📄 উত্তমরূপে নামায
একদা যাহেদ হাতেম রহ. ইসাম ইবনে ইউসুফ রহ.-এর নিকট গেলেন। ইসাম রহ. তাঁকে বললেন, হে হাতেম! আপনি কি উত্তমরূপে নামায আদায় করতে পারেন? হাতেম রহ. বললেন হ্যাঁ পারি। ইসাম রহ. বললেন, কীভাবে নামায আদায় করেন? তিনি বললেন, নামাযের সময় হলে আমি খুব ভালোভাবে উযূ করি। তারপর নামাযের স্থানে দাঁড়াই। সমস্ত অঙ্গ স্থির হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করি। এরপর ভাবি, কা'বা আমার সামনে আছে, মাকামে ইবরাহীম আমার বুক বরাবর, আল্লাহ তা'আলা আমার উপরে, আমার হৃদয়ের কথা আল্লাহ তা'আলা জানেন, আমার পা পুলসিরাতের উপর, জান্নাত আমার ডানে আর জাহান্নাম আমার বামে এবং মালাকুল মওত আমার পিছনে। সেই সাথে আমি মনে করি, এ নামায আমার জীবনের শেষ নামায। অতঃপর বিনয়ের সাথে তাকবীর বলি, মনোযোগ দিয়ে কিরাত পাঠ করি, বিনম্রভাবে রুকু করি, কাকুতি মিনতির সাথে সেজদা করি। এরপর শেষ বৈঠক করি এবং ভয় ও আশা নিয়ে তাশাহহুদ পাঠ করি, দরূদ পাঠ করি। তারপর সুন্নতের সহিত সালাম ফিরাই এবং ভয় ও আশা নিয়ে উঠে যাই।
ইসাম রহ. বললেন, হে হাতেম! আপনি কি এভাবেই নামায আদায় করেন? হাতেম রহ. বললেন, হ্যাঁ, আমি এভাবেই নামায আদায় করি। ইসাম রহ. বললেন কত বছর যাবত আপনি এভাবে নামায আদায় করেন? তিনি বললেন, ত্রিশ বছর যাবত। এ কথা শুনে হাতিম রহ. কেঁদে ফেললেন। আর বললেন, আপনার নামাযের মতো আমি একটি নামাযও আদায় করিনি।
একদা যাহেদ হাতেম রহ. ইসাম ইবনে ইউসুফ রহ.-এর নিকট গেলেন। ইসাম রহ. তাঁকে বললেন, হে হাতেম! আপনি কি উত্তমরূপে নামায আদায় করতে পারেন? হাতেম রহ. বললেন হ্যাঁ পারি। ইসাম রহ. বললেন, কীভাবে নামায আদায় করেন? তিনি বললেন, নামাযের সময় হলে আমি খুব ভালোভাবে উযূ করি। তারপর নামাযের স্থানে দাঁড়াই। সমস্ত অঙ্গ স্থির হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করি। এরপর ভাবি, কা'বা আমার সামনে আছে, মাকামে ইবরাহীম আমার বুক বরাবর, আল্লাহ তা'আলা আমার উপরে, আমার হৃদয়ের কথা আল্লাহ তা'আলা জানেন, আমার পা পুলসিরাতের উপর, জান্নাত আমার ডানে আর জাহান্নাম আমার বামে এবং মালাকুল মওত আমার পিছনে। সেই সাথে আমি মনে করি, এ নামায আমার জীবনের শেষ নামায। অতঃপর বিনয়ের সাথে তাকবীর বলি, মনোযোগ দিয়ে কিরাত পাঠ করি, বিনম্রভাবে রুকু করি, কাকুতি মিনতির সাথে সেজদা করি। এরপর শেষ বৈঠক করি এবং ভয় ও আশা নিয়ে তাশাহহুদ পাঠ করি, দরূদ পাঠ করি। তারপর সুন্নতের সহিত সালাম ফিরাই এবং ভয় ও আশা নিয়ে উঠে যাই।
ইসাম রহ. বললেন, হে হাতেম! আপনি কি এভাবেই নামায আদায় করেন? হাতেম রহ. বললেন, হ্যাঁ, আমি এভাবেই নামায আদায় করি। ইসাম রহ. বললেন কত বছর যাবত আপনি এভাবে নামায আদায় করেন? তিনি বললেন, ত্রিশ বছর যাবত। এ কথা শুনে হাতিম রহ. কেঁদে ফেললেন। আর বললেন, আপনার নামাযের মতো আমি একটি নামাযও আদায় করিনি।
📄 জামাত ছুটে যাওয়া
বর্ণিত আছে, যাহেদ হাতেম রহ.-এর কোনো এক সময় জামাত ছুটে যায়। তখন তাঁর কয়েকজন বন্ধু এসে তাঁকে সান্ত্বনা প্রদান করল। তিনি কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, যদি আমার একজন সন্তান মারা যেত তাহলে বল্থ শহরের অর্ধেক মানুষ আমাকে সান্ত্বনা দিতে আসত। অথচ আমার জামাত ছুটে গেলে মাত্র কয়েকজন বন্ধু আমাকে সান্ত্বনা দিতে এলো। অথচ আমার সকল সন্তান মারা যাওয়ার চেয়ে জামাত ছুটে যাওয়ার কষ্ট অনেক বেশি।
