُ বলো। অতঃপর তুমি তোমার প্রয়োজন উল্লেখ করে দোয়া কর।
টিকাঃ
৪৮৬. সনদে অজ্ঞাত পরিচয় বিশিষ্ট রাবী বিদ্যমান [তানযীহুশ শারীয়াহ : ২/৮৮]।
📄 নিরাপত্তা লাভের ওযীফা
হযরত হাসান ইবনে আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণ করলাম ঐ ব্যক্তির, যে বিশটি আয়াত তিলাওয়াত করবে। তাকে বিতাড়িত শয়তান, জালেম, চোর, ডাকাত, হিংস্র প্রাণী বা অন্য কোনো কিছু কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। সে বিশটি আয়াত হলো, আয়াতুল কুরসীর এক আয়াত। তথা-
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَমَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরনিয়ন্তা। তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই একমাত্র তাঁর। কে আছে যে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া কারো জন্য সুপারিশ করতে পারবে? তিনি তাদের (মানুষের) সামনের ও পেছনের সব কিছু জানেন। আর তারা তাঁর জ্ঞান থেকে কোনো কিছুই পূর্ণরূপে অবগত হতে পারে না, তিনি যতটুকু চান ততটুকু ছাড়া। তাঁর সিংহাসন আসমান ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। এ দু'য়ের (আসমান-জমিনের) রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। আর তিনি হলেন সুউচ্চ, মহান।
সূরা আরাফের তিন আয়াত। তথা-
إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي الَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّরْتٍ بِأَمْرِهِ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَ الْأَمْرُ تَبْرَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَلَمِينَ * ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ * وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا إِنَّ رَحْمَتَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِينَ
সুরা সাফফাতের দশ আয়াত। তথা-
وَالصُّفْتِ صَفًّا * فَالزُّجِرْتِ زَجْرًا * فَالتَّلִیتِ ذِكْرًا * إِنَّ الْهَكُمْ لَوَاحِدُهُ * رَبُّ السَّمَاتِ وَ الْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَرَبُّ الْمَشَارِقِ * إِنَّا زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِزِينَةِ الْكَوَاكِبِ * وَحِفْظًا مِنْ كُلِّ شَيْطَنٍ مَّارِدٍ * لَا يَسْمَعُونَ إِلَى الْمَلَا الْأَعْلَى وَيُقْذَفُونَ مِنْ كُلِّ جَانِبِ * دُحُورًا وَلَهُمْ عَذَابٌ وَاصِبٌ * إِلَّا مَنْ خَطِفَ الْخَطْفَةَ فَأَتْبَعَهُ شِهَابٌ ثَاقِبُ .
সূরা রহমানের আয়াত। তথা-
يُبَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ تَنْفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ فَانْفُذُوا لَا تَنْفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَنٍ * فَبِأَيِّ الَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّ بْنِ * يُرْسَلُ عَلَيْكُمَا شُوَاظٌ مِنْ نَارٍ وَنُحَاسٌ فَلَا تَنْتَصِرُنِ
সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত অর্থাৎ, هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَাদَةِ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ * هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّরُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ * هُوَ اللهُ الْخَالِيُّ الْبَارِئُ الْمُصَوِّরُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُসْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا في السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
📄 মাখলূকের ক্ষতি থেকে বাঁচার দোয়া
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। বনু আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি এসে নবী ﷺ কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আজ রাতে একটি বিচ্ছু আমাকে দংশন করেছে। নবী বললেন, যদি তুমি সন্ধ্যায়-
أعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
(অর্থ : আমি আল্লাহ তা'আলার যাবতীয় কালেমার মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির মন্দ থেকে পানাহ চাচ্ছি) বলতে তাহলে আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহে তোমাকে কোনো ক্ষতিই করতে পারত না।
টিকাঃ
৪৮৮. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৭০৯; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩৬০৪।
📄 ঋণমুক্তির ওযীফা
হযরত মুআয ইবনে জাবাল রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা জুমুআর দিনে নবী ﷺ তাঁকে পেলেন না। নামাযের পর মুআয রাযি. তাঁর নিকট এলে তিনি বললেন, কী হলো, তোমাকে যে দেখলাম না? মুআয রাযি. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক ইহুদীর আমার নিকট কিছু পাওনা ছিল। তাই ভয় হলো যে, নামাযের জন্য বের হলে সে আমাকে আটকে রাখবে। রাসূল বললেন, হে মুআয! আমি কি তোমাকে এমন একটি দোয়া শিখিয়ে দিব, যা পাঠ করলে, তোমার ঋণ অনেক হলেও আল্লাহ তা'আলা তা থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করে দিবেন? মুআয রাযি. বললেন হ্যাঁ, শিখিয়ে দিন। রাসূল বললেন-
قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ بِيَدِكَ الْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ * تُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَتُولِজُ النَّহারَ فِي اللَّيْلِ وَتُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَتُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَتَرْزُقُ مَنْ تَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ
(অর্থ: বলুন, হে আল্লাহ, রাজত্বের মালিক! আপনি যাকে চান রাজত্ব দান করেন, আর যার থেকে চান রাজত্ব কেড়ে নেন এবং আপনি যাকে চান সম্মান দান করেন আর যাকে চান অপমানিত করেন। আপনার হাতেই কল্যাণ। নিশ্চয় আপনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আপনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান। আর মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন। আর যাকে চান বিনা হিসাবে রিযক দান করেন) পাঠ করবে। অতঃপর-
يَا رَحْمَنَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَرَحِيْمَهُمَا تُعْطِي مِنْهُمَا مَنْ تَشَاءُ وَ تَمْنَعُ مِنْهُمَا مَنْ تَشَاءُ فَارْحَمْنِي رَحْمَةً تُغْنِينِي بِهِ عن رَحْمَةٍ مِّน์ سِوَاكَ
(অর্থ: হে দুনিয়া ও আখেরাতের রহমান ও রহীম! আপনি আপনার এ উভয় জগত থেকে যাকে ইচ্ছা তাকে দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা তা থেকে বঞ্চিত করেন। সুতরাং আপনি আমাকে এমন রহমত দান করুন, যা আমাকে আপনি ব্যতীত অন্য সকলের করুণা থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিবে) পাঠ করবে। বর্ণিত আছে, কোনো বন্দী ব্যক্তি এই দোয়া পাঠ করলে আল্লাহ তা'আলা তার মুক্তির ব্যবস্থা করে দেন।
টিকাঃ
৪৮৯. জামে সগীর: হাদীস-৫৫৮; দুররে মানসুর: ৩/৪৯৮; সনদ সহীহ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১০/১৮৯; সহীহুত তারগীব: ১৮২১]।