📄 হযরত আলী রাযি.-এর নামায
হযরত আলী ইবনে আবু তালেব রাযি. সম্পর্কে বর্ণিত আছে। নামাযের সময় হলে তার শরীর কাঁপতে থাকত, শরীরের রঙ পরিবর্তন হয়ে যেত। এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বললেন, ঐ আমানত আদায়ের সময় নিকটবর্তী হয়েছে, যা আল্লাহ তা'আলা আসমান ও জমিন এবং পর্বতমালার নিকট পেশ করেছিলেন। কিন্তু তারা তা বহন করতে অস্বীকার করেছে। আর মানুষ তা বহন করেছে। আমার জানা নেই, সে আমানত সঠিকভাবে আদায় করতে পারব কিনা?
হযরত আলী ইবনে আবু তালেব রাযি. সম্পর্কে বর্ণিত আছে। নামাযের সময় হলে তার শরীর কাঁপতে থাকত, শরীরের রঙ পরিবর্তন হয়ে যেত। এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বললেন, ঐ আমানত আদায়ের সময় নিকটবর্তী হয়েছে, যা আল্লাহ তা'আলা আসমান ও জমিন এবং পর্বতমালার নিকট পেশ করেছিলেন। কিন্তু তারা তা বহন করতে অস্বীকার করেছে। আর মানুষ তা বহন করেছে। আমার জানা নেই, সে আমানত সঠিকভাবে আদায় করতে পারব কিনা?
📄 আযানের সময় ইবনে আব্বাস রাযি.-এর অবস্থা
হযরত সাঈদ ইবনে জুবায়ের রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা তায়েফের মসজিদে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.-এর নিকট ছিলাম। আমি, ইকরিমা, মায়মূন ইবনে মেহরান, আবুল আলিয়াসহ আরো কয়েকজন ছিলাম। ইতোমধ্যে মুয়াযযিন মিনারে উঠে আযান দিলেন। বললেন, 'আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার'। তখন ইবনে আব্বাস রাযি. কেঁদে ফেললেন। তাঁর চাদর ভিজে গেল। রগ ফুলে উঠল এবং চোখ লাল হয়ে গেল।
আবুল আলিয়া রহ. বললেন, হে রাসূলের চাচাত ভাই! আপনি কাঁদছেন কেন? আমরাও তো আযান শুনি, কিন্তু কাঁদি না। কিন্তু আপনার কান্নার কারণে আমদেরও কান্না আসছে। ইবনে আব্বাস রাযি. বললেন, যদি মানুষ জানত, মুয়াযযিন কী বলে, তাহলে তারা আরাম করত না এবং ঘুমাত না। তাকে বলা হলো, মুয়াযযিন কী বলে? তিনি বললেন, মুয়াযযিন আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার বলে একখা ঘোষণা করে যে, হে ব্যস্ত লোকেরা! তোমরা অবসর হও। শরীরকে প্রশান্তি দাও এবং উত্তম আমলের দিকে ধাবিত হও। মুয়াযযিন আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে ঘোষণা করে যে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আসমান ও জমিনের সবকিছু কিয়ামতের দিন আমার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে যে, আমি তোমাদেরকে নামাযের দিকে আহ্বান করেছি।
আর আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ বলে একথা ঘোষণা করে যে, কিয়ামতের দিন নবীগণ, এমনকি স্বয়ং মুহাম্মদ ﷺ আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিবেন যে, আমি প্রত্যেক দিন তোমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সংবাদ দিয়েছি। হাইয়্যা আলাস সালাহ বলে একথা ঘোষণা করে যে, আল্লাহ তা'আলা তোমাদের জন্য এ দীনকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সুতরাং তোমরা তা প্রতিষ্ঠিত রাখ। হাইয়্যা আলাল ফালাহ বলে একথা ঘোষণা করে যে, তোমরা আল্লাহর রহমতের মাঝে ঝাঁপিয়ে পড় এবং হেদায়েত থেকে তোমাদের অংশ বুঝে নাও। তারপর আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার বলে একথা ঘোষণা করে যে, আমি নামাযের পূর্বে কোনো কাজ করা তোমাদের জন্য হারাম করে দিয়েছি। আর সর্বশেষে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে একথা ঘোষণা করে যে, সাত আসমান ও জমিনের আমানত তোমাদের কাঁধের উপর রাখা হয়েছে। যদি চাও, তাহলে সামনে অগ্রসর হও, না চাইলে মুখ ফিরিয়ে নাও।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দুই ব্যক্তি নামাযে দাঁড়ায়। তাদের রুকু এক, সেজদা এক। অথচ তাদের নামাযের মাঝে আকাশ ও জমিন পরিমাণ ফারাক। মেহরাবকে মেহরাব বলার কারণ হলো, এখানে শয়তানের সাথে লড়াই করা হয়, যেন সে তার মনকে অন্যত্র নিয়ে যেতে না পারে।
