📄 আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও নিজের মাগফেরাত লাভের ওযীফা
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আওফ রাযি. বলেন, জনৈক বেদুঈন নবী ﷺ-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর নবী! আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন, যা কুরআনের মোকাবেলায় যথেষ্ট হবে। কারণ, আমি কুরআনের কিছুই মুখস্থ জানি না। তখন নবী ﷺ বললেন, বল-
سُبْحَانَ اللهِ؛ وَالحَمْدُ للهِ ؛ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَاللهُ أَكْبَرُ ولَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ العظيم
লোকটি তখন এক হাতে গুনে গুনে পাঁচবার পড়ল। তারপর চলে গেল। কিছুক্ষণ পর এসে বলল, এগুলো তো আল্লাহর জন্য, আমার জন্য কী? রাসূল ﷺ বললেন, তুমি اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي، وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي (অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন আমার প্রতি রহম করুন, আমাকে হেদায়েত দান করুন, আমাকে রিযিক প্রদান করুন এবং আমাকে সুস্থতা দান করুন) পড়ো। লোকটি অপর হাতে গুনে গুনে পাঁচবার পড়ল। তখন নবী ﷺ বললেন, যে তা নিয়মিত পাঠ করে, সে কল্যাণ দ্বারা তার দু'হাত ভরে ফেলে।
টিকাঃ
৪৮৪. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৮৩২; সুনানে নাসায়ী: হাদীস-৯২৪; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস- ১৯১১০; হাদীসটি হাসান [শুয়াইব আরনাউত]।
📄 ব্যথা-বেদনা উপশমের দোয়া
হযরত উসমান ইবনে আবুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূল আমার নিকট এলেন। তখন আমি এমন ব্যথায় আক্রান্ত ছিলাম যে, মনে হচ্ছিল, আমি মারাই যাব। তখন নবী বললেন, ব্যথার জায়গাটিতে ডান হাত দ্বারা সাতবার মাসাহ করে বলো-
أَعُوذُ بِعִزَّةِ اللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وأُحاذِرُ
অর্থ: আমি আল্লাহ তা'আলার ইজ্জত ও কুদরতের মাধ্যমে এ বিষয়ের মন্দ থেকে পানাহ চাচ্ছি, যা আমি অনুভব করছি। হযরত উসমান ইবনে আবুল আস রাযি. বলেন, আমি রাসূল-এর নির্দেশ মতো আমল করলাম। ফলে আল্লাহ তা'আলা আমার ব্যথা দূর করে দিলেন।
টিকাঃ
৪৮৫. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২২০২; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২০৮০; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৩৮৯১।
📄 দুআ কবুল হওয়ার আমল
হযরত আতা রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি বারো রাকাআত নামায আদায় করে, এর মাঝে কোনো কথা না বলে সাতবার সূরা ফাতিহা ও সাতবার আয়াতুল কুরসী তিলাওয়াত করে দশবার
لا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ.
(অর্থ: এক আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই, সব কিছুর উপর তিনিই ক্ষমতাবান) পড়বে, অতঃপর সেজদায় গিয়ে-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَلُكَ بِمُعَاقِدِ العِزَّ مِنْ عَرْشِكَ وَمُنْتَهَى الرَّحْمَةِ مِنْ كِتَابِكَ وَبِاسْمِكَ العَظِيمِ وَجَدَّكَ الأَعْلَى وَكَلِمَاتِكَ التَّامَّةِ
(অর্থ: হে আল্লাহ আমি আপনার আরশের ইজ্জতের কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে আপনার কিতাবের সর্বোচ্চ রহমতের ওসিলায়, আপনার মহান নামের বরকতে এবং আপনার পূর্ণাঙ্গ কালেমাসমূহের ওসিলায় আপনার নিকট দোয়া করছি) পড়ে তারপর দোয়া করবে। (এই কালেমাগুলো উচ্চারণ করে নিজের প্রয়োজনের জন্য দোয়া করলে) তা কবুল হবে।