বর্ণিত আছে, যাহেদ হাতেম রহ.-এর কোনো এক সময় জামাত ছুটে যায়। তখন তাঁর কয়েকজন বন্ধু এসে তাঁকে সান্ত্বনা প্রদান করল। তিনি কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, যদি আমার একজন সন্তান মারা যেত তাহলে বল্থ শহরের অর্ধেক মানুষ আমাকে সান্ত্বনা দিতে আসত। অথচ আমার জামাত ছুটে গেলে মাত্র কয়েকজন বন্ধু আমাকে সান্ত্বনা দিতে এলো। অথচ আমার সকল সন্তান মারা যাওয়ার চেয়ে জামাত ছুটে যাওয়ার কষ্ট অনেক বেশি।
📄 নামাযের উদাহরণ
জনৈক দার্শনিক বলেন— নামায হলো যিয়াফতের ন্যায়। আল্লাহ তা'আলা মুমিনদের জন্য দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের মাধ্যমে তাঁর যিয়াফতের ব্যবস্থা করেছেন। যেমনিভাবে যিয়াফতের খাবার সামগ্রী ভিন্ন ভিন্ন থাকে এবং তার স্বাদও থাকে বিভিন্ন ঠিক তেমনি নামাযের মাঝে ভিন্ন-ভিন্ন আমল ও বিভিন্ন যিকির রয়েছে। নামাযের প্রত্যেকটি কথা ও কাজের মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয়।
জনৈক ব্যক্তি বলেন, নামাযী অনেক কিন্তু নামায কায়েমকারীর সংখ্যা খুবই নগণ্য। আল্লাহ তা'আলা মুমিনদের গুণ বর্ণনায় তাদেরকে নামায কায়েমকারী হিসেবেই পরিচয় দিয়েছেন। কুরআনে এসেছে— 'ওয়া আক্বিমুস সালাতা' অর্থ: আর যারা নামায কায়েম করে।
টিকাঃ
৪৮২. সূরা হজ: আয়াত-৩৫
জনৈক দার্শনিক বলেন— নামায হলো যিয়াফতের ন্যায়। আল্লাহ তা'আলা মুমিনদের জন্য দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের মাধ্যমে তাঁর যিয়াফতের ব্যবস্থা করেছেন। যেমনিভাবে যিয়াফতের খাবার সামগ্রী ভিন্ন ভিন্ন থাকে এবং তার স্বাদও থাকে বিভিন্ন ঠিক তেমনি নামাযের মাঝে ভিন্ন-ভিন্ন আমল ও বিভিন্ন যিকির রয়েছে। নামাযের প্রত্যেকটি কথা ও কাজের মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয়।
জনৈক ব্যক্তি বলেন, নামাযী অনেক কিন্তু নামায কায়েমকারীর সংখ্যা খুবই নগণ্য। আল্লাহ তা'আলা মুমিনদের গুণ বর্ণনায় তাদেরকে নামায কায়েমকারী হিসেবেই পরিচয় দিয়েছেন। কুরআনে এসেছে— 'ওয়া আক্বিমুস সালাতা' অর্থ: আর যারা নামায কায়েম করে।
টিকাঃ
৪৮২. সূরা হজ: আয়াত-৩৫
📄 নামাযী মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত
জনৈক বুযুর্গ ব্যক্তি বলেন, নামাযে উপস্থিত মানুষ দু'ভাগে বিভক্ত। যথা— ১. বিশেষ মানুষ। ২. সাধারণ মানুষ। বিশেষ শ্রেণির মানুষেরা ভীত অবস্থায় শ্রদ্ধার সাথে নামাযে উপস্থিত হয়, একীন ও ভয়ের সাথে নামাযে দাঁড়ায়, তাযীমের সাথে তা আদায় করে, ভীত অবস্থায় ফিরে আসে।
আর সাধারণ মানুষ উদাসীনতার সাথে নামাযে উপস্থিত হয়, অমনোযোগিতার সাথে নামাযে দাঁড়ায়, অবহেলার সাথে তা আদায় করে এবং বেপরোয়া হয়ে ফিরে যায়।
জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি ফারসী ভাষায় বলেন— অর্থ : যখন ওয়াসওয়াসার সাথে তাযীম ছাড়া উযূ করা হয় এবং সে ওয়াসওয়াসা ও দুনিয়ার চিন্তা মাথায় নিয়ে নামায আদায় করা হয়, উক্ত নামায কবুল করা হয় না।
জনৈক বুযুর্গ ব্যক্তি বলেন, নামাযে উপস্থিত মানুষ দু'ভাগে বিভক্ত। যথা— ১. বিশেষ মানুষ। ২. সাধারণ মানুষ। বিশেষ শ্রেণির মানুষেরা ভীত অবস্থায় শ্রদ্ধার সাথে নামাযে উপস্থিত হয়, একীন ও ভয়ের সাথে নামাযে দাঁড়ায়, তাযীমের সাথে তা আদায় করে, ভীত অবস্থায় ফিরে আসে।
আর সাধারণ মানুষ উদাসীনতার সাথে নামাযে উপস্থিত হয়, অমনোযোগিতার সাথে নামাযে দাঁড়ায়, অবহেলার সাথে তা আদায় করে এবং বেপরোয়া হয়ে ফিরে যায়।
জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি ফারসী ভাষায় বলেন— অর্থ : যখন ওয়াসওয়াসার সাথে তাযীম ছাড়া উযূ করা হয় এবং সে ওয়াসওয়াসা ও দুনিয়ার চিন্তা মাথায় নিয়ে নামায আদায় করা হয়, উক্ত নামায কবুল করা হয় না।