টিকাঃ
৪৮১. হাদীসটি জাল (আল-আসরারুল মারফুয়াহ: হাদীস-৩৯৬; তাখরীজুল এহইয়া: ১/২০২; কাশফুল খাফা: ২/৫৫৪।
হযরত সাঈদ ইবনে জুবায়ের রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা তায়েফের মসজিদে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.-এর নিকট ছিলাম। আমি, ইকরিমা, মায়মূন ইবনে মেহরান, আবুল আলিয়াসহ আরো কয়েকজন ছিলাম। ইতোমধ্যে মুয়াযযিন মিনারে উঠে আযান দিলেন। বললেন, 'আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার'। তখন ইবনে আব্বাস রাযি. কেঁদে ফেললেন। তাঁর চাদর ভিজে গেল। রগ ফুলে উঠল এবং চোখ লাল হয়ে গেল।
আবুল আলিয়া রহ. বললেন, হে রাসূলের চাচাত ভাই! আপনি কাঁদছেন কেন? আমরাও তো আযান শুনি, কিন্তু কাঁদি না। কিন্তু আপনার কান্নার কারণে আমদেরও কান্না আসছে। ইবনে আব্বাস রাযি. বললেন, যদি মানুষ জানত, মুয়াযযিন কী বলে, তাহলে তারা আরাম করত না এবং ঘুমাত না। তাকে বলা হলো, মুয়াযযিন কী বলে? তিনি বললেন, মুয়াযযিন আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার বলে একখা ঘোষণা করে যে, হে ব্যস্ত লোকেরা! তোমরা অবসর হও। শরীরকে প্রশান্তি দাও এবং উত্তম আমলের দিকে ধাবিত হও। মুয়াযযিন আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে ঘোষণা করে যে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আসমান ও জমিনের সবকিছু কিয়ামতের দিন আমার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে যে, আমি তোমাদেরকে নামাযের দিকে আহ্বান করেছি।
আর আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ বলে একথা ঘোষণা করে যে, কিয়ামতের দিন নবীগণ, এমনকি স্বয়ং মুহাম্মদ ﷺ আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিবেন যে, আমি প্রত্যেক দিন তোমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সংবাদ দিয়েছি। হাইয়্যা আলাস সালাহ বলে একথা ঘোষণা করে যে, আল্লাহ তা'আলা তোমাদের জন্য এ দীনকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সুতরাং তোমরা তা প্রতিষ্ঠিত রাখ। হাইয়্যা আলাল ফালাহ বলে একথা ঘোষণা করে যে, তোমরা আল্লাহর রহমতের মাঝে ঝাঁপিয়ে পড় এবং হেদায়েত থেকে তোমাদের অংশ বুঝে নাও। তারপর আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার বলে একথা ঘোষণা করে যে, আমি নামাযের পূর্বে কোনো কাজ করা তোমাদের জন্য হারাম করে দিয়েছি। আর সর্বশেষে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে একথা ঘোষণা করে যে, সাত আসমান ও জমিনের আমানত তোমাদের কাঁধের উপর রাখা হয়েছে। যদি চাও, তাহলে সামনে অগ্রসর হও, না চাইলে মুখ ফিরিয়ে নাও।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দুই ব্যক্তি নামাযে দাঁড়ায়। তাদের রুকু এক, সেজদা এক। অথচ তাদের নামাযের মাঝে আকাশ ও জমিন পরিমাণ ফারাক। মেহরাবকে মেহরাব বলার কারণ হলো, এখানে শয়তানের সাথে লড়াই করা হয়, যেন সে তার মনকে অন্যত্র নিয়ে যেতে না পারে।
টিকাঃ
৪৮১. হাদীসটি জাল (আল-আসরারুল মারফুয়াহ: হাদীস-৩৯৬; তাখরীজুল এহইয়া: ১/২০২; কাশফুল খাফা: ২/৫৫৪।
📄 উত্তমরূপে নামায