রাসূল ﷺ-এর খাদেমা মায়মুনা বিনতে সা'দ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নামাযের পর সালমান রাযি. দোয়া করছিলেন, আর তখন নবী তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। রাসূল বললেন, হে সালমান! তোমার কি তোমার রবের নিকট কোনো প্রয়োজন আছে? সালমান রাযি. বললেন, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তখন রাসূল বললেন, দুআর পূর্বে তাঁর ছানা ও গুণকীর্তন কর, যেভাবে তিনি নিজের ছানা ও গুণকীর্তণ করেছেন। তারপর তাঁর তাসবিহ পাঠ কর, আলহাম্দুলিল্লাহ বলো এবং লাইলাহা ইল্লাহ্ বলো। সালমান রাযি. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কীভাবে তার ছানা (প্রশংসা) করব? রাসূল বললেন, তিনবার সূরা ফাতেহা পাঠ করবে। সালমান রাযি. বললেন আমি কিভাবে তার গুণকীর্তন করবো? রাসূল বললেন, তিনবার সূরা ইখলাস পাঠ করবে। সালমান রাযি. বললেন, আমি কিভাবে আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করব? রাসূল বললেন- سُبْحَانَ اللهِ ؛ وَالحَمْدُ للهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَاللهُ أَكْبَرُ বলো। অতঃপর তুমি তোমার প্রয়োজন উল্লেখ করে দোয়া কর।
টিকাঃ
৪৮৬. সনদে অজ্ঞাত পরিচয় বিশিষ্ট রাবী বিদ্যমান [তানযীহুশ শারীয়াহ : ২/৮৮]।
📄 নিরাপত্তা লাভের ওযীফা
হযরত হাসান ইবনে আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণ করলাম ঐ ব্যক্তির, যে বিশটি আয়াত তিলাওয়াত করবে। তাকে বিতাড়িত শয়তান, জালেম, চোর, ডাকাত, হিংস্র প্রাণী বা অন্য কোনো কিছু কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। সে বিশটি আয়াত হলো, আয়াতুল কুরসীর এক আয়াত। তথা-
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَমَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরনিয়ন্তা। তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই একমাত্র তাঁর। কে আছে যে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া কারো জন্য সুপারিশ করতে পারবে? তিনি তাদের (মানুষের) সামনের ও পেছনের সব কিছু জানেন। আর তারা তাঁর জ্ঞান থেকে কোনো কিছুই পূর্ণরূপে অবগত হতে পারে না, তিনি যতটুকু চান ততটুকু ছাড়া। তাঁর সিংহাসন আসমান ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। এ দু'য়ের (আসমান-জমিনের) রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। আর তিনি হলেন সুউচ্চ, মহান।
সূরা আরাফের তিন আয়াত। তথা-
إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي الَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّরْتٍ بِأَمْرِهِ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَ الْأَمْرُ تَبْرَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَلَمِينَ * ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ * وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا إِنَّ رَحْمَتَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِينَ
সুরা সাফফাতের দশ আয়াত। তথা-
وَالصُّفْتِ صَفًّا * فَالزُّجِرْتِ زَجْرًا * فَالتَّلִیتِ ذِكْرًا * إِنَّ الْهَكُمْ لَوَاحِدُهُ * رَبُّ السَّمَاتِ وَ الْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَرَبُّ الْمَشَارِقِ * إِنَّا زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِزِينَةِ الْكَوَاكِبِ * وَحِفْظًا مِنْ كُلِّ شَيْطَنٍ مَّارِدٍ * لَا يَسْمَعُونَ إِلَى الْمَلَا الْأَعْلَى وَيُقْذَفُونَ مِنْ كُلِّ جَانِبِ * دُحُورًا وَلَهُمْ عَذَابٌ وَاصِبٌ * إِلَّا مَنْ خَطِفَ الْخَطْفَةَ فَأَتْبَعَهُ شِهَابٌ ثَاقِبُ .
সূরা রহমানের আয়াত। তথা-
يُبَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ تَنْفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ فَانْفُذُوا لَا تَنْفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَنٍ * فَبِأَيِّ الَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّ بْنِ * يُرْسَلُ عَلَيْكُمَا شُوَاظٌ مِنْ نَارٍ وَنُحَاسٌ فَلَا تَنْتَصِرُنِ
সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত অর্থাৎ, هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَাদَةِ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ * هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّরُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ * هُوَ اللهُ الْخَالِيُّ الْبَارِئُ الْمُصَوِّরُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُসْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا في السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