একদা যাহেদ হাতেম রহ. ইসাম ইবনে ইউসুফ রহ.-এর নিকট গেলেন। ইসাম রহ. তাঁকে বললেন, হে হাতেম! আপনি কি উত্তমরূপে নামায আদায় করতে পারেন? হাতেম রহ. বললেন হ্যাঁ পারি। ইসাম রহ. বললেন, কীভাবে নামায আদায় করেন? তিনি বললেন, নামাযের সময় হলে আমি খুব ভালোভাবে উযূ করি। তারপর নামাযের স্থানে দাঁড়াই। সমস্ত অঙ্গ স্থির হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করি। এরপর ভাবি, কা'বা আমার সামনে আছে, মাকামে ইবরাহীম আমার বুক বরাবর, আল্লাহ তা'আলা আমার উপরে, আমার হৃদয়ের কথা আল্লাহ তা'আলা জানেন, আমার পা পুলসিরাতের উপর, জান্নাত আমার ডানে আর জাহান্নাম আমার বামে এবং মালাকুল মওত আমার পিছনে। সেই সাথে আমি মনে করি, এ নামায আমার জীবনের শেষ নামায। অতঃপর বিনয়ের সাথে তাকবীর বলি, মনোযোগ দিয়ে কিরাত পাঠ করি, বিনম্রভাবে রুকু করি, কাকুতি মিনতির সাথে সেজদা করি। এরপর শেষ বৈঠক করি এবং ভয় ও আশা নিয়ে তাশাহহুদ পাঠ করি, দরূদ পাঠ করি। তারপর সুন্নতের সহিত সালাম ফিরাই এবং ভয় ও আশা নিয়ে উঠে যাই।
ইসাম রহ. বললেন, হে হাতেম! আপনি কি এভাবেই নামায আদায় করেন? হাতেম রহ. বললেন, হ্যাঁ, আমি এভাবেই নামায আদায় করি। ইসাম রহ. বললেন কত বছর যাবত আপনি এভাবে নামায আদায় করেন? তিনি বললেন, ত্রিশ বছর যাবত। এ কথা শুনে হাতিম রহ. কেঁদে ফেললেন। আর বললেন, আপনার নামাযের মতো আমি একটি নামাযও আদায় করিনি।
একদা যাহেদ হাতেম রহ. ইসাম ইবনে ইউসুফ রহ.-এর নিকট গেলেন। ইসাম রহ. তাঁকে বললেন, হে হাতেম! আপনি কি উত্তমরূপে নামায আদায় করতে পারেন? হাতেম রহ. বললেন হ্যাঁ পারি। ইসাম রহ. বললেন, কীভাবে নামায আদায় করেন? তিনি বললেন, নামাযের সময় হলে আমি খুব ভালোভাবে উযূ করি। তারপর নামাযের স্থানে দাঁড়াই। সমস্ত অঙ্গ স্থির হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করি। এরপর ভাবি, কা'বা আমার সামনে আছে, মাকামে ইবরাহীম আমার বুক বরাবর, আল্লাহ তা'আলা আমার উপরে, আমার হৃদয়ের কথা আল্লাহ তা'আলা জানেন, আমার পা পুলসিরাতের উপর, জান্নাত আমার ডানে আর জাহান্নাম আমার বামে এবং মালাকুল মওত আমার পিছনে। সেই সাথে আমি মনে করি, এ নামায আমার জীবনের শেষ নামায। অতঃপর বিনয়ের সাথে তাকবীর বলি, মনোযোগ দিয়ে কিরাত পাঠ করি, বিনম্রভাবে রুকু করি, কাকুতি মিনতির সাথে সেজদা করি। এরপর শেষ বৈঠক করি এবং ভয় ও আশা নিয়ে তাশাহহুদ পাঠ করি, দরূদ পাঠ করি। তারপর সুন্নতের সহিত সালাম ফিরাই এবং ভয় ও আশা নিয়ে উঠে যাই।
ইসাম রহ. বললেন, হে হাতেম! আপনি কি এভাবেই নামায আদায় করেন? হাতেম রহ. বললেন, হ্যাঁ, আমি এভাবেই নামায আদায় করি। ইসাম রহ. বললেন কত বছর যাবত আপনি এভাবে নামায আদায় করেন? তিনি বললেন, ত্রিশ বছর যাবত। এ কথা শুনে হাতিম রহ. কেঁদে ফেললেন। আর বললেন, আপনার নামাযের মতো আমি একটি নামাযও আদায় করিনি।
📄 জামাত ছুটে যাওয়া
বর্ণিত আছে, যাহেদ হাতেম রহ.-এর কোনো এক সময় জামাত ছুটে যায়। তখন তাঁর কয়েকজন বন্ধু এসে তাঁকে সান্ত্বনা প্রদান করল। তিনি কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, যদি আমার একজন সন্তান মারা যেত তাহলে বল্থ শহরের অর্ধেক মানুষ আমাকে সান্ত্বনা দিতে আসত। অথচ আমার জামাত ছুটে গেলে মাত্র কয়েকজন বন্ধু আমাকে সান্ত্বনা দিতে এলো। অথচ আমার সকল সন্তান মারা যাওয়ার চেয়ে জামাত ছুটে যাওয়ার কষ্ট অনেক বেশি।
বর্ণিত আছে, যাহেদ হাতেম রহ.-এর কোনো এক সময় জামাত ছুটে যায়। তখন তাঁর কয়েকজন বন্ধু এসে তাঁকে সান্ত্বনা প্রদান করল। তিনি কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, যদি আমার একজন সন্তান মারা যেত তাহলে বল্থ শহরের অর্ধেক মানুষ আমাকে সান্ত্বনা দিতে আসত। অথচ আমার জামাত ছুটে গেলে মাত্র কয়েকজন বন্ধু আমাকে সান্ত্বনা দিতে এলো। অথচ আমার সকল সন্তান মারা যাওয়ার চেয়ে জামাত ছুটে যাওয়ার কষ্ট অনেক বেশি